জব্বরনামা!

10592735_10153160727692220_1872417073495754524_nমুরুব্বি শ্রেনীর লোকদেরকে আমি সাধারনত যথাযথ সন্মান প্রদর্শন করে কথা বলার চেষ্টা করি। কিন্তু সেই মুরুব্বি যদি হয় মোস্তফা জব্বারের মতো ’আমাদের প্রাণের ভাষার সস্তা ব্যবসায়ী’, তাহলে তা কঠিন হয়ে যায়।

১. কয়েক বছর আগে যখন অভ্রের নামে এই ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠান আনন্দ কম্পিউটার্স অনর্থক ও অন্যায়ভাবে মামলা ঠুকেছিলো, তখন সামহোয়্যারইন ব্লগের আপামর ব্লগাররা সেটার প্রতিবাদ করেছিলো। প্রতিবাদের ঠেলায় জব্বার আইডিবি ভবনে একটা প্রেস কনফারেন্স ডাকে। সেখানে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে সে কাদোঁ কাদোঁ গলায় জানায় যে, বিজয় বিক্রির টাকা দিয়ে তাকে ডায়বেটিকের ইনসুলিন কিনতে হয়। এই টাকার উপর ভরসা করেই তাকে সংসার চালাতে হয়।

ওয়েল, আমার কথা হলো, সে যদি এটার উপর এতই নির্ভরশীল হবে, তাহলে এটাকে কেন আপডেট করে না রেগুলার? মাত্র এক বছর আগেও আমি লিনাক্সের জন্য বিজয় পাইনি। লিনাক্স দূরে থাক এক সময় তো বিজয়ে ইউনিকোড সাপোর্টও পাওয়া যেতো না। অনলাইনে লিখলে বিজয়ের ডিফল্ট ফন্ট সুতন্বি ভেংগে খান খান হয়ে যেতো। মাত্র ১ বছর আগেও ফটোশপে বিজয়ে লিখতে পারিনি। জব্বারের কি উচিত ছিলো যেটা দিয়ে সে ডায়াবেটিকের ইনসুলিন কিনে সেটাকে এভাবে পুন মারা? (আপডেট করবেন কিভাবে, বিজয়ের সোর্সকোড যে লিখেছিলেন সে তো আর কাগুর নাগালের ভেতর নাই এখন। ৩ নং পয়েন্টে বিস্তারিত।) 

২. বাংলার এই স্টিভ জবস মোজো কাগু নিয়মিত বিরতিতে আইডিবি ভবনের প্রতিটি চিপায় চুপায় গিয়ে “পাইরেটেড সিডি” বিরোধী অভিযান চালায়। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, পাইরেটেড সিডি বিরোধী অভিযান নাম দিয়ে সে আসলে চালায় ’বিজয়ের পাইরেটেড সিডি বিরোধী’ অভিযান। যে সব দোকানে কোন পাইরেটেড সিডি নাই কিন্তু বিজয়ের পাইরেটেড সিডি আছে, সেই দোকান মোজো কাগুর হাতে অবশ্যই মামলা খাবে। অপরদিকে, যে দোকান পাইরেটেড সিডি দিয়ে ভর্তি, কিন্তু বিজয়ের লাইসেন্স তাদের কেনা আছে, এইরকম কোন দোকান তার হাতে মামলা খেয়েছে এইরকমটা আজ পর্যন্ত শোনা যায় নাই।

আমার এক বন্ধুর ছোট ভাই একটা কোম্পানিতে জব করতো, সেই কোম্পানির কাজ ছিলো ইউটিলিটিস আর গেমগুলা ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে ক্র্যাক করে সিডিতে বার্ণ করে দেশীয় বাজারে ছাড়া। মানে পাইরেটেড সফটওয়্যার আর গেমের বিজনেস, যেটা এখন আর নাই, এই ধরনের ব্যবসা এখন মার খাচ্ছে। সবাই এখন অনলাইন থেকেই সরাসরি নামিয়ে কাজ চালায়, আমি নিজে শেষবার কবে সিডি রম ড্রাইভে সিডি ঢুকিয়েছি ভুলে গেছি। হয়তো দুই/তিন বছর হবে।
 
যে প্রসঙ্গে এই লেখার অবতারণা, সেটা হলো বাংলার স্টিভ জব্বার কাগু।
 
ছোট ভাই বল্ল – ”একদিন অফিসে গিয়ে দেখি স্টোর রূমে বিজয়ের এক গাদা সিডি স্তুপ করে রাখা। ঘটনা কি? আমার বস তো বিজয় বিক্রি করে না, তাইলে এতগুলো বিজয় কিনার কারণ কি? বসকে জিগেস করতেই যা বল্লেন শুনে আক্কেল গুড়ুম হয়ে গেলো!
 
আইডিবি ভবনে আমাদের একটা পাইরেটেড সিডির দোকান আছে। কয়েকদিন আগে আমাদের দোকানে এসে কাগু সাহেব ১৫ লাখ টাকার জরিমানা প্রদান করে অবৈধ সিডি রাখার দায়ে। দোকানের চালানই হবে না ১৫ লাখ, আর সে আমাদের ১৫ টাকা ফাইন দেয়!! শুধু আমাদের না, ঐ দিন আরো অনেক দোকানকেই ফাইন দিয়েছিলো কাগু।
 
তো দোকান মালিক সমিতি তারপর কাগুর অফিসে গিয়ে কাগুকে প্রস্তাব দিলো, আমরা সবাই মিলে আপনার বিজয়ের ১০ লাখ টাকার লাইসেন্স কিনবো। কিন্তু বিনিময়ে আপনি আমাদের দোকানে আর রেইড দিবেন না। যথারীতি কাগু এই প্রস্তাবে সানন্দে রাজী হলো। তো এর কয়েকদিন পর কাগুকে ফুল পেমেন্ট করার পর মুটামুটি ট্রাক ভর্তি করে বিজয়ের সিডি নিয়ে সমিতির সবাই যার যার দোকানে ফিরেছিলো।”
 
এবং তারপর থেকে স্টিভ জব্বার কাগুকে আর কখনো আইডিবির কোন দোকানে পাইরেটেড সিডিবিরোধী অভিযান চালাতে দেখা যায়নি। 😀
 
কাগুর কাউকে ফাইন দেবার ক্ষমতা ছিলো কিনা সে সময়, সেটা প্রশ্ন সাপেক্ষ। সে সময় সে কম্পিউটার কাউন্সিলের সভাপতি ছিলো। তার সে ক্ষমতা না থাকলেও সে যে কাউকে হুকুম দিয়ে এই কাজ করাতে পারে, এ কথা বলা বাহুল্য।

৩. বুয়েটের যে প্রোগ্রামারকে (পাপ্পানা ভাই) দিয়ে মোজো কাগু কিবোর্ডের প্রোগ্রামিং করিয়েছিলো, তার পারিশ্রমিকটাও ঠিকমতো শোধ করে নাই সে। এখনো হারামীটার কাছে পাপ্পানা টাকা পায়। পাপ্পানা এরপর মাইক্রোসফটে জব নিয়ে আমেরিকায় চলে যান। বর্তমানে তিনি উবারের ডেটা সায়েণ্টিষ্ট হিসেবে কর্মরত আছেন।

৪. আমার কপাল খারাপ। আমি বাংলা টাইপ শিখি ২০০০ সালে। সে সময় বিজয় ছাড়া আর কোন বাংলা কিবোর্ড সুলভ ছিলো না। তাই বাধ্য হয়ে এখনো বিজয়ে টাইপ করতে হয়। তবে প্রতিজ্ঞা করেছি, বিজয়ে লিখলেও আমি কাগুকে একটা পয়সাও দিবো না। দু বছর আগে প্রবাসী এক বড় ভাই’র টেবিলে পরিত্যাক্ত পড়ে থাকতে দেখে বিজয় বায়ান্নর সিডি আমাকে দিয়েছিলেন। সেটা দিয়েই এখনো চলছি।

৫. ছোটবেলায় বিটিভিতে প্রতি শুক্রবারে একটা অনুষ্ঠান দেখতাম। নাম ছিলো – এসো কম্পিউটার শিখি। সেখানে আসলে কোন কম্পিউটার শেখানো হতো না। বাংলার এই স্টিভ জবস তার সদ্য স্কুলে ভর্তি হওয়া ছেলেকে কোলে বসিয়ে বিশাল একটা সিআরটি মনিটরের সামনে বসে মাউস টিপাটিপি করতো, অনুষ্ঠানে সেগুলাই দেখানো হতো।

৬. সবাই জানে যে, ভোটার আইডির কাজ না পেয়ে সে অভ্রের পিছনে লেগেছিলো, অভ্র থেকে ইউনিজয় সরিয়ে সে এখন লাগছে রিদমিকের পিছনে। বাংলার এই স্টিভ জবস মোজো কাগু নিজের নামের শেষে লাগায় ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রবক্তা নাকি আরো কি কি সব যেন, এবং সে আজীবনই বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতির নাম ভেঙ্গে খেয়ে গেছে, অথচ এই সমিতি বাংলাদেশের কম্পিউটার ব্যবহারকারী বা ব্যবসায়ীদের উপকারে কোন গুপ্তকেশটা ছিড়েঁ আটিঁ বাধঁছে আমাকে কেউ বলতে পারবেন? সে বছর দুয়েক আগে বেসিসের সভাপতিও হয়েছে, বেসিস কিংবা বেসিসের মাধ্যমে আমাদের আইসিটির কোন উপরকারটা তার দ্বারা হয়েছে, সেটাও কারো জানা নেই।

বাংলা ভাষা নিয়ে ব্যবসা করা এই মাড়োয়ারী ব্যবসায়ী তথা  বাংলার এই স্টিভ জবস মোজো কাগুর যে মতিদয় হবে, আমি সেই দিনের প্রতিক্ষায় আছি।

আপডেট-১ঃ
যাদের এন্ড্রয়ডে রিদমিক নাই তারা নিচের লিঙ্ক থেকে রিদমিকের এপিকে ফাইল নামাইয়া ইন্সটল করতে পারেনঃ http://goo.gl/2utCqT

আপডেট-২ঃ

ভেবেছিলাম আগামী একুশে ফেব্রুয়ারিতে অভ্র’র একুশে পদকের জন্য আবারো দাবী তুলবো। এখন মনে হচ্ছে, একুশে ফ্রেব্রুয়ারীর আগেই হয়তো অভ্র’র অস্তিত্ব মুছে ফেলা হবে।
 
মোস্তফা জব্বারকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ে বসানো হবে একটা চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
 
বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী এই দেশের শিক্ষার যতটা সর্বনাশ করেছে, মোস্তফা জব্বার এই দেশের আইসিটির তার চাইতে বেশী ক্ষতি করবে, মার্ক মাই ওয়ার্ডস। 🙂
 
গত দুই বছর ধরে বেসিসের সভাপতি হয়ে মোস্তফা জব্বর বিন্দুমাত্রও অবদান রাখতে পারে নাই দেশের তথ্য প্রযুক্তিকে, এটা আমি খুব কাছ থেকে দেখা অভিজ্ঞতাতেই বলতে পারি।
 
কোন ধরনের টেকনিক্যাল নলেজ না থাকা সত্ত্বেও এই বয়স্ক অথর্বটা শুধুমাত্র, আই রিপিট, শুধুমাত্র উপর মহলের লবিং দিয়ে এই পর্যন্ত এসেছে।
 
একে মন্ত্রী বানাবার সরকারী সিন্ধান্তের বিরুদ্ধে আমাদের সম্মিলিত ও সুসংহিত প্রতিরোধ প্রয়োজন।

আপডেট-৩ঃ

মোস্তফা জব্বারের ‘নিপুন’ আওয়ামী লীগ বিরোধী একটি পত্রিকা ছিল। (নিপুনের সম্পাদক ছিলেন সাজাহান চৌধুরী। এরশাদ শাসনামলের শেষের দিকে মোস্তফা জাব্বার নিপুন ভাড়া নিয়ে নিয়মিত প্রকাশ করতেন।) আমি স্কুল জীবনে নিপুনে একটি লেখা পড়েছিলাম। যার সার কথা ছিল, ৭ মার্চের ভাষনের আগে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানিদের সঙ্গে সমঝোতায় যাচ্ছিলেন! তখন এক রাতে বেগম মুজিব ছাত্রনেতাদের বাসায় ডেকে এনে বলেন, সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। মুজিব সমঝোতায় যাচ্ছে পাকিস্তানিদের সঙ্গে! ছাত্রনেতারা তখন বঙ্গবন্ধুকে বলেন, যে পতাকা আমরা তুলেছি তা আমরা নামাতে পারবোনা। স্বাধীনতার যে ইশতেহার আমরা ঘোষনা দিয়েছি তা প্রত্যাহার করতে পারবোনা। আপনি কোন সমঝোতায় গেলে আমরা তা মানবোনা।

বঙ্গবন্ধু তখন তাদের দূর পাগলারা কে বলেছে বিদায় করেন। ছাত্রনেতাদের মনোভাব বুঝে তার মত পাল্টে ৭ মার্চের ভাষন দিলেও ভাষনের শেষে সমঝোতার একটা পথ খোলা রাখেন। সে কারনে ৭ মার্চের ভাষনের পরও আলোচনা অব্যাহত থাকে। ছাত্রদের ডাকে সারা বাংলাদেশে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়লেও তখন ধানমন্ডির বত্রিশ নাম্বার বাড়িতে পতাকা ওড়েনি। বত্রিশ নাম্বারের বাড়িতে ছাত্ররা পতাকা তুলেছে ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসের দিন। আজ তারেক যে বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগকে মাইনাস করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলেন তা কিন্তু নিপুনে ছাপা ইতিহাস! তারিখ সংখ্যা মনে করে বলতে পারবোনা, নিপুনের ফাইল কারো কাছে থাকলে লেখাটি পাবেন। এখন আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিক আহমেদ মুসা, (Ahmed Musa) ইনকিলাবের সাংবাদিক নারায়নগঞ্জের ফজলুল বারী ভাইও লেখাটির ব্যাপারে বলতে পারবেন। কারন তখন তারা নিপুনে লিখতেন। এখন অবশ্য পরিবর্তিত সময়। মোস্তফা জব্বার ভাই অনেক দিন ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষে লিখছেন। সে কারনে তিনি মন্ত্রীও হচ্ছেন।  লেখাঃ ফজলুল বারী। (লেখাটির লিংক এখানে)

আপডেট-৪ঃ 

 
 আপডেটঃ-৫  কাগুর মিথ্যাচারের নমুনাঃ
 
আপডেটঃ-৬

 লেখাটির লিংক এখানে

আপডেটঃ ৭  মোস্তফা জব্বারের প্রতারণা৩ মিনিটের একটি ইউটিউব ভিডিও

আপডেটঃ ৮ 

মোস্তফা জব্বার, যদি মনে করেন ‘অভ্র’ বিজয়ের পাইরেটেড, মেহদী বিজয় হ্যাক করে অভ্র বানিয়েছে, তাহলে তা প্রমাণ করুন।

আপডেটঃ ৯

যে প্রশ্নটি বারংবার ঘুরেফিরে আমার মাথায় আসে সেটি হল জব্বার সাহেব বুদ্ধিমান লোক নয় সেটি মনে হয়নি। তাহলে উনার যেখানে পেটেন্ট আছে, নিজের মেধাসত্ব আছে, নিজের আত্মবিশ্বাস আছে, অর্থ আছে, ক্ষমতা আছে, সবই আছে, তাহলে সবচেয়ে সহজ কাজ হত আইনের আশ্রয় নিয়ে অভ্র বা অন্য যেসবের বিরুদ্ধে উনার অভিযোগ আছে সেগুলোকে বাজেয়াপ্ত করা, নিষিদ্ধ করা। সেটা না করে যখন তিনি মিডিয়ার সাহায্য নিয়ে নিজের যুক্তি উপস্থাপন করে তখন বেশ সন্দিহান হতে হয় উনার আত্মবিশ্বাস নিয়ে।

আমার ধারণা উনি খুব ভালবেই জানেন যে আইনের কাছে নিজের যুক্তি গ্রহনযোগ্যতা পাবে না। তাই উনি ভেবেছিলেন মিডিয়ার সাহায্য নিয়ে খুব সহজেই, সুকৌশলে অভ্রকে পাইরেসীর অভিযোগে অভিযুক্ত করে মানুষকে বোকা বানানো যাবে। উনি কখনই কল্পনাই করতে পারেন নি যে উনার এই কাজ উনার জন্য এভাবে বুমেরাং হয়ে যাবে। মানুষ যে এভাবে ক্ষেপে যাবে সেটা উনার কল্পনার অতীতে ছিল। যদি ক্ষুণাক্ষরেও উনি এটা বুঝতে পারতেন তবে তিনি প্রথম ধাপটিই বেছে নিতেন। তখন আইনের কাছে হারলেও সেটা হত চুপেচুপে। তাতে উনার নিজের সম্মানটুকু হয়তো থাকতো। এখন বেচারার আম-ছালা সবই গিয়েছে। ওনেকটা জামাতের মত। কেউ যখন গোমু কে রাজাকার বলে গালাগাল করে তখন তারা মানহানি মামলা করে না, আইনের আশ্রয় নেয় না। শুধু মাত্র তাঁদের পত্রিকায় গলাবাজি করে।

 

হিমু এর ছবি

কাগুর মূল ক্ষোভটা ধরতে হবে। কাগুর রাগ কিন্তু একা অভ্রর ওপর নয়, নির্বাচন কমিশন আর ইউএনডিপির ওপরেও। তাদের অপরাধ, তারা কাগুর প্রোডাক্ট ৫ কোটি টাকা দিয়ে না কিনে ০ টাকা দিয়ে অভ্র ব্যবহারের অনুমতি কিনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো অন্য প্রকল্পেও অভ্র ব্যবহার করা হবে নির্বাচন কমিশনের উদাহরণ দেখিয়ে। কাগু দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েই প্রোপাগাণ্ডার আশ্রয় নিয়েছে।

উপরের কমেন্ট দুটো এই পোষ্ট থেকে নেয়া হয়েছে (অভ্র, বিজয়, পেটেন্ট বিষয়ে)

আপডেটঃ ১০

সমঝোতার পথে অভ্র ও বিজয় (২০১০ সালে প্রকাশিত অভ্র-বিজয় সংক্রান্ত মিডিয়া নিউজের একটি আর্কাইভ)

আপডেটঃ ১১

সেভ অভ্র ডট ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম (আরেকটি আর্কাইভ)

আপডেটঃ ১২

মেহদী হাসান খান (তারিখ: শনি, ২০/১০/২০০৭ – ৭:০৭পূর্বাহ্ন)
লিগ্যাল ভেজাল!

কপিরাইটঃ
ইউনিজয়/ইউনিবিজয় এ বিজয়ের কপিরাইট খাটে না। এগুলো পরিবর্তিত এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন সলিউশন। বিজয় বাংলা সফটওয়্যার, প্রিন্টেড কীবোর্ড, ওরিজিনাল বিজয় লেআউট কোথাও কপি করা হয়নি, তাই কোন লিগ্যাল ইস্যু এখানে নেই।

পেটেন্টঃ
তবে পেটেন্ট এর ব্যাপারে একটু ভেজাল আছে। বহু বছর চেষ্টা করে জব্বার সাহেব বিজয় এর পেটেন্ট ম্যানেজ করেছেন রিসেন্টলি । কপিটা দেখিনি, কিন্তু নির্ভযোগ্যসূত্রে যেটা জানলাম- সম্পূর্ণ কীবোর্ড লেআউট এর পাশাপাশি কী-কম্বিনেশনও পেটেন্টের আওতায় আনা হয়েছে।
এটা হতে পারে এরকম –
(১) ্‌+া=আ, ক+্‌+ক=ক্ক … এরকম। দেখুন, বিজয়ে যুক্তাক্ষর লেখার নিয়ম ইউনিকোডে র সাথে হুবহু মিলে যায়। ইউনিকোড একটা রানিং স্ট্যান্ডার্ড, এর কোন খন্ডাংশের পেটেন্ট বাংলাদেশের পেটেন্ট অফিস যদি না জেনে মোস্তফা জব্বারকে দিয়েও দেয়, সেটার বৈধতা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন তোলা যায়।

অথবা এরকম –
(২) g+f = আ, j+g+j = ক্ক। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের জাতীয় কীবোর্ড লেআউটের বিরুদ্ধেই পেটেন্ট না মানার অভিযোগ আসে। জব্বার সাহেবের উচিত আগে সে দিক সামলানো। নয়ত চ্যালেঞ্জের জবাবে কেউ যদি বলে ইউনিজয় বিজয় না, আসলে জাতীয় কীবোর্ড এর মডিফাইড রূপ, টেকনিক্যালি আপনি ভুল ধরতে পারবেন না, কারন জাতীয় আর বিজয়ের মধ্যে বেসিক পার্থক্য মাত্র দুইটা কী (বাকি কী গুলোর পরিবর্তন শুধু শুধু করা হয়েছে।) হাসি

[কোথাও এগুলো উল্লেখ করলে ভেরিফাই করে নিয়েন। নির্ভযোগ্যসূত্রে জানা খবর, কিন্তু কাগজপত্র নিজে দেখিনি বলে দায়িত্ব স্বীকার করতে পারছি না।]

আপডেটঃ ১৩

১৯৭২-১৯৭৪ সালে (জাসদের মুখপাত্র) দৈনিক গণকন্ঠে—
বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধুর সরকার, শেখ কামাল সহ বঙ্গবন্ধুর পরিবারের বিরুদ্ধে 
অনেক জঘন্য মিথ্যা ও বিভ্রান্ত মূলক খবর বানাতো এবং এর প্রচার করত।

১৯৭৩ সালে এই গণকন্ঠ শেখ কামালের বিরুদ্ধে তথাকথিত বাংলাদেশ ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার একদম ভুয়া আর বানোয়াট খবর প্রচার করেছিল।

সেই ভুয়া আর বানোয়াট খবরের ভিত্তি করে – আজো জিয়া-খালেদা-জামাত এর নেতা কর্মী সমর্থকরা শেখ কামালের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করে বেড়ায়!
আর আমাদের আজো সেই গণকন্ঠের মিথ্যা ভুয়া আর বানোয়াট খবরের প্রতিবাদ করতে হয়! 

এই কারনে, জাসদের ঐ পত্রিকা তখনকার বাংলাদেশ বিরোধীদের (জামাত – মুসলিম লীগ – এর নেতা কর্মী সমর্থকদের) মধ্যে খুব জনপ্রিয় ছিল।

খুব সম্ভবত, ১৯৭২-৭৪ সময়ে গণকন্ঠের সহ সম্পাদক ছিলেন তখনকার জাসদ নেতা জনাব মোস্তফা জাব্বার।
ঐ সময় উনাদের (বেশীর ভাগ সাবেক জাসদের) এই চরম বাজে এবং ধ্বংসাত্বক ভুমিকার জন্য 
• বঙ্গবন্ধুর,
• বঙ্গবন্ধুর সরকার ও
• বঙ্গবন্ধুর পরিবারের
চরম মূল্য দিতে হয়েছে।

তাই জাসদ ও গণকন্ঠের অযৌক্তিক এবং অনৈতিক বঙ্গবন্ধু – আওয়ামী লীগ বিরোধিতার দায়, উনারও আছে।

আমি বিনীত ভাবে জানতে চাচ্ছি,
উনি কি উনার অতীতের (১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত এবং ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত) অনেক অনেক মারাত্ম্বক রাজনৈতিক ভুল সমুহের জন্য
প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন?
প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়েছেন?

এগুলি যদি করে থাকেন, তাহলে ঠিক আছে।
মানুষ তার জীবনে কোন এক সময় ভুল করতেই পারে এবং তার জন্য সে প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হলে তা মাফ করে দেয়া যায়!
{(ওদেরকে) মাফ করে দিয়েছি, কিন্তু ভুলে যাই নাই – শেখ হাসিনা}

যদি না করে থাকেন,
তাহলে,
পরে পস্তাতে হবে (সৈয়দ আশরাফের ভাষ্য মত)।
অনেক মূল্য দিতে হবে!

তবে,
নেত্রীর সিধান্তের উপর আস্থা আছে!
কিন্তু নেত্রীর একার পক্ষেও কি সবকিছু দেখা, যাচাই করা সম্ভব।
কারন, বঙ্গবন্ধুর মত নেত্রীর আশে পাশে এখনও অনেক খোন্দকার মোস্তাকের মত বেঈমান, বিশ্বাসঘাতক, মুখোশধারী ২ নম্বরী লোক আছে!

তাই সাধু সাবধান। লেখাঃ শাফিকুর রহমান অনু।

আপডেটঃ ১৪

মোস্তফরা জব্বার তার বিজয়ের পেটেন্ট করার অনেক বছর আগে থেকেই একে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রয় করছেন, বাংলাদেশ কপি রাইট আইন ১৯১১ এর ২৬.১ ধারামতে যা অবৈধ। এমনটা হলে পেটেন্ট প্রত্যাহার করা হবে বলে উক্ত আইনে বলা হয়েছে।  এই পোষ্টের নীচে তার বিস্তারিত।

আপডেটঃ ১৫

মোদ্দাকথা লিখেছেন ভাস্কর আবেদীন, এই লিংকে –