মায়াবতী, So What বলার মুদ্রাদোষটা কি এখনো আছে তোমার?

12849951363_31d2b32b40_o

তনুষার সাথে আমার প্রথম দেখা এবং প্রথম পরিচয় দুটোই হয় ঝিগাতলা বিটস ইউনোভাসির্টির আন্ডারগ্রাউন্ড সাইবার ক্যাফেতে।
সালটা ছিল ২০০০ সাল। ঢাকা সিটি কলেজে সবে ইন্টারে ভর্তি হয়েছি। চোখে মুখে নানা রঙ্গের ঝিলি
ক। কম্পিউটার স্যার তানিম আহমেদই প্রথম ক্যাফের খোঁজটা দিলেন। বাংলাদেশে সাইবার ক্যাফে, ইন্টারনেট এইসব তখনও এতটা জনপ্রিয় হয়নি। বাসায় কম্পিউটার ছিল অনেক আগে থেকেই কিন্তু ইন্টারনেটের জন্য ক্যাফেতে যেতে হত। খুজেঁ পেতে ঐ ছিমছাম ক্যাফেটা খুঁজে পেয়েছিলাম।

ওর সাথে আমার পরিচয় পর্বটা অত্যন্ত নাটকীয়। কাকতালীয় বল্লেও বলা যায়। বল্লে হয়ত কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না।
ক্যাফেতে তেমন জরুরী কোন কাজ ছিল না। নিতান্তই ব্রাউজ আর চ্যাট করার জন্য যাওয়া হত। একদিন বাংলাদেশ রুমে গিয়ে ‘মায়াবতী’ নামে একজনকে পেলাম। আর পায় কে? নক করে ধুমায়া আড্ডা !

Continue reading

বিপ্রতীপ ভালোবাসা (২য় ও শেষ পর্ব)

বিপ্রতীপ ভালবাসা_Square Love

                                                            লোপা উপাখ্যান

লোপা গতকাল অনেক রাত জেগে পড়েছে। তার উপর আবার সকাল সাতটায় উঠে ক্লাস ধরতে হয়েছে। ভেবেছিলো সারা দুপুর আর বিকেল ঘুমিয়ে রাত আর সকালের ঘুমের ঘাটতিটুকু পুষিয়ে নেবে। ওর প্ল্যানট সফল হয়েছে ঠিকই তবে অনিন্দ্যর সাথে ঝগড়া করে মুডের পুরোটাই খারাপ হয়ে গেছে। ফোন ছাড়ার পর লোপা মন খারাপ করে কিছুক্ষন বসে রইল। ‘রাজনের সম্পর্কে ওকে জানানোটা মোটেও উচিৎ হয়নি’ বিড়বিড় করে বল্ল ও । এই ছেলেটাকে সে নিছক ফ্রেন্ড ছাড়া আর কিছুই্ কখনো ভাবেনি। তাই তো ও ওকে অকপটে রাজনের কথা বলেছে। কিছু দিন আগে ছেলেটা যে ওকে কিভাবে প্রোপজ করল, ও ভেবেই পায় না। ভেবেছিলো, অনিন্দ্য আর যাই হোক, ও আর দশটা ছেলের মতন না, কিছু দিন ফোনে কথা বলার পরই প্রেম নিবেদন করার মত আনসোশ্যাল ও নয়। কিন্তু ওর সে ধারনা ভেঙ্গে গেছে। সে জন্যই প্রথম প্রথম ওর সাথে দেখা করতে চায়নি, অনিন্দ্যকে এখনও ও এড়িয়ে যেতে চায়। Continue reading

বিপ্রতীপ ভালবাসা…! (১ম পর্ব)

( দুই খন্ডে সমাপ্য চর্তুভূজে প্রেমের এই বড় গল্প অথবা ছোট উপন্যাসটি পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করেছিলাম ২০০৮ সালে, সামহোয়ারিন ব্লগে। যদিও এটি লিখা হয়েছিলো তারো  প্রায় বছর পাঁচকে আগে। এই গল্পটির চরিত্র ও ঘটনা পুরোপরি কাল্পনিক নয়। তবে সঙ্গত কারনে স্বল্প কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবকে শুধুমাত্র কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে মাত্র। তবু অন্য কারো নাম বা ব্যক্তিগত কোন ঘটনার সাথে ব্যাপারটা মিলে গেলে সেটা হবে সম্পূর্ন কাকতালীয়। এই বড় গল্প অথবা ছোট উপন্যাসটি আমার অপরিপক্ক-কাচাঁ হাতের লেখা উৎকৃষ্ট নির্দশন।) Continue reading

Status

আম্মু, অবুঝ মেয়ে আমার!

মৃআমাকে নিয়ে অনেক টেনশন আমার বুড়ি মেয়েটার। আমার কাছে একদম বাচ্চা মেয়েদের মত বায়না ধরে। প্রতিদিন তাকে ফোন করতে হবে, প্রতিদিন ই-মেইল করতে হবে আর প্রতিদিন এসএমএস করতে হবে। আমার সবকিছু তাকে জানানো চাই ই চাই। আমি খানিকটা বিরক্ত হয়ে বলি, ‘তুমি যে কি বল না আম্মু! এত সময় কোথায় আমার? তাছাড়া, যে কোন একটা করলেই তো হয়। ফোন, ইমেইল, ম্যাসেজ সব একদিনে করতে হবে কেন?’ কিন্তু কে শোনে কার কথা?

Continue reading

এক বুক অপরাহ্ন

হুইল চেয়ারে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা

ভোর হতেই বর্ষার বিরাম নেই। বারান্দার গ্রিল ধরে কাব্য চুপচাাপ বসে আছে হুইল চেয়ারে। আনমনে বৃষ্টি দেখছে। কি অদ্ভুত এক উন্মাদনা আছে এই বর্ষনে। তাকিয়ে থাকতে থাকতে কেমন যেন ঘোর লেগে যায়। তিনি পৃথিবীতে আসার পর পৃথিবীর বুকে অর্ধশতাধিক বর্ষাকাল এসেছে। তবুও যতবারই তিনি বৃষ্টি দেখেন ততবারই সেটাকে নতুন বলে মনে হয়।

ওর নামের কল্যানেই কিনা, কলেজ লাইফে কবিতা লেখার বেশ ঝোঁক ছিল। অনেক আগের সেই কবি মনের খানিকটা ছিটে ফোটা হয়ত এখনও, এই বুড়ো বয়সেও রয়ে গেছে। অনেক অনেক দিন আগে মৃন্মিয়ীকে নিয়ে ও বিশাল একটা কবিতা লিখেছিলো। সেটা পড়ে মেয়েটার সেকি কান্না! ইদানিং খুব বেশী মনে পড়ছে ওকে। Continue reading