দেশের তরুণ প্রজন্ম ও ইনসমনিয়াঃ এক অভিশপ্ত মেলবন্ধন

awakeএখনকার বেশীরভাগ সদ্য তরুনী বা তরুনী মেয়েদের মধ্যে একটা কমন জিনিস দেখতে পাচ্ছি, সেটা হচ্ছে এরা প্রায় সবাই ইনসোমনিয়ায় ভুগছে। [প্রশ্ন আসতে পারে, ছেলেরাও তো ভুগছে, সেটা খেয়াল করিনি? প্রশ্ন হচ্ছে, করেছি। কিন্তু ছেলেদের এই সমস্যা ইদানিংকার না, অনেক আগেরই। একটা সময় শুধু ছেলেরাই ইনসোমনিয়ায় ভুগতো, এখন সমানতালে মেয়েরাও ভুগছে]। আমার বন্ধু তালিকায় এমন কিছু মেয়ে রয়েছেন, তাদের সাথে আলাপচারিতায় জানতে পেরেছি তাদের রাতে না ঘুমানোর অভ্যেস রয়েছে, কেউ কেউ ভোর রাতে বা ভোরের দিকে ঘুমুতে যান এমনকি কেউ কেউ ঘুমের জন্য নিয়মিত ঘুমের ট্যাবলেটও খান। অথচ কেন তাদের রাতে ঘুম আসে না, এ ব্যাপারে প্রশ্ন করে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বেশীরভাগই কোন কারন বলতে পারেননি।
সম্প্রতী এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৫ বছর আগের তুলনায় এখনকার মেয়েরা নাকি প্রায় ২ ঘন্টা পর রাতে ঘুমুতে যায়। শতকরা ৪০ ভাগ নারী রাত ১/২টা পর্যন্ত জেগে থাকে সকালে অফিস বা ক্লাস থাকা সত্তেও! মনোবিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে পত্রিকায় দিক নিদের্শনা দিতে পারেন। কারন ব্যাপারটা অবশ্যই সিরিয়াস এবং আশঙ্কাজনক। এবং ভবিষৎতে এই সমস্যা আরো গুরুতর আকার ধারন করতে পারে, ক্যারিয়ার এবং দাম্পত্যজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। Continue reading

মুসলিম বিয়ের যে বিষয়গুলো আপনি হয়তো জানতেন না!

Marriage-A-Sacred-Union-or-the-Most-Expensive-Eventগতকাল প্রথমালোতে ৯০ বছরের এক বৃদ্ধ ১৫ বছরের একটা মেয়েকে জোর করে বিয়ে করার খবর ছেপেছে আর কিছু পাবলিক যথারীতি সে দোষ চাপাচ্ছে ইসলামের ঘাড়ে। এ ব্যাপারে পাবলিকের অজ্ঞতা ও মোল্লাদের মিস ইন্টারপ্রেশন দেখতে দেখতে ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে গেছি। পুরাই পিসড অফ আমি!

মুসলিম বিয়ের যে ফ্যাক্ট গুলো অনেকেই জানেন না বা ভুল জানেন:

১. কোন মেয়ের অমতে তাকে জোর করে বিয়ে দেয়া যাবে না। তা সে মেয়ে সাবালিকা হোক আর না বালিকা হোক। [ইসলামে মেয়েদের ফিজিক্যাল ম্যাচুরিটি ধরা হয় ম্যান্সট্রুয়াল সাইকেল (মানে মাসিক/পিরিয়াড শুরুর উপর ভিত্তি করে। আর ছেলেদের ধরা হয় ওয়েট ড্রিমের উপর (মানে স্বপ্নদোষ) ভিত্তি করে] জোর করে বিয়ে দেয়া হলে ইসলামে সে বিয়ে কোনমতেই ভ্যালিড হবে না। ইসলামের চার মাদহাব এ ব্যাপারে একমত। এমনকি ‘কবুল’ বলার সময় কোনরূপ ফোর্স করা যাবে না, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিয়ের কাজীর। কোন মেয়ে যদি কবুল বলার অথবা কাবিন নামায় সাইন করার কয়েক সেকেন্ড আগেও মনে করে, বিয়েতে তার মত নেই তবে ইসলাম তাকে পূর্ণ অধিকার দিয়েছে তৎক্ষনাৎ বিয়ে ভেংগে দেবার। ছেলেদের জন্যও একই কথা প্রযোজ্য।

২. হিল্লা বিয়ে বলতে কোন বিয়ের কনসেপ্ট ইসলামে নাই। হিল্লা বিয়ের নামে যে সেটাপ বিয়ের আয়োজন করা হয়, সেই জিনিস গ্রাম্য কাঠ মোল্লাদের আবিস্কার। ইসলামে এর কোন জায়গা কোন কালে ছিলো না। কখনো থাকবেও না।

৩. কোন ছেলেকে বিয়ে করতে হলে অবশ্যই তার তিনটি ক্ষমতা থাকতে হবে:

ক. অর্থনৈতিক স্বক্ষমতা। [তার মানে এই না যে ভাল ক্যারিয়ার থাকতে হবে, প্রচুর ইনকাম থাকতে হবে। স্ত্রী এবং সন্তানকে ভরনপোষন করার মতো যথেষ্ঠ আর্থিক সংগতি থাকলেই কোন ছেলে বিয়ের জন্য ক্যাপেবল হয়ে যাবে। পুরোপুরি বেকার কোন ছেলেকে বিয়ে করতে চাইলে সেটা নিজ দায়িত্বে করতে হবে। মানে এর কারনে পরে কোন ঝামেলা হলে সেটা ইসলামের ঘাড়ে চাপানো যাবে না]

খ. শারীরিক স্বক্ষমতা। [এ ব্যাপারটা এ্যানসিউর করবে ছেলে এবং ছেলের পরিবার। সত্য লুকিয়ে বিয়ের পর যদি দেখা যায় ছেলের ফার্টেলিটিতে সমস্যা আছে তবে সেটার দায় পুরোই ছেলে এবং ছেলের পরিবারকে বহন করতে হবে। বাচ্চা হওয়া না হওয়া বা মেয়ে সন্তান হবার জন্য কোনমতেই স্ত্রীকে দায়ী করা যাবে না। [সূত্র: ফওয়াযে মাজহেরি; Islamic Marriage Facts of all Madhab, Publication 1999, page: 23-24]

গ. মানসিক স্বক্ষমতা। [মানসিক ভারসাম্যহীন কোন মানুষকে বিয়ে করা যাবে না। যদি কেউ করে, নিজ দায়িত্বে করবে।]

৪. চাক্ষুষ এবং ‘সুস্থ মস্তিস্কসম্পন্ন’ স্বাক্ষী ছাড়া কোন মতেই বিয়ে হবে না। তা সে যত বিশ্বাসযোগ্য ছেলে বা মেয়ের সাথেই বিয়ে হোক না কেন।

৫. এ্যারেঞ্জড বিয়ের আগে ছেলে মেয়ের সাথে কথপকথনের সুযোগ রয়েছে। যারা ভাবেন, ইসলামে বিয়ের আগে কনে দেখা যায় না, তারা ভুল জানেন।

৬. মুসলিম শরিয়ত অনুযায়ী, মেয়ে পক্ষকে কোন যৌতুক দিতে হয় না। বরং ছেলে পক্ষ কর্তৃক মেয়ে পক্ষকে যৌতুক দিতে হয় যার নাম দেনমোহর। এই দেনমোহন স্বামীর করুণা নয় বরং স্ত্রীর অধিকার। এর সাথে স্ত্রীকে ভরন পোষন করা কিংবা তালাক দেয়া বা না দেয়ার কোন সম্পর্ক নাই। স্ত্রী যে কোন সময়, এমনকি তালাকের পরও তার প্রাপ্য দেনমোহরের জন্য স্বামীকে চাপ দেবার পূর্ণ অধিকার রাখেন। তবে স্ত্রী দেনমোহন কড়ায় গন্ডায় আদায় করবে নাকি মাফ করে দেবে, একবারে দাবী করবে নাকি স্বামীকে সুযোগ দেবে ইনসটলমেন্টে দেবার, সে সব পুরোই স্ত্রীর উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সে যেটা চাইবে সেটাই হবে। কিন্তু মাফ করে দেবার জন্য কোনভাবেই তাকে ফোর্স করা যাবে না। এমনকি স্ত্রীর দেনমোহরের টাকা কোথায় খরচ করা হবে, সেই ব্যাপারে নাক গলানোর কোন অধিকারও ইসলাম স্বামীকে দেয়নি। স্ত্রীকে দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করার পর সে টাকা স্ত্রী সিন্দুকে ভরে রাখবে নাকি টাকা দিয়ে সে খিচুড়ী বানিয়ে খাবে, সেটা একান্তাই তার ব্যাক্তিগত বিষয়।

presumption-of-marriage

দেনমোহর প্রথার যারা বিরোধীতা করেন, তারা মধ্যবিত্ত পরিবারের কোন একজন হিন্দু স্বামী পরিত্যাক্তা [হিন্দু বিয়েতে তালাকের কোন সিস্টেম নাই] নারীর কাছে গিয়ে করে দেখবেন, সে কি বলে! হিন্দু ধর্মে দেনমোহরের কোন প্রথা না থাকায় মেয়েরা প্রতিনিয়ত তাদের স্বামীর দ্বারা নিগৃহীত হচ্ছে। স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হবার পর হিন্দু ধর্মের একটি মেয়ে যে কি পরিমান অসহায় হয়ে যায়, এ বিষয়ে আমাদের অনেকেরই কোন ধারনা নাই। এই কারনে আমি কয়েক বছর আগে ইন্ডিয়ার মতো আমাদের দেশেও হিন্দু আইন যেন সংস্কার করা হয়, সে বিষয়ে লিখেছিলাম, হিন্দু পরিষদের কাছে দাবী জানিয়েছিলাম।

৭. আমাদের দেশের মুসলিম পারিবারিক আইনানুযায়ী, স্ত্রীর পূর্ণ অধিকার রয়েছে স্বামীকে তালাক দেবার। তবে কাবিন নামায় সেটা উল্লেখ থাকতে হবে। বিয়ের সময় এই ব্যাপারটা এ্যানসিউর করার দায়িত্ব প্রত্যেক মুসলিম মেয়েদের। হিন্দু পারিবারিক আইন সংস্কার শুরু করা হয়েছে সবে মাত্র, তবে সেখানে মেয়েদের তালাক দেবার ক্ষমতা রাখা হবে কিনা জানা নেই।

৮. যদিও ইসলামিক শরীয়তে কোর্ট ম্যারেজের কোন পদ্ধতি নেই, বিয়ে কনডাক্ট হবে কাজীর দ্বারা, তবে ১৯৬২ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক মুসলিম বিয়ের রেজিষ্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। বিয়ের পর কোন ঝামেলা হলে মামলা মোকদ্দমা করার জন্য বিয়ের কাবিননামা এবং রেজি: পেপারই যথেষ্ঠ। তাই কোন ছেলে যদি কোন মেয়েকে কোর্ট ম্যারেজ করতে চায়, তাহলে ঐ মেয়ের উচিত কাজী, কাবিন নামা এবং রেজি: এসব বিষয় নিশ্চিত করা। একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে, কাজী ছাড়া কাবিননামা হবে না। আর কাবিননানা ছাড়া মুসলিম বিয়ের কোন মামলা আদালতে টিকবে না।

৯. স্ত্রী অসুস্থ এবং গর্ভবতী থাকা অবস্থায় তার বাড়তি যে সুরক্ষা প্রয়োজন হয়, সে ব্যাপারে পূর্ণ দায় দায়িত্ব স্বামীর। এই দুই সিচুয়াশানে দরকার হলে স্বামীকে ঘরের সব কাজ করতে বলা হয়েছে। [সূত্র: ফওয়ায়ে মাজহেরি; Islamic Marriage Facts of all Madhab, Publication 1999, page: 29-30]

১০. বিয়ের অনুষ্ঠান যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত এবং অনাড়ম্বরপূর্ণ করতে সুপারিশ করা হয়েছে। ইসলামে মূল বিয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগে বড়জোড় ৫ মিনিট।

১১. বিয়ের খুতবা জানা থাকলে যে কেউ বিয়ে পড়াতে পারেন। এমনকি কোন মেয়ে বা ছেলেরও যদি জানা থাকে, তবে সে ছেলে বা মেয়ে নিজেই নিজের বিয়ে পড়াতে পারবে। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে, রেজিষ্ট্রার্ড কাজির দ্বারা বিয়ে পড়ানোই ভালো।

১২. বিয়ের আগে প্রত্যেক মুসলমান ছেলে এবং মেয়ের উচিত এসব ব্যাপারে স্পষ্ট ধারনা রাখা যাতে করে কোন পক্ষই কোন পক্ষকে ঠকাতে না পারে। অনেক সময় কাজীও শরীয়তের অজুহাতে আবজাব বলে বেশী টাকা আদায়ের চেষ্টা করে, সহজ কাজটাকে কঠিন করে তোলে বা বেহুদা বিয়ের পাত্র-পাত্রীকে ভয় দেখায়। এ ব্যাপারে স্পষ্ট ধারনা থাকলে এ জাতীয় প্রবণতা বন্ধ হয়ে যাবে।

১৩. ইসলামিক শরিয়তে হালাল কাজের ভেতর সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ হচ্ছে তালাক দেয়া। দিতে সব সময় নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

বিয়ে এবং তালাকের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে, এমনকি আমি উপরে যা যা বল্লাম সেগুলো সত্যিই ইসলামিক রেগুলেশন কিনা সেটা যাচাই করতে চাইলে নিকটস্থ মসজিদের ইমাম বা মোয়াজ্জিনকে গিয়ে ধরেন।

ইমাম সাহেব শরীয়তসম্মত উত্তর দিয়েছেন কিনা তা যাচাই করার উপায়:

ক. তারঁ কাছে একাধিক রেফারেন্স চাইবেন। শরীয়তে প্রতিটি জিনিসের একাধিক রেফারেন্স আছে।

খ. ‘একই বিষয়ের ব্যাপারে অন্য মাদহাবগুলোর অবস্থান কি? – এই প্রশ্ন করবেন।

গ. ক্রসচেকিং করবেন। মানে একই প্রশ্ন পাশের এলাকার মসজিদের ইমামকে করবেন। তারপর দুজনের উত্তর ক্রসচেকিং করে দেখবেন কোন অমিল খুজেঁ পান কিনা।

ঘ. এলাকাবাসীর কাছে সুনাম আছে অথবা সুনাম না থাকলেও দুর্নাম নেই এমন ইমামের শরনাপন্ন হবেন।

ঙ. সবচেয়ে ভাল হয় কোন মাদ্রাসার মুফতি বা মাওলানার কাছে যেতে পারলে। মাদ্রাসাটা যত বড় এবং/অথবা পরিচিত হবে, আপনার ভুল উত্তর পাবার সম্ভাবন তত কম।

https://www.facebook.com/proloyhasan/posts/10151369783147220

সেকেন্ড হ্যান্ড আইফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই চেক করে নিবেন

download

বাংলাদেশের বাজারে সেকেন্ড হ্যান্ড আইফোন কেনাটা বিরাট ঝুকিঁর ব্যাপার। একটু সাবধান না হলে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আপনাকে অবধারিতভাবে ঠকতে হবে।  কারন আপনাকে কোন ধরনের ওয়ারেন্টি দেয়া হবে না, কোন মানি ব্যাক গ্যরান্টি পাবেন না। মানে কেনার সময় যা দেখার দেখে নিবেন, পরে আর কোন আপত্তি গ্রহন করবে না কেউ অবশ্য বসুন্ধরার দোকানগুলোতে নাকি ৬ মাসের সার্ভিস ওয়ারেন্টি দেয়। তাই ওরা দামও বেশী রাখে। Continue reading

Status

ভোজনরসিক বাঙ্গালির ভূরিভোজন!

DSC_5305

বাঙ্গালীর উৎসবের অভাব নাই। সেই উৎসব উপলক্ষ্যে ভূড়ি ভোজেরও কোন শেষ নাই। বাঙ্গালীর প্রায় সকল উৎসবে ভোজের আয়োজন দেখলে মনে হবে, উৎসবটা এখানে গৌন। ভোজনটাই মূখ্য। যদিও ‘ভোজ’ থেকে ‘ভোজন’ এসেছে, কিন্তু আক্ষরিক অর্থ বিচার করলে দুটোতে কোন মিল পাওয়া যায় না। ভোজন মানে খাওয়া। সেটা পোলাও কোর্মা হতে পারে, হতে পারে এক গ্লাস পানীয়ও। অপরদিকে ভোজ মানে হচ্ছে খাবার দাবারের এলাহী কারবার! সেখানে পোলাও কর্মা এবং পানীয়ের কোন অভাব থাকে না। তাই সঙ্গতকারনেই, ভোজ ও ভোজন আমাদের সংস্কৃতির দুটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ধর্মীয় উৎসবে খাওয়া, সাংস্কৃতিক উৎসবে খাওয়া, সামাজিক উৎসবে খাওয়া। কোন উৎসবেই খাবার অনুপস্থিত নয়। তবে সামাজিক উৎসবে ভোজের আয়োজনটা অন্য সমস্ত উৎসবকে যেন ছাড়িয়ে যায়। ছোটবেলা থেকেই দেখছি, বর-কণের চাইতেও বিয়ে বাড়ীর প্রধান আকর্ষন হচ্ছে ভোজন। বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে বর বা কণেকে না দেখেই ফিরে আসতে দেখেছি অনেককে, কিন্তু না খেয়ে ফিরে আসা? কাভি নেহি। Continue reading

আমার দেখা এক বিভীষিকাময় ক্যান্সার!

t2-large-web

আমি খুব কাছ থেকে যে ক্যান্সারটি দেখেছি, সেটার ডাক্তারি নাম “লিম্ফোব্লাস্টিক ল্যূকেমিয়া ”. হাত বা পায়ের অস্থিমজ্জার ভেতরের রক্তকণিকাগুলো জন্মাতে পারে না বা পারলেও সাথে সাথে ফেটে যায়, এই জন্য এইরকম নামকরণ। এই ক্যান্সারটি হয়েছিলো আমার ছোটভাইসম রূমমেট রাহুলের।

প্রথম কয়েকরাতে প্রচন্ড জ্বর, আর মারাত্নক হাটুঁ ব্যথা। এরপর হঠাৎ একদিন সে প্যারালাইসড হয়ে গেলো। দু পা পুরোপুরি অবশ। পরদিন দুপুরের পর এ্যামুলেন্সে করে সিডনীর একটা ঐহিত্যবাহী হাসপাতালে ওকে ভর্তি করার পর ডাক্তাররা সব ধরনের চেকাপ করালেন। রোগটার ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পাক্কা ৪ ঘন্টা লাগলো। সবগুলো রোগ চেক করে যখন হেপাটাইটিস বি, এইচ আই ভি আর ক্যান্সার বাকী ছিলো, তখনই ওর লিউকোমিয়া ধরা পড়লো। পর পর দুবার ওর ব্লাড টেস্টে একই রেজাল্ট আসলো। ডাক্তাররা ওকে আর বাসায় যেতে দেননি। সাথে সাথে ভর্তি করানো হলো। Continue reading

পুরুষের পর্দার কথা বলবে কে? (নারী এবং পুরুষের পর্দার একটি সামগ্রিক পর্যালোচনা)

Veil_men vs. woman

আমাদের দেশে সব সময়ই  নারীর পর্দা নিয়ে এত বেশী হৈ চৈ হয় যে, সেই অনুপাতে পুরুষের পর্দা নিয়ে কোথাও বিন্দুমাত্রও আলোচনা হয় না। তাই গত কয়েক মাস ধরেই ভাবছিলাম  এই বিষয়টা নিয়ে একটু বিস্তারিত লিখবো। এটা ভাবার কোনই কারন নাই যে পুরুষদের কোনভাবে ছাড় দেয়া হয়েছে।

এই লেখাটি বিশাল। অনেক সময় নিয়ে ধৈর্য্য ধরে পুরোটা পড়তে হবে। বিশাল পোষ্ট  হবার কারনে হয়তো অনেকেই এড়িয়ে যাবেন কিন্তু আমি এখানে এমন একটা বিষয় নিয়ে লিখেছি, যা নিয়ে এর আগে কেউ কখনো লিখেন নাই, এমনকি বলেনও নাই। Continue reading

আমি যেভাবে আজ চাক্ষুষ করলাম বিধ্বস্ত রানা প্লাজা

সাভারের জন্য এলাকার কিছু ছেলে পেলে হাজার কয়েক টাকা তুলেছে এলাকা থেকে। তারা বাসে করে আজ বিকেলে যাবে। তাদের সঙ্গে আমিও গেলাম। এদিকে জগন্নাথ কলেজ থেকে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফেডারেশনের একটা বড় সড় দল পিকাপ ভাড়া করে প্রায় একই সময়ে সাভারে রওনা দিলো। তাদের সাথে আছে অক্সিজেনআর ওষুধসহ প্রচুর দরকারী রসদ। তারা আমাকে তাদের সাথেই যেতে অনুরোধ করেছিলো, কিন্তু আমি আমার এলাকার ছোট ভাইদের সাথেই যেতে বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলাম। Continue reading

আমার প্রিয় হলিউড নায়কেরা – (শেষ কিস্তি)

১২) বেনেডিক্ট কামবারবেইচ

Benedict-Cumberbatch-In-Black-Sherlock-Holmes-Posterপ্রথমেই আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে নিচ্ছি অনিচ্ছাকৃত লম্বা বিরতির অপরাধে। কিছু পারিবারিক ও পেশাগত ঝামেলার কারনে গত দু সপ্তাহ অনেক চেষ্টা করেও এই সিরিজের সর্বশেষ লেখাটি লেখার মতো যথেষ্ঠ সময় ও সুযোগ করে উঠতে পারিনি। তাই ফেসবুকে ইনবক্স করে ও ফেসবুক পোষ্টের কমেন্ট সেকশনে যারা ক্রমাগত তাগাদা দিয়ে গেছেন, তাদের কাছে সবিনয় ক্ষমা প্রার্থনা ও দুঃখ প্রকাশ করছি।

পুরো নামঃ বেনেডিক্ট টিমোথি কার্লটন কামবারবেইচ।
বয়সঃ ৩৮ বছর।
উচ্চতাঃ ৬’
পরিচয়ঃ বৃটিশ অভিনেতা ও প্রযোজক।
প্রথম মুভিঃ To Kill a King (২০০৩)
জনরাঃ ড্রামা, বায়োগ্রাফি ও ’প্রচন্ড-রকমের-বুদ্ধিমত্তা-সম্পন্ন-চরিত্র’ ঘরানার নায়ক। (যেমনঃ শার্লক, হকিং, টুরিং)
এ পর্যন্ত অভিনীত মুভির সংখ্যাঃ ৩২
অস্কার/অস্কারের নমিনেশন পেয়েছেনঃ বেষ্ট এ্যাকটর ক্যাটাগরিতে নমিনেশন পেয়েছেন একবার। The Imitation Game এ। Continue reading

Quote

স্যুরণ ও তার কল্প্রলয়…!

shopnoduarblog_1225999867_1-DSC09056

ইউনিভার্সিটির সেকেন্ড সেমিস্টারে একটা ইন্ডিয়ান মেয়ের সাথে পরিচয় হয়। স্যুরন। দেখতে কালো, কিন্তু খুবই মিষ্টি; মায়াকাড়া চেহারা। সব সময় এই মেয়েটি হেসে হেসে কথা বলত। খুব দুঃখের কথাও সে হেসে হেসে বলত। একটা পাই শপে পার্ট টাইম জব করত। ছাত্রী হিসেবে মুটামুটি ছিল। ২য় সেমিষ্টারে আমাদের ক্লাস বদলে গেলো, সাবজেক্ট বদলে গেলো। তাই নতুন ক্লাসে এসে নতুন নতুন ছেলেমেয়ে দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। পুরো ক্লাসে তখন আমিসহ তিনজন বাংলাদেশী। একজন মহিলামত মেয়ে (মানে বয়স মেয়েদের মতো কিন্তু দেখতে মহিলাদের মতো বয়স্ক) আরেকটা ছেলে, নাম আতাহার। মহিলামত মেয়েটা কয়েক সপ্তাহ পর পর ক্লাসে আসতো। অষ্ট্রেলিয়ার ছাত্র ভিসার শর্ত হচ্ছে, ক্লাসে ৮০% উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। নাহলে ভিসা বাতিল হয়ে যাবে। মহিলামত মেয়েটির ৮০% অনুপস্থিতিতেও ভিসা বাতিল হয় না কারন তার স্বামী অষ্ট্রেলিয়ান সিটিজেন। তাই তার ক্লাস করারও গরজ নাই।

আর আতাহার খুবই গোবেচারা টাইপ ছেলে। সে বাংলাদেশের এক অজগ্রাম থেকে সরাসরি অষ্ট্রেলিয়ায় চলে এসেছে। দরিদ্র বাবা নিজের সব সহায় সম্পত্তি বিক্রি করে একমাত্র ছেলেকে বিদেশে লেখাপড়া করতে পাঠিয়েছেন। ছেলে বিদেশ বিভূইঁয়ে না পারে চলতে, না পারে ঠিকমতো কারো সাথে কথা বলতে। বেচারা সবসময়ই নার্ভাস থাকতো। আমি নিজেও যেহেতু গোবেচারা টাইপ মানুষ, সেহেতু আতাহারের সাথে আমার ভাব হয়ে গেলো। আমাদের সাথের সাদা চামড়ার ছেলেমেয়েগুলোকে দেখি, তারা ক্লাস শেষ করে নাইট আউটে যায়, লং ড্রাইভে যায়। আর সপ্তাহান্তে বারে যায়, পার্টিতে যায়। আমরা দুজন ক্লাসে আসি, মাথা নিচু করে লেকচার শুনি, চুপচাপ ক্লাস শেষে করে কাজে যাই নয়তো বাড়ি ফিরে যাই।

মাসখানেক পর হঠাৎ একদিন শুনি আতাহার বিজনেস কলেজে ভর্তি হবে, কারন ভার্সিটির আকাশচুম্বি সেমিষ্টার ফি সে আর টানতে পারছে না। ইমগ্রেশন থেকে অনেক ঝামেলা করে ভিসা বদলিয়ে সে অনার্স থেকে ডিপ্লোমায় ভর্তি হয়ে গেলো। অথচ আমি জানতাম কাজটা করা যায় না।

আতাহার চলে যাবার একদম একা হয়ে গেলাম আমি। প্রচন্ড মন খারাপ করে ক্লাসে আসতাম, প্রচন্ড মন খারাপ করে ক্লাস শেষ করতাম। ছেলেপেলেরা একা একা ক্লাসে ঢুকতো কিন্তু দল বেধেঁ ক্লাস থেকে বের হতো। আমি ঢুকতাম একা একা, বেরও হতাম একা একা। আমি উপলদ্ধি করলাম, ভার্সিটি লাইফে পুরোপুরি বন্ধুবিহীন অবস্থায় থাকার মতো অভিশপ্ত জিনিস ছাত্রজীবনে আর হয় না।

এ সময় কিভাবে কিভাবে যেন একদিন স্যুরনের সাথে পরিচয় হয়ে গেলো। ছোটবেলা থেকেই আমি বেশ মুখচোরা ছিলাম, মেয়েদের সাথে গুছিয়ে কথা বলতে পারতাম না। স্বাচ্ছন্দ্যে মিশতে পারতাম না। এই কারনে স্যুরন নিজে থেকেই আমার সাথে গল্প করার চেষ্টা করতো। আমার কাছ থেকে নোট নিতো, ওর এসাইমেন্ট আমাকে দিয়ে করাতো, বিনিময়ে ওর চাচার ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্টে ভরপেট লাঞ্চ এবং ডিনার করাতো। স্যুরন কবিতা পছন্দ করতো। ওর জন্মদিনে আমি একটা কবিতা লিখে উপহার দিই। বেশ খুশী হয়েছিলো। সেও আমার জন্মদিনে আমাকে একটা কবিতা লিখে সেটার রিপ্লাই দেয়। ভীষন স্মার্ট মেয়ে ছিলো স্যুরন। আমাকে ও কেন জানি ’কল্প্রলয়’ বলে ডাকত! ওর সব কিছুই ছিলো কল্পনার একটা থিমে সাজানো। ওর ল্যাপটপের ওয়েলকাম স্ক্রীনে ওর নাম ছিলো কল্পলোক। আমার নামটাও হয়ত সেভাবেই এসেছে। কল্পনা আর প্রলয়। কল্প্রলয়।

কবিতার শিরোনামের নীচে এমন করে নামটা লিখে দিয়েছিলো যে কেউ দেখে ভাববে কবিতাটা হয়ত আমারই লেখা। যাকে উদ্দেশ্য করে লেখা, তার নাম সে দিয়েছিলো লেখকের নামের জাগায়। আমি খুব অবাক হয়েছিলাম।

পরের সেমিষ্টারেই, একদমই হঠাৎ, স্যুরন ভয়াবহ একটা রোড এ্যাকসিডেন্টে মারা যায়। এক উইকএন্ডে ওর ইন্ডিয়ান বয়ফ্রেন্ড মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি বিপদ সীমার চাইতে অনেক বেশী গতিতে চালাচ্ছিল। হঠাৎ হাইওয়ের একটা ব্রীজের উপরে লোহার খাম্বার সাথে সংঘর্ষে ওদের গাড়িটি ছাতু হয়ে খাদের গভীরে পড়ে যায়। দুজনেই স্পটডেড। ক্লাসের সবাই গিয়েছিলাম ওদের ফিনিউরালে। সেদিন ছিলো ৭ ই নভেম্বর।

আজ স্যুরনের ২৮ তম জন্মদিন। বেচেঁ থাকলে আজ সে ২৮ বছরে পা দিতো। খুব মনে পড়ছে ওকে। পরম করুনাময় তার বিদেহী আত্নাকে শান্তি দিক। আমিন।

You Are…
– KalProloy

O my thee,
the days we passed
In our ways,

So close, yet so far.
We found the realm, where life goes…

Thought ever?
What is it?
Its the beat of our hearts!
The dream i did never have
Thats where you are…yeah, you are…!

Only you…?
Uhu, couldn’t be my dream catcher,
But for thee,
I made the dream river
Thats where, you are…..you are!

What’d never be…
Any day,
It would,
You hover on my river,
none is there
see none…
ONLY YOU AND ME THERE…..WE ARE….!

dedicated to the one, an Australish, the dreamed, i have ever felt about        

              ছবিটা ওর কবিতার সেই প্রিন্ট আউটটা। নীচে ওর নিজের হাতে সাইন করা।

 

https://www.facebook.com/proloyhasan/posts/10152450161872220?__mref=message


Aside

আমার প্রিয় ‘হলিউড নায়কেরা’ – (৩য় কিস্তি)

Edward-Norton

ব্যক্তিগত ও পেশাগত ব্যস্ততার কারনে গত দুদিন পোষ্ট করতে পারিনি বলে আগেই দুঃখপ্রকাশ করে নিচ্ছি।

পুরো নামঃ এডওয়ার্ড হ্যারিসন নরটন।
বয়সঃ ৪৮
উচ্চতাঃ ৬’
পরিচয়ঃ আমেরিকান অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক, স্ক্রিনপ্লে লেখক ও ফিল্ড একটিভিষ্ট।
প্রথম মুভিঃ ১৯৮৮ 
জনরাঃ ড্রামা, সিরিয়াস নায়ক।
এ পর্যন্ত অভিনীত মুভির সংখ্যাঃ ২৭ টি।
অস্কার/অস্কারের নমিনেশন পেয়েছেনঃ ৩ বার নমিনেশন পেয়েছেন।
সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকঃ ৮ মিলিয়ন ডলার।
উল্লেখযোগ্য মুভিঃ আমেরিকান হিস্টরি এক্স, ফাইট ক্লাব, ইলিউজনিষ্ট, দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক, দ্য পেইনটেড ভেইল
ধর্মঃ ইহুদি।

আমি জানি, নরটন খুব বেশী মানুষের প্রিয় নায়ক নন। এমনকি, বাংলাদেশের অনেক ছেলে মেয়ে হয়তো তাকেও চিনেও না, বা চিনলেও তার নাম জানেন না। কিন্তু এই লোক নিঃসন্দেহে আমার অন্যতম প্রিয় নায়ক। এটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত পছন্দ। যেমন ব্যক্তিগত পছন্দ হলো, হলিউডের তথাকথিত তুমুল জনপ্রিয় অনেক নায়কই (যেমনঃ ব্রেড পিট বা টমক্রুজ বা রাসেল ক্রো) অত্যন্ত সচেতনভাবেই আমার পছন্দের লিষ্টের বাইরে আছেন।

images

আমি এই লোকটির অভিনয়ের একনিষ্ঠ ভক্ত তার দ্য ইলিউজনিষ্ট দেখে। আমি আমার জীবনে আর কোন অভিনেতার চরিত্রে এতে বেশী ডুবে যেতে পেরেছি কিনা জানা নেই। এই মুভিতে তার অভিনয়ের দক্ষতা পৃথিবীর বড় বড় অভিনেতাদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে। শুধুমাত্র নরটনের অভিনয় দেখার জন্য আমি এই মুভিটি ৩ বার দেখেছি। এরপর একে একে দেখি দ্য ফাইট ক্লাব, আমেরিকান হিষ্টরি, দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক আর দ্য পেইনটেড ভেইল, আর বিস্মিত হই তার অভিনয়ের অসামান্য গুন দেখে!

নরটনের দাদাকে বলা হয় আধুনিক শপিং মলের জনক। আমেরিকাতে টিন প্রেগনেন্সির বিরুদ্ধে প্রথম যে সব মানুষ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, নরটন তাদের একজন। সে একজন তুখোড় গিটারিষ্ট। তার অত্যধিক সুদর্শন মুখমন্ডল এবং প্রখর ব্যক্তিত্বপূর্ণ কন্ঠস্বরে কিছু একটা যেন আছে, কিন্তু কি সেটা ধরতে পারি না ঠিক! :/

তিনি অনর্গল ষ্প্যানিশ ভাষায় কথা বলতে পারেন। মাত্র ৩০ বছর বয়সের ভেতর দু দুটি অস্কার নমিনেশন পান। হলিউডে এত কম বয়সে এটা একটা বিরল প্রাপ্তি!! তবে তার জীবনের লক্ষ্য ছিলো পাইলট হওয়া।

Edward Norton Wallpaper @ go4celebrity.com

অভিনয় শিল্প ও জীবনবোধ নিয়ে তারঁ কিছু অসাধারন উক্তি রয়েছে। উক্তি ও সংলাপঃ

I don’t smoke and I don’t want to smoke. I am not a fan of gratuitous smoking in films.

Life, like poker has an element of risk. It shouldn’t be avoided. It should be faced.

If I ever have to stop taking the subway, I’m gonna have a heart attack.
Fame is very corrosive and you have to guard very strictly against it.
I’ve never felt any particular encroachment of the ‘celebrity’ stuff into my life.
I’m an actor and, each time out, I’m trying to convince the audience that I’m this character. Every little thing that people know about you as a person impedes your ability to achieve that kind of terrific suspension of disbelief that happens when an audience goes with an actor and character [he’s] playing.

                                   মুভি লাভারজ গ্রুপ    সিনেমাখোরদের আড্ডা গ্রুপ

                                নরটনের টুইটার      নরটনের বিখ্যাত ১০ টি মুভি  

 

                  ১০) ক্রিশ্চিয়ান বেইল 

christian-bale

প্রিয় পাঠক এবং পাঠিকারা, আমার জীবনী সিরিজের সবচাইতে আগ্রদ্দীপক জীবনী হচ্ছে ক্রিশ্চিয়ান বেইলের। এই পোষ্টটি পড়ুন, আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি বেইলের জীবনের কিছু কিছু ফ্যাক্ট জেনে আপনি যারপরনাই অবাক হবেন। 🙂

পুরো নামঃ ক্রিশ্চিয়ান চার্লস ফিলিপ বেইল।

বয়সঃ ৪১ বছর

উচ্চতাঃ ৬’

পরিচয়ঃ বিশ্বখ্যাত বৃটিশ অভিনেতা।

প্রথম মুভিঃ ”আনাসটাসিয়াঃ দ্য মিষ্ট্রি অব আনা” (১৯৮৬ ইং)

জনরাঃ ড্রামা, এ্যাকশন ও সাই-ফাই নায়ক।

এ পর্যন্ত অভিনীত মুভির সংখ্যাঃ ২৬ টি।

Christian_Bale_Wallpaper_8_by_dinatzv

অস্কার/অস্কারের নমিনেশন পেয়েছেনঃ অস্কার পেয়েছেন একবার। (The Fighter)। নমিনেশনও পেয়েছেন একবার। (American Hustle)

সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকঃ দেড় কোটি ডলার। (দ্যা ডার্ক নাইট রাইজেস)

উল্লেখযোগ্য মুভিঃ  বেইলের সেরা ১০ মুভির তালিকা

ধর্মঃ বড় হয়েছেন ধার্মিক পরিবারে। বিভিন্ন উপলক্ষ্যে তিনি চার্চে যান ঠিকই তবে নির্দিষ্ট কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন না। তার বাবা ক্যাথোলিক বিশপের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন সুতরাং অনুমান করা হয়, তার ধর্মের শেকড় খ্রিষ্টান ক্যাথলিক।

54d5c5a4c928e53254b1cd7d

পরিচিতিঃ তার মা ছিলেন ইংল্যান্ডের একটি বিখ্যাত সার্কাসের পারফরমার এবং বাবা ছিলেন পেশাদার পাইলট। তার বাবার জন্ম সাউথ আফ্রিকায়। বেইলের ছোটবেলা কেটেছে ইংল্যান্ড, পর্তুগাল আর আমেরিকায়। মাত্র ১৩ বছর বয়সে দ্য এ্যাম্পায়ার অব দ্য সান করে প্রথম সমালোচকদের নজর কাড়েন তিনি। সে সময়ই হলিউডের আরেক সুন্দরী নায়িকা ‘ড্রিউ বেরিমোরের’ সাথে তার প্রথম দেখা এবং উভয়ই উভয়ের প্রেমে পড়েন বলে পরবর্তীতে বিভিন্ন ইন্টারভিউতে বলেন। তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে ফেলেন।

christian_bale__ballpoint_pen__by_signedportraits-d8kr1eu

বেইলের একটি ছবি ইন্টারনেটে এখনো প্রায় ভাইরাল। যেটা দাবানলের মতো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছিলো। মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে ৮ টি ভিন্ন ভিন্ন ছবিতে তিনি তার শরীরের অবয়বকে যেভাবে সত্যিকার অর্থেই পাল্টে ফেলেছিলেন, সেটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য! সে ছবিতে বেইলের সেই শারীরিক রুপান্তরকে এক নজরে দেখানো হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোন অভিনেতা চরিত্রের প্রয়োজনে নিজের শরীরের উপর এত দীর্ঘ সময় এই পরিমান অত্যাচার বা পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাননি। কোন মানুষ তার শরীরের ওজনের উপর এই পরিমান নিয়ন্ত্রন রাখতে পারেন, বেইল তার জলজ্যান্ত উদাহরন। ২০০৪ সালের দ্য মেশিনিষ্ট মুভির লেথ অপারেটর চরিত্রটির কারনে তাকে প্রায় ১ বছর ইনসমনিয়ায় ভুগতে হয়েছে। সারাদিন প্রচন্ড পরিশ্রমের পরও তিনি রাতে একফোটাঁ ঘুমুতেন না অথবা ঘুমুতে পারতেন না। সে সময় সারাদিনে তিনি মাত্র ৩ ছটাক সালাদ, একটি আপেল, এক প্যাকেট সিগারেট খেতেন আর রাতের বেলা এক কাপ লেতে কফি পান করতেন।

42476-Christian-Bale-weight-loss-and-PNC5

তিনি বিষন্ন ও নিঃসঙ্গ চরিত্রে অভিনয় করে অভ্যস্ত। ক্রিষ্টোফার নোলানের সাথে তিনি কাজের বাইরেও প্রচুর ঘনিষ্ঠ সময় কাটান। তিনি অনর্গল আমেরিকান উচ্চারনে ইংরেজী বলতে পারেন। আমি আর কোন বিট্রিশ নাগরিককে নিয়মিত আমেরিকান উচ্চারনে মুভিতে কথা বলতে দেখি নাই।

আমেরিকান সাইকো মুভিতে লিও ক্যাপ্রিওর অভিনয় করার কথা থাকলেও তার তুলনায় বেইলের অডিশন ভালো হয়, তাই তিনিই মনোনীত হন মুভিটার জন্য। অপরদিকে, ক্যাসিনো রয়াল (২০০৬) এর জেমস বন্ড চরিত্রের জন্য তিনি মনোনীত হলেও শেষপর্যন্ত তার বদলে অভিনয় করেন ড্যানিয়েল ক্রেগ।

চরিত্রের ভেতর মানসিকভাবে এতটাই ডুবে যান যে, মুভির পুরোটা সময় তো বটেই, এমনকি মুভির পরে মিডিয়ার সামনে বা রেড কার্পেট প্রিমিয়ারেও তিনি একই চারিত্রিক ভাষা ব্যবহার করেন।

Christian_Bale_Wallpaper_4_by_dinatzv

মিডিয়ায় ইন্টারভিউ দিতে অত্যধিক অপছন্দ করেন। সাংবাদিকদের সাথে দুর্ব্যবহার করার প্রবনতা রয়েছে তার।

বেইলের ব্যাপারে যেসব তথ্য অনেকেই জানেন নাঃ

১) বেইল একজন অভিজ্ঞ ঘোড় সওয়ার এবং তুখোড় মোটর সাইক্লিষ্ট।

২) তিনি বইয়ের বোকা। বই পড়তে প্রচন্ড ভালবাসেন। একই সাথে তিনি ভিডিও গেইমের প্রতিও আসক্ত।

৩) তিনি চাইনিজ গনতান্ত্রিক আইনজীবি চেং গুয়ানচিং এর রাজনৈতিক দর্শন দ্বারা প্রভাবিত, যদিও এ বিষয়ে তাকে খুব একটা মুখ খুলতে দেখা যায় না। তিনি চেং এর সাথে দেখা করে করমর্দন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু চাইনিজ সরকার তাকে সে সুযোগ দেয়নি।

1600215_christian_bale_BRV_

৪) Ark Trust, Greenpeace, A Gorilla Fund, The Redwings Sanctuary, The Happy Child Mission এবং The World Wildlife Foundation – এ কয়েকটি সংগঠনে বেইল নিয়মিত পয়সা কড়ি দান করে থাকেন, মাঝে মাঝে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহনও করে থাকেন। এমনকি রিও ডি জেনিরোর একটি পথশিশু সংগঠনের তিনি প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

৫) তার নিজের তিনটি কুকুর আর তিনটি বেড়াল রয়েছে পোষ্য হিসেবে।

christian_bale01

৬) তিনি পৃথিবীর যে কোন মানুষের মুখের ভাষা ও শব্দ-উচ্চারন রীতি শুনে সে মানুষটি কোন দেশের নাগরিক তা নির্ভুলভাবে বলে দিতে পারেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের লোক বিভিন্ন ভাবে তার এ রহস্যময় ক্ষমতা পরখ করে দেখেছেন, এবং যথারীতি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গেছেন!

৭) বেইলের ফ্যানরা নিজেদেরকে “Baleheads” বলে পরিচয় দেয়। (সে হিসেবে আমি একজন বেইলহেডস! B-) )

৮) তার দুটি বিখ্যাত চরিত্রের নামের মাঝে মাত্র একটি অক্ষরের হেরফের। Bateman এবং Batman.

৯) তিনি প্রয়াত হিথ লেজারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।

১০) স্ত্রী ‘সিবি ব্লাজিক’ আর একমাত্র কণ্যা ’এমিলিন’ কে নিয়ে তার ছোট্ট সুখের সংসার। মজার ব্যাপার হলো, তিনি তার কন্যার নাম কখনো জনসম্মুখে নিশ্চিত করেন নি। 🙂

christian_bale04

উক্তি ও সংলাপঃ তার উক্তি গুলোও বেশ মজার এবং বুদ্ধিদীপ্ত!

ক) An actor should never be larger than the film he’s in.

খ) I started my career without fans.

গ) It’s the actors who are prepared to make fools of themselves who are usually the ones who come to mean something to the audience.

ঘ) Our Batman [Batman Begins (2005)] is centered on the early days. It’s an explanation. It’s certainly not Batman No. 5. It’s a reinvention. We want you to forget there has ever been a Batman before this one.

ঙ) I like being kept in the dark myself. You know, like mushrooms: Keep ’em in the dark and feed ’em shit. See, I think that’s an enjoyable vegetable to be. (দারুন একটা কথা তো! এত চমৎকার কথা অনেক দিন শুনিনি!)

christian_bale06

চ) [on playing Batman] You couldn’t pull it off unless you became a beast inside that suit.

ছ) I only sound intelligent when there’s a good scriptwriter around.

জ) I don’t think I’m like any of the characters I’ve played. They’re all really far from who I am. (খুবি সত্যি কথা!)

ঝ) I don’t think I was particularly in need of superheroes. I never had any fascination with Superman or Spider-Man or a Batman kind of character. If it happened at all, it was imagined characters that I had invented. My dad was a role model for me. He was a fascinating man. There was intrigue and entertainment growing up with him. He gave me an edict that I still pursue: “Life should never be boring”.

Christian-Bale-3

ঞ) [on meeting Arnold Schwarzenegger in a car park] He’s got bodyguards and they were all shouting at me and I was going, ‘Hold on, hold on, I’ve met him before!’ but they were getting very worried as I walked toward him. But we chatted a bit. He had questions about Terminator Salvation (2009), he didn’t know the script at all but I hear apparently he’s now seen the movie… I’ll wait to hear what his reaction is…

আমাদের আগামী কালের নায়কঃ । (৪০ বছর)

আমার হলিউডের প্রিয় নায়কেরা (১ম পর্ব) 
আমার হলিউডের প্রিয় নায়কেরা (২য় পর্ব)  

Christian-Bale-christian-bale-27110622-1200-1487

আমার দেখা বেইলের সবচাইতে সুন্দর প্রোট্রেইট

মুভি লাভারজ গ্রুপ    সিনেমাখোরদের আড্ডা গ্রুপ

১১) লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও

leonardo-dicaprio-01

পুরো নামঃ লিওনার্দো উইলহ্যাম ডিক্যাপ্রিও

ডাক নামঃ লিও। লেনি ডি।

বয়সঃ ৪০ বছর।

উচ্চতাঃ ৬’

পরিচয়ঃ বিশ্বখ্যাত আমেরিকান অভিনেতা ও প্রযোজক।

প্রথম মুভিঃ ১৯৯১ সালে। ক্রিটার্স থ্রি।

জনরাঃ ড্রামা, রোমান্টিক নায়ক।

এ পর্যন্ত অভিনীত মুভির সংখ্যাঃ ৪০ টি।

অস্কার/অস্কারের নমিনেশন পেয়েছেনঃ ৫ বার নমিনেশন পেয়েছেন। উনি এত ভালো অভিনয় করেও আজ পর্যন্ত একটা অস্কারও পাননি। এইটা একই সাথে আমার কাছে একটা বিরাট রহস্য ও বিরাট আফসোসের কারন। :'(
সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকঃ ৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। (ইনসেপশান)

উল্লেখযোগ্য মুভিঃ টাইটানিক, ডিপারটেড, ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান, দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট, দ্য এভিয়েট্যর, ইনসেপশান, শাটার আইল্যান্ড, জ্যাংগো আনচেইনড, দ্য গ্রেইট গ্যাটজবি, বডি অব লাইজ, রিভিউলেশনারি রোড, রোমিও-জুলিয়েট, ব্লাড ডায়মন্ড, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক এবং আউট অব দ্য ফারনেস (ক্যামেরার সামনে ছিলেন না। পেছনে ছিলেন। প্রডিসউসার) ।

ধর্মঃ ধার্মিক রোমান ক্যাথোলিক পরিবারে বড় হয়েছেন। কিন্তু তিনি ধার্মিক নন। আবার তাই বলে নাস্তিকও নন।

পরিচিতিঃ ৯০ দশকের টিনেজ হার্টথ্রব ’লিও’ জন্মেছেন ইতালি, জার্মানি আর রাশান বংশোদ্ভুত পরিবারে। ছোটবেলায় এমন একটি পাড়ায় তিনি বেড়ে উঠেছেন, মদ-ড্রাগ-জুয়া-যৌনতা এসব ছিলো যার নিত্য অনুসংগ। নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রভাব কতটা খারাপ হতে পারে, সেটা তিনি নিজের চোখে দেখেছেন মাত্র ৩/৪ বছর বয়স থেকে। অবাক করা ব্যাপার, এইরকম খারাপ পাড়ায় থেকেও তিনি বখে যাননি কারন তার বাবা-মা তাকে শিক্ষা, সংস্কৃতি আর মননে পরিছন্ন ও উন্নত রুচির করে বড় করেছেন। ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান দেখার পর লিওকে মনে হয়েছে আমার খুব ঘনিষ্ঠ একজন বন্ধু।

তার চরিত্রগুলো হয় বেশীরভাগ সময়ই খুবই ভিন্নধর্মী এবং কঠিন। যেমনঃ ট্রমা-ষ্ট্রেসে ভোগা, অভাগা, স্মৃতিভ্রষ্ঠ, ক্ষেপাটে, মানসিকভাবে বিপন্ন বিত্তবান শিল্পপতি। বাস্তব জীবনেও তিনি হলিউডের অন্যতম হাই রেটের অভিনেতা। এই মূহুর্তে হলিউডের বাজারে তার গড় পারিশ্রমিক ২ কোটি ডলারেরও বেশী।

পৃথিবীর সর্বকালের অভিনেতাদের তালিকায় তার অবস্থান ৭৫। পৃথিবীর সেরা ৫০ জন সুপুরুষের তালিকাতেও তার নাম রয়েছে।

vogue-australia-the-great-gatsby-leonardo-di-caprio-may-2013

লিও এর ব্যাপারে যে সব তথ্য বেশীরভাগ লোকই জানেন নাঃ

  • মাত্র ১০ বছর বয়সে তার এজেন্ট তাকে উপদেশ দিয়েছিলো তার নাম পাল্টে আরেকটু আমেরিকান ধাচেঁর নাম রাখতে। যেমনঃ লেনি উইলিয়ামস। বলা বাহুল্য, তার সে উপদেশের ধার লিও ধারেননি।
  • ১৯৯৮ সালে তিনি প্লেগার্ল ম্যাগাজিনের নামে মামলা করেছিলেন তার শরীরের সম্মুখ ভাগের সম্পূর্ণ নগ্ন ছবি ছাপাবার দায়ে।

  • তার প্রিয় পরিচালক হচ্ছেনঃ Martin Scorsese.

  • লিও ‘ম্যারিয়ন কটিলার্ড’ আর ’কেট উইন্সলেটের’ ঘনিষ্ঠ বন্ধু। উল্লেখ্য, এই দুইজনই নায়িকা হিসেবে আমার ভীষন প্রিয়।

  • রিভেলুশনারি রোড মুভির শুটিং শেষ হবার পর তিনি কেটকে একটা খাটিঁ সাদা সোনার আংটি উপহার দেন। আংটির উপরে একটা বাক্য খোদাই করে লেখা ছিলো। কিন্তু সে বাক্যটি কি, সেটা কেট আজ পর্যন্ত মিডিয়ার সামনে প্রকাশ করেনি। কেট তাকে ভাবেন, লিও এই প্রজন্মের সবচাইতে তুখোড়, মেধাবী ও চৌকষ অভিনেতা।

  • স্পাইডারম্যান-খ্যাত টবি ম্যাগুয়্যের তার বাল্যবন্ধু।

  • আমেরিকান সাইকো মুভির জন্য তাকে প্রস্তাব দেয়া হয় কিন্তু শিডিউল (স্ক্যাজুল) না মেলাতে পেরে সেটা ক্রিশ্চিয়ান বেইলকে দিয়ে দেয়া হয়। এরপর ২০০২ সালে স্পাইডার ম্যান চরিত্রের জন্য তিনি নির্বাচিত হন কিন্তু শেষে তিনি তা টবিকে দিয়ে দেন। ২০০৫ সালেও তিনি সিন সিটি মুভির জন্য মনোনীত হন, কিনতু শেষে পযন্ত বাদ পড়েন। ২০০৯ সালেও একই ঘটনা ঘটে। পাবলিক এনিমি মুভির জন্য ডিজিটাল ও প্রিন্ট মিডিয়ার সমস্ত প্রচারনাতেও তার নাম ছিলো। কিন্তু শুটিংর শুরু হবার সময় দেখা গেলো, তার চরিত্রটি জনি ডেপ করছে। সবশেষে দ্য ইংগ্লোরিয়াস বাষ্টাড মুভিতেও তার অভিনয় করার কথা ছিলো কিন্তু দিন শেষে কোয়ান্টিন টারানটিনো তার বদলে অন্য একজনকে বেছে নেন।
    (আই মিন, সিরিয়াসলি?? WTF man?!! :/ আমি তো খালি ভাবতাম অস্কারটাই বুঝি বার বার তার হাত ফসকে গেছে! অথচ এতগুলো মুভিতে তার থাকার কথা ছিলো!! )

  • কিশোর বেলায় তিনি অতিমাত্রায় সুদর্শন ছিলেন। এতটাই যে, কোন নতুন জাগায় গেলে স্থানীয় কিশোরী মেয়েরা প্রায়ই তার পিছু নিতো। তিনি যেখানে যেখানে যেতেন, তার পেছনে হেঁটে হেঁটে সেই মেয়েগুলোও সেখানে চলে যেতো।

  • ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে লিওর আইনজীবি লিও এর ’DiCaprio’ নামের কপিরাইটের জন্য আবেদন করেন।

  • টাইটানিকের শেষ জীবিত সারভাইভার যখন টাকার অভাবে হাসপাতালের খরচ যোগাতে পারছিলেন না, ঠিক সে সময় লিও এগিয়ে আসেন। তিনি যে শুধু হাসপাতালের মোটা অংকের বিল দেয় তাই নয়, লিও সেই মহিলার মৃত্যু পযন্ত সমস্ত ব্যয়ভার বহন করেন।

  • লিও একজন আপদমস্তক পরিবেশবাদী। বণ্য প্রাণী সংরক্ষনের জন্য তিনি গত দেড় দশকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দান করেছেন বিভিন্ন পরিবেশীবাদী সংগঠনকে।

  • তার নিজের একটি প্রডাকশন হাউস আছে। নামঃ Appian Way Productions.

  • তার নাম করনের পেছনের ছোট্ট গল্পও খুব বেশী লোক জানেন না। লিও পেটে থাকাকালীন তার মা একদিন উফিজি গ্যালারিতে হ্যান্ড পেইন্টিং দেখতে যান। তো তিনি যখন লিওনার্দো ডা ভিঞ্চির একটি চিত্রকর্মের সামনে আসেন, ঠিক তখনই লিও তার মায়ের পেটের ভেতর থেকে পা দিয়ে লাথি মারেন। লিওর চিত্রলিল্পী বাবা এই ঘটনাকে সিরিয়াসভাবে নেন এবং এই কারনে লিওর নাম রাখেন বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিঞ্চির নামানুসারে।

leonardo-dicaprio

উল্লেখযোগ্য উক্তি ও সংলাপঃ

১) অভিনয়ের সবচেয়ে ভাল দিক হচ্ছে, আমাকে অন্য চরিত্রের মাঝে হারিয়ে যেতে হয় এবং তার কারনে আমি পারিশ্রমিকও পাই। আমার যেটা হয়, সেটা হচ্ছে আমি নিজেই নিম্চিত না যে আমি আসলে কে? আমার তো মনে হয় আমি প্রতিদিন বদলাই। (The best thing about acting is that I get to lose myself in another character and actually get paid for it. It’s a great outlet. As for myself, I’m not sure who I am. It seems that I change every day.)

২) লোকে চায় তুমি পাগল হও, লাগামছাড়া ক্ষ্যাপাটে ছোকড়া হও, তারা চায় তুমি তাদের মতই অপদাথ হও। তারা চায় না তুমি নায়ক হও, তারা শুধু তোমার পতনটাই দেখতে চায়। (People want you to be a crazy, out-of-control teen brat. They want you miserable, just like them. They don’t want heroes; what they want is to see you fall.)

৩) আমার মধ্যে আসলে তেমন কোন অতিরঞ্জন নেই। আমার কোন ব্যক্তিগত বিমান নাই, আমার কোন দেহরক্ষীও নাই। আর আমি কোন আলতু ফালতু জিনিসও কিনি না। আমি শুধূ অত্যন্ত দামী একটা ঘড়ি কিনেছি, আর আমি সত্যিকার অর্থেই দামী একটা মুভি পোষ্টার কিনবো। দ্য থিফ অব বাগদাদ (১৯৪০) এর আসল পোষ্টার। আমি মুভি পোষ্টার ভালবাসি। (I don’t really have many extravagances. I don’t fly private jets and I don’t have bodyguards and I don’t buy crazy things. I have a couple of houses here and there. I bought a very expensive watch, and I am going to buy a really expensive movie poster, the original for The Thief of Bagdad (1940). I love movie posters.)

৪) হ্যা, আমি আমার বয়সের চাইতে ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে পারি, বড় চরিত্রেও পারি। তবে আমি শিশুদের চরিত্রে অভিনয় করতে পারি না।

৫) আমি জীবনের প্রথম যে মেয়েটির সাথে ডেট করি, তার নাম ছিলো স্যাসি। পুরো গ্রীষ্ম জুড়েই তার সাথে আমার ফোনে দারুন একটা সম্পক ছিলো। তারপর একদিন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমরা একসাথে থিয়েটারে যাবো মুভি দেখতে। কিন্তু তাকে যখণ আমি প্রথম সামনা সামনি দেখলাম।, তখন মুটামুটি একটা ধাক্কা খেলাম। এমনকি আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথাও বলতে পারছিলাম না। (My first date was with a girl named Cessi. We’d had a beautiful relationship over the phone all summer long. Then she came, home and we met to go out for the first time to the movies. When I saw her I was petrified. I couldn’t even look her in the eye to talk to her.)

৬) আমি জানি না আমি আদৌ কোনদিন বিয়ে করবো কিনা। মনে হয় না করবো, যদি না কারো সাথে আমি ১০ বা ২০ বছর আমার একসাথে থাকা হয়। ( I don’t know if I’m ever getting married. I’m probably not going to get married unless I live with somebody for 10 or 20 years. )

৭) আমি অনেক ধরনের প্রতারনা করেছি। আসলে বাসায় বসে হোমওয়াক করা আমার দ্বারা হয় না। তবে হ্যা, আমি বসি। তবে অসম্ভব স্মাট কোন লোকের পাশে। (I cheated a lot, because I just couldn’t sit and do homework. I usually sat next to someone extremely smart.)

৮) শুটিংর ফাকেঁ যখন ব্রেক নেই, তখন প্রথম যে কাজটা আমি করি সেটা হচ্ছে সমুদ্রের পাশে সময় কাটানো। (When I’m acting and I take a break, the first thing on my list is spending time by the sea.)

৯) যখন আমি ছোট ছিলাম. তখন আমি সবকিছুই ঘুরে ফিরে দেখতে চাইতাম। আমি ভাবতাম –” পৃথিবীর প্রতিটি ইনচি না দেখে আমি কি ভাবে মারা যাবো?” (When I was young, I used to have this thing where I wanted to see everything. I used to think, “How can I die without seeing every inch of this world?”.)

১০) যে সব মেয়েরা বুদ্ধিমতী, কিছুটা রসবোধসম্পন্ন এবং দেখতে মিষ্টি ও চমৎকার ব্যকিত্বসম্পন্ন, আমি সে ধরনের মেয়েদের পছন্দ করি। (I like girls who are intelligent, somewhat funny, and pretty with a nice personality)

১১) গাঢ় সবুজ আমার প্রিয় রং। এটা প্রকৃতির রং, টাকার রং এবং শৈবালের রং। (Dark green is my favorite color. It’s the color of nature and the color of money and the color of moss!)

১২) বেশী জিনিসের প্রতি আমার কোন আবেগ নেই। আমি সহজে রাগি না, আমি সহজে কাদিঁ না, তবে আমার মনে হয় আমি খুব সহজেই উত্তেজিত হয়ে পড়ি , কিন্তু আমি মন খারাপ করি না বা প্রচন্ড খুশীও হই না। আমার মনে হয়, অনেক লোকই এই সব নিয়ে প্রচুর বলে, এবং তারা মিথ্যে বলে। এই মূহুতে আমি শুধু আমার সুখটুকু ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আমি শুধু এই ব্যাপারটির প্রতিই মনোযোগী। , যা হোক, তুমি যখন আমার বয়সে পৌছুঁবে, আর যখণ তোমার হরমোন তোমাকে বিচলিত করে তুলবে, তখন তোমার মনে যৌনতা ছাড়া আর খুব বেশী কিছু খেলা করবে না।
(I don’t have emotions about a lot of things. I rarely get angry, I rarely cry. I guess I do get excited a lot, but I don’t get sad and enormously happy. I think a lot of people who talk about all that crap are lying. Right now I’m just trying to maintain happiness – that’s all I really care about. Anyway, when you’re my age and your hormones are kicking in, there’s not much besides sex that’s on your mind.)

১৩) আমার অন্যতম প্রিয় একটা কাজ হলো, মানুষের সাথে দেখা করে তাদেরকে অনুকরন করা। আমার খুবই ভালো লাগে এটা করতে। (One of my passions is to meet people and then imitate them. I love doing that.)

১৪) আমি এমনিতে খুব লাজুক প্রকৃতির মানুষ। কিন্তু যখন সময় আসে বণ্য হবার, তখন আমি রসিক, দুঃসাহিসক ও রহস্যময় হয়ে উঠি। (I’m shy, but when the time comes to be wild, I’m fun-loving, adventurous, and mysterious. )

১৫) যখনিই আমি কোথাও যাই, কেউ না কেউ আমার দিকে হা করে তাকিয়ে থা।কে। আমি জানি না তারা কি আমার দিকে এই কারনে তাকিয়ে থাকে যে তারা আমাকে চিনে ফেলেছে, নাকি আমাকে কিম্তুতকিমাকার দেখায়। (Everywhere I go, somebody is staring at me. I don’t know if people are staring because they recognize me or because they think I’m a weirdo.)

১৬)     Kate Winslet is one of my dearest friends. We have the ultimate trust in each other and the best of intentions for what we want to do. I knew Kate before Sam Mendes [her husband] even met her. So on the outside, it may seem strange to do a sex scene with a woman while her husband is directing. But it didn’t feel that way to me.

When the scene was about to start, Kate said, in front of the crew, “Wait, wait, this is totally weird”. She turned to both Sam and I and said, “Are you guys okay?”

We both looked at each other and said, Yeah, we’re totally fine.
She said, “It’s even weirder that you’re both totally fine”. (এইটার বাংলা একটু পরে লেখছি)

১৭) ম্যারিল স্ট্রিপের সাথে আমাকে প্রায়ই কাজ করতে হতো। তাকে দেখতাম এমন সব পোষাক পড়তে, আমার মনে হতো, এ ধরনের পোষাক নির্বাচন করার মানেটা কি? কিন্তু পরে দেখা গেলো, ষ্টেজে ঐ পোষাকের কারনে তাকে সবার চাইতে প্রাকৃতিক (ন্যাচারাল) মনে হচ্ছিলো। আমার মনে হয়, ম্যারিল স্ট্রিপ পৃথিবীর সেরা অভিনেত্রী।

১৮) এটা পোষ্টে লিখবো না ভেবেছিলাম, কিন্তু পরে ভাবলাম লিও’র বাংলাদেশী নারীকুলের একটু উপকার করি!  তাহারা শুনিয়া খুশী হ্লইবেন যে, লিও সপ্তাহে মাত্র ২ দিন গোসল করে। আর কোন ধরনের পারফিউম ইউজ করেনা। কেন জানেন? কারনটা আগেই বলেছি, সে মাত্রাতিরিক্ত পরিবেশবাদী। গোসল করে নদী/সমুদ্রের পানি অপচয় করেন না। এবং পারফিউম রিসাইকেল না করলে সেটা পরিবেশের ক্ষতি করে। অনেক পারফিউম স্বাস্থ্যেও ক্ষতি করে, এবং বেশীরভাগ পারফিউমে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।
সূত্রঃ http://goo.gl/VgHDDm

আমাদের আগামী কালের নায়কঃ বেনেডিক্ট কুমবারবেইচ (৩৮ বছর)

GATSBY

মুভি লাভারজ গ্রুপ      সিনেমাখোরদের আড্ডা গ্রুপ