Schindler’s List আর মেহেরজান যদি এক হয় তবে আম আর আমলকিও এক।

বন্ধু লিষ্টের অনেককেই দেখলাম পাকমন পেয়ারু রুবাইয়াত হোসেইনের ‘মেহেরজান’ এর সাথে Schindler’s List মুভির সাথে তুলনা করে ”পাকিরাও ভালু” এবং “সব পাকিরাই খারাপ লয়” নীতির প্রশংসায় মুখে ফেনা তুলছে এবং ইনিয়ে বিনিয়ে বলার চেষ্টা করছে যে, “ Schindler’s List যেহেতু বানানি হইসে সেহেতু মেহেরজান বানানিও ঠিকাছে!

এমন কথা যারা বলে, সে সব অথর্বদের জন্য আসলে করুণা ছাড়া আর কিছুই দেবার নাই। কথা হলো, মেহেরজানকে Schindler’s List এর সাথে তুলনা করাটা নিখাদ বোকামী ছাড়া আর কিছু নয়। কারন, জার্মানী তাদের দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার খুব ভালো ভাবেই শেষ করেছে, জিউশদের কাছে মাফ চেয়েছে, ক্ষতি পূরণ দিয়েছে সর্বোপরী তারা মাত্র কিছুদিন আগেও ৯৭ বছর বয়স্ক এক জার্মান নাৎজি বাহিনীর সামান্য দারোয়ানকেও যুদ্ধপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করে তাকে বিচারের আওতায় এনেছে।

কিন্তু পাকিস্থান এর কোনটাই করেনি, ভবিৎষতেও করবে বলে মনে হয় না। তারা ৭১ এর কৃত অপরাধই তো স্বাীকার করে না, মাফ চাওয়া তো অনেক পরের কথা! সুতরাং, সেই পাকিদের ভালত্ব জাহির করে কোন মুভি বা ডকু কেন এই দেশে বানানো হবে, কেন তা প্রচার করা হবে? যারা মেহেরজান সাপোর্ট করে তাদের শরীরে কি পাকি বীর্য- রক্ত আল্লাহই জানে!

তাছাড়া, Schindler’s List কোন ফিকশন না, বাস্তব ঘটনা। মেহেরজান একটা ফিকশন।
এটা সত্যি যে তখন পাকিস্তানের অনেকেই তাদের সেনাবাহিনীর নির্মমতার প্রতিবাদ করেছিল, তবে কারো পক্ষেই Schindler এর মতন কিছু করার সুযোগ ছিলো না বা মেহেরজানের মতো পাকি সেনা অফিসারের সাথে বাঙ্গালী রমনীর প্রেমকাননে গিয়ে প্রেম করার মতো কিছু ছিলো না ।

তবে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বিহারীরা যেমন নৃশংসতা চালিয়েছে তেমনি কেউ কেউ এর উলটটাও করেছে। এইগুলান সিনেমার গল্প হিসাবে বিবেচিত হতে পারে তখনি যখন পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে হাঁটু গেঁড়ে তার পূর্বপুরুষের অপকর্মের জন্যে ক্ষমা চাইবে। জার্মানরা ক্ষমা না চাইলে Schindler’s List তৈরি হতনা।”

সবচেয়ে বড় কথা হলো, মুক্তিযুদ্ধের পর পরই আমরা দেখেছি বিভিন্ন বাংপাকি বুদ্ধিজীবিরা, “পাকি রিকনসিলিয়েশন থিওরী” কপচিয়ে “পাকিস্থান আমলই ভালো ছিলো”, “দেশ স্বাধীন করে কি পেলাম?” – এই টাইপের বানী ঝরাতে। অপরদিকে, ইহুদিরা কিন্তু কেউ জার্মানদের সাথে আতাঁত থিওরী কপচায় না, বলে না যে, হিটলার বা তার নাৎজি বাহিনীই তাদের জন্য ভালো ছিলো। অথচ আমাদের বাংপাকীরা আকারে ইংগিতে পাকিদের সাথে আমাদের প্রেম মারায়।

মোটা দাগের পার্থক্যটা কিন্তু এখানেই। ইহুদিরাও যদি নাৎজি রিকনসিলিয়েশন থিওরী কপচাতো, তবে আমার সন্দেহ আছে সেখানে কোনদিন Schindler’s List এর মুভি তৈরী হতো কিনা আর হলেও সেটা ৭ টা অস্কার দূরে থাক, সেন্সরবোর্ড থেকে ছাড়পত্র পেতো কিনা।

দেশ স্বাধীন হবার এতগুলো বছর পরেও যখন দেখি প্রথমালো গংরা পাকি রিকন থিওরী সাপোর্ট করে, বুদ্ধিজীবি ভাড়া করে নিয়মিত এই থিওরীর স্বপক্ষে বই/প্রবন্ধ/নিবন্ধ কলাম ছাপে, পত্রিকায় প্রচার ও প্রসার করে, সেই সময়ে অতি অবশ্যই “মেহেরজানের” মতো মুভির নির্মান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি ও অপমানসরুপ।

এ কথা বুঝতে রকেট সায়েণ্টিষ্ট হবার দরকার নেই যে , “মেহেরজান” মুভিটা বানানোই হয়েছে, পাকি রিকন থিওরীকে সমর্থন ও প্রতিষ্ঠা করার চক্রান্ত হিসেবে। এটাকে অন্য আর দশটা সাধারন মুভি বা Schindler’s List এর মতো মনে করলে বিরাট বোকামী করা হবে, অসংশোধনীয় ভুল করা হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মেহেরজানের পরিচালক একজন আত্নস্বীকৃত নারীবাদী। সে তার নিজের নামে যত রকম ভালো ভালো কথা আছে, সেগুলো সুন্দর করে লিখে অনলাইনে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় আর ম্যাগাজিনে স্বউদ্যোগে প্রকাশ করে। কিছুদিন আগে দেখলাম আইএমডিবিতেও সে যথারীতি নিজেকে উপর্যুপরি পিঠ চাপড়ানি দিয়ে মুভির সাইনোপসিস পোষ্ট করেছে। মানুষ কতটা লজ্জাহীন হলে এমনটা করতে পারে?

কিছুদিন আগে নানকিংয়ের গনহত্যা নিয়ে এক চাইনিজ তরুন মুভি নির্মাতা ”সব জাপানীরাই খ্রাপ না” টাইপের একটা ডকু বানানির চেষ্টা করেছিলো, ফলাফলে সেই ডকু মুটামুটি তার পেছন দিয়ে ভরে দেয়া হয়েছিলো। কারন ইতিহাস সাক্ষি, জাপানীরা ৩০ এর দশকে চাইনিজদের উপর যে বিভৎস গনহত্যা চালিয়েছিলো, তা ৭১ এ পাকিদের চাইতে কোন অংশেই কম ছিলো না। তাই স্বভাবতইঃ চাইনিজ সরকার সে ধরনের কোন মুভি/ডকু বিন্দুমাত্রও সহ্য করবে না।

সুতরাং, যে বা যারাই Schindler’s List এর রেফারেন্স টেনে মেহেরজানের পক্ষে সাফাই গাইবার চেষ্টা করে, তাদেরকে শুরুতে বোঝান। আর একেবারেই না বুঝলে যথাযথ ুন্দানির উপ্রে রাখুন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি যারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে, তাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স দেখান। কারণ এক সময় এরাই আমাদের কাল সাপ হয়ে ছোবল দিতে দুইবার ভাববে না। ইতিহাস তাই বলে। (মেমরি)

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *