আমাদের অফিসের বুয়া কাহিনীঃ দুটি সুখ-দুঃখের গল্প

images (1)

দুপুরের দিকে অফিসে গিয়ে দেখি অফিসের সবচেয়ে জুনিয়র প্রোগ্রামার ছেলেটা কিচেনে রান্নার যোগাড় যন্ত্র করছে। তাকে জিগেস করলাম, ঘটনা কি? সে বল্ল – বুয়া আসে নাই। কয়েক বার বুয়ার মোবাইলে কল করে ও তাকে পাওয়া যায় নাই। এই কারনে নিজেরাই রাধঁতে বসে গেছে।  আমার মেজাজ খিচড়ে গেলো! বুয়াটা আমাকে একটাবার জানাবে না?!! আমি ফোন দিলাম, ৫/৬ বার রিং হবার পর ফোন ধরলেন বুয়া সাহেবা। Continue reading

আমেরিকাতে সমকামী বিয়ের বৈধতা প্রসঙ্গে কিছু কথা


PrideDesignঅষ্ট্রেলিয়াতে প্রতি বছরের শুরুর দিকে মারদিগ্রা (Mardi Gras) নামের একটা প্যারেড হয়। লেন্ট মৌসমের রোজা রাখার আগে সবাই মিলে পেট পুরে ভালো মন্দ খায়, ইচ্ছেমতো রিচ ফুড খায়, সেটাকেই তারা উদযাপন করে মারদিগ্রার মাধ্যমে। এটা আদ্যোপান্ত খ্রিষ্টিয় ধর্মীয় উৎসব কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই দিনে অষ্ট্রেলিয়ার সমস্ত সমকামী দম্পতি রাস্তায় নেমে আসে। কি তাদের বাহারি সাজ, কি তাদের পোষাক আষাক!! চারিদিকে আনন্দের হুল্লোড় বয়ে যায়। তারা জানে আপনি তাদের মতো নন, কিন্তু ঐদিন রাস্তায় আপনার সাথে দেখা হলো তারা আপনাকে চকোলেট দিবে, বিয়ার সাধবে, হাসিমুখে হ্যান্ডশেইক করে একসাথে ছবিও তুলবে।
Continue reading

আমার দেখা এক বিভীষিকাময় ক্যান্সার!

t2-large-web

আমি খুব কাছ থেকে যে ক্যান্সারটি দেখেছি, সেটার ডাক্তারি নাম “লিম্ফোব্লাস্টিক ল্যূকেমিয়া ”. হাত বা পায়ের অস্থিমজ্জার ভেতরের রক্তকণিকাগুলো জন্মাতে পারে না বা পারলেও সাথে সাথে ফেটে যায়, এই জন্য এইরকম নামকরণ। এই ক্যান্সারটি হয়েছিলো আমার ছোটভাইসম রূমমেট রাহুলের।

প্রথম কয়েকরাতে প্রচন্ড জ্বর, আর মারাত্নক হাটুঁ ব্যথা। এরপর হঠাৎ একদিন সে প্যারালাইসড হয়ে গেলো। দু পা পুরোপুরি অবশ। পরদিন দুপুরের পর এ্যামুলেন্সে করে সিডনীর একটা ঐহিত্যবাহী হাসপাতালে ওকে ভর্তি করার পর ডাক্তাররা সব ধরনের চেকাপ করালেন। রোগটার ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পাক্কা ৪ ঘন্টা লাগলো। সবগুলো রোগ চেক করে যখন হেপাটাইটিস বি, এইচ আই ভি আর ক্যান্সার বাকী ছিলো, তখনই ওর লিউকোমিয়া ধরা পড়লো। পর পর দুবার ওর ব্লাড টেস্টে একই রেজাল্ট আসলো। ডাক্তাররা ওকে আর বাসায় যেতে দেননি। সাথে সাথে ভর্তি করানো হলো। Continue reading

আমি যেভাবে আজ চাক্ষুষ করলাম বিধ্বস্ত রানা প্লাজা

সাভারের জন্য এলাকার কিছু ছেলে পেলে হাজার কয়েক টাকা তুলেছে এলাকা থেকে। তারা বাসে করে আজ বিকেলে যাবে। তাদের সঙ্গে আমিও গেলাম। এদিকে জগন্নাথ কলেজ থেকে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফেডারেশনের একটা বড় সড় দল পিকাপ ভাড়া করে প্রায় একই সময়ে সাভারে রওনা দিলো। তাদের সাথে আছে অক্সিজেনআর ওষুধসহ প্রচুর দরকারী রসদ। তারা আমাকে তাদের সাথেই যেতে অনুরোধ করেছিলো, কিন্তু আমি আমার এলাকার ছোট ভাইদের সাথেই যেতে বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলাম। Continue reading

Quote

স্যুরণ ও তার কল্প্রলয়…!

shopnoduarblog_1225999867_1-DSC09056

ইউনিভার্সিটির সেকেন্ড সেমিস্টারে একটা ইন্ডিয়ান মেয়ের সাথে পরিচয় হয়। স্যুরন। দেখতে কালো, কিন্তু খুবই মিষ্টি; মায়াকাড়া চেহারা। সব সময় এই মেয়েটি হেসে হেসে কথা বলত। খুব দুঃখের কথাও সে হেসে হেসে বলত। একটা পাই শপে পার্ট টাইম জব করত। ছাত্রী হিসেবে মুটামুটি ছিল। ২য় সেমিষ্টারে আমাদের ক্লাস বদলে গেলো, সাবজেক্ট বদলে গেলো। তাই নতুন ক্লাসে এসে নতুন নতুন ছেলেমেয়ে দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। পুরো ক্লাসে তখন আমিসহ তিনজন বাংলাদেশী। একজন মহিলামত মেয়ে (মানে বয়স মেয়েদের মতো কিন্তু দেখতে মহিলাদের মতো বয়স্ক) আরেকটা ছেলে, নাম আতাহার। মহিলামত মেয়েটা কয়েক সপ্তাহ পর পর ক্লাসে আসতো। অষ্ট্রেলিয়ার ছাত্র ভিসার শর্ত হচ্ছে, ক্লাসে ৮০% উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। নাহলে ভিসা বাতিল হয়ে যাবে। মহিলামত মেয়েটির ৮০% অনুপস্থিতিতেও ভিসা বাতিল হয় না কারন তার স্বামী অষ্ট্রেলিয়ান সিটিজেন। তাই তার ক্লাস করারও গরজ নাই।

আর আতাহার খুবই গোবেচারা টাইপ ছেলে। সে বাংলাদেশের এক অজগ্রাম থেকে সরাসরি অষ্ট্রেলিয়ায় চলে এসেছে। দরিদ্র বাবা নিজের সব সহায় সম্পত্তি বিক্রি করে একমাত্র ছেলেকে বিদেশে লেখাপড়া করতে পাঠিয়েছেন। ছেলে বিদেশ বিভূইঁয়ে না পারে চলতে, না পারে ঠিকমতো কারো সাথে কথা বলতে। বেচারা সবসময়ই নার্ভাস থাকতো। আমি নিজেও যেহেতু গোবেচারা টাইপ মানুষ, সেহেতু আতাহারের সাথে আমার ভাব হয়ে গেলো। আমাদের সাথের সাদা চামড়ার ছেলেমেয়েগুলোকে দেখি, তারা ক্লাস শেষ করে নাইট আউটে যায়, লং ড্রাইভে যায়। আর সপ্তাহান্তে বারে যায়, পার্টিতে যায়। আমরা দুজন ক্লাসে আসি, মাথা নিচু করে লেকচার শুনি, চুপচাপ ক্লাস শেষে করে কাজে যাই নয়তো বাড়ি ফিরে যাই।

মাসখানেক পর হঠাৎ একদিন শুনি আতাহার বিজনেস কলেজে ভর্তি হবে, কারন ভার্সিটির আকাশচুম্বি সেমিষ্টার ফি সে আর টানতে পারছে না। ইমগ্রেশন থেকে অনেক ঝামেলা করে ভিসা বদলিয়ে সে অনার্স থেকে ডিপ্লোমায় ভর্তি হয়ে গেলো। অথচ আমি জানতাম কাজটা করা যায় না।

আতাহার চলে যাবার একদম একা হয়ে গেলাম আমি। প্রচন্ড মন খারাপ করে ক্লাসে আসতাম, প্রচন্ড মন খারাপ করে ক্লাস শেষ করতাম। ছেলেপেলেরা একা একা ক্লাসে ঢুকতো কিন্তু দল বেধেঁ ক্লাস থেকে বের হতো। আমি ঢুকতাম একা একা, বেরও হতাম একা একা। আমি উপলদ্ধি করলাম, ভার্সিটি লাইফে পুরোপুরি বন্ধুবিহীন অবস্থায় থাকার মতো অভিশপ্ত জিনিস ছাত্রজীবনে আর হয় না।

এ সময় কিভাবে কিভাবে যেন একদিন স্যুরনের সাথে পরিচয় হয়ে গেলো। ছোটবেলা থেকেই আমি বেশ মুখচোরা ছিলাম, মেয়েদের সাথে গুছিয়ে কথা বলতে পারতাম না। স্বাচ্ছন্দ্যে মিশতে পারতাম না। এই কারনে স্যুরন নিজে থেকেই আমার সাথে গল্প করার চেষ্টা করতো। আমার কাছ থেকে নোট নিতো, ওর এসাইমেন্ট আমাকে দিয়ে করাতো, বিনিময়ে ওর চাচার ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্টে ভরপেট লাঞ্চ এবং ডিনার করাতো। স্যুরন কবিতা পছন্দ করতো। ওর জন্মদিনে আমি একটা কবিতা লিখে উপহার দিই। বেশ খুশী হয়েছিলো। সেও আমার জন্মদিনে আমাকে একটা কবিতা লিখে সেটার রিপ্লাই দেয়। ভীষন স্মার্ট মেয়ে ছিলো স্যুরন। আমাকে ও কেন জানি ’কল্প্রলয়’ বলে ডাকত! ওর সব কিছুই ছিলো কল্পনার একটা থিমে সাজানো। ওর ল্যাপটপের ওয়েলকাম স্ক্রীনে ওর নাম ছিলো কল্পলোক। আমার নামটাও হয়ত সেভাবেই এসেছে। কল্পনা আর প্রলয়। কল্প্রলয়।

কবিতার শিরোনামের নীচে এমন করে নামটা লিখে দিয়েছিলো যে কেউ দেখে ভাববে কবিতাটা হয়ত আমারই লেখা। যাকে উদ্দেশ্য করে লেখা, তার নাম সে দিয়েছিলো লেখকের নামের জাগায়। আমি খুব অবাক হয়েছিলাম।

পরের সেমিষ্টারেই, একদমই হঠাৎ, স্যুরন ভয়াবহ একটা রোড এ্যাকসিডেন্টে মারা যায়। এক উইকএন্ডে ওর ইন্ডিয়ান বয়ফ্রেন্ড মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি বিপদ সীমার চাইতে অনেক বেশী গতিতে চালাচ্ছিল। হঠাৎ হাইওয়ের একটা ব্রীজের উপরে লোহার খাম্বার সাথে সংঘর্ষে ওদের গাড়িটি ছাতু হয়ে খাদের গভীরে পড়ে যায়। দুজনেই স্পটডেড। ক্লাসের সবাই গিয়েছিলাম ওদের ফিনিউরালে। সেদিন ছিলো ৭ ই নভেম্বর।

আজ স্যুরনের ২৮ তম জন্মদিন। বেচেঁ থাকলে আজ সে ২৮ বছরে পা দিতো। খুব মনে পড়ছে ওকে। পরম করুনাময় তার বিদেহী আত্নাকে শান্তি দিক। আমিন।

You Are…
– KalProloy

O my thee,
the days we passed
In our ways,

So close, yet so far.
We found the realm, where life goes…

Thought ever?
What is it?
Its the beat of our hearts!
The dream i did never have
Thats where you are…yeah, you are…!

Only you…?
Uhu, couldn’t be my dream catcher,
But for thee,
I made the dream river
Thats where, you are…..you are!

What’d never be…
Any day,
It would,
You hover on my river,
none is there
see none…
ONLY YOU AND ME THERE…..WE ARE….!

dedicated to the one, an Australish, the dreamed, i have ever felt about        

              ছবিটা ওর কবিতার সেই প্রিন্ট আউটটা। নীচে ওর নিজের হাতে সাইন করা।

 

https://www.facebook.com/proloyhasan/posts/10152450161872220?__mref=message


মালয়শিয়ার হারিয়ে যাওয়া এয়ারলাইনার ও কিছু কানস্পিরেসি থিওরী!

Bermuda-Triangle-HD-Wallpaper

ছোটবেলায় শুনতাম বারমুডা ট্রায়াঙ্গোলে নাকি আস্ত আস্ত প্লেন আর জাহাজ হাপিস হয়ে যায়। এর উপরে কত বই পড়েছি! কত মুভি দেখেছি! কিন্তু এই একবিংশ শতাব্দিতে আস্ত একটা প্লেন হাপিস হয়ে গেলো এবং গত ৪ দিন ধরে খুজেঁও প্লেনটার কোন হদিসই পাওয়া গেলো না, ব্যাপারটা পৃথিবীর তাবদ বিশেষজ্ঞদের হতভম্ব করে দিয়েছে। ইংরেজীতে যাকে বলে Vanish into thin air; বাংলাতে বলে – বাতাসে মিলিয়ে যাওয়া। মালয়শিয়ার MH370 ফ্লাইটটি যেন বেমালুম বাতাসে মিলিয়ে গেছে। কেউ কেউ তো বলছে, প্লেনটা খুজেঁ আর লাভ নাই। ওটাকে আর কখনই পাওয়া যাবে না। কারন ইতিহাসে এর আগে যে কয়টা প্লেট পৃথিবীর আকাশ থেকে হারিয়ে গেছে, তার কোনটাকেই আর ফিরে পাওয়া যায় নি। Continue reading

পুড়ে যাওয়া মনির-হাসান ও একটি সেলিব্রেশন পার্টি!

638130282749856383867.png

১. বার্ণ ইউনিটে মনিরের পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া দেহটা পড়ে আছে। তিনদিন হাসপাতালের বেডে কাতরিয়ে আজ ভোরের আলো ফুটার আগেই মৃত্যুবরণ করে সে। ভোর রাতে হঠাৎ শুরু হয় ছটফটানি, হাত-পা ছোড়াছুড়ি। কিছুক্ষণ পর নিস্তেজ। স্বজনদের আর্তনাদ-চিৎকার। ছুটে এলেন চিকিৎসক। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানালেন, মনির আর নেই। কিছু দিন পরে সবাই ভুলে যাবে তাই মনিরের একটা পরিচয় দিয়ে রাখি। মনির কোন প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের নাম নয়, মনির কোন বৃদ্ধ বা রোগে শোকে ভোগা লোকের নামও নয়। মনির ছিলো মাত্র কৈশোরে পা দেয়া একটা উচ্ছর কিশোর!

Continue reading

৯৫ বছরের এক বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান ও আমার হাহাকার

nelson_mandela_by_benadia-d4lpj8s

টানা সাড়ে ২৭ বছর কারাবন্দী হয়ে থাকতে কেমন লাগে? রবিনসন ক্রসো ২৭ বছর একটা দ্বীপে আটকে ছিলো, তাও সেটা একটা কাল্পনিক ঘটনা। কিন্তু কারাগারে বন্দী থাকাটা দ্বীপে আটকে থাকা কাল্পনিক ঘটনার চাইতেও নির্মম, ভয়াবহ আর অমানবিক।

Continue reading

Aside

বাংলাদেশের নৃশংসতম ফরেনসিক টেষ্ট!

 forensics_title-600x450

একজন ধর্ষিতার ফরেনসিক টেষ্ট কিভাবে করা হয়? এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর কতজন সাধারন মানুষ জানেন? আমি জানতাম না। ভাসা ভাসা একটা ধারনা ছিলো। আজকে এক ফেসবুক বান্ধবীর শেয়ার করা একটা অনলাইন পত্রিকার লিংক থেকে ব্যাপারটা সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা হলো। বাংলাদেশে এই ব্যাপারটি যে এতটা ভয়াবহ , সেটা জানা ছিলো না। এতদিন শুনে এসেছি, ডাক্তারি পরীক্ষার নামে ভিকটিম ২য় বার রেপড হয়। এতদিন ভাবতাম, পরীক্ষার প্রয়োজনেই(!) তাকে বুঝি এই ”২য় বার রেপ করা হয়” এবং কথাটা রূপকঅর্থে ব্যবহৃত হয় এবং ব্যাপারটা পুরোটাই মেন্টাল ট্রমা। কিন্তু আদতে টেষ্টের পুরো প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিটি যে প্রায় আক্ষরিক অর্থেই একজন নারীর জন্য মানসিক ও শারিরীক যৌন নির্যাতন, এটা আজ জানলাম।

Continue reading

সিডর, আইলা আর মহাসেনরা চিরতরে ঠাইঁ নিক ইতিহাসের পাতায়

ঝড়১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম ও স্বন্দীপের বুকে প্রলয়ঙ্কারী এক ঝড় বয়ে যায়, আমি জানি না সে ঝড়ের কি নাম রাখা হয়েছিলো। তবে এটুকু জানি, সে ঝড়ের সময় যারা শিশু ছিলো, আজ তারা যুবক। কিন্তু সেই ঝড়ের ভয়াল স্মৃতি এখনও নিশ্চয়ই তাদের তাড়া করে ফেরে। আমার ধারনা, প্রতিবছরই গ্রাষ্মের এই সময়টাতে তারা ছোটবেলার ঝড়ের স্মৃতিচারণ করেন। এমন একজনের কাছে থেকে তার ছেলেবেলার মর্মান্তিক সব ঘটনা শুনলাম।

Continue reading