হলিউডের সেরা ১ ডজন যন্ত্রমানব চরিত্র!

06-robots.w529.h352.2x

ব্যাক্তিগতভাবে আমার সবচাইতে  প্রিয় মুভি-ঘরানা হচ্ছে সাই-ফাই বা  বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী। কারন খুব ছোটবেলা থেকেই আমি সাইফাই গল্প ও উপন্যাসের পাঢ় ভক্ত ছিলাম, এখনো তাই আছি। এমনকি, আমার জীবনে দেখা প্রথম বিদেশী মুভি ছিলো একটি সাই ফাই মুভি (টারমিনেটর টু)। সঙ্গতকারনেই, আধুনিক সায়েন্স ফিকশনের অন্যতম প্রধান উপাদান হচ্ছে যন্ত্রমানব বা রোবট।  অনেক সায়েন্স ফিকশন গল্পেও রোবটের গাঢ় উপস্থিতি রয়েছে। রোবট নিয়ে আমার নিজেরো আগ্রহের কোন কমতি নেই। যেখানেই রোবট সংক্রান্ত লেখা বা মুভি পেয়েছি, হজম করে ফেলার চেষ্টা করেছি। সায়েন্স ফিকশন মুভিতে রোবটের ব্যবহার কিন্তু নতুন কিছু নয়, বরং একেবারেই প্রাচীন। আধুনিক মুভির ইতিহাসে গত অর্ধ শতকেরও বেশী সময় ধরে শতাধিক মুভিতে রোবট বা যন্ত্রমানব চরিত্রের ব্যাপক ব্যবহার ঘটেছে।  এমনকি, কিছু কিছু রোবট চরিত্র পেয়েছে রীতিমতো আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা।  আজ আমি হলিউডের সেই সব ডাকসাইটে রোবট-চরিত্রের একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরী করার  চেষ্টা করবো।

bluesky_robots3.jpg__715x415_q85_crop_upscale

এনিমেশন ফিল্ম Robots (২০০৫) এর জন্য বানানো একটি পেন্সিল স্কেচের খসড়া দেখা যাচ্ছে!

বলা বাহুল্য, রোবট এমনিতেই একটা খটমটে রসকষহীন চরিত্র। সুতরাং, তাকে আপামর দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে পরিচালকে হিউম্যান সাইকোলজি, হিউম্যান ইমোশন ও ফিলসফি ইত্যাদি মানবিক ব্যাপার স্যাপারগুলোকেও রোবটের যান্ত্রিক মস্তিস্কে খুব কৌশলে ঢুকিয়ে দিতে হয়। এই গুলোও এর ব্যতিক্রম নয়। আর তাইতো আমরা পেয়েছি/পাচ্ছি অসাধারন সব রোবট চরিত্র! যেগুলো শুধু শিশু কিশোরই নয়, মন জয় করে নিয়েছে দেশ বিদেশের আবালবৃদ্ধবণিতারও!

Ed 209 defense robot

একটি ইডি-২০৯ প্রতিরক্ষা রোবট

সালের ক্রমানুসারে সাজানো হলো; মানে একেবারে ৭০ এর দশকের  মান্ধাতা আমল থেকে একদম সাম্প্রতিক রোবটিক চরিত্র! এবং প্রতিটি মুভিরই টরেন্ট ডাউনলোড লিংক দেবার চেষ্টা করেছি। যদিও ১০ নম্বরটি বাদে সবগুলোই আমি ইতোমধ্যেই দেখে ফেলেছি। B-)  আমি সবাইকেই সুপারিশ করবো সবগুলো মুভিই দেখার জন্য। বিশেষ করে, রোবট প্রেমী দর্শকদের জন্য র‌্যাংকিয়ের প্রথম তিনটি মুভি অবশ্য দেখ্য। (অবশ্য দেখ্য নামে কোন শব্দযুগল বাংলা অভিধানে নেই মনে হয়। তবে ’অবশ্য পাঠ্য’ থাকলে ’অবশ্য দেখ্য’-ও থাকা উচিত)। কারন আমি মূলতঃ ঐ তিনটি মুভি দেখেই এই পোষ্টটি লিখতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। 

খুব সম্ভবত, মুভির রোবটিক চরিত্র নিয়ে বাংলা ভাষায় এটিই সর্বপ্রথম  এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র স্বতন্ত্র পোষ্ট। 

১২) মুভির নামঃ

Star Wars (১৯৭৭ সাল)

রোবট-চরিত্রের নামঃ

C-3P0

900570_press01-001

সি থ্রিপিও-এর মাধ্যমেই খুব সম্ভবত আধুনিক হলিউডের মানবাকৃতির রোবটিক চরিত্রের যাত্রা শুরু হয়।  আজ থেকে প্রায় ৩৭ বছর আগে এটি বক্স অফিস হিট করে! মানে সি থ্রিপিও নামের এই রোবটটির বয়স আপনার-আমার চাইতেও অনেক বেশী! সেই আমলে শিশু, কিশোর ও তরুন দর্শকদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।  এটি ৩০ ধরনের কর্মাবলীতে পারদর্শী। অসংখ্য উপায়ে মানুষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে। ২০০৪ সালে আমেরিকার ’রোবট হল অব ফেইম’ এ একে প্রথম অভিষিক্ত করা হয়।

RHOF_poster-1345540328855

(প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অনেকেই হয়তো জানেন না যে,  মুভিতে ব্যবহৃত রোবটিক প্রযুক্তির  উন্নয়নকে স্বীকৃতি দানের জন্য ২০০৩ সালে Carnegie Mellon University ’রোবট হল অব ফেইম’ প্রতিষ্ঠা করে। মুভি, সমাজ ও দৈনন্দিন জীবনে রোবটের অবদান ও প্রেরণাকে তুলে ধরাই এর কাজ। এ বিষয়ে আরেকদিন বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে রয়েছে। আপাততঃ কিছু ছবি দিলাম এই হলের।)
robot-hall-of-fame2012-02-1506-29-01800

২০১২ সালের হল অব ফেইমের একটি ছবি। আরো ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। robotstour_photor5

পোষ্টের কলেবর বৃদ্ধির আশঙ্কায় সিপিথ্রিও নিয়ে বিস্তারিত কিছু লিখলাম না। যারা বিস্তারিত জানতে চান তারা এখান থেকে জেনে নিতে পারেন। এ ছাড়াও সে মুভিতে আরো একটি রোবট চরিত্রও দর্শদের নজর কাড়ে যার নাম R2-D2. এটি দেখতে ফানি, কিউট আর গোলগাল, বুদ্ধিদীপ্ত! মুভির টরেন্ট লিংক

Star-Wars-7-R2-D2-Photo

একটি R2-D2 রোবট

১১) মুভির নামঃ

The Terminator (১৯৮৪ সাল)

রোবট চরিত্রের নামঃ T-100 

Terminator-2-Arnold-Schwarzenegger-700x394

আমার মনে হয় না,  এই চরিত্রটি নিয়ে খুব বেশী কিছু বলার আছে। কারন আমার অন্যতম প্রিয় নায়ক আর্নল্ড অভিনীত এই অতি মানবীয় রোবট চরিত্রটি মুভির ইতিহাসে এতটাই জনপ্রিয় ও এত ভীষন পরিমানে উল্লেখযোগ্য যে,  এই বিষয়ে বিস্তারিত বলার চেষ্টার করা মানে বাতুলতা মাত্র। তবে শুধু এটুকু বলি, টারমিনেটর ২ আমার জীবনে দেখা প্রথম মুভি। আমি তখন ক্লাস টুতে পড়ি। পরবর্তীতে এই মুভিটি আমি কম করে হলেও আরো ৬/৭ বার দেখেছি এবং প্রতিবারই মনে হয়েছে, আমি এই প্রথম দেখছি। আমি এখনও  এই চরিত্রটি মিস করি এবং আজও নতুন কোন টারমিনেটর মুভির সিকুয়েলে এই চরিত্রটি খুজেঁ ফিরি! 🙂 বলা বাহুল্য,  পুরো টারমিনেটর সিরিজে T2 ভার্সনের রোবটগুলোই সবচাইতে বেশী বুদ্ধিদীপ্ত, আকর্ষনীয় ও  হেভি ওয়েট  এ্যাকশান হিরো।  টরেন্ট ডাউনলোড লিংক।

১০) মুভির নামঃ 

Short Circuit (১৯৮৬ সাল)

চরিত্রের নামঃ জনি ৫।

রোবট- জনি ৫

হতে পারে  এই মুভিটির নাম অনেকেই শুনেননি, এমনকি আমিও না, তবু এটিকে আশির দশকের সবচাইতে স্মরনীয় রোবট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। দেখতে কদাকার এই রোবটের মুভির কাহিনীটি বেশ চমৎকার। আমেরিকার সেনাবাহিনীর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে একটা রোবট বানানো হয়, যেটি কিনা হঠাৎ একদিন বজ্রপাতের আঘাতের কারনে কিছু অতি-রোবটীয় গুনাবলী অর্জন করে, যেমনঃ প্রখর বুদ্ধিমত্তা, ও মানুষের মতো আবেগী একটি হৃদয়। সুযোগমতো সে একদিন ল্যাব থেকে পালিয়ে যায়। আইএমডিবিটরেন্ট ডাউনলোড লিংক।

(৯) মুভির নামঃ

RoboCop (১৯৮৭ সাল)

রোবোকপ – একটি সুপার কপের গল্প!

মনে আছে সেই পুলিশ অফিসার এ্যালেক্স মারফির কথা? বোমা বিস্ফোরণে শরীরের কিছু প্রধান অংগ হারানোর পর যাকে কিনা বানানো হয়েছিলো একটা সাইবর্গ মানে অর্ধেক মানুষ ও অর্ধেক মেশিনে। তারপর তাকে মিশনে পাঠানো হয়, রাতারাতি সে শহরের অপরাধীদের কাছে যতদূতে পরিনত হয়। এই রোবটের ডিজাইনটি ছিলো খুবই ফিউচারিষ্টিক! সেই আমলের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো এই রোবটিক চরিত্রটি। একে ঘিরে তৈরী হয় জনপ্রিয় টিভি সিরিজ, এমনকি এটি এতটাই জনপ্রিয় একটা চরিত্র যে গতবছর এই মুভিটির রিমেকও করা হয়। এই চরিত্রের পাশাপাশি মুভিতে আরেকটি রোবটকেও ফোকাস করা হয়, যার নাম ইডি-২০৯। টরেন্ট ডাউনলোড লিংক।

ED-209

(৮) মুভিঃ 

The Iron Giant (১৯৯৯ সাল)

চরিত্রঃ চরিত্রের নামানুসারেই মুভির নামকরণ করা হয়

the-iron-giant-(1999)-large-picture

শিশু-কিশোর নিয়ে দেখার মতো অত্যন্ত চমৎকার একটি মুভি। ব্রেড বার্ডের এক অনবদ্য সৃষ্টি এই এনিমেশন মুভিটি। আমি যখন এটাকে কয়েক বছর আগে প্রথম দেখি, তখনই এই মুভিটি আমার প্রিয় তালিকায় চলে গেছে। আয়রন জায়ান্ট নামের এই অতিকায় রোবটটি আদতে একটি এলিয়েন রোবট, যাকে কিনা আধুনিকায়ন করা হয়।  একাধারে সে একটি অস্ত্র ও রক্ষক, আবার একই সাথে সে ভালো ও খারাপের মিশ্রন।  মাত্র ৯ বছর বয়স্ক একটা বাচ্চা ছেলের সাথে ঘটনাক্রমে তার বন্ধুত্ব হয়ে যায়।  এই নিয়ে রোবট আর মানব শিশুর বন্ধুত্বের এক অসামান্য   কাহিনী।  টরেন্ট ডাউনলোড লিংক।

(৭) মুভিঃ 

Bicentennial Man (১৯৯৯ সাল)

চরিত্র: এন্ড্রু মার্টিন। (একটি এন্ড্রয়েড চরিত্র)

916YrYjRoIL._SL1500_

সাই-ফাই উপন্যাসের গুরু  বিশ্বখ্যাত স্যার আইজ্যাক আসিমভের তৈরী  ইন্টারেস্টিং এই রোবটিক চরিত্রে অভিনয় করেন বিশ্বখ্যাত কমেডিয়ান ও আমার অন্যতম প্রিয় অভিনেতা রবিন উইলিয়ামস। এই রোবট চরিত্রটি মানব চরিত্রের সাথে মিশে যাবার অভিযানে নামে এবং খুব ধীরে ধীরে সে মানবিক আবেগ অনুভূতি অর্জন করতে শেখে! এটি এতটাই অসামান্য  একটা মুভি যে এটি তার পরের বছর অস্কার নমিনেশনও পায়। টরেন্ট লিংক। 

(৬) মুভিঃ I, Robot (২০০৪ সাল)

চরিত্রঃ সনি (Sonny)

আই, রোবট – আমি রোবট (২০০৪)

২০৩৫ সালের ঘটনার আর্বতে গড়ে উঠেছে এর কাহিনী। হিউম্যানয়েড চরিত্র ’সনি’ একটি অত্যাধুনিক রোবট, যার রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানবিক আবেগ। হলিউডের রোবটিক মুভির ইতিহাসে যতগুলো আধুনিক ও নজরকাড়া  ডিজাইন করা হয়, সনির ডিজাইন তাদের একটি।  এই ডিজাইনের কারনে ডিজাইনার বেশ কয়েকটি পুরস্কারও জিতেন। টরেন্ট।  বিস্তারিতঃ

এন-৫ প্রজাতির রোবটেরই একটি আপগ্রেডেড ভার্সন হচ্ছে সনি!

এন-৫ প্রজাতির রোবটেরই একটি আপগ্রেডেড ভার্সন হচ্ছে সনি!

(৫) মুভিঃ

WALL·E (২০০৮)

চরিত্রঃ ওয়ালি।

wall-e-banner

এই এনিমেশন ফিল্মটি  খোদ এনিমেশন তথা মুভির ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুভি, তাই যথার্থ কারনেই ২০০৯ সালে এটি একটি অস্কার পুরস্কার লাভ করেছে,  এবং আইএমডিবির সেরা ২৫০ টি মুভির র‌্যাংকিয়ে এটির অবস্থান ৬২ নম্বরে। ওয়ালি চরিত্রটি আদতে একটি ময়লা আর্বজনা ফেলার জন্য বানানো নিতান্তই সস্তা ও আপাতঃ গুরুত্বহীন রোবটের চরিত্র। অথচ একই সাথে একে ঘিরে গড়ে ওঠে দারুন রোমান্টিক একটি গল্প, সেই সাথে মানব জাতির বাচাঁ মরার প্রশ্নে ওয়ালির সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার গল্প!  টরেন্ট লিংক।

(৪) মুভিঃ

[imdb id=”tt0433035″]

চরিত্রঃ

Atom

এটমকে বক্সিং শেখাচ্ছে তার মনিব ও মেনটর, প্রাক্তন বক্সার চার্লি!

ভবিষৎতে পৃথিবীতে রোবটে রোবটে মল্লযুদ্ধ হবে সবচাইতে জনপ্রিয় আর লাভজনক খেলা। এরই অংশ হিসেবে বক্সার রোবট এটমকে ঘিরে একটি বায়বীয় ও মানবীয় কাহিনী গড়ে ওঠে! এটমের রয়েছে প্রখর ব্যক্তিত্ববোধ, রসবোধ, একটি চমৎকার গল্প আর সে কিন্তু সত্যিই ঘুষি সইতে ও দিতে পারে।  এটি আদ্যোপান্ত সাই-ফাই ও খেলাধুলার সংমিশ্রন। জিতেছে একটি অস্কার নমিনেশন। 

(৩) [imdb id=”tt1990314″]

 

চরিত্রঃ রোবট।

একজন বৃদ্ধ সিধেঁল চোর  জীবনের শেষ বয়সে এসে নিজ পুত্র কর্তৃক একটি রোবট নিজের সার্বক্ষনিক সঙ্গী ও দেখাশোনার জন্য উপহার পায়। প্রথমে তো সে রোবটটিকেই দুই চোখে দেখতেই পারতো না। কিন্তু যেদিন থেকে সে আবিস্কার করলো যে, রোবটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রয়েছে অথচ সে অপরাধ ও দৈনন্দিন কাজকর্মের মাঝে পার্থক্য করতে পারে না, তখনি সে তাকে নিজের চুরি করার  অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা শেখাতে শুরু করলো, যাতে করে তার জীবনের শেষ চুরিটি করতে রোবটটি তাকে সাহায্য করতে পারে। আর রোবটও অত্যন্ত সুচারূরুপে সে সব রপ্ত করে নেওয়া শুরু করলো।  অবস্থা এমনই হলো যে, এক পর্যায়ে দেখা গেলো, রোবটটি ছাড়া বৃদ্ধ একটা সেকেন্ডেও চলতে পারছে না, সে তার উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে গেছে। 

(২)  [imdb id=”tt1037222″]

চরিত্রঃ Cody (কোডি)

একটি বেসরকারী ওয়েপন রিসার্চ কোম্পানি ১০ মিলিয়ন ডলারব্যয়ে জীবনরক্ষাকারী ও উদ্ধারকর্মী হিসেবে একটি প্রোটো টাইপ ছোট্ট রোবট বানায়। কিন্তু কোম্পানীর মালিকের সাথে রোবটের প্রোগ্রামারের বিবাদের জের ধরে রোবট কোডি কোম্পানি এবং প্রোগ্রামার উভয়ের কাছ থেকেই হারিয়ে যায়। এবং তাকে খুজেঁ পায় একটা বালক, এদিকে কোডির আগেকার স্মৃতি সব নষ্ট হয়ে যায় বড় ধরনের ঝাকিঁ খাবার ফলে। এই কারনে তাকে আবার রিপ্রোগ্রাম করে সেই প্রোডিজি* বালকটি! শেষ পর্যন্ত ঘটনা মোড় নেয় ভয়াবহ এক পরিনতিতে। মানব শিশু আর রোবটের ভেতরকার নিদারুন সম্পর্ক আর অভূতপূর্ব এক রসায়নের মিশেল এই মুভিটি। বিশেষ করে, কোডিকে সাময়িক হারিয়ে ছেলেটি ও তার পরিবার যে অতি আবেগীয় প্রতিক্রিয়া দেখায়, একটি রোবটের জন্য তা বিরাট পাওনা, আর সে অংশটুকু দেখে অনেক শিশু কিশোরই চোখ ভিজে যাবে! 

(*প্রডিজি = অল্প বয়সেই যে সকল বাচ্চার ভেতর অদ্ভুত ও দুর্লভ প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটে, তাদেরকে এক কথায় ইংরেজীতে ’প্রডিজি’ বা ‘প্রডিজি ইনফ্যান্ট’ বলে)

(১)  [imdb id=”tt1823672″]

চরিত্রঃ চ্যাপি!

মনে আছে District 9 এর কথা? নোংরা বস্তিকে যে কিনা এলিয়েন রোবটদের আবাসস্থল বানিয়েছিলো। রোবটদের নিয়ে এ ধরনের ভিন্ন মাত্রার অভিনব চিন্তাধারা একমাত্র নীল ব্লুমক্যাম্পের পক্ষেই সম্ভব। এ বছর মুক্তি পেয়েছে তার অসাধারন   আরেকটি সাইফাই রোবটিক মুভি – চ্যাপি। এটি এমন  একটি রোবট চরিত্রের গল্প, যেটি দেখতে বসে হয়তো সামান্য একটি যন্ত্রমানবের জন্য নিজের অজান্তেই আপনার চোখের কোন বার বার ভিজে উঠবে। মুভির সংলাপ ও কাহিনীর বুনন এতটাই হৃদয়স্পর্শী  যে, এটি দেখার সময় চ্যাপি নামের কিউট, ফানি আর ছোট্ট সদ্যজাত নবজাতক (!) রোবটটির জন্য আপনার হৃদয়  বার বার হু ‍হু করে কেদেঁ উঠবে।

chappie_fan_art_poster_by_gojirakaiju3d-d8eeo2mমজার ব্যাপার হলো, রিয়েল ষ্টিল মুভিতে হিউ জ্যাকম্যান অন্যতম প্রধান  ভূমিকায় অভিনয় করলেও এই মুভিতে তাকে ভয়ানক হিংস্র এক  খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায়। 

যে গুরুত্ববহ চরিত্রদ্বয়কে উল্লেখ করতে ভুলে গিয়েছিলামঃ

বোনাস রোবট চরিত্রঃ (১) – Baymax

মুভির নামঃ Big Hero 6

[imdb id=”tt2245084″]

’বে ম্যাক্স’ নামক বিশালাকার এক ইনফ্ল্যাটেবল* রোবট আর আরেকটি প্রোডিজি বালক ‘হিরো হামাডা’র গল্প। বে ম্যাক্সকে বানায় হামাডার বড় ভাই। কিন্তু সে এক দুর্ঘটনায় মারা পড়লে বে ম্যাক্সের দায়িত্ব তুলে নেয় তার ছোট ভাই হামাডা, এবং সে ও তার কয়েকজন বন্ধু মিলে একটি জোট গঠন করে একদল বিগ হিরো বানাবার জন্য!

images (1)

(*ইনফ্ল্যাটেবল = ফুঁ দিয়ে/বাতাস ভরে ফোলানো যায় এমন বস্তু।)

বোনাস রোবট চরিত্রঃ (২) – A.I

[imdb id=”tt0212720″]

ষ্টিফেন স্পিলবারগের অমর সৃষ্টি, সাড়াজাগানিয়া সাই-ফাই মুভি এ.আই।  আদতে  এটিও কোডি বা চ্যাপির মতোই একটি রোবটিক বাচ্চা ছেলের সাথে মানব-পরিবারের বন্ধনের মর্মভেদী গল্প, যে কিনা তার মানব-মাতার সান্নিধ্য পেতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। মূলতঃ ছোট গল্প “Supertoys Last All Summer Long” থেকে এই মুভিটির প্লট তৈরী করেন ষ্টিফেন । এটি দুটি ক্যাটাগরিতে অস্কার নমিনেশন পায়।

BIG HERO 6

BIG HERO 6 Facebook Banner

এছাড়াও লিষ্টে যে কেউ চাইলে ট্রান্সফর্মারসের ’অপটিমাস প্রাইম’ বা এক্স মেশিনার ‘Ava’ কে রাখতে পারেন। তবে আমি মনে করি, লিষ্টের বাকী রোবটগুলো যেভাবে মানুষের সাথে একটি পোর্সোনালাইজড ক্যারেক্টার হিসেবে ওতপ্রতভাবে মিশে যেতে পেরেছে, তেমনি অপটিমাস প্রাইম বা এভা পারেনি। অপ. প্রাইম  শুধু একজন অতিকায় যুদ্ধবাজ ও বিধ্বংসী রোবট-নেতাই শুধু। আর এভা একজন বাকপটু  ও ছলনাময়ী রোবট-নারীর  AI. যদিও উভয় মুভিতে উভয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

অপটিমাস প্রাইম – রিয়েল ভিডিও গেইম রোবট চরিত্র

file_124561_0_exmachinaposterlarge

এক্স মেশিনার অন্যতম অফিসিয়াল পোষ্টার। প্রধান চরিত্র এভাকে দেখা যাচ্ছে।

themachine

এই মুভির AI রোবট চরিত্রটিও বেশ সম্ভাবনাময় ছিলো, কিন্তু মুভিটা বক্স অফিস হিট করেনি

আমার প্রিয় হলিউড নায়কেরা – (শেষ কিস্তি)

১২) বেনেডিক্ট কামবারবেইচ

Benedict-Cumberbatch-In-Black-Sherlock-Holmes-Posterপ্রথমেই আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে নিচ্ছি অনিচ্ছাকৃত লম্বা বিরতির অপরাধে। কিছু পারিবারিক ও পেশাগত ঝামেলার কারনে গত দু সপ্তাহ অনেক চেষ্টা করেও এই সিরিজের সর্বশেষ লেখাটি লেখার মতো যথেষ্ঠ সময় ও সুযোগ করে উঠতে পারিনি। তাই ফেসবুকে ইনবক্স করে ও ফেসবুক পোষ্টের কমেন্ট সেকশনে যারা ক্রমাগত তাগাদা দিয়ে গেছেন, তাদের কাছে সবিনয় ক্ষমা প্রার্থনা ও দুঃখ প্রকাশ করছি।

পুরো নামঃ বেনেডিক্ট টিমোথি কার্লটন কামবারবেইচ।
বয়সঃ ৩৮ বছর।
উচ্চতাঃ ৬’
পরিচয়ঃ বৃটিশ অভিনেতা ও প্রযোজক।
প্রথম মুভিঃ To Kill a King (২০০৩)
জনরাঃ ড্রামা, বায়োগ্রাফি ও ’প্রচন্ড-রকমের-বুদ্ধিমত্তা-সম্পন্ন-চরিত্র’ ঘরানার নায়ক। (যেমনঃ শার্লক, হকিং, টুরিং)
এ পর্যন্ত অভিনীত মুভির সংখ্যাঃ ৩২
অস্কার/অস্কারের নমিনেশন পেয়েছেনঃ বেষ্ট এ্যাকটর ক্যাটাগরিতে নমিনেশন পেয়েছেন একবার। The Imitation Game এ। Continue reading

Aside

আমার প্রিয় ‘হলিউড নায়কেরা’ – (৩য় কিস্তি)

Edward-Norton

ব্যক্তিগত ও পেশাগত ব্যস্ততার কারনে গত দুদিন পোষ্ট করতে পারিনি বলে আগেই দুঃখপ্রকাশ করে নিচ্ছি।

পুরো নামঃ এডওয়ার্ড হ্যারিসন নরটন।
বয়সঃ ৪৮
উচ্চতাঃ ৬’
পরিচয়ঃ আমেরিকান অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক, স্ক্রিনপ্লে লেখক ও ফিল্ড একটিভিষ্ট।
প্রথম মুভিঃ ১৯৮৮ 
জনরাঃ ড্রামা, সিরিয়াস নায়ক।
এ পর্যন্ত অভিনীত মুভির সংখ্যাঃ ২৭ টি।
অস্কার/অস্কারের নমিনেশন পেয়েছেনঃ ৩ বার নমিনেশন পেয়েছেন।
সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকঃ ৮ মিলিয়ন ডলার।
উল্লেখযোগ্য মুভিঃ আমেরিকান হিস্টরি এক্স, ফাইট ক্লাব, ইলিউজনিষ্ট, দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক, দ্য পেইনটেড ভেইল
ধর্মঃ ইহুদি।

আমি জানি, নরটন খুব বেশী মানুষের প্রিয় নায়ক নন। এমনকি, বাংলাদেশের অনেক ছেলে মেয়ে হয়তো তাকেও চিনেও না, বা চিনলেও তার নাম জানেন না। কিন্তু এই লোক নিঃসন্দেহে আমার অন্যতম প্রিয় নায়ক। এটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত পছন্দ। যেমন ব্যক্তিগত পছন্দ হলো, হলিউডের তথাকথিত তুমুল জনপ্রিয় অনেক নায়কই (যেমনঃ ব্রেড পিট বা টমক্রুজ বা রাসেল ক্রো) অত্যন্ত সচেতনভাবেই আমার পছন্দের লিষ্টের বাইরে আছেন।

images

আমি এই লোকটির অভিনয়ের একনিষ্ঠ ভক্ত তার দ্য ইলিউজনিষ্ট দেখে। আমি আমার জীবনে আর কোন অভিনেতার চরিত্রে এতে বেশী ডুবে যেতে পেরেছি কিনা জানা নেই। এই মুভিতে তার অভিনয়ের দক্ষতা পৃথিবীর বড় বড় অভিনেতাদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে। শুধুমাত্র নরটনের অভিনয় দেখার জন্য আমি এই মুভিটি ৩ বার দেখেছি। এরপর একে একে দেখি দ্য ফাইট ক্লাব, আমেরিকান হিষ্টরি, দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক আর দ্য পেইনটেড ভেইল, আর বিস্মিত হই তার অভিনয়ের অসামান্য গুন দেখে!

নরটনের দাদাকে বলা হয় আধুনিক শপিং মলের জনক। আমেরিকাতে টিন প্রেগনেন্সির বিরুদ্ধে প্রথম যে সব মানুষ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, নরটন তাদের একজন। সে একজন তুখোড় গিটারিষ্ট। তার অত্যধিক সুদর্শন মুখমন্ডল এবং প্রখর ব্যক্তিত্বপূর্ণ কন্ঠস্বরে কিছু একটা যেন আছে, কিন্তু কি সেটা ধরতে পারি না ঠিক! :/

তিনি অনর্গল ষ্প্যানিশ ভাষায় কথা বলতে পারেন। মাত্র ৩০ বছর বয়সের ভেতর দু দুটি অস্কার নমিনেশন পান। হলিউডে এত কম বয়সে এটা একটা বিরল প্রাপ্তি!! তবে তার জীবনের লক্ষ্য ছিলো পাইলট হওয়া।

Edward Norton Wallpaper @ go4celebrity.com

অভিনয় শিল্প ও জীবনবোধ নিয়ে তারঁ কিছু অসাধারন উক্তি রয়েছে। উক্তি ও সংলাপঃ

I don’t smoke and I don’t want to smoke. I am not a fan of gratuitous smoking in films.

Life, like poker has an element of risk. It shouldn’t be avoided. It should be faced.

If I ever have to stop taking the subway, I’m gonna have a heart attack.
Fame is very corrosive and you have to guard very strictly against it.
I’ve never felt any particular encroachment of the ‘celebrity’ stuff into my life.
I’m an actor and, each time out, I’m trying to convince the audience that I’m this character. Every little thing that people know about you as a person impedes your ability to achieve that kind of terrific suspension of disbelief that happens when an audience goes with an actor and character [he’s] playing.

                                   মুভি লাভারজ গ্রুপ    সিনেমাখোরদের আড্ডা গ্রুপ

                                নরটনের টুইটার      নরটনের বিখ্যাত ১০ টি মুভি  

 

                  ১০) ক্রিশ্চিয়ান বেইল 

christian-bale

প্রিয় পাঠক এবং পাঠিকারা, আমার জীবনী সিরিজের সবচাইতে আগ্রদ্দীপক জীবনী হচ্ছে ক্রিশ্চিয়ান বেইলের। এই পোষ্টটি পড়ুন, আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি বেইলের জীবনের কিছু কিছু ফ্যাক্ট জেনে আপনি যারপরনাই অবাক হবেন। 🙂

পুরো নামঃ ক্রিশ্চিয়ান চার্লস ফিলিপ বেইল।

বয়সঃ ৪১ বছর

উচ্চতাঃ ৬’

পরিচয়ঃ বিশ্বখ্যাত বৃটিশ অভিনেতা।

প্রথম মুভিঃ ”আনাসটাসিয়াঃ দ্য মিষ্ট্রি অব আনা” (১৯৮৬ ইং)

জনরাঃ ড্রামা, এ্যাকশন ও সাই-ফাই নায়ক।

এ পর্যন্ত অভিনীত মুভির সংখ্যাঃ ২৬ টি।

Christian_Bale_Wallpaper_8_by_dinatzv

অস্কার/অস্কারের নমিনেশন পেয়েছেনঃ অস্কার পেয়েছেন একবার। (The Fighter)। নমিনেশনও পেয়েছেন একবার। (American Hustle)

সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকঃ দেড় কোটি ডলার। (দ্যা ডার্ক নাইট রাইজেস)

উল্লেখযোগ্য মুভিঃ  বেইলের সেরা ১০ মুভির তালিকা

ধর্মঃ বড় হয়েছেন ধার্মিক পরিবারে। বিভিন্ন উপলক্ষ্যে তিনি চার্চে যান ঠিকই তবে নির্দিষ্ট কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন না। তার বাবা ক্যাথোলিক বিশপের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন সুতরাং অনুমান করা হয়, তার ধর্মের শেকড় খ্রিষ্টান ক্যাথলিক।

54d5c5a4c928e53254b1cd7d

পরিচিতিঃ তার মা ছিলেন ইংল্যান্ডের একটি বিখ্যাত সার্কাসের পারফরমার এবং বাবা ছিলেন পেশাদার পাইলট। তার বাবার জন্ম সাউথ আফ্রিকায়। বেইলের ছোটবেলা কেটেছে ইংল্যান্ড, পর্তুগাল আর আমেরিকায়। মাত্র ১৩ বছর বয়সে দ্য এ্যাম্পায়ার অব দ্য সান করে প্রথম সমালোচকদের নজর কাড়েন তিনি। সে সময়ই হলিউডের আরেক সুন্দরী নায়িকা ‘ড্রিউ বেরিমোরের’ সাথে তার প্রথম দেখা এবং উভয়ই উভয়ের প্রেমে পড়েন বলে পরবর্তীতে বিভিন্ন ইন্টারভিউতে বলেন। তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে ফেলেন।

christian_bale__ballpoint_pen__by_signedportraits-d8kr1eu

বেইলের একটি ছবি ইন্টারনেটে এখনো প্রায় ভাইরাল। যেটা দাবানলের মতো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছিলো। মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে ৮ টি ভিন্ন ভিন্ন ছবিতে তিনি তার শরীরের অবয়বকে যেভাবে সত্যিকার অর্থেই পাল্টে ফেলেছিলেন, সেটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য! সে ছবিতে বেইলের সেই শারীরিক রুপান্তরকে এক নজরে দেখানো হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোন অভিনেতা চরিত্রের প্রয়োজনে নিজের শরীরের উপর এত দীর্ঘ সময় এই পরিমান অত্যাচার বা পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাননি। কোন মানুষ তার শরীরের ওজনের উপর এই পরিমান নিয়ন্ত্রন রাখতে পারেন, বেইল তার জলজ্যান্ত উদাহরন। ২০০৪ সালের দ্য মেশিনিষ্ট মুভির লেথ অপারেটর চরিত্রটির কারনে তাকে প্রায় ১ বছর ইনসমনিয়ায় ভুগতে হয়েছে। সারাদিন প্রচন্ড পরিশ্রমের পরও তিনি রাতে একফোটাঁ ঘুমুতেন না অথবা ঘুমুতে পারতেন না। সে সময় সারাদিনে তিনি মাত্র ৩ ছটাক সালাদ, একটি আপেল, এক প্যাকেট সিগারেট খেতেন আর রাতের বেলা এক কাপ লেতে কফি পান করতেন।

42476-Christian-Bale-weight-loss-and-PNC5

তিনি বিষন্ন ও নিঃসঙ্গ চরিত্রে অভিনয় করে অভ্যস্ত। ক্রিষ্টোফার নোলানের সাথে তিনি কাজের বাইরেও প্রচুর ঘনিষ্ঠ সময় কাটান। তিনি অনর্গল আমেরিকান উচ্চারনে ইংরেজী বলতে পারেন। আমি আর কোন বিট্রিশ নাগরিককে নিয়মিত আমেরিকান উচ্চারনে মুভিতে কথা বলতে দেখি নাই।

আমেরিকান সাইকো মুভিতে লিও ক্যাপ্রিওর অভিনয় করার কথা থাকলেও তার তুলনায় বেইলের অডিশন ভালো হয়, তাই তিনিই মনোনীত হন মুভিটার জন্য। অপরদিকে, ক্যাসিনো রয়াল (২০০৬) এর জেমস বন্ড চরিত্রের জন্য তিনি মনোনীত হলেও শেষপর্যন্ত তার বদলে অভিনয় করেন ড্যানিয়েল ক্রেগ।

চরিত্রের ভেতর মানসিকভাবে এতটাই ডুবে যান যে, মুভির পুরোটা সময় তো বটেই, এমনকি মুভির পরে মিডিয়ার সামনে বা রেড কার্পেট প্রিমিয়ারেও তিনি একই চারিত্রিক ভাষা ব্যবহার করেন।

Christian_Bale_Wallpaper_4_by_dinatzv

মিডিয়ায় ইন্টারভিউ দিতে অত্যধিক অপছন্দ করেন। সাংবাদিকদের সাথে দুর্ব্যবহার করার প্রবনতা রয়েছে তার।

বেইলের ব্যাপারে যেসব তথ্য অনেকেই জানেন নাঃ

১) বেইল একজন অভিজ্ঞ ঘোড় সওয়ার এবং তুখোড় মোটর সাইক্লিষ্ট।

২) তিনি বইয়ের বোকা। বই পড়তে প্রচন্ড ভালবাসেন। একই সাথে তিনি ভিডিও গেইমের প্রতিও আসক্ত।

৩) তিনি চাইনিজ গনতান্ত্রিক আইনজীবি চেং গুয়ানচিং এর রাজনৈতিক দর্শন দ্বারা প্রভাবিত, যদিও এ বিষয়ে তাকে খুব একটা মুখ খুলতে দেখা যায় না। তিনি চেং এর সাথে দেখা করে করমর্দন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু চাইনিজ সরকার তাকে সে সুযোগ দেয়নি।

1600215_christian_bale_BRV_

৪) Ark Trust, Greenpeace, A Gorilla Fund, The Redwings Sanctuary, The Happy Child Mission এবং The World Wildlife Foundation – এ কয়েকটি সংগঠনে বেইল নিয়মিত পয়সা কড়ি দান করে থাকেন, মাঝে মাঝে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহনও করে থাকেন। এমনকি রিও ডি জেনিরোর একটি পথশিশু সংগঠনের তিনি প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

৫) তার নিজের তিনটি কুকুর আর তিনটি বেড়াল রয়েছে পোষ্য হিসেবে।

christian_bale01

৬) তিনি পৃথিবীর যে কোন মানুষের মুখের ভাষা ও শব্দ-উচ্চারন রীতি শুনে সে মানুষটি কোন দেশের নাগরিক তা নির্ভুলভাবে বলে দিতে পারেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের লোক বিভিন্ন ভাবে তার এ রহস্যময় ক্ষমতা পরখ করে দেখেছেন, এবং যথারীতি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গেছেন!

৭) বেইলের ফ্যানরা নিজেদেরকে “Baleheads” বলে পরিচয় দেয়। (সে হিসেবে আমি একজন বেইলহেডস! B-) )

৮) তার দুটি বিখ্যাত চরিত্রের নামের মাঝে মাত্র একটি অক্ষরের হেরফের। Bateman এবং Batman.

৯) তিনি প্রয়াত হিথ লেজারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।

১০) স্ত্রী ‘সিবি ব্লাজিক’ আর একমাত্র কণ্যা ’এমিলিন’ কে নিয়ে তার ছোট্ট সুখের সংসার। মজার ব্যাপার হলো, তিনি তার কন্যার নাম কখনো জনসম্মুখে নিশ্চিত করেন নি। 🙂

christian_bale04

উক্তি ও সংলাপঃ তার উক্তি গুলোও বেশ মজার এবং বুদ্ধিদীপ্ত!

ক) An actor should never be larger than the film he’s in.

খ) I started my career without fans.

গ) It’s the actors who are prepared to make fools of themselves who are usually the ones who come to mean something to the audience.

ঘ) Our Batman [Batman Begins (2005)] is centered on the early days. It’s an explanation. It’s certainly not Batman No. 5. It’s a reinvention. We want you to forget there has ever been a Batman before this one.

ঙ) I like being kept in the dark myself. You know, like mushrooms: Keep ’em in the dark and feed ’em shit. See, I think that’s an enjoyable vegetable to be. (দারুন একটা কথা তো! এত চমৎকার কথা অনেক দিন শুনিনি!)

christian_bale06

চ) [on playing Batman] You couldn’t pull it off unless you became a beast inside that suit.

ছ) I only sound intelligent when there’s a good scriptwriter around.

জ) I don’t think I’m like any of the characters I’ve played. They’re all really far from who I am. (খুবি সত্যি কথা!)

ঝ) I don’t think I was particularly in need of superheroes. I never had any fascination with Superman or Spider-Man or a Batman kind of character. If it happened at all, it was imagined characters that I had invented. My dad was a role model for me. He was a fascinating man. There was intrigue and entertainment growing up with him. He gave me an edict that I still pursue: “Life should never be boring”.

Christian-Bale-3

ঞ) [on meeting Arnold Schwarzenegger in a car park] He’s got bodyguards and they were all shouting at me and I was going, ‘Hold on, hold on, I’ve met him before!’ but they were getting very worried as I walked toward him. But we chatted a bit. He had questions about Terminator Salvation (2009), he didn’t know the script at all but I hear apparently he’s now seen the movie… I’ll wait to hear what his reaction is…

আমাদের আগামী কালের নায়কঃ । (৪০ বছর)

আমার হলিউডের প্রিয় নায়কেরা (১ম পর্ব) 
আমার হলিউডের প্রিয় নায়কেরা (২য় পর্ব)  

Christian-Bale-christian-bale-27110622-1200-1487

আমার দেখা বেইলের সবচাইতে সুন্দর প্রোট্রেইট

মুভি লাভারজ গ্রুপ    সিনেমাখোরদের আড্ডা গ্রুপ

১১) লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও

leonardo-dicaprio-01

পুরো নামঃ লিওনার্দো উইলহ্যাম ডিক্যাপ্রিও

ডাক নামঃ লিও। লেনি ডি।

বয়সঃ ৪০ বছর।

উচ্চতাঃ ৬’

পরিচয়ঃ বিশ্বখ্যাত আমেরিকান অভিনেতা ও প্রযোজক।

প্রথম মুভিঃ ১৯৯১ সালে। ক্রিটার্স থ্রি।

জনরাঃ ড্রামা, রোমান্টিক নায়ক।

এ পর্যন্ত অভিনীত মুভির সংখ্যাঃ ৪০ টি।

অস্কার/অস্কারের নমিনেশন পেয়েছেনঃ ৫ বার নমিনেশন পেয়েছেন। উনি এত ভালো অভিনয় করেও আজ পর্যন্ত একটা অস্কারও পাননি। এইটা একই সাথে আমার কাছে একটা বিরাট রহস্য ও বিরাট আফসোসের কারন। :'(
সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকঃ ৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। (ইনসেপশান)

উল্লেখযোগ্য মুভিঃ টাইটানিক, ডিপারটেড, ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান, দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট, দ্য এভিয়েট্যর, ইনসেপশান, শাটার আইল্যান্ড, জ্যাংগো আনচেইনড, দ্য গ্রেইট গ্যাটজবি, বডি অব লাইজ, রিভিউলেশনারি রোড, রোমিও-জুলিয়েট, ব্লাড ডায়মন্ড, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক এবং আউট অব দ্য ফারনেস (ক্যামেরার সামনে ছিলেন না। পেছনে ছিলেন। প্রডিসউসার) ।

ধর্মঃ ধার্মিক রোমান ক্যাথোলিক পরিবারে বড় হয়েছেন। কিন্তু তিনি ধার্মিক নন। আবার তাই বলে নাস্তিকও নন।

পরিচিতিঃ ৯০ দশকের টিনেজ হার্টথ্রব ’লিও’ জন্মেছেন ইতালি, জার্মানি আর রাশান বংশোদ্ভুত পরিবারে। ছোটবেলায় এমন একটি পাড়ায় তিনি বেড়ে উঠেছেন, মদ-ড্রাগ-জুয়া-যৌনতা এসব ছিলো যার নিত্য অনুসংগ। নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রভাব কতটা খারাপ হতে পারে, সেটা তিনি নিজের চোখে দেখেছেন মাত্র ৩/৪ বছর বয়স থেকে। অবাক করা ব্যাপার, এইরকম খারাপ পাড়ায় থেকেও তিনি বখে যাননি কারন তার বাবা-মা তাকে শিক্ষা, সংস্কৃতি আর মননে পরিছন্ন ও উন্নত রুচির করে বড় করেছেন। ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান দেখার পর লিওকে মনে হয়েছে আমার খুব ঘনিষ্ঠ একজন বন্ধু।

তার চরিত্রগুলো হয় বেশীরভাগ সময়ই খুবই ভিন্নধর্মী এবং কঠিন। যেমনঃ ট্রমা-ষ্ট্রেসে ভোগা, অভাগা, স্মৃতিভ্রষ্ঠ, ক্ষেপাটে, মানসিকভাবে বিপন্ন বিত্তবান শিল্পপতি। বাস্তব জীবনেও তিনি হলিউডের অন্যতম হাই রেটের অভিনেতা। এই মূহুর্তে হলিউডের বাজারে তার গড় পারিশ্রমিক ২ কোটি ডলারেরও বেশী।

পৃথিবীর সর্বকালের অভিনেতাদের তালিকায় তার অবস্থান ৭৫। পৃথিবীর সেরা ৫০ জন সুপুরুষের তালিকাতেও তার নাম রয়েছে।

vogue-australia-the-great-gatsby-leonardo-di-caprio-may-2013

লিও এর ব্যাপারে যে সব তথ্য বেশীরভাগ লোকই জানেন নাঃ

  • মাত্র ১০ বছর বয়সে তার এজেন্ট তাকে উপদেশ দিয়েছিলো তার নাম পাল্টে আরেকটু আমেরিকান ধাচেঁর নাম রাখতে। যেমনঃ লেনি উইলিয়ামস। বলা বাহুল্য, তার সে উপদেশের ধার লিও ধারেননি।
  • ১৯৯৮ সালে তিনি প্লেগার্ল ম্যাগাজিনের নামে মামলা করেছিলেন তার শরীরের সম্মুখ ভাগের সম্পূর্ণ নগ্ন ছবি ছাপাবার দায়ে।

  • তার প্রিয় পরিচালক হচ্ছেনঃ Martin Scorsese.

  • লিও ‘ম্যারিয়ন কটিলার্ড’ আর ’কেট উইন্সলেটের’ ঘনিষ্ঠ বন্ধু। উল্লেখ্য, এই দুইজনই নায়িকা হিসেবে আমার ভীষন প্রিয়।

  • রিভেলুশনারি রোড মুভির শুটিং শেষ হবার পর তিনি কেটকে একটা খাটিঁ সাদা সোনার আংটি উপহার দেন। আংটির উপরে একটা বাক্য খোদাই করে লেখা ছিলো। কিন্তু সে বাক্যটি কি, সেটা কেট আজ পর্যন্ত মিডিয়ার সামনে প্রকাশ করেনি। কেট তাকে ভাবেন, লিও এই প্রজন্মের সবচাইতে তুখোড়, মেধাবী ও চৌকষ অভিনেতা।

  • স্পাইডারম্যান-খ্যাত টবি ম্যাগুয়্যের তার বাল্যবন্ধু।

  • আমেরিকান সাইকো মুভির জন্য তাকে প্রস্তাব দেয়া হয় কিন্তু শিডিউল (স্ক্যাজুল) না মেলাতে পেরে সেটা ক্রিশ্চিয়ান বেইলকে দিয়ে দেয়া হয়। এরপর ২০০২ সালে স্পাইডার ম্যান চরিত্রের জন্য তিনি নির্বাচিত হন কিন্তু শেষে তিনি তা টবিকে দিয়ে দেন। ২০০৫ সালেও তিনি সিন সিটি মুভির জন্য মনোনীত হন, কিনতু শেষে পযন্ত বাদ পড়েন। ২০০৯ সালেও একই ঘটনা ঘটে। পাবলিক এনিমি মুভির জন্য ডিজিটাল ও প্রিন্ট মিডিয়ার সমস্ত প্রচারনাতেও তার নাম ছিলো। কিন্তু শুটিংর শুরু হবার সময় দেখা গেলো, তার চরিত্রটি জনি ডেপ করছে। সবশেষে দ্য ইংগ্লোরিয়াস বাষ্টাড মুভিতেও তার অভিনয় করার কথা ছিলো কিন্তু দিন শেষে কোয়ান্টিন টারানটিনো তার বদলে অন্য একজনকে বেছে নেন।
    (আই মিন, সিরিয়াসলি?? WTF man?!! :/ আমি তো খালি ভাবতাম অস্কারটাই বুঝি বার বার তার হাত ফসকে গেছে! অথচ এতগুলো মুভিতে তার থাকার কথা ছিলো!! )

  • কিশোর বেলায় তিনি অতিমাত্রায় সুদর্শন ছিলেন। এতটাই যে, কোন নতুন জাগায় গেলে স্থানীয় কিশোরী মেয়েরা প্রায়ই তার পিছু নিতো। তিনি যেখানে যেখানে যেতেন, তার পেছনে হেঁটে হেঁটে সেই মেয়েগুলোও সেখানে চলে যেতো।

  • ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে লিওর আইনজীবি লিও এর ’DiCaprio’ নামের কপিরাইটের জন্য আবেদন করেন।

  • টাইটানিকের শেষ জীবিত সারভাইভার যখন টাকার অভাবে হাসপাতালের খরচ যোগাতে পারছিলেন না, ঠিক সে সময় লিও এগিয়ে আসেন। তিনি যে শুধু হাসপাতালের মোটা অংকের বিল দেয় তাই নয়, লিও সেই মহিলার মৃত্যু পযন্ত সমস্ত ব্যয়ভার বহন করেন।

  • লিও একজন আপদমস্তক পরিবেশবাদী। বণ্য প্রাণী সংরক্ষনের জন্য তিনি গত দেড় দশকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দান করেছেন বিভিন্ন পরিবেশীবাদী সংগঠনকে।

  • তার নিজের একটি প্রডাকশন হাউস আছে। নামঃ Appian Way Productions.

  • তার নাম করনের পেছনের ছোট্ট গল্পও খুব বেশী লোক জানেন না। লিও পেটে থাকাকালীন তার মা একদিন উফিজি গ্যালারিতে হ্যান্ড পেইন্টিং দেখতে যান। তো তিনি যখন লিওনার্দো ডা ভিঞ্চির একটি চিত্রকর্মের সামনে আসেন, ঠিক তখনই লিও তার মায়ের পেটের ভেতর থেকে পা দিয়ে লাথি মারেন। লিওর চিত্রলিল্পী বাবা এই ঘটনাকে সিরিয়াসভাবে নেন এবং এই কারনে লিওর নাম রাখেন বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিঞ্চির নামানুসারে।

leonardo-dicaprio

উল্লেখযোগ্য উক্তি ও সংলাপঃ

১) অভিনয়ের সবচেয়ে ভাল দিক হচ্ছে, আমাকে অন্য চরিত্রের মাঝে হারিয়ে যেতে হয় এবং তার কারনে আমি পারিশ্রমিকও পাই। আমার যেটা হয়, সেটা হচ্ছে আমি নিজেই নিম্চিত না যে আমি আসলে কে? আমার তো মনে হয় আমি প্রতিদিন বদলাই। (The best thing about acting is that I get to lose myself in another character and actually get paid for it. It’s a great outlet. As for myself, I’m not sure who I am. It seems that I change every day.)

২) লোকে চায় তুমি পাগল হও, লাগামছাড়া ক্ষ্যাপাটে ছোকড়া হও, তারা চায় তুমি তাদের মতই অপদাথ হও। তারা চায় না তুমি নায়ক হও, তারা শুধু তোমার পতনটাই দেখতে চায়। (People want you to be a crazy, out-of-control teen brat. They want you miserable, just like them. They don’t want heroes; what they want is to see you fall.)

৩) আমার মধ্যে আসলে তেমন কোন অতিরঞ্জন নেই। আমার কোন ব্যক্তিগত বিমান নাই, আমার কোন দেহরক্ষীও নাই। আর আমি কোন আলতু ফালতু জিনিসও কিনি না। আমি শুধূ অত্যন্ত দামী একটা ঘড়ি কিনেছি, আর আমি সত্যিকার অর্থেই দামী একটা মুভি পোষ্টার কিনবো। দ্য থিফ অব বাগদাদ (১৯৪০) এর আসল পোষ্টার। আমি মুভি পোষ্টার ভালবাসি। (I don’t really have many extravagances. I don’t fly private jets and I don’t have bodyguards and I don’t buy crazy things. I have a couple of houses here and there. I bought a very expensive watch, and I am going to buy a really expensive movie poster, the original for The Thief of Bagdad (1940). I love movie posters.)

৪) হ্যা, আমি আমার বয়সের চাইতে ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে পারি, বড় চরিত্রেও পারি। তবে আমি শিশুদের চরিত্রে অভিনয় করতে পারি না।

৫) আমি জীবনের প্রথম যে মেয়েটির সাথে ডেট করি, তার নাম ছিলো স্যাসি। পুরো গ্রীষ্ম জুড়েই তার সাথে আমার ফোনে দারুন একটা সম্পক ছিলো। তারপর একদিন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমরা একসাথে থিয়েটারে যাবো মুভি দেখতে। কিন্তু তাকে যখণ আমি প্রথম সামনা সামনি দেখলাম।, তখন মুটামুটি একটা ধাক্কা খেলাম। এমনকি আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথাও বলতে পারছিলাম না। (My first date was with a girl named Cessi. We’d had a beautiful relationship over the phone all summer long. Then she came, home and we met to go out for the first time to the movies. When I saw her I was petrified. I couldn’t even look her in the eye to talk to her.)

৬) আমি জানি না আমি আদৌ কোনদিন বিয়ে করবো কিনা। মনে হয় না করবো, যদি না কারো সাথে আমি ১০ বা ২০ বছর আমার একসাথে থাকা হয়। ( I don’t know if I’m ever getting married. I’m probably not going to get married unless I live with somebody for 10 or 20 years. )

৭) আমি অনেক ধরনের প্রতারনা করেছি। আসলে বাসায় বসে হোমওয়াক করা আমার দ্বারা হয় না। তবে হ্যা, আমি বসি। তবে অসম্ভব স্মাট কোন লোকের পাশে। (I cheated a lot, because I just couldn’t sit and do homework. I usually sat next to someone extremely smart.)

৮) শুটিংর ফাকেঁ যখন ব্রেক নেই, তখন প্রথম যে কাজটা আমি করি সেটা হচ্ছে সমুদ্রের পাশে সময় কাটানো। (When I’m acting and I take a break, the first thing on my list is spending time by the sea.)

৯) যখন আমি ছোট ছিলাম. তখন আমি সবকিছুই ঘুরে ফিরে দেখতে চাইতাম। আমি ভাবতাম –” পৃথিবীর প্রতিটি ইনচি না দেখে আমি কি ভাবে মারা যাবো?” (When I was young, I used to have this thing where I wanted to see everything. I used to think, “How can I die without seeing every inch of this world?”.)

১০) যে সব মেয়েরা বুদ্ধিমতী, কিছুটা রসবোধসম্পন্ন এবং দেখতে মিষ্টি ও চমৎকার ব্যকিত্বসম্পন্ন, আমি সে ধরনের মেয়েদের পছন্দ করি। (I like girls who are intelligent, somewhat funny, and pretty with a nice personality)

১১) গাঢ় সবুজ আমার প্রিয় রং। এটা প্রকৃতির রং, টাকার রং এবং শৈবালের রং। (Dark green is my favorite color. It’s the color of nature and the color of money and the color of moss!)

১২) বেশী জিনিসের প্রতি আমার কোন আবেগ নেই। আমি সহজে রাগি না, আমি সহজে কাদিঁ না, তবে আমার মনে হয় আমি খুব সহজেই উত্তেজিত হয়ে পড়ি , কিন্তু আমি মন খারাপ করি না বা প্রচন্ড খুশীও হই না। আমার মনে হয়, অনেক লোকই এই সব নিয়ে প্রচুর বলে, এবং তারা মিথ্যে বলে। এই মূহুতে আমি শুধু আমার সুখটুকু ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আমি শুধু এই ব্যাপারটির প্রতিই মনোযোগী। , যা হোক, তুমি যখন আমার বয়সে পৌছুঁবে, আর যখণ তোমার হরমোন তোমাকে বিচলিত করে তুলবে, তখন তোমার মনে যৌনতা ছাড়া আর খুব বেশী কিছু খেলা করবে না।
(I don’t have emotions about a lot of things. I rarely get angry, I rarely cry. I guess I do get excited a lot, but I don’t get sad and enormously happy. I think a lot of people who talk about all that crap are lying. Right now I’m just trying to maintain happiness – that’s all I really care about. Anyway, when you’re my age and your hormones are kicking in, there’s not much besides sex that’s on your mind.)

১৩) আমার অন্যতম প্রিয় একটা কাজ হলো, মানুষের সাথে দেখা করে তাদেরকে অনুকরন করা। আমার খুবই ভালো লাগে এটা করতে। (One of my passions is to meet people and then imitate them. I love doing that.)

১৪) আমি এমনিতে খুব লাজুক প্রকৃতির মানুষ। কিন্তু যখন সময় আসে বণ্য হবার, তখন আমি রসিক, দুঃসাহিসক ও রহস্যময় হয়ে উঠি। (I’m shy, but when the time comes to be wild, I’m fun-loving, adventurous, and mysterious. )

১৫) যখনিই আমি কোথাও যাই, কেউ না কেউ আমার দিকে হা করে তাকিয়ে থা।কে। আমি জানি না তারা কি আমার দিকে এই কারনে তাকিয়ে থাকে যে তারা আমাকে চিনে ফেলেছে, নাকি আমাকে কিম্তুতকিমাকার দেখায়। (Everywhere I go, somebody is staring at me. I don’t know if people are staring because they recognize me or because they think I’m a weirdo.)

১৬)     Kate Winslet is one of my dearest friends. We have the ultimate trust in each other and the best of intentions for what we want to do. I knew Kate before Sam Mendes [her husband] even met her. So on the outside, it may seem strange to do a sex scene with a woman while her husband is directing. But it didn’t feel that way to me.

When the scene was about to start, Kate said, in front of the crew, “Wait, wait, this is totally weird”. She turned to both Sam and I and said, “Are you guys okay?”

We both looked at each other and said, Yeah, we’re totally fine.
She said, “It’s even weirder that you’re both totally fine”. (এইটার বাংলা একটু পরে লেখছি)

১৭) ম্যারিল স্ট্রিপের সাথে আমাকে প্রায়ই কাজ করতে হতো। তাকে দেখতাম এমন সব পোষাক পড়তে, আমার মনে হতো, এ ধরনের পোষাক নির্বাচন করার মানেটা কি? কিন্তু পরে দেখা গেলো, ষ্টেজে ঐ পোষাকের কারনে তাকে সবার চাইতে প্রাকৃতিক (ন্যাচারাল) মনে হচ্ছিলো। আমার মনে হয়, ম্যারিল স্ট্রিপ পৃথিবীর সেরা অভিনেত্রী।

১৮) এটা পোষ্টে লিখবো না ভেবেছিলাম, কিন্তু পরে ভাবলাম লিও’র বাংলাদেশী নারীকুলের একটু উপকার করি!  তাহারা শুনিয়া খুশী হ্লইবেন যে, লিও সপ্তাহে মাত্র ২ দিন গোসল করে। আর কোন ধরনের পারফিউম ইউজ করেনা। কেন জানেন? কারনটা আগেই বলেছি, সে মাত্রাতিরিক্ত পরিবেশবাদী। গোসল করে নদী/সমুদ্রের পানি অপচয় করেন না। এবং পারফিউম রিসাইকেল না করলে সেটা পরিবেশের ক্ষতি করে। অনেক পারফিউম স্বাস্থ্যেও ক্ষতি করে, এবং বেশীরভাগ পারফিউমে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।
সূত্রঃ http://goo.gl/VgHDDm

আমাদের আগামী কালের নায়কঃ বেনেডিক্ট কুমবারবেইচ (৩৮ বছর)

GATSBY

মুভি লাভারজ গ্রুপ      সিনেমাখোরদের আড্ডা গ্রুপ

পৃথিবীর সবচাইতে অসুন্দর প্রতিযোগীতার নাম “সুন্দরী প্রতিযোগীতা”!

beauty_contest02বেশ কিছু নির্বাচিত নারীকে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রকাশ্যে হেয়, অপদস্ত, হাসির পাত্র ও সস্তা বানাবার আয়োজন করা হয় এবং সেই আয়োজনের একটা সুন্দর, গ্রহনযোগ্য ও ব্যবসায়িক নাম হচ্ছে ‘বিউটি কনটেষ্ট’ বা সুন্দরী প্রতিযোগীতা।  আমার ধারনা, সুন্দরী প্রতিযোগীতা হচ্ছে পৃথিবীর সবচাইতে অসুন্দর ও কদাকার প্রতিযোগীতা। কিশোর বয়স থেকেই জেনে এসেছি যে, সুন্দরী প্রতিযোগীতা আদতে একটা দেশের নারীদের জন্য বিরাট লজ্জা ও অবমাননার ব্যাপার। আমি জগতের তাবত সুন্দরী প্রতিযোগীতার ঘোরতর বিরুদ্ধে। তা সেটা লাক্স চ্যানেল আই হোক আর মিস ওয়াল্ড ইভেন্টই হোক।

মেয়েদের এটা বোঝা খুব প্রয়োজন যে, শারিরীক রুপ বা বাহ্যিক সৌন্দর্য্য যেহেতু তেমন কোন প্রকার চেস্টা বা পরিশ্রম ছাড়াই অর্জন করা যায়, সেহেতু সেটা নিয়ে প্রতিযোগীতায় অবর্তীন হওয়ায় গৌরবের কিছু নেই, বরং সেটা নিজেকে অপমান করারই নামান্তর। প্রতিযোগীতা হতে পারে- যেটা কষ্ট করে, সাধনা করে অর্জন করতে হয় সেটার। শরীর স্রষ্টার দান। সেখানে মানুষের হাত নেই। সুতরাং, সেটা নিয়ে প্রতিযোগীতা করে সেরা হয়ে অহংকার করা বাতুলতা মাত্র। অপরদিকে মেধা, মনন, সৃজনশীলতা ও দক্ষতা এসব সরাসরি স্রষ্টার দান নয়, মানুষকে এসব অর্জন করতে হয় প্রচন্ড অধ্যবসায় দিয়ে। 

কাজেই, মেয়েরা যদি গনিত অলিম্পিয়াড বা পেসার হান্টের মতো এ জাতীয় কোন প্রতিযোগীয় যোগ দেন, তবে আমরা অবশ্যই সাধুবাদ জানাবো। কারন সেটা আমাদের মেয়েদের প্রকৃত সন্মান ও গৌরব দান করবে।

সুন্দরী প্রতিযোগীতার গূঢ় তাৎপর্যটা ঠিক কোথায়? সেখানে সেরা হয়ে লাভটাই কি? আমি অনেক মেয়েকে দেখেছি যারা এইসব তথাকথিত সুন্দরী প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করার পর থেকেই একাধিক পড়াশোনা করা বলতে গেলে ছেড়ে দিয়েছে। কারন তারা মডেলিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার ধান্ধায় ছিলো।  অথচ দিন শেষে সেরা হয় মাত্র ৩ জন। বাকী অংশগ্রহনকারীদের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কি জুটে তা তাদের পরিবার ছাড়া আর কেউ জানে না। আর যারাও বা সেরা হয়, তারা গিয়ে ভেড়ে বিজ্ঞাপন আর নাটকে এবং সবশেষে মুভিতে।  বলাবাহুল্য, ততদিনে ঐ মেয়েটার নিজের বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। যারা এসব ব্যাপারে একটু হলেও ধারনা রাখেন, তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি এ কথার দ্বারা কি বোঝাতে  চাচ্ছি।

সুন্দরী প্রতিযোগীতায় খুবই সীমিত পরিসরে তার চাইতেও সীমিত সময়ের জন্য উপস্থিত সুন্দরীদের বুদ্ধিশক্তি পরীক্ষা করা হয়। তবে ব্যাপারটা স্রেফ  আইওয়াশ বলেই প্রতীয়মান হয়, এবং বেশীরভাগ সময়ই এটা রীতিমতো উপহাস ও ব্যঙ্গ বিদ্রুপের অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে।

 প্রতি বছর এই প্রতিযোগীতার মধ্য দিয়ে নিত্য নতুন মডেল আসার ফলে পুরনোরা খুব দ্রুত হারিযে যায়। এক বছর কুসুম সিকদার তো পরের বছর মীম। এই হলো লাক্স চ্যানেল আইর অন্তর্নিহিত গোমঢ়। [মুসলিম সমাজে মুসলিমদের কাছ থেকে ফেভার পাবার জন্যই কি বিদ্যা সিনহা সাহা তার সনাতন  ধর্মীয়  নামের সাথে মুসলমান নামের মুখোশ এটেঁ মডেলিং জগতে পা দিয়েছিলো কিনা কে জানে? হুমায়ূন আহমেদের জীবনী পড়ে জানতে পেরেছি, এই মীমকে “আমার আছে জল” মুভিতে কাচাঁ অভিনয় করার কারনে তারঁ হাতে কি পরিমান ধমক খেতে হয়েছে।]

Seema Biswas judges Trans-gender beauty contest V-vare Indian Super Queen semi finals at Royal Palms, Goregaon East

সুন্দরী প্রতিযোগীতা মেয়েদের বিক্রীত ও বিকৃত – উভয়ই করে দেয়। নিঃসন্দেহে এই প্রতিযোগীতা করপোরেট আধিপত্য বিস্তারের একটা পাশ্চাত্য এবং অব্যর্থ উপায়। নারীরা এর দ্বারা সাময়িক খ্যাতি ও স্বল্প পরিমান অর্থ ঠিকই পাচ্ছে, কিন্তু লোভী পুরুষের জন্য স্বেচ্ছায় বিকিয়ে দিচ্ছে নিজের মূল্যবান শরীর এবং প্রকৃত সৌন্দর্য তথা ব্যক্তিত্ব। যে জিনিস নারীর অমূল্য সম্পদ, সে জিনিসই তারা বিকিয়ে দিচ্ছে নামমাত্র মূল্যে। আমার ভীষন আফসোস হয় যে, মেয়েরা এসব কখনই বোঝে না, বুঝতে চায় না অথবা বুঝেও না বোঝার ভান করে, কারন খুব সম্ভবত, সহজে শরীর দেখিয়ে জনপ্রিয় হবার যে লোভ, সেটা তারা কিছুতেই সংবরন করতে পারে না। তাই আপনার আশে পাশে সব সময়ই কিছু না কিছু মেয়ে পাবেন, যাদের ধ্যান জ্ঞানই হচ্ছে যে কোন উপায়ে মডেল হওয়া। উঠতি মডেলদের নিয়ে রসালো-মুখরোচক গুজব শুনতে পাওয়া যায় (যেমনঃ মডেল হতে হলে পরিচালকের বিছানায় যেতে হয়) যদিও কিছুদিন আগে একটা টিভি চ্যানেলের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রমানিত হয়েছে যে, সে সব গুজবের প্রায় পুরোটাই সত্যি। অবাক করা ব্যাপার হলো, এরপরও আমাদের দেশের তরুনী ও কিশোরী মেয়েদের মডেল হবার ইচ্ছায় কোন ভাটা পড়ে না।

তবে আমি খুবই মজা পাই যে, তসলিমা নাসরিনের মতো সো কলড নারী বাদীদের এসবের বিরুদ্ধে কখনই কিছু বলতে শুনি না। দুনিয়ার হেন কোন নারীবাদী বিষয় নাই যা নিয়ে সে ত্যানা প্যাচাঁয় নাই। অথচ সুন্দরী প্রতিযোগীতার মতো এত বড় ঘৃণ্য একটা ইস্যু নিয়ে তিনি সর্বদাই নিরব থেকেছেন। আমি কখনই ভাবি না যে, তিনি এর পেছনের ব্যাপারটা বোঝেন না বরং এটা ভাবি যে এ ব্যাপারে তিনি সেচ্ছায়ই নিরব থাকেন। অবশ্য একজন হিট সিকার নারী আরেকজন ফেইম সিকিং মেয়েকে সেটা থেকে প্রতিরোধ করতে চাইবে  না এটাই তো স্বাভাবিক।

গনিত অলিম্পিয়াড অথবা গ্রামীন ফোন পেসার হান্টের মতো প্রয়োজনীয়, সৃজনশীল ও উদ্যোমী প্রতিযোগিতা আমাদের দেশে শুধু নয় যে কোন দেশের জন্যই খুবই দরকার। একটা দেশের ভবিৎষত প্রজন্ম কেমন হবে তা এই সব প্রতিযোগীতার ফলাফল দিয়েই আচঁ করা যায়। আমরা চাই সুন্দরী প্রতিযোগীতার মাধ্যমে নারীদের অবমাননা না করে, ও তাদের ভবিৎষত-সাবলীল জীবনটাকে নষ্ট না করে পেসার বা স্পিনার হান্টের মতো উদ্যোমী ও ঋদ্ধ প্রতিযোগতিার আয়োজন বেশী বেশী করা হোক। তাতে করে সারা দেশ থেকে মেধাবী খেলোয়াড় ও শিক্ষাথীদের সহজেই খুজেঁ বের করা যাবে; তারা আমাদের দেশের জন্য অর্থ ও গৌরব উভয়ই বয়ে আনবে।

winning_beauty_contest02

আর করপোরেট বেনিয়াদের দুঃশ্চিন্তারও কারন নাই যে তারা এটা থেকে পর্যাপ্ত পরিমান ব্যবসা করতে পারবে কিনা। কারন যতদূর জানি গ্রামীন ফোন পেসার হান্ট প্রতিযোগীতা থেকে কম পয়সা কামায়নি। সুতরাং, বেনিয়া এবং জনগন উভয় পক্ষই কিন্তু এ ধরনের প্রতিযোগীতা থেকে বিপুল পরিমান লাভবান হতে পারে।

এখন দেখা প্রয়োজন যে, সুন্দরী প্রতিযোগীর পেছনে কি কি নিয়ামক কাজ করে। এর পেছনে যদি শুধু অর্থ আর ফেম কাজ করতো, তাহলে পেসার হান্ট ধরনের প্রতিযোগীতা দিয়েও তা পূরণ করা সম্ভব ছিলো, কিন্তু যদি অর্থ আর ফেমের সাথে সাথে স্পন্সর, পরিচালক ও মিডিয়া-মোঘলদের জৈবিক কামনা বাসনাও যুক্ত হয়, তবে মনে হয় না পেসার হান্ট বা গনিত অলিম্পিয়াড জাতীয় প্রতিযোগীতা সেটার সম্পূরক হতে পারে।

সুন্দরী প্রতিযোগীতার আয়োজকরা নিশ্চয়ই মেয়েদের জোর করে ধরে আনে না, মেয়েরাই বরং সেচ্ছায় তাদের ফাদেঁ পা দেয়। সুতরাং আমাদের মেয়েদেরকেই সবার আগে সচেতন হতে হবে এবং এ ব্যাপারে ব্যাপকহারে সামাজিক সচেতনতা তৈরী করতে হবে। মেয়েরা যদি আসা বন্ধ করে দেয় বা আসতে রাজী না হয়, তবে এ ধরনের অসুস্থ চর্চা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং, এ কথাও সত্য যে, মেয়েরা যদি সচেতন না হয় তবে কিছুইতেই এ অসুস্থ ও সর্বনাশী সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

https://www.facebook.com/proloyhasan/posts/10152742288902220