মুসলিম বিয়ের যে বিষয়গুলো আপনি হয়তো জানতেন না!

Marriage-A-Sacred-Union-or-the-Most-Expensive-Eventগতকাল প্রথমালোতে ৯০ বছরের এক বৃদ্ধ ১৫ বছরের একটা মেয়েকে জোর করে বিয়ে করার খবর ছেপেছে আর কিছু পাবলিক যথারীতি সে দোষ চাপাচ্ছে ইসলামের ঘাড়ে। এ ব্যাপারে পাবলিকের অজ্ঞতা ও মোল্লাদের মিস ইন্টারপ্রেশন দেখতে দেখতে ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে গেছি। পুরাই পিসড অফ আমি!

মুসলিম বিয়ের যে ফ্যাক্ট গুলো অনেকেই জানেন না বা ভুল জানেন:

১. কোন মেয়ের অমতে তাকে জোর করে বিয়ে দেয়া যাবে না। তা সে মেয়ে সাবালিকা হোক আর না বালিকা হোক। [ইসলামে মেয়েদের ফিজিক্যাল ম্যাচুরিটি ধরা হয় ম্যান্সট্রুয়াল সাইকেল (মানে মাসিক/পিরিয়াড শুরুর উপর ভিত্তি করে। আর ছেলেদের ধরা হয় ওয়েট ড্রিমের উপর (মানে স্বপ্নদোষ) ভিত্তি করে] জোর করে বিয়ে দেয়া হলে ইসলামে সে বিয়ে কোনমতেই ভ্যালিড হবে না। ইসলামের চার মাদহাব এ ব্যাপারে একমত। এমনকি ‘কবুল’ বলার সময় কোনরূপ ফোর্স করা যাবে না, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিয়ের কাজীর। কোন মেয়ে যদি কবুল বলার অথবা কাবিন নামায় সাইন করার কয়েক সেকেন্ড আগেও মনে করে, বিয়েতে তার মত নেই তবে ইসলাম তাকে পূর্ণ অধিকার দিয়েছে তৎক্ষনাৎ বিয়ে ভেংগে দেবার। ছেলেদের জন্যও একই কথা প্রযোজ্য।

২. হিল্লা বিয়ে বলতে কোন বিয়ের কনসেপ্ট ইসলামে নাই। হিল্লা বিয়ের নামে যে সেটাপ বিয়ের আয়োজন করা হয়, সেই জিনিস গ্রাম্য কাঠ মোল্লাদের আবিস্কার। ইসলামে এর কোন জায়গা কোন কালে ছিলো না। কখনো থাকবেও না।

৩. কোন ছেলেকে বিয়ে করতে হলে অবশ্যই তার তিনটি ক্ষমতা থাকতে হবে:

ক. অর্থনৈতিক স্বক্ষমতা। [তার মানে এই না যে ভাল ক্যারিয়ার থাকতে হবে, প্রচুর ইনকাম থাকতে হবে। স্ত্রী এবং সন্তানকে ভরনপোষন করার মতো যথেষ্ঠ আর্থিক সংগতি থাকলেই কোন ছেলে বিয়ের জন্য ক্যাপেবল হয়ে যাবে। পুরোপুরি বেকার কোন ছেলেকে বিয়ে করতে চাইলে সেটা নিজ দায়িত্বে করতে হবে। মানে এর কারনে পরে কোন ঝামেলা হলে সেটা ইসলামের ঘাড়ে চাপানো যাবে না]

খ. শারীরিক স্বক্ষমতা। [এ ব্যাপারটা এ্যানসিউর করবে ছেলে এবং ছেলের পরিবার। সত্য লুকিয়ে বিয়ের পর যদি দেখা যায় ছেলের ফার্টেলিটিতে সমস্যা আছে তবে সেটার দায় পুরোই ছেলে এবং ছেলের পরিবারকে বহন করতে হবে। বাচ্চা হওয়া না হওয়া বা মেয়ে সন্তান হবার জন্য কোনমতেই স্ত্রীকে দায়ী করা যাবে না। [সূত্র: ফওয়াযে মাজহেরি; Islamic Marriage Facts of all Madhab, Publication 1999, page: 23-24]

গ. মানসিক স্বক্ষমতা। [মানসিক ভারসাম্যহীন কোন মানুষকে বিয়ে করা যাবে না। যদি কেউ করে, নিজ দায়িত্বে করবে।]

৪. চাক্ষুষ এবং ‘সুস্থ মস্তিস্কসম্পন্ন’ স্বাক্ষী ছাড়া কোন মতেই বিয়ে হবে না। তা সে যত বিশ্বাসযোগ্য ছেলে বা মেয়ের সাথেই বিয়ে হোক না কেন।

৫. এ্যারেঞ্জড বিয়ের আগে ছেলে মেয়ের সাথে কথপকথনের সুযোগ রয়েছে। যারা ভাবেন, ইসলামে বিয়ের আগে কনে দেখা যায় না, তারা ভুল জানেন।

৬. মুসলিম শরিয়ত অনুযায়ী, মেয়ে পক্ষকে কোন যৌতুক দিতে হয় না। বরং ছেলে পক্ষ কর্তৃক মেয়ে পক্ষকে যৌতুক দিতে হয় যার নাম দেনমোহর। এই দেনমোহন স্বামীর করুণা নয় বরং স্ত্রীর অধিকার। এর সাথে স্ত্রীকে ভরন পোষন করা কিংবা তালাক দেয়া বা না দেয়ার কোন সম্পর্ক নাই। স্ত্রী যে কোন সময়, এমনকি তালাকের পরও তার প্রাপ্য দেনমোহরের জন্য স্বামীকে চাপ দেবার পূর্ণ অধিকার রাখেন। তবে স্ত্রী দেনমোহন কড়ায় গন্ডায় আদায় করবে নাকি মাফ করে দেবে, একবারে দাবী করবে নাকি স্বামীকে সুযোগ দেবে ইনসটলমেন্টে দেবার, সে সব পুরোই স্ত্রীর উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সে যেটা চাইবে সেটাই হবে। কিন্তু মাফ করে দেবার জন্য কোনভাবেই তাকে ফোর্স করা যাবে না। এমনকি স্ত্রীর দেনমোহরের টাকা কোথায় খরচ করা হবে, সেই ব্যাপারে নাক গলানোর কোন অধিকারও ইসলাম স্বামীকে দেয়নি। স্ত্রীকে দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করার পর সে টাকা স্ত্রী সিন্দুকে ভরে রাখবে নাকি টাকা দিয়ে সে খিচুড়ী বানিয়ে খাবে, সেটা একান্তাই তার ব্যাক্তিগত বিষয়।

presumption-of-marriage

দেনমোহর প্রথার যারা বিরোধীতা করেন, তারা মধ্যবিত্ত পরিবারের কোন একজন হিন্দু স্বামী পরিত্যাক্তা [হিন্দু বিয়েতে তালাকের কোন সিস্টেম নাই] নারীর কাছে গিয়ে করে দেখবেন, সে কি বলে! হিন্দু ধর্মে দেনমোহরের কোন প্রথা না থাকায় মেয়েরা প্রতিনিয়ত তাদের স্বামীর দ্বারা নিগৃহীত হচ্ছে। স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হবার পর হিন্দু ধর্মের একটি মেয়ে যে কি পরিমান অসহায় হয়ে যায়, এ বিষয়ে আমাদের অনেকেরই কোন ধারনা নাই। এই কারনে আমি কয়েক বছর আগে ইন্ডিয়ার মতো আমাদের দেশেও হিন্দু আইন যেন সংস্কার করা হয়, সে বিষয়ে লিখেছিলাম, হিন্দু পরিষদের কাছে দাবী জানিয়েছিলাম।

৭. আমাদের দেশের মুসলিম পারিবারিক আইনানুযায়ী, স্ত্রীর পূর্ণ অধিকার রয়েছে স্বামীকে তালাক দেবার। তবে কাবিন নামায় সেটা উল্লেখ থাকতে হবে। বিয়ের সময় এই ব্যাপারটা এ্যানসিউর করার দায়িত্ব প্রত্যেক মুসলিম মেয়েদের। হিন্দু পারিবারিক আইন সংস্কার শুরু করা হয়েছে সবে মাত্র, তবে সেখানে মেয়েদের তালাক দেবার ক্ষমতা রাখা হবে কিনা জানা নেই।

৮. যদিও ইসলামিক শরীয়তে কোর্ট ম্যারেজের কোন পদ্ধতি নেই, বিয়ে কনডাক্ট হবে কাজীর দ্বারা, তবে ১৯৬২ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক মুসলিম বিয়ের রেজিষ্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। বিয়ের পর কোন ঝামেলা হলে মামলা মোকদ্দমা করার জন্য বিয়ের কাবিননামা এবং রেজি: পেপারই যথেষ্ঠ। তাই কোন ছেলে যদি কোন মেয়েকে কোর্ট ম্যারেজ করতে চায়, তাহলে ঐ মেয়ের উচিত কাজী, কাবিন নামা এবং রেজি: এসব বিষয় নিশ্চিত করা। একটা ব্যাপার মনে রাখতে হবে, কাজী ছাড়া কাবিননামা হবে না। আর কাবিননানা ছাড়া মুসলিম বিয়ের কোন মামলা আদালতে টিকবে না।

৯. স্ত্রী অসুস্থ এবং গর্ভবতী থাকা অবস্থায় তার বাড়তি যে সুরক্ষা প্রয়োজন হয়, সে ব্যাপারে পূর্ণ দায় দায়িত্ব স্বামীর। এই দুই সিচুয়াশানে দরকার হলে স্বামীকে ঘরের সব কাজ করতে বলা হয়েছে। [সূত্র: ফওয়ায়ে মাজহেরি; Islamic Marriage Facts of all Madhab, Publication 1999, page: 29-30]

১০. বিয়ের অনুষ্ঠান যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত এবং অনাড়ম্বরপূর্ণ করতে সুপারিশ করা হয়েছে। ইসলামে মূল বিয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগে বড়জোড় ৫ মিনিট।

১১. বিয়ের খুতবা জানা থাকলে যে কেউ বিয়ে পড়াতে পারেন। এমনকি কোন মেয়ে বা ছেলেরও যদি জানা থাকে, তবে সে ছেলে বা মেয়ে নিজেই নিজের বিয়ে পড়াতে পারবে। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে, রেজিষ্ট্রার্ড কাজির দ্বারা বিয়ে পড়ানোই ভালো।

১২. বিয়ের আগে প্রত্যেক মুসলমান ছেলে এবং মেয়ের উচিত এসব ব্যাপারে স্পষ্ট ধারনা রাখা যাতে করে কোন পক্ষই কোন পক্ষকে ঠকাতে না পারে। অনেক সময় কাজীও শরীয়তের অজুহাতে আবজাব বলে বেশী টাকা আদায়ের চেষ্টা করে, সহজ কাজটাকে কঠিন করে তোলে বা বেহুদা বিয়ের পাত্র-পাত্রীকে ভয় দেখায়। এ ব্যাপারে স্পষ্ট ধারনা থাকলে এ জাতীয় প্রবণতা বন্ধ হয়ে যাবে।

১৩. ইসলামিক শরিয়তে হালাল কাজের ভেতর সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ হচ্ছে তালাক দেয়া। দিতে সব সময় নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

বিয়ে এবং তালাকের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে, এমনকি আমি উপরে যা যা বল্লাম সেগুলো সত্যিই ইসলামিক রেগুলেশন কিনা সেটা যাচাই করতে চাইলে নিকটস্থ মসজিদের ইমাম বা মোয়াজ্জিনকে গিয়ে ধরেন।

ইমাম সাহেব শরীয়তসম্মত উত্তর দিয়েছেন কিনা তা যাচাই করার উপায়:

ক. তারঁ কাছে একাধিক রেফারেন্স চাইবেন। শরীয়তে প্রতিটি জিনিসের একাধিক রেফারেন্স আছে।

খ. ‘একই বিষয়ের ব্যাপারে অন্য মাদহাবগুলোর অবস্থান কি? – এই প্রশ্ন করবেন।

গ. ক্রসচেকিং করবেন। মানে একই প্রশ্ন পাশের এলাকার মসজিদের ইমামকে করবেন। তারপর দুজনের উত্তর ক্রসচেকিং করে দেখবেন কোন অমিল খুজেঁ পান কিনা।

ঘ. এলাকাবাসীর কাছে সুনাম আছে অথবা সুনাম না থাকলেও দুর্নাম নেই এমন ইমামের শরনাপন্ন হবেন।

ঙ. সবচেয়ে ভাল হয় কোন মাদ্রাসার মুফতি বা মাওলানার কাছে যেতে পারলে। মাদ্রাসাটা যত বড় এবং/অথবা পরিচিত হবে, আপনার ভুল উত্তর পাবার সম্ভাবন তত কম।

https://www.facebook.com/proloyhasan/posts/10151369783147220

পুরুষের পর্দার কথা বলবে কে? (নারী এবং পুরুষের পর্দার একটি সামগ্রিক পর্যালোচনা)

Veil_men vs. woman

আমাদের দেশে সব সময়ই  নারীর পর্দা নিয়ে এত বেশী হৈ চৈ হয় যে, সেই অনুপাতে পুরুষের পর্দা নিয়ে কোথাও বিন্দুমাত্রও আলোচনা হয় না। তাই গত কয়েক মাস ধরেই ভাবছিলাম  এই বিষয়টা নিয়ে একটু বিস্তারিত লিখবো। এটা ভাবার কোনই কারন নাই যে পুরুষদের কোনভাবে ছাড় দেয়া হয়েছে।

এই লেখাটি বিশাল। অনেক সময় নিয়ে ধৈর্য্য ধরে পুরোটা পড়তে হবে। বিশাল পোষ্ট  হবার কারনে হয়তো অনেকেই এড়িয়ে যাবেন কিন্তু আমি এখানে এমন একটা বিষয় নিয়ে লিখেছি, যা নিয়ে এর আগে কেউ কখনো লিখেন নাই, এমনকি বলেনও নাই। Continue reading

কোরবানী ঈদ নামচা

Eid-ul-Adha_st-1-568x424.১. ঈদের নামায পড়তে গিয়ে প্রতিবারই তাকবীরে তাহরীমা নিয়ে বিভ্রাট সৃষ্টি হয়। এমন দুর্লভ নামায, বছরে মাত্র দুবার, সুতরাং সে নামাযের নিয়ম কানুনে পাবলিক ভুল করবে সেটাই স্বাভাবিক। অবশ্য প্রতিবারই নামায শুরু করার আগে ইমাম সাহেব পই পই করে নামাযের নিয়ম বলে দেন, কিছু পাবলিক তবুও ভুল করে।

Continue reading

মেরী ক্রিসমাস ও এতদসংক্রান্ত কাঠমোল্লাদের ফতোয়া

Merry_Christmas_by_DragosM

ব্লগ এবং ফেসবুকের কিছু পাবলিক এবং ফেসবুকের কিছু পেইজ বড় দিনের সৌজন্যমূলক শুভেচ্ছা জানানোর মাঝেও সাম্প্রদায়িক বিষবাস্প ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তারা দাবী করছেন, কোন মুসলমান মেরী ক্রিসমাস বা বড় দিনের শুভেচ্ছা জানালে সে কাফের হয়ে যাবে, শেরেক করা হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাদেরকে বলছি, আপনাদের কথা মতো, মেরী ক্রিসমাস বল্লে যদি শেরেকী গুনাহ হয়, তাইলে নন-মুসলিমরা যখন আমাদের ঈদ মোবারক বলে শুভেচ্ছা জানায়, তখন তো তাদেরও মুসলমান হয়ে যাবার কথা। আর তা হলে তো কাটাকাটি হয়ে গেলো! তো, সমস্যা কই? Continue reading

প্রবাসের ঈদ ও একটি সামুরাঈ সোর্ডের গল্প

eid_ul_adha_by_gr8najam-d5j6avi

২০১০ সালের কোরবানী ঈদের ঘটনা। প্রতিবছরের মতো সেবারও আমরা সবাই [স্থানীয় কিছু বাঙ্গালী মুসলমান] মিলে নিউ সাউথ ওয়েলসের কান্ট্রি সাইডে গিয়েছিলাম ‘ভেড়া কোরবানী’ দিতে।

Continue reading