উন্নত বিশ্বের আতশী কাচেঁর নীচে আমাদের অর্থমন্ত্রীর ভ্যাট-প্রহসন

Hecs_australia_Bangladesh_Vat_on_Education
উন্নত দেশগুলোতে পড়াশোনার খরচ এমনিতেই অনেক বেশী। সুতরাং, তারা তাদের নিজেদের ছেলে পেলেদের জন্য কি রকম সুযোগ সুবিধা রেখেছে, সেটা এই মূহুর্তে আমাদের জানা দরকার বলে মনে করি। তাতে আমাদের অর্থমন্ত্রীর প্রহসনটা ম্যাগনিফাইনিং গ্লাসের নীচে ধরা পড়বে। অন্য দেশের কথা জানি না, তবে অষ্ট্রেলিয়া তার নাগরিকদের সেমিষ্টার ফি দেবার জন্য অবিশ্বাস্যরকমের এফর্টবেল দুটো প্রোগ্রাম চালু রেখেছে।
Continue reading

আমার দেখা এক বিভীষিকাময় ক্যান্সার!

t2-large-web

আমি খুব কাছ থেকে যে ক্যান্সারটি দেখেছি, সেটার ডাক্তারি নাম “লিম্ফোব্লাস্টিক ল্যূকেমিয়া ”. হাত বা পায়ের অস্থিমজ্জার ভেতরের রক্তকণিকাগুলো জন্মাতে পারে না বা পারলেও সাথে সাথে ফেটে যায়, এই জন্য এইরকম নামকরণ। এই ক্যান্সারটি হয়েছিলো আমার ছোটভাইসম রূমমেট রাহুলের।

প্রথম কয়েকরাতে প্রচন্ড জ্বর, আর মারাত্নক হাটুঁ ব্যথা। এরপর হঠাৎ একদিন সে প্যারালাইসড হয়ে গেলো। দু পা পুরোপুরি অবশ। পরদিন দুপুরের পর এ্যামুলেন্সে করে সিডনীর একটা ঐহিত্যবাহী হাসপাতালে ওকে ভর্তি করার পর ডাক্তাররা সব ধরনের চেকাপ করালেন। রোগটার ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পাক্কা ৪ ঘন্টা লাগলো। সবগুলো রোগ চেক করে যখন হেপাটাইটিস বি, এইচ আই ভি আর ক্যান্সার বাকী ছিলো, তখনই ওর লিউকোমিয়া ধরা পড়লো। পর পর দুবার ওর ব্লাড টেস্টে একই রেজাল্ট আসলো। ডাক্তাররা ওকে আর বাসায় যেতে দেননি। সাথে সাথে ভর্তি করানো হলো। Continue reading

Quote

স্যুরণ ও তার কল্প্রলয়…!

shopnoduarblog_1225999867_1-DSC09056

ইউনিভার্সিটির সেকেন্ড সেমিস্টারে একটা ইন্ডিয়ান মেয়ের সাথে পরিচয় হয়। স্যুরন। দেখতে কালো, কিন্তু খুবই মিষ্টি; মায়াকাড়া চেহারা। সব সময় এই মেয়েটি হেসে হেসে কথা বলত। খুব দুঃখের কথাও সে হেসে হেসে বলত। একটা পাই শপে পার্ট টাইম জব করত। ছাত্রী হিসেবে মুটামুটি ছিল। ২য় সেমিষ্টারে আমাদের ক্লাস বদলে গেলো, সাবজেক্ট বদলে গেলো। তাই নতুন ক্লাসে এসে নতুন নতুন ছেলেমেয়ে দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। পুরো ক্লাসে তখন আমিসহ তিনজন বাংলাদেশী। একজন মহিলামত মেয়ে (মানে বয়স মেয়েদের মতো কিন্তু দেখতে মহিলাদের মতো বয়স্ক) আরেকটা ছেলে, নাম আতাহার। মহিলামত মেয়েটা কয়েক সপ্তাহ পর পর ক্লাসে আসতো। অষ্ট্রেলিয়ার ছাত্র ভিসার শর্ত হচ্ছে, ক্লাসে ৮০% উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। নাহলে ভিসা বাতিল হয়ে যাবে। মহিলামত মেয়েটির ৮০% অনুপস্থিতিতেও ভিসা বাতিল হয় না কারন তার স্বামী অষ্ট্রেলিয়ান সিটিজেন। তাই তার ক্লাস করারও গরজ নাই।

আর আতাহার খুবই গোবেচারা টাইপ ছেলে। সে বাংলাদেশের এক অজগ্রাম থেকে সরাসরি অষ্ট্রেলিয়ায় চলে এসেছে। দরিদ্র বাবা নিজের সব সহায় সম্পত্তি বিক্রি করে একমাত্র ছেলেকে বিদেশে লেখাপড়া করতে পাঠিয়েছেন। ছেলে বিদেশ বিভূইঁয়ে না পারে চলতে, না পারে ঠিকমতো কারো সাথে কথা বলতে। বেচারা সবসময়ই নার্ভাস থাকতো। আমি নিজেও যেহেতু গোবেচারা টাইপ মানুষ, সেহেতু আতাহারের সাথে আমার ভাব হয়ে গেলো। আমাদের সাথের সাদা চামড়ার ছেলেমেয়েগুলোকে দেখি, তারা ক্লাস শেষ করে নাইট আউটে যায়, লং ড্রাইভে যায়। আর সপ্তাহান্তে বারে যায়, পার্টিতে যায়। আমরা দুজন ক্লাসে আসি, মাথা নিচু করে লেকচার শুনি, চুপচাপ ক্লাস শেষে করে কাজে যাই নয়তো বাড়ি ফিরে যাই।

মাসখানেক পর হঠাৎ একদিন শুনি আতাহার বিজনেস কলেজে ভর্তি হবে, কারন ভার্সিটির আকাশচুম্বি সেমিষ্টার ফি সে আর টানতে পারছে না। ইমগ্রেশন থেকে অনেক ঝামেলা করে ভিসা বদলিয়ে সে অনার্স থেকে ডিপ্লোমায় ভর্তি হয়ে গেলো। অথচ আমি জানতাম কাজটা করা যায় না।

আতাহার চলে যাবার একদম একা হয়ে গেলাম আমি। প্রচন্ড মন খারাপ করে ক্লাসে আসতাম, প্রচন্ড মন খারাপ করে ক্লাস শেষ করতাম। ছেলেপেলেরা একা একা ক্লাসে ঢুকতো কিন্তু দল বেধেঁ ক্লাস থেকে বের হতো। আমি ঢুকতাম একা একা, বেরও হতাম একা একা। আমি উপলদ্ধি করলাম, ভার্সিটি লাইফে পুরোপুরি বন্ধুবিহীন অবস্থায় থাকার মতো অভিশপ্ত জিনিস ছাত্রজীবনে আর হয় না।

এ সময় কিভাবে কিভাবে যেন একদিন স্যুরনের সাথে পরিচয় হয়ে গেলো। ছোটবেলা থেকেই আমি বেশ মুখচোরা ছিলাম, মেয়েদের সাথে গুছিয়ে কথা বলতে পারতাম না। স্বাচ্ছন্দ্যে মিশতে পারতাম না। এই কারনে স্যুরন নিজে থেকেই আমার সাথে গল্প করার চেষ্টা করতো। আমার কাছ থেকে নোট নিতো, ওর এসাইমেন্ট আমাকে দিয়ে করাতো, বিনিময়ে ওর চাচার ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্টে ভরপেট লাঞ্চ এবং ডিনার করাতো। স্যুরন কবিতা পছন্দ করতো। ওর জন্মদিনে আমি একটা কবিতা লিখে উপহার দিই। বেশ খুশী হয়েছিলো। সেও আমার জন্মদিনে আমাকে একটা কবিতা লিখে সেটার রিপ্লাই দেয়। ভীষন স্মার্ট মেয়ে ছিলো স্যুরন। আমাকে ও কেন জানি ’কল্প্রলয়’ বলে ডাকত! ওর সব কিছুই ছিলো কল্পনার একটা থিমে সাজানো। ওর ল্যাপটপের ওয়েলকাম স্ক্রীনে ওর নাম ছিলো কল্পলোক। আমার নামটাও হয়ত সেভাবেই এসেছে। কল্পনা আর প্রলয়। কল্প্রলয়।

কবিতার শিরোনামের নীচে এমন করে নামটা লিখে দিয়েছিলো যে কেউ দেখে ভাববে কবিতাটা হয়ত আমারই লেখা। যাকে উদ্দেশ্য করে লেখা, তার নাম সে দিয়েছিলো লেখকের নামের জাগায়। আমি খুব অবাক হয়েছিলাম।

পরের সেমিষ্টারেই, একদমই হঠাৎ, স্যুরন ভয়াবহ একটা রোড এ্যাকসিডেন্টে মারা যায়। এক উইকএন্ডে ওর ইন্ডিয়ান বয়ফ্রেন্ড মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি বিপদ সীমার চাইতে অনেক বেশী গতিতে চালাচ্ছিল। হঠাৎ হাইওয়ের একটা ব্রীজের উপরে লোহার খাম্বার সাথে সংঘর্ষে ওদের গাড়িটি ছাতু হয়ে খাদের গভীরে পড়ে যায়। দুজনেই স্পটডেড। ক্লাসের সবাই গিয়েছিলাম ওদের ফিনিউরালে। সেদিন ছিলো ৭ ই নভেম্বর।

আজ স্যুরনের ২৮ তম জন্মদিন। বেচেঁ থাকলে আজ সে ২৮ বছরে পা দিতো। খুব মনে পড়ছে ওকে। পরম করুনাময় তার বিদেহী আত্নাকে শান্তি দিক। আমিন।

You Are…
– KalProloy

O my thee,
the days we passed
In our ways,

So close, yet so far.
We found the realm, where life goes…

Thought ever?
What is it?
Its the beat of our hearts!
The dream i did never have
Thats where you are…yeah, you are…!

Only you…?
Uhu, couldn’t be my dream catcher,
But for thee,
I made the dream river
Thats where, you are…..you are!

What’d never be…
Any day,
It would,
You hover on my river,
none is there
see none…
ONLY YOU AND ME THERE…..WE ARE….!

dedicated to the one, an Australish, the dreamed, i have ever felt about        

              ছবিটা ওর কবিতার সেই প্রিন্ট আউটটা। নীচে ওর নিজের হাতে সাইন করা।

 

https://www.facebook.com/proloyhasan/posts/10152450161872220?__mref=message


Aside

বাংলাদেশের ব্যাংকিংখাত ও ভুক্তিভোগী হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা

bangladesh

আমি অর্থনীতি ভালো বুঝি না। তবে ঢাবিতে ম্যানেজমেন্ট পড়াকালীন একবার ক্লাসে স্যারের এক প্রশ্নের জবাবে ফাজলেমি করে উত্তর দিয়ে স্যারের মৃদু প্রশংসাবাক্য শুনেছিলাম। প্রশ্ন ছিলোঃ সরকারের টাকা দরকার হলে সরকার কোথা থেকে সেই টাকার ব্যবস্থা করবে? আমার উত্তর ছিলোঃ স্যার, সরকারের তো টাকশালই আছে। সরকার শুধু টাকা ছাপাবে আর ইচ্ছেমতো খরচ করবে।

ভাবলাম ঝাড়ি খাবো, কিন্তু স্যার বল্লেন, ইয়েস! গুড এনসার। খালি এইটা না, সরকার চাইলে লোনও করতে পারে। খালি টাকা ছাপানোটা তো কোন কাজের কথা না। দরকারের সময় টাকা ছাপালো, ভালো কথা, কিন্তু দরকার শেষ হলে কি করবে? বাজারে যে বাড়তি টাকাগুলা অলরেডি চলে গেছে, ঐগুলার কি হবে? ঐটাকে বলে ইনফ্লেশান। মুদ্রাস্ফিতি। বাজার থেকে বাড়তি টাকা তুলতে না পারলে টাকার দাম কমে যাবে। এক কাপ চা খেতে হবে ব্যাগভর্তি টাকা দিয়ে। ঠিক এই জিনিসটাই আমার দেখলাম নাইজেরিয়াতে। সেখানে লোকে বস্তাভর্তি করে টাকা নিয়ে চলা ফেরা করে। অথচ এক পোয়া সয়াবিন তেল কিনতেই টাকার বস্তা শেষ! কারন সেখানে আসলে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে নাই, বরং টাকার দাম কমেছে। Continue reading

জ্বরের ব্যবচ্ছেদ!

3069173225_7790eb2fbc  জ্বর হওয়া আর দশটা সাধারন শরীর খারাপ হওয়ার মতো নয়। জ্বর হলে মানুষ একটা ঘোরের জগতে প্রবেশ করে। প্রতিবার জ্বর হবার সময় আমি গভীর এক ভ্রমের জগতে ডুবে যাই। যে জগতে আমি অদ্ভুত ও উদ্ভট সব স্বপ্ন দেখি। রাতের বেলা ঘুমের ভেতর আমরা যে ধরনের স্বপ্ন দেখি, জ্বরের ঘোরে দেখা স্বপ্ন তার চাইতেও অনেক বেশী বাস্তব ও গভীর হয়ে থাকে। এতটাই যে, সেটা যে স্বপ্ন সেই বোধটাই অনেক সময় লোপ পায়; বরং পুরোপুরি বাস্তব বলে ভ্রম হয়।
Continue reading

মায়ের ভাষাকে আমাদের মতো আর কে পারবে এমন করে ভালবাসতে?

DSC_9144_0

দেশের বাইরে যাবার পর প্রথম দিকে দীর্ঘ একটা সময় আমি বেশ বৈরী সময় পার করেছি। সে সময় দেশের জন্য অসম্ভব খারাপ লাগতো! যথারীতি দেশকে প্রচন্ড মিস করতাম। সবচেয়ে বেশী মিস করতাম বৃষ্টির পরের ভেজা মাটির সোদাঁ গন্ধ আর আমার ছোটভাই আকিহাকে। বৃষ্টি এমনিতে আমার অসম্ভব প্রিয়, এমনকি পূর্ণিমার রাতের জোছনার চাইতেও অনেক বেশী প্রিয়, আর বৃষ্টির পরের সোদাঁ গন্ধটার জন্য যেন আমার আজন্ম হাহাকার। Continue reading

প্রবাসের ঈদ ও একটি সামুরাঈ সোর্ডের গল্প

eid_ul_adha_by_gr8najam-d5j6avi

২০১০ সালের কোরবানী ঈদের ঘটনা। প্রতিবছরের মতো সেবারও আমরা সবাই [স্থানীয় কিছু বাঙ্গালী মুসলমান] মিলে নিউ সাউথ ওয়েলসের কান্ট্রি সাইডে গিয়েছিলাম ‘ভেড়া কোরবানী’ দিতে।

Continue reading

Aside

সেখানেই তো তুমি..হ্যাঁ..তুমি….!

shopnoduarblog_1225999867_1-DSC09056

ইউনিভার্সিটির সেকেন্ড সেমিস্টারে একটা ইন্ডিয়ান মেয়ের সাথে পরিচয় হয়। স্যুরন। দেখতে কালো, কিন্তু খুবই মিষ্টি; মায়াকাড়া চেহারা। সব সময় এই মেয়েটি হেসে হেসে কথা বলত। খুব দুঃখের কথাও সে হেসে হেসে বলত। একটা পাই শপে পার্ট টাইম জব করত। ছাত্রী হিসেবে মুটামুটি ছিল। ২য় সেমিষ্টারে আমাদের ক্লাস বদলে গেলো, সাবজেক্ট বদলে গেলো। তাই নতুন ক্লাসে এসে নতুন নতুন ছেলেমেয়ে দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। পুরো ক্লাসে তখন আমিসহ তিনজন বাংলাদেশী। একজন মহিলামত মেয়ে (মানে বয়স মেয়েদের মতো কিন্তু দেখতে মহিলাদের মতো বয়স্ক) আরেকটা ছেলে, নাম আতাহার। মহিলামত মেয়েটা কয়েক সপ্তাহ পর পর ক্লাসে আসতো। অষ্ট্রেলিয়ার ছাত্র ভিসার শর্ত হচ্ছে, ক্লাসে ৮০% উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। নাহলে ভিসা বাতিল হয়ে যাবে। মহিলামত মেয়েটির ৮০% অনুপস্থিতিতেও ভিসা বাতিল হয় না কারন তার স্বামী অষ্ট্রেলিয়ান সিটিজেন। তাই তার ক্লাস করারও গরজ নাই।

Continue reading