মেয়েদের গায়ে হাত তোলা সবচেয়ে নীচ কাপুরুষের কাজ

অনেক ছোটবেলায় আম্মুর কাছ থেকে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ লেসন পেয়েছিলাম।

যখন প্রাইমারিতে পড়ি, তখন আমাদের বাসায় প্রায় আমার মতো বয়সীই একজন গৃহপরিচারিকা ছিলেন। তার একটা রুটিন কাজ ছিলো, আমাকে প্রতিদিন বিকেলে মগ ভর্তি করে গরুর দুধ দেয়া। সংগত কারনেই কাজটা আমি ভীষন অপছন্দ করতাম। কারন প্রতিদিন নিয়ম করে মগ ভর্তি দুধ খাওয়া সেসময় আমার কাছে রীতিমতো এক ধরনের ফিজিক্যাল টর্চার মনে হতো। দু চুমুক খাবার পরই বমি বমি ভাব হতো। বেশ কিছুদিন এই টর্চার সহ্য করে একদিন চেষ্টা করলাম মেয়েটার সাথে একটা সন্ধি করতে। ওকে বল্লাম যে, আম্মুর অগোচরে মগ ভর্তি দুধটাকে দু ভাগ করে ফেলতে। এক ভাগ ও খাবে, আরেকভাগ আমি খাবো। তাহলে আমার উপর চাপ কমবে। Continue reading

আমাদের অফিসের বুয়া কাহিনীঃ দুটি সুখ-দুঃখের গল্প

images (1)

দুপুরের দিকে অফিসে গিয়ে দেখি অফিসের সবচেয়ে জুনিয়র প্রোগ্রামার ছেলেটা কিচেনে রান্নার যোগাড় যন্ত্র করছে। তাকে জিগেস করলাম, ঘটনা কি? সে বল্ল – বুয়া আসে নাই। কয়েক বার বুয়ার মোবাইলে কল করে ও তাকে পাওয়া যায় নাই। এই কারনে নিজেরাই রাধঁতে বসে গেছে।  আমার মেজাজ খিচড়ে গেলো! বুয়াটা আমাকে একটাবার জানাবে না?!! আমি ফোন দিলাম, ৫/৬ বার রিং হবার পর ফোন ধরলেন বুয়া সাহেবা। Continue reading

আমেরিকাতে সমকামী বিয়ের বৈধতা প্রসঙ্গে কিছু কথা


PrideDesignঅষ্ট্রেলিয়াতে প্রতি বছরের শুরুর দিকে মারদিগ্রা (Mardi Gras) নামের একটা প্যারেড হয়। লেন্ট মৌসমের রোজা রাখার আগে সবাই মিলে পেট পুরে ভালো মন্দ খায়, ইচ্ছেমতো রিচ ফুড খায়, সেটাকেই তারা উদযাপন করে মারদিগ্রার মাধ্যমে। এটা আদ্যোপান্ত খ্রিষ্টিয় ধর্মীয় উৎসব কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই দিনে অষ্ট্রেলিয়ার সমস্ত সমকামী দম্পতি রাস্তায় নেমে আসে। কি তাদের বাহারি সাজ, কি তাদের পোষাক আষাক!! চারিদিকে আনন্দের হুল্লোড় বয়ে যায়। তারা জানে আপনি তাদের মতো নন, কিন্তু ঐদিন রাস্তায় আপনার সাথে দেখা হলো তারা আপনাকে চকোলেট দিবে, বিয়ার সাধবে, হাসিমুখে হ্যান্ডশেইক করে একসাথে ছবিও তুলবে।
Continue reading

আমার দেখা এক বিভীষিকাময় ক্যান্সার!

t2-large-web

আমি খুব কাছ থেকে যে ক্যান্সারটি দেখেছি, সেটার ডাক্তারি নাম “লিম্ফোব্লাস্টিক ল্যূকেমিয়া ”. হাত বা পায়ের অস্থিমজ্জার ভেতরের রক্তকণিকাগুলো জন্মাতে পারে না বা পারলেও সাথে সাথে ফেটে যায়, এই জন্য এইরকম নামকরণ। এই ক্যান্সারটি হয়েছিলো আমার ছোটভাইসম রূমমেট রাহুলের।

প্রথম কয়েকরাতে প্রচন্ড জ্বর, আর মারাত্নক হাটুঁ ব্যথা। এরপর হঠাৎ একদিন সে প্যারালাইসড হয়ে গেলো। দু পা পুরোপুরি অবশ। পরদিন দুপুরের পর এ্যামুলেন্সে করে সিডনীর একটা ঐহিত্যবাহী হাসপাতালে ওকে ভর্তি করার পর ডাক্তাররা সব ধরনের চেকাপ করালেন। রোগটার ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পাক্কা ৪ ঘন্টা লাগলো। সবগুলো রোগ চেক করে যখন হেপাটাইটিস বি, এইচ আই ভি আর ক্যান্সার বাকী ছিলো, তখনই ওর লিউকোমিয়া ধরা পড়লো। পর পর দুবার ওর ব্লাড টেস্টে একই রেজাল্ট আসলো। ডাক্তাররা ওকে আর বাসায় যেতে দেননি। সাথে সাথে ভর্তি করানো হলো। Continue reading

জ্বরের ব্যবচ্ছেদ!

3069173225_7790eb2fbc  জ্বর হওয়া আর দশটা সাধারন শরীর খারাপ হওয়ার মতো নয়। জ্বর হলে মানুষ একটা ঘোরের জগতে প্রবেশ করে। প্রতিবার জ্বর হবার সময় আমি গভীর এক ভ্রমের জগতে ডুবে যাই। যে জগতে আমি অদ্ভুত ও উদ্ভট সব স্বপ্ন দেখি। রাতের বেলা ঘুমের ভেতর আমরা যে ধরনের স্বপ্ন দেখি, জ্বরের ঘোরে দেখা স্বপ্ন তার চাইতেও অনেক বেশী বাস্তব ও গভীর হয়ে থাকে। এতটাই যে, সেটা যে স্বপ্ন সেই বোধটাই অনেক সময় লোপ পায়; বরং পুরোপুরি বাস্তব বলে ভ্রম হয়।
Continue reading
Link

প্রচন্ড স্মৃতিপ্রবণ করে দেয়া সেই মিউজিক ভিডিওগুলো…

ভারতীয় মুভির গান নিয়ে তো আর নতুন করে কিছু বলার নেই, কিন্তু ব্যান্ডের গান নিয়ে কাউকেই খুব একটা কিছু বলতে শুনিনি কখনো। তাই অনেক দিন থেকেই ভাবছি ভারতীয় ব্যান্ডের কিছু পুরনো গান নিয়ে লিখবো। যে গানগুলোর প্রতিটা আমার কৈশোরের এক একটা টুকরো। প্রতিটি ভিডিও মানে এক একটি গল্প। এর কয়েকটা তো রীতিমতো আকাশচুম্বী জনপ্রিয় ছিলো তৎকালীন সময়ে। এতটাই যে, এই যুগের ছেলে মেয়েরাও হয়তো সেগুলোর নাম শুনে থাকবে।

ভারতীয় মুভির চাইতে তাদের ব্যান্ড-মিউজিক ভিডিওগুলোই বরাবরই আমাকে অনেক বেশী টানতো। তাইতো, স্কুল থেকে ফিরেই টিভি ছেড়ে MTV, B4U, Music Plus আর Ch [V] নিয়ে বসতাম।

ভারতীয় মুভি এবং মিউজিক ভিডিও দেখা ছেড়েছি প্রায় ১ যুগ হতে চল্ল। কিন্তু আজও সে সব মিস করি; ভালবাসি, কেননা সেসবের সাথে আমার ছোটবেলা আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে। শুধু আমি নই, আমি নিশ্চিত যে, ৯০ দশকে যারা আমার মতো টিনেজার ছিলেন, তাদের অনেকেরই এই ভিডিওগুলো দেখে অনেক কিছু মনে পড়ে যাবে।

ভারতে এই ঘরানার গানগুলোকে বলে ইন্ডিপপ মানে ইন্ডিয়ান পপ। [indipop] Continue reading

বাস্তবিক কল্পনা…(মায়াবতী হ্যাপিলি এভার আফটার)

3091240165_e010d83e04_b

– কেমন আছো প্রলয়?
– আমার খোজঁ পেলে কি করে?
– ইন্টারনেটে।
– কিভাবে?
– খুব সোজা। গুগলিং করতেই তোমার সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে যতগুলো এ্যাকাউন্ট ছিলো, সবগুলোর ঠিকানা পেয়ে গেছি,
-“তারপর?”- আমার গলা থেকে নার্ভাসনেসটাকে কাটাতে পারলাম না।
-“তারপর আর কি? সেখানকার একটা এ্যাকাউন্ট থেকে তোমার মেইল আই ডি নিয়ে তোমাকে মেইল করলাম। দেখছো, আমার কত বুদ্ধি! “

চোখের উপর চলে আসা কপালের একগাছি লালচে-সোনালি চুল সরাতে সরাতে বল্লা তনুষা। ওর ধবধবে ফর্সা গালে বিকেলের সোনারোদ খেলা করছে। Continue reading

কিছু টুকরো স্মৃতি…কিছু দীর্ঘশ্বাস!

 

rain

আহ বৃষ্টি!

মে মাসের এক প্রচন্ড ঝড়ের রাতে আমার জন্ম হয়েছিলো বলে আম্মু আমার নাম রেখেছিলেন ‘প্রলয়।’
অবশ্য এ কারনে তাকে কম গঞ্জনা শুনতে হয়নি শ্বশুড় বাড়ির লোকেদের কাছে। এটা কোন নাম হলো? হিন্দুয়ানি নাম।  হাজি বাড়ির নাতির নাম হিন্দুয়ানি কিছুতেই হতে পারে না। আমার দাদা প্রচন্ড রেগে মেগে ঐদিনই তারঁ বড় নাতির পুরো নাম রাখলেন। মুর্শিদুল হাসান। ফুপি একটা ডাক নাম রাখলেন। অসম্ভব কমন একটা নাম। এইসব ঘটনায় আম্মু প্রচন্ড কষ্ট পেলেন। কিন্তু কাউকে কিছু বল্লেন না। চুপচাপ দেখে গেলেন শুধু।

Continue reading

আমরা যে ভাগ্য নিয়ে জন্মেছি, আগামী প্রজন্ম সে ভাগ্য নিয়ে আসবে না!

msm

ছোটবেলায় আমি ভাবতাম, মামা-খালাদের ভালবাসা পাওয়াটাই বুঝি স্বভাবজাতঃ নিয়তি। কিন্তু বড় হয়ে বুঝলাম, অনেকেই তা পান না। বিশেষ করে, আমার ধারনা, আমাদের আগামী প্রজন্ম মামা-খালার আদর থেকে পুরোপুরিভাবে বঞ্চিত হবে। মামার আদর আর খালার ভালাবাসা কি জিনিস, সেটা তারা শুধু তাদের পূর্বসূরীদের কাছ থেকেই শুনবে বা বইতে পড়বে বা কম্পিউটারের স্ক্রীনে দেখবে। কিন্তু নিজেরা কখনো সেটা উপলদ্ধি করবে না। এই আদর-ভালবাসা পেতে কেমন লাগে, কেমন সুখ অনূভূত হয় তারা তা কখনই বুঝবে না।

Continue reading

আমার ছোটবেলার ছাদ

941891_10151619060557220_297728052_nফেসবুকের হোমপেজে চোখ বুলাচ্ছিলাম। মাঝে মাঝে থেমে থেকে পড়ছিলাম…দেখছিলাম। কিন্তু এই ছবিটাতে এসে থমকে গেলাম। চুপচাপ তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষন। মূহুর্তেই নষ্টলজিয়া এসে আষ্টে পৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো আমায়।

আমাদের মিরপুর কলোনীপাড়ার বাড়ীটা ছিলো ঠিক এইরকম। আমরা যে বাড়ীতে থাকার সময় আমি জন্মেছিলাম। পুরনো সবুজাভ আর কালচে শ্যাওলা ধরা, পিছল ছিলো যার শরীর। চারিদিকে লোনা গন্ধ, জায়গায় জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে সেই শরীরের ভিতরে ও বাইরে। আব্বু তখন একটা ছোটখাটো চাকুরী করেন। তাই ভালো বাসায় বেশী ভাড়া দিয়ে থাকার মতো সামর্থ্য তারঁ ছিলো না।

Continue reading