পপকর্ণ টাইমঃ নিকট ভবিষৎতে আমাদের মুভি দেখার পদ্ধতি হয়তো এমনটাই হবে!

Le logo de PopCorn Time

সিনেমা হলে মুভি দেখতে বসলে প্রথমেই কোন জিনিসটার কথা আমাদের সবার আগে মনে পড়ে? হুম ঠিক ধরেছেন, পপকর্ণ! তো সফটওয়্যার ডেভেলপাররা এবার  অনলাইন দুনিয়ায় এই নামে নিয়ে এসেছে এমন একটি ওপেনসোর্স প্রজেক্ট, যার মাধ্যমে আপনি নিজের ঘরটাকেই আস্ত একটা সিনেমা হলে বানিয়ে ফেলতে পারবেন! শুধু তাই নয়,  দেখতে পারবেন নতুন নতুন  টিভি সিরিজও! তবে আপাততঃ মুভি দেখতে নয়, পপকর্ণ নিয়ে বসে পড়ুন এই পোষ্টটি পড়তে। Continue reading

গুগল ম্যাপঃ প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

Mapআমাদের দেশের জনসাধারনের কাছে ‘গুগল ম্যাপ’ সেবাটি খুব একটা পরিচিত বা গ্রহনযোগ্যতা না পেলেও দেশের বাইরে গুগল ম্যাপ যে কি পরিমান শক্তিশালী সেটা যাদের অভিজ্ঞতা আছে, তারা ভালো করেই জানেন। রাস্তাঘাটের ভেক্টর ইমেজ থেকে শুরু করে থ্রি ডি স্ট্রিট ভিউ পর্যন্ত সেখানে গুগল ম্যাপে পাওয়া যায়। এবং এই কাজটা করতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার গুগলকে সব রকম সহায়তাও দিয়েছে। কোন কোন দেশ তো রীতিমতো টাকা পয়সা খরচ করে নিজেদের অঞ্চলের ম্যাপিং করিয়েছে। একটা বিষয় বলে রাখা ভালো, ম্যাপিং মূলত চিহ্নিত করা। মানে গুগল তাদের স্যাটেলাইট থেকে ম্যাপের ছবি আগে থেকেই দিয়ে রেখেছে, সেখানে শুধু আপনি নিজ নিজ এলাকার স্থাপনাগুলোকে চিহ্নিত করে দেবেন। ব্যস, কাজ শেষ। পরবর্তীতে অসংখ্য ম্যাপ ব্যবহারকারী আপনার চিহ্নিত করা জাগাগুলোর মাধ্যমে প্রভূত উপকার পাবেন।

Continue reading

আইফোন সংক্রান্ত বিষয়ে অনেকেরই যে ভ্রান্ত ধারনাগুলো রয়েছেঃ

keep_calm_by_focusing_on_misconceptions_case-r31dc23b9e54a441b8484d3528ac16387_80c4n_8byvr_324

আইফোন সংক্রান্ত ব্যাপারে অনেকেরই কিছু ভ্রান্ত ধারনাঃ

ক. ইউটিউব থেকে ডাউনলোডকৃত ভিডিও ফাইল আইফোনে নেয়াঃ

অনেকেই অভিযোগ করেন যে অনেকসময়ই ইউটিউব থেকে ডাউনলোডকৃত ভিডিও ফাইল আইফোনে যায় না। আপনি যদি .mp4 এক্সটেনশানের ফাইল ঠিকঠাকমতো আইটিউনসের সাথে সিংক করাতে পারেন, তাহলে ফাইল যাবে না ফাইলের বাপ যাবে। এখন তো ক্রোম বা ফায়ারফক্সের অনেক এড-অন আছে যেগুলো দিয়ে আপনি সরাসরি .mp4 ফাইলই ইউটিউব থেকে নামাতে পারবেন, আইফোনের জন্য আলাদা করে আর কনভার্ট করতে হবে না। বা ইউটিউব থেকে ভিডিও নামিয়ে .mp4 ফাইলে কনভাট করে নিতে পারেন যে কোন কনভার্টার সফটওয়্যার দিয়ে। 

যে সব কারনে আইফোনে ভিডিও ফাইল সিংক হয় না, মানে আইফোনে যায় নাঃ

১) ভিডিও এক্সটেনশান .mp4 না হলে।

২) ফাইলের ডেসটিনেশন এড্রেস ঠিক না থাকলে। মানে আইফোনে নেবার পর হাডডিস্ক থেকে ফাইল অন্য কোন ফোল্ডারে মুভ করা যাবে না। মুভ করলে ফাইল যাবে না।

৩) iTunes এর সাথে আইফোন কানেক্ট করার পর ডিভাইসে গিয়ে Sync Movies অপশনটি সিলেক্ট করা না থাকলে।

৪) আইফোনে পর্যাপ্ত পরিমান ফাকাঁ জায়গা না থাকলে।

৫) আইফোনের নতুন ওএসগুলোতে মুভি আর হোম ভিডিও এর জন্য আলাদা আলাদা ট্যাব রাখা হয়েছে। যেমনঃ আমি দেখেছি যে, ইউটিউব থেকে নাটক ডাউনলোড করলে সেটা আইফোনের হোম ভিডিও ট্যাবের অধীনে থাকে। কারন, ফাইলের সাইজ ছোট এবং ভিডিও ফ্রেম কম থাকার কারনে আইফোন সেটাকে মুভির কাতারেই ফেলে না, বরং ঘরের ভেতর হ্যান্ডিক্যাম দিয়ে ধারন করা ভিডিও মনে করে। সুতরাং, সিংক শেষ হবার পর মুভি ট্যাবে আপনার ভিডিও ফাইলটি না পেলে হোম ভিডিও ট্যাবে খোজঁ করুন।

খ) অনেকে মনে করেন, জেইলব্রেক করা ছাড়া আইফোনের অপারেটিং সিন্টেমের ভেতরে ঢোকা যায় নাঃ

যারা এটা মনে করেন তারা ভুল জানেন। iFunbox নাম একটা ছোট্ট থার্ড পার্টি সফটওয়্যার আছে যেটা দিয়ে আপনি জেলব্রেক ছাড়াই আইফোনের সিস্টেম ফাইলে এ্যাকসেস করতে পারবেন এমনকি যে কোন গেইম বা এ্যাপের ব্যাকাপ ম্যানুয়ালি নিয়ে আইফোন ফরম্যাট দিয়ে আবার সেগুলোকে রিস্টোর করতে পারবেন। আমি নিজের হাতে এটা ট্রাই করে দেখেছি। বিশ্বখ্যাত আইওএস গেইম Infinity Blade  এর সিষ্টেম ফাইলকে আমি এই পদ্ধতিতে আমার ল্যাপটপে ব্যাকাপ রেখেছি ও পরে সফলভাবে রিষ্টোরও করেছি।  শুধু iFunbox নয়, অনলাইনে কমপক্ষে ডজনখানেক আইটিউনসের বিকল্প সফটওয়্যার আছে, যে সবের উপর আপনি চোখ বুজে নির্ভর করতে পারেন। তবে সাবধান! আপনি যদি এডভান্সড ইউজার না হন, তবে আইফোনের সিষ্টেম ফাইলে হাত না দেয়াই ভালো!! 

alternativas-itunes-4

আইফানবক্সের উইন্ডোজ ইন্টারফেস

 গ) অনেকে মনে করেন, আইটিউনস ছাড়া আইফোনে ফাইল নেয়া যায় নাঃ

তারা ভুল জানেন। আইটিউন ছাড়ও DiskAid এর মতো অনেক সফটওয়্যারের সাহায্যে ডাটা সিংক করা যায়। এমনকি আপনার আইফোনের এসএমএসের ব্যাকাপও নিতে পারবেন। [তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে আইটিউনসই প্রেফার করি কারন ডিস্কএইডের ট্রায়াল ভার্সনে অনেক ফিচার পাবেন না। অপরদিকে আইটিউনস বিনামূল্যেই ফুল ভার্সন নামাতে পারবেন।]

DiskAid_zps58a9a884

ডিস্কএইডের ম্যাক ইন্টারফেইস – উইন্ডোজটাও প্রায় একইরকম দেখতে।

ঘ) ডাউনলোডকৃত ফাইল নতুন করে ওএস সেটাপ দেবার পর রিডাউনলোড করা যায় না, প্রথম থেকে করতে হয়ঃ

এটাও ভুল ধারনা। এটা একটু বুদ্ধি খাটালেই করতে পারবেন। ধরুন আপনি এ্যাপ স্টোর থেকে বেশ বড় সাইজের একটা এ্যাপ বা মুভি নামাচ্ছেন। নতুন করে উইন্ডোজ সেটাপ দেবার আগে, যে ড্রাইভে আইটিউন সেটাপ দেয়া আছে সেখানে গিয়ে আইটিউনসের ডাউনলোড ফোল্ডারটিকে পুরোটা কপি করে অন্য কোথাও ব্যাকাপ নিয়ে রাখুন। (ঠিকানাঃ C:\Users\Username\Music\iTunes\iTunes Media\Downloads) তারপর ইউন্ডোজ সেটাপ দেবার পর আইটিউন সেটাপ দিন। এবার আইটিউনসের ডিফল্ট ডাউনলোড ফোল্ডারটি মুছে দিয়ে আপনার ব্যাকাপ রাখা ফোল্ডারটি এখানে এনে রাখুন। এরপর আইটিউনস চালু করে মেনু থেকে ’এ্যাভেলেবল ডাউনলোডে’ গিয়ে দেখুন যে উইন্ডোজ সেটাপ দেবার আগে ওটা যেখানে ছিলো, এখনো সেখানেই আছে। এখন বাকী অংশ থেকে ডাউনলোড হওয়া শুরু হবে, আবার প্রথম থেকে নতুন করে নামাতে হবে না।

ঙ) ওএস আপডেট দিয়েছেন, এখন ব্লুটুথ এবং ওয়াই ফাই কাজ করছে না?

এটা কোন সমস্যাই না। বাসায় ইলেকট্রিক হেয়ার ড্রায়ার আছে? থাকলে ওটা দিয়ে আইফোনটিকে হিট দিন। টানা দুয়েক মিনিট হিট দেবার পর একটা ম্যাসেজ দিবে এই ছবিটার মতো।

এরপর আইফোন রিস্টার্ট করুন। এবার সেটিংসে গিয়ে ওয়াই ফাই চালু করেন দেখবেন সব কিছু ঠিক ঠাক মতো কাজ করছে। ব্লুটুথও।

সূত্রঃ ইউটিউব ভিডিও ১ , ইউটিউব ভিডিও ২  এবং ব্লগস্পটের একটা পোষ্ট

[বিঃদ্রঃ অনেকে ভয় পাচ্ছেন যে হিট দেবার কারনে আইফোনের সার্কিটের সোল্ডারিং গলে যেতে পারে তাদের বলতেছি এই ভয় নাই। কারন আইফোনের এক্সটেরিয়ের ওভার হিট কনজাম্প করার জন্য বিশেষভাবে বানানো হয়েছে, এটা আপেলের ওয়েব সাইটেই লেখা আছে। তবু সাবধানতার জন্য হিট দেবার পর ফ্যান বা কুলারের নীচে কয়েক মিনিট রাখা যেতে পারে। আমি এই পদ্ধতিতে প্রভূত উপকার পেয়েছি,  এ পদ্ধতি কাজ না করলে আসলে আমার আর কিছু করার থাকতো না, প্রচুর দাম দিয়ে মোবাইল কোম্পানির নেট ইউজ করা ছাড়া।  সবশেষে বলছি, এই টিপস  সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে প্রয়োগ করবেন। ফোনের কোন ঝামেলা হলে আমি দায়ী নই]

চ) ফোন হারিয়ে বা চুরি গেলে প্রথমেই কি করবেন?

আপনার  আইফোনের IMEI নাম্বার নিয়ে থানায় গিয়ে জিডি করুন।  পুলিশকে ভদ্র ভাবে অনুরোধ করে বুঝিয়ে বল্লে হারানো আইফোন ফিরে পাবার রেকর্ডও আছে। পুলিশ হয়তো কয়েক হাজার টাকা খাবে আপনার কাছ থেকে। IMEI নাম্বার ফোনের ভেতরেই পাবেন। বক্স বা রিসিট হারাইলেও সমস্যা নাই। Settings > General > About > IMEI Number নীচের দিকে। ফোনও যদি হারায় যায় তাহলেও সমস্যা নাই, যদি একবারো ফোনটাকে আইটিউনসের সাথে সিংক করে থাকেন। পিসিতে আইটিউন চালু করুন। তারপর iTunes > Edit > Preferences > Devices > এরপর ডিভাইস সিলেক্ট করে রাইট ক্লিক করলে IMEI & Serial Number দুটাই দেখাবে।

iphone_4s_electroplating_conversion_-_replacement_housing_shell_-_silver

ছ) আইফোনের ব্যাকাপ ফাইল খুজেঁ পাওয়া সমস্যাঃ 

এইটাও ডাহা মিথ্যা কথা। উইন্ডোজচালিত পিসির জন্যঃ   ষ্টার্টমেনু থেকে Run > type  %appdata% > Press Enter

এইটাকেও সমস্যা মনে হয়? ওয়েল, তাহলে আপনার জন্য  এরচাইতেও সহজ পদ্ধতি বলছি।

C:\Users\Username\AppData\Roaming\Apple Computer\MobileSync এই ঠিকানাটা কপি করে আপনার উইন্ডোজ এক্সপ্লোরারের এড্রেস বারে পেষ্ট করে এন্টার চাপুন। তাহলেই দেখবেন যে, Backup নামক একটা ফোল্ডার আপনার সামনে বসে আছে। ওটার ভেতরই আইফোনের সমস্ত ব্যাকাপ ফাইল সংরক্ষিত থাকে। পিসি নতুন করে সেটাপ দেবার আগে এই ফোল্ডারটা মনে করে কোথাও সেইভ করে রাখবেন। নাহলে পর পস্তাতে হতে পারে। (ঠিকানাটা কমেন্ট বক্সেও দিয়ে দিলাম। কারন পোষ্ট থেকে কপি করা হ্যাপা হবে আপনার জন্য। কারন স্বপ্নদুয়ারে কনেন্ট প্রটেকশান ব্যবহার করা হয়।)

জ) এই ভ্রান্ত ধারনার লিষ্ট ভবিৎষতে ক্রমাগত আপডেট হতে থাকবে…misconceptions-iphone-6-plus-case

এই পোষ্টটি আমার টেকটিউনস একাউন্ট থেকে নেয়া। সেখানে কমেন্টের ঘরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর (FAQ) দেবার চেষ্টা করেছি। যেমনঃ 

১. আইফোন খুব দামী। সাধারনের ধরা ছোয়ারঁ বাইরেঃ আইফোনের দামী হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ব্যাপারটা আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। তাছাড়া, আইফোনের দাম এখন আগের চাইতে অনেক কমানো হয়েছে। অথচ ফিচার আর গুনগতমান বাড়ানো হয়েছে আগের চেয়ে বেশী।

২. পুরনো মডেলের ফোনে সফটওয়্যার আপডেট সাপোর্ট পাওয়া যায় নাঃ একেবারেই ভ্রান্ত ধারনা। আমি সর্বোচ্চ সাড়ে তিন বছর পর্যন্ত পেয়েছি আমার আইফোন ৪এস এ।

৩. আইফোনের সব এ্যাপ টাকা দিয়ে কিনতে হয়ঃ অত্যন্ত হাস্যকর একটা ধারনা। এ্যাপলের এ্যাপ ষ্টোরে পেইড এ্যাপের চেয়ে ফ্রি এ্যাপের সংখ্যাই বেশী। সংখ্যাটা খুব সম্ভবত কয়েক মিলিয়ন! আমি নিজেও গত ৭ বছরে ৭টা এ্যাপও কিনিনি।

৪. আইফোন চালাতে হলে এ্যাপলের কম্পিউটার (আই ম্যাক বা ম্যাক বুক প্রো) থাকতে হয়ঃ এটা যে কতটা ভ্রান্ত ধারনা, সে বিষয়ে আর নাই বা বল্লাম। 

৫. ব্যাটারির চার্জ একদিনও থাকে নাঃ  এটা নির্ভর করবে আপনার ব্যবহারের উপর। আইফোন কেনার প্রথম বছরে গড়পড়তা ব্যবহারে আপনার ব্যাটারি একবার ফুল চার্জ দিলে কমপক্ষে ৩ দিন তার আয়ু থাকবে।

৬. অপারেটিং সিষ্টেম জটিলঃ মোটেও না। অনন্ত আমার কাছে গত ৭ বছরে কখনো iOS কে বিন্দুমাত্র জটিল মনে হয়নি বরং অনেকবেশী ইউজার ফ্রেন্ডলী মনে হয়েছে।

৭. জেলব্রেক করলে নষ্ট হয়ে যায়ঃ যদিও ব্যাক্তিগতভাবে আমি আইফোন জেলব্রেক করার বিরুদ্ধে। কিন্তু ‘জেলব্রেক করলে ফোন নষ্ট হয়ে যায়’ – এমনটাও বিশ্বাস করি না। তবে ঠিকমতো জেলব্রেক করতে না পারলে  আইফোন সাময়িকভাবে অথবা চূড়ান্তভাবে বিগড়ে যেতে পারে।

এছাড়াও কোন আইফোন টিপস বা ট্রিকস আপনার জানা থাকলে  কমেন্টের মাধ্যমে আমার সাথে শেয়ার করতে পারেন। আমি আপনার নামসহ এই পোষ্টে তা উল্লেখ করবো। ধন্যবাদ। 

হলিউডের সেরা ১ ডজন যন্ত্রমানব চরিত্র!

06-robots.w529.h352.2x

ব্যাক্তিগতভাবে আমার সবচাইতে  প্রিয় মুভি-ঘরানা হচ্ছে সাই-ফাই বা  বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী। কারন খুব ছোটবেলা থেকেই আমি সাইফাই গল্প ও উপন্যাসের পাঢ় ভক্ত ছিলাম, এখনো তাই আছি। এমনকি, আমার জীবনে দেখা প্রথম বিদেশী মুভি ছিলো একটি সাই ফাই মুভি (টারমিনেটর টু)। সঙ্গতকারনেই, আধুনিক সায়েন্স ফিকশনের অন্যতম প্রধান উপাদান হচ্ছে যন্ত্রমানব বা রোবট।  অনেক সায়েন্স ফিকশন গল্পেও রোবটের গাঢ় উপস্থিতি রয়েছে। রোবট নিয়ে আমার নিজেরো আগ্রহের কোন কমতি নেই। যেখানেই রোবট সংক্রান্ত লেখা বা মুভি পেয়েছি, হজম করে ফেলার চেষ্টা করেছি। সায়েন্স ফিকশন মুভিতে রোবটের ব্যবহার কিন্তু নতুন কিছু নয়, বরং একেবারেই প্রাচীন। আধুনিক মুভির ইতিহাসে গত অর্ধ শতকেরও বেশী সময় ধরে শতাধিক মুভিতে রোবট বা যন্ত্রমানব চরিত্রের ব্যাপক ব্যবহার ঘটেছে।  এমনকি, কিছু কিছু রোবট চরিত্র পেয়েছে রীতিমতো আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা।  আজ আমি হলিউডের সেই সব ডাকসাইটে রোবট-চরিত্রের একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরী করার  চেষ্টা করবো।

bluesky_robots3.jpg__715x415_q85_crop_upscale

এনিমেশন ফিল্ম Robots (২০০৫) এর জন্য বানানো একটি পেন্সিল স্কেচের খসড়া দেখা যাচ্ছে!

বলা বাহুল্য, রোবট এমনিতেই একটা খটমটে রসকষহীন চরিত্র। সুতরাং, তাকে আপামর দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে পরিচালকে হিউম্যান সাইকোলজি, হিউম্যান ইমোশন ও ফিলসফি ইত্যাদি মানবিক ব্যাপার স্যাপারগুলোকেও রোবটের যান্ত্রিক মস্তিস্কে খুব কৌশলে ঢুকিয়ে দিতে হয়। এই গুলোও এর ব্যতিক্রম নয়। আর তাইতো আমরা পেয়েছি/পাচ্ছি অসাধারন সব রোবট চরিত্র! যেগুলো শুধু শিশু কিশোরই নয়, মন জয় করে নিয়েছে দেশ বিদেশের আবালবৃদ্ধবণিতারও!

Ed 209 defense robot

একটি ইডি-২০৯ প্রতিরক্ষা রোবট

সালের ক্রমানুসারে সাজানো হলো; মানে একেবারে ৭০ এর দশকের  মান্ধাতা আমল থেকে একদম সাম্প্রতিক রোবটিক চরিত্র! এবং প্রতিটি মুভিরই টরেন্ট ডাউনলোড লিংক দেবার চেষ্টা করেছি। যদিও ১০ নম্বরটি বাদে সবগুলোই আমি ইতোমধ্যেই দেখে ফেলেছি। B-)  আমি সবাইকেই সুপারিশ করবো সবগুলো মুভিই দেখার জন্য। বিশেষ করে, রোবট প্রেমী দর্শকদের জন্য র‌্যাংকিয়ের প্রথম তিনটি মুভি অবশ্য দেখ্য। (অবশ্য দেখ্য নামে কোন শব্দযুগল বাংলা অভিধানে নেই মনে হয়। তবে ’অবশ্য পাঠ্য’ থাকলে ’অবশ্য দেখ্য’-ও থাকা উচিত)। কারন আমি মূলতঃ ঐ তিনটি মুভি দেখেই এই পোষ্টটি লিখতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। 

খুব সম্ভবত, মুভির রোবটিক চরিত্র নিয়ে বাংলা ভাষায় এটিই সর্বপ্রথম  এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র স্বতন্ত্র পোষ্ট। 

১২) মুভির নামঃ

Star Wars (১৯৭৭ সাল)

রোবট-চরিত্রের নামঃ

C-3P0

900570_press01-001

সি থ্রিপিও-এর মাধ্যমেই খুব সম্ভবত আধুনিক হলিউডের মানবাকৃতির রোবটিক চরিত্রের যাত্রা শুরু হয়।  আজ থেকে প্রায় ৩৭ বছর আগে এটি বক্স অফিস হিট করে! মানে সি থ্রিপিও নামের এই রোবটটির বয়স আপনার-আমার চাইতেও অনেক বেশী! সেই আমলে শিশু, কিশোর ও তরুন দর্শকদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।  এটি ৩০ ধরনের কর্মাবলীতে পারদর্শী। অসংখ্য উপায়ে মানুষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে। ২০০৪ সালে আমেরিকার ’রোবট হল অব ফেইম’ এ একে প্রথম অভিষিক্ত করা হয়।

RHOF_poster-1345540328855

(প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অনেকেই হয়তো জানেন না যে,  মুভিতে ব্যবহৃত রোবটিক প্রযুক্তির  উন্নয়নকে স্বীকৃতি দানের জন্য ২০০৩ সালে Carnegie Mellon University ’রোবট হল অব ফেইম’ প্রতিষ্ঠা করে। মুভি, সমাজ ও দৈনন্দিন জীবনে রোবটের অবদান ও প্রেরণাকে তুলে ধরাই এর কাজ। এ বিষয়ে আরেকদিন বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে রয়েছে। আপাততঃ কিছু ছবি দিলাম এই হলের।)
robot-hall-of-fame2012-02-1506-29-01800

২০১২ সালের হল অব ফেইমের একটি ছবি। আরো ছবি দেখতে এখানে ক্লিক করুন। robotstour_photor5

পোষ্টের কলেবর বৃদ্ধির আশঙ্কায় সিপিথ্রিও নিয়ে বিস্তারিত কিছু লিখলাম না। যারা বিস্তারিত জানতে চান তারা এখান থেকে জেনে নিতে পারেন। এ ছাড়াও সে মুভিতে আরো একটি রোবট চরিত্রও দর্শদের নজর কাড়ে যার নাম R2-D2. এটি দেখতে ফানি, কিউট আর গোলগাল, বুদ্ধিদীপ্ত! মুভির টরেন্ট লিংক

Star-Wars-7-R2-D2-Photo

একটি R2-D2 রোবট

১১) মুভির নামঃ

The Terminator (১৯৮৪ সাল)

রোবট চরিত্রের নামঃ T-100 

Terminator-2-Arnold-Schwarzenegger-700x394

আমার মনে হয় না,  এই চরিত্রটি নিয়ে খুব বেশী কিছু বলার আছে। কারন আমার অন্যতম প্রিয় নায়ক আর্নল্ড অভিনীত এই অতি মানবীয় রোবট চরিত্রটি মুভির ইতিহাসে এতটাই জনপ্রিয় ও এত ভীষন পরিমানে উল্লেখযোগ্য যে,  এই বিষয়ে বিস্তারিত বলার চেষ্টার করা মানে বাতুলতা মাত্র। তবে শুধু এটুকু বলি, টারমিনেটর ২ আমার জীবনে দেখা প্রথম মুভি। আমি তখন ক্লাস টুতে পড়ি। পরবর্তীতে এই মুভিটি আমি কম করে হলেও আরো ৬/৭ বার দেখেছি এবং প্রতিবারই মনে হয়েছে, আমি এই প্রথম দেখছি। আমি এখনও  এই চরিত্রটি মিস করি এবং আজও নতুন কোন টারমিনেটর মুভির সিকুয়েলে এই চরিত্রটি খুজেঁ ফিরি! 🙂 বলা বাহুল্য,  পুরো টারমিনেটর সিরিজে T2 ভার্সনের রোবটগুলোই সবচাইতে বেশী বুদ্ধিদীপ্ত, আকর্ষনীয় ও  হেভি ওয়েট  এ্যাকশান হিরো।  টরেন্ট ডাউনলোড লিংক।

১০) মুভির নামঃ 

Short Circuit (১৯৮৬ সাল)

চরিত্রের নামঃ জনি ৫।

রোবট- জনি ৫

হতে পারে  এই মুভিটির নাম অনেকেই শুনেননি, এমনকি আমিও না, তবু এটিকে আশির দশকের সবচাইতে স্মরনীয় রোবট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। দেখতে কদাকার এই রোবটের মুভির কাহিনীটি বেশ চমৎকার। আমেরিকার সেনাবাহিনীর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে একটা রোবট বানানো হয়, যেটি কিনা হঠাৎ একদিন বজ্রপাতের আঘাতের কারনে কিছু অতি-রোবটীয় গুনাবলী অর্জন করে, যেমনঃ প্রখর বুদ্ধিমত্তা, ও মানুষের মতো আবেগী একটি হৃদয়। সুযোগমতো সে একদিন ল্যাব থেকে পালিয়ে যায়। আইএমডিবিটরেন্ট ডাউনলোড লিংক।

(৯) মুভির নামঃ

RoboCop (১৯৮৭ সাল)

রোবোকপ – একটি সুপার কপের গল্প!

মনে আছে সেই পুলিশ অফিসার এ্যালেক্স মারফির কথা? বোমা বিস্ফোরণে শরীরের কিছু প্রধান অংগ হারানোর পর যাকে কিনা বানানো হয়েছিলো একটা সাইবর্গ মানে অর্ধেক মানুষ ও অর্ধেক মেশিনে। তারপর তাকে মিশনে পাঠানো হয়, রাতারাতি সে শহরের অপরাধীদের কাছে যতদূতে পরিনত হয়। এই রোবটের ডিজাইনটি ছিলো খুবই ফিউচারিষ্টিক! সেই আমলের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো এই রোবটিক চরিত্রটি। একে ঘিরে তৈরী হয় জনপ্রিয় টিভি সিরিজ, এমনকি এটি এতটাই জনপ্রিয় একটা চরিত্র যে গতবছর এই মুভিটির রিমেকও করা হয়। এই চরিত্রের পাশাপাশি মুভিতে আরেকটি রোবটকেও ফোকাস করা হয়, যার নাম ইডি-২০৯। টরেন্ট ডাউনলোড লিংক।

ED-209

(৮) মুভিঃ 

The Iron Giant (১৯৯৯ সাল)

চরিত্রঃ চরিত্রের নামানুসারেই মুভির নামকরণ করা হয়

the-iron-giant-(1999)-large-picture

শিশু-কিশোর নিয়ে দেখার মতো অত্যন্ত চমৎকার একটি মুভি। ব্রেড বার্ডের এক অনবদ্য সৃষ্টি এই এনিমেশন মুভিটি। আমি যখন এটাকে কয়েক বছর আগে প্রথম দেখি, তখনই এই মুভিটি আমার প্রিয় তালিকায় চলে গেছে। আয়রন জায়ান্ট নামের এই অতিকায় রোবটটি আদতে একটি এলিয়েন রোবট, যাকে কিনা আধুনিকায়ন করা হয়।  একাধারে সে একটি অস্ত্র ও রক্ষক, আবার একই সাথে সে ভালো ও খারাপের মিশ্রন।  মাত্র ৯ বছর বয়স্ক একটা বাচ্চা ছেলের সাথে ঘটনাক্রমে তার বন্ধুত্ব হয়ে যায়।  এই নিয়ে রোবট আর মানব শিশুর বন্ধুত্বের এক অসামান্য   কাহিনী।  টরেন্ট ডাউনলোড লিংক।

(৭) মুভিঃ 

Bicentennial Man (১৯৯৯ সাল)

চরিত্র: এন্ড্রু মার্টিন। (একটি এন্ড্রয়েড চরিত্র)

916YrYjRoIL._SL1500_

সাই-ফাই উপন্যাসের গুরু  বিশ্বখ্যাত স্যার আইজ্যাক আসিমভের তৈরী  ইন্টারেস্টিং এই রোবটিক চরিত্রে অভিনয় করেন বিশ্বখ্যাত কমেডিয়ান ও আমার অন্যতম প্রিয় অভিনেতা রবিন উইলিয়ামস। এই রোবট চরিত্রটি মানব চরিত্রের সাথে মিশে যাবার অভিযানে নামে এবং খুব ধীরে ধীরে সে মানবিক আবেগ অনুভূতি অর্জন করতে শেখে! এটি এতটাই অসামান্য  একটা মুভি যে এটি তার পরের বছর অস্কার নমিনেশনও পায়। টরেন্ট লিংক। 

(৬) মুভিঃ I, Robot (২০০৪ সাল)

চরিত্রঃ সনি (Sonny)

আই, রোবট – আমি রোবট (২০০৪)

২০৩৫ সালের ঘটনার আর্বতে গড়ে উঠেছে এর কাহিনী। হিউম্যানয়েড চরিত্র ’সনি’ একটি অত্যাধুনিক রোবট, যার রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানবিক আবেগ। হলিউডের রোবটিক মুভির ইতিহাসে যতগুলো আধুনিক ও নজরকাড়া  ডিজাইন করা হয়, সনির ডিজাইন তাদের একটি।  এই ডিজাইনের কারনে ডিজাইনার বেশ কয়েকটি পুরস্কারও জিতেন। টরেন্ট।  বিস্তারিতঃ

এন-৫ প্রজাতির রোবটেরই একটি আপগ্রেডেড ভার্সন হচ্ছে সনি!

এন-৫ প্রজাতির রোবটেরই একটি আপগ্রেডেড ভার্সন হচ্ছে সনি!

(৫) মুভিঃ

WALL·E (২০০৮)

চরিত্রঃ ওয়ালি।

wall-e-banner

এই এনিমেশন ফিল্মটি  খোদ এনিমেশন তথা মুভির ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুভি, তাই যথার্থ কারনেই ২০০৯ সালে এটি একটি অস্কার পুরস্কার লাভ করেছে,  এবং আইএমডিবির সেরা ২৫০ টি মুভির র‌্যাংকিয়ে এটির অবস্থান ৬২ নম্বরে। ওয়ালি চরিত্রটি আদতে একটি ময়লা আর্বজনা ফেলার জন্য বানানো নিতান্তই সস্তা ও আপাতঃ গুরুত্বহীন রোবটের চরিত্র। অথচ একই সাথে একে ঘিরে গড়ে ওঠে দারুন রোমান্টিক একটি গল্প, সেই সাথে মানব জাতির বাচাঁ মরার প্রশ্নে ওয়ালির সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার গল্প!  টরেন্ট লিংক।

(৪) মুভিঃ

[imdb id=”tt0433035″]

চরিত্রঃ

Atom

এটমকে বক্সিং শেখাচ্ছে তার মনিব ও মেনটর, প্রাক্তন বক্সার চার্লি!

ভবিষৎতে পৃথিবীতে রোবটে রোবটে মল্লযুদ্ধ হবে সবচাইতে জনপ্রিয় আর লাভজনক খেলা। এরই অংশ হিসেবে বক্সার রোবট এটমকে ঘিরে একটি বায়বীয় ও মানবীয় কাহিনী গড়ে ওঠে! এটমের রয়েছে প্রখর ব্যক্তিত্ববোধ, রসবোধ, একটি চমৎকার গল্প আর সে কিন্তু সত্যিই ঘুষি সইতে ও দিতে পারে।  এটি আদ্যোপান্ত সাই-ফাই ও খেলাধুলার সংমিশ্রন। জিতেছে একটি অস্কার নমিনেশন। 

(৩) [imdb id=”tt1990314″]

 

চরিত্রঃ রোবট।

একজন বৃদ্ধ সিধেঁল চোর  জীবনের শেষ বয়সে এসে নিজ পুত্র কর্তৃক একটি রোবট নিজের সার্বক্ষনিক সঙ্গী ও দেখাশোনার জন্য উপহার পায়। প্রথমে তো সে রোবটটিকেই দুই চোখে দেখতেই পারতো না। কিন্তু যেদিন থেকে সে আবিস্কার করলো যে, রোবটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রয়েছে অথচ সে অপরাধ ও দৈনন্দিন কাজকর্মের মাঝে পার্থক্য করতে পারে না, তখনি সে তাকে নিজের চুরি করার  অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা শেখাতে শুরু করলো, যাতে করে তার জীবনের শেষ চুরিটি করতে রোবটটি তাকে সাহায্য করতে পারে। আর রোবটও অত্যন্ত সুচারূরুপে সে সব রপ্ত করে নেওয়া শুরু করলো।  অবস্থা এমনই হলো যে, এক পর্যায়ে দেখা গেলো, রোবটটি ছাড়া বৃদ্ধ একটা সেকেন্ডেও চলতে পারছে না, সে তার উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে গেছে। 

(২)  [imdb id=”tt1037222″]

চরিত্রঃ Cody (কোডি)

একটি বেসরকারী ওয়েপন রিসার্চ কোম্পানি ১০ মিলিয়ন ডলারব্যয়ে জীবনরক্ষাকারী ও উদ্ধারকর্মী হিসেবে একটি প্রোটো টাইপ ছোট্ট রোবট বানায়। কিন্তু কোম্পানীর মালিকের সাথে রোবটের প্রোগ্রামারের বিবাদের জের ধরে রোবট কোডি কোম্পানি এবং প্রোগ্রামার উভয়ের কাছ থেকেই হারিয়ে যায়। এবং তাকে খুজেঁ পায় একটা বালক, এদিকে কোডির আগেকার স্মৃতি সব নষ্ট হয়ে যায় বড় ধরনের ঝাকিঁ খাবার ফলে। এই কারনে তাকে আবার রিপ্রোগ্রাম করে সেই প্রোডিজি* বালকটি! শেষ পর্যন্ত ঘটনা মোড় নেয় ভয়াবহ এক পরিনতিতে। মানব শিশু আর রোবটের ভেতরকার নিদারুন সম্পর্ক আর অভূতপূর্ব এক রসায়নের মিশেল এই মুভিটি। বিশেষ করে, কোডিকে সাময়িক হারিয়ে ছেলেটি ও তার পরিবার যে অতি আবেগীয় প্রতিক্রিয়া দেখায়, একটি রোবটের জন্য তা বিরাট পাওনা, আর সে অংশটুকু দেখে অনেক শিশু কিশোরই চোখ ভিজে যাবে! 

(*প্রডিজি = অল্প বয়সেই যে সকল বাচ্চার ভেতর অদ্ভুত ও দুর্লভ প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটে, তাদেরকে এক কথায় ইংরেজীতে ’প্রডিজি’ বা ‘প্রডিজি ইনফ্যান্ট’ বলে)

(১)  [imdb id=”tt1823672″]

চরিত্রঃ চ্যাপি!

মনে আছে District 9 এর কথা? নোংরা বস্তিকে যে কিনা এলিয়েন রোবটদের আবাসস্থল বানিয়েছিলো। রোবটদের নিয়ে এ ধরনের ভিন্ন মাত্রার অভিনব চিন্তাধারা একমাত্র নীল ব্লুমক্যাম্পের পক্ষেই সম্ভব। এ বছর মুক্তি পেয়েছে তার অসাধারন   আরেকটি সাইফাই রোবটিক মুভি – চ্যাপি। এটি এমন  একটি রোবট চরিত্রের গল্প, যেটি দেখতে বসে হয়তো সামান্য একটি যন্ত্রমানবের জন্য নিজের অজান্তেই আপনার চোখের কোন বার বার ভিজে উঠবে। মুভির সংলাপ ও কাহিনীর বুনন এতটাই হৃদয়স্পর্শী  যে, এটি দেখার সময় চ্যাপি নামের কিউট, ফানি আর ছোট্ট সদ্যজাত নবজাতক (!) রোবটটির জন্য আপনার হৃদয়  বার বার হু ‍হু করে কেদেঁ উঠবে।

chappie_fan_art_poster_by_gojirakaiju3d-d8eeo2mমজার ব্যাপার হলো, রিয়েল ষ্টিল মুভিতে হিউ জ্যাকম্যান অন্যতম প্রধান  ভূমিকায় অভিনয় করলেও এই মুভিতে তাকে ভয়ানক হিংস্র এক  খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায়। 

যে গুরুত্ববহ চরিত্রদ্বয়কে উল্লেখ করতে ভুলে গিয়েছিলামঃ

বোনাস রোবট চরিত্রঃ (১) – Baymax

মুভির নামঃ Big Hero 6

[imdb id=”tt2245084″]

’বে ম্যাক্স’ নামক বিশালাকার এক ইনফ্ল্যাটেবল* রোবট আর আরেকটি প্রোডিজি বালক ‘হিরো হামাডা’র গল্প। বে ম্যাক্সকে বানায় হামাডার বড় ভাই। কিন্তু সে এক দুর্ঘটনায় মারা পড়লে বে ম্যাক্সের দায়িত্ব তুলে নেয় তার ছোট ভাই হামাডা, এবং সে ও তার কয়েকজন বন্ধু মিলে একটি জোট গঠন করে একদল বিগ হিরো বানাবার জন্য!

images (1)

(*ইনফ্ল্যাটেবল = ফুঁ দিয়ে/বাতাস ভরে ফোলানো যায় এমন বস্তু।)

বোনাস রোবট চরিত্রঃ (২) – A.I

[imdb id=”tt0212720″]

ষ্টিফেন স্পিলবারগের অমর সৃষ্টি, সাড়াজাগানিয়া সাই-ফাই মুভি এ.আই।  আদতে  এটিও কোডি বা চ্যাপির মতোই একটি রোবটিক বাচ্চা ছেলের সাথে মানব-পরিবারের বন্ধনের মর্মভেদী গল্প, যে কিনা তার মানব-মাতার সান্নিধ্য পেতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। মূলতঃ ছোট গল্প “Supertoys Last All Summer Long” থেকে এই মুভিটির প্লট তৈরী করেন ষ্টিফেন । এটি দুটি ক্যাটাগরিতে অস্কার নমিনেশন পায়।

BIG HERO 6

BIG HERO 6 Facebook Banner

এছাড়াও লিষ্টে যে কেউ চাইলে ট্রান্সফর্মারসের ’অপটিমাস প্রাইম’ বা এক্স মেশিনার ‘Ava’ কে রাখতে পারেন। তবে আমি মনে করি, লিষ্টের বাকী রোবটগুলো যেভাবে মানুষের সাথে একটি পোর্সোনালাইজড ক্যারেক্টার হিসেবে ওতপ্রতভাবে মিশে যেতে পেরেছে, তেমনি অপটিমাস প্রাইম বা এভা পারেনি। অপ. প্রাইম  শুধু একজন অতিকায় যুদ্ধবাজ ও বিধ্বংসী রোবট-নেতাই শুধু। আর এভা একজন বাকপটু  ও ছলনাময়ী রোবট-নারীর  AI. যদিও উভয় মুভিতে উভয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

অপটিমাস প্রাইম – রিয়েল ভিডিও গেইম রোবট চরিত্র

file_124561_0_exmachinaposterlarge

এক্স মেশিনার অন্যতম অফিসিয়াল পোষ্টার। প্রধান চরিত্র এভাকে দেখা যাচ্ছে।

themachine

এই মুভির AI রোবট চরিত্রটিও বেশ সম্ভাবনাময় ছিলো, কিন্তু মুভিটা বক্স অফিস হিট করেনি

সেকেন্ড হ্যান্ড আইফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই চেক করে নিবেন

download

বাংলাদেশের বাজারে সেকেন্ড হ্যান্ড আইফোন কেনাটা বিরাট ঝুকিঁর ব্যাপার। একটু সাবধান না হলে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আপনাকে অবধারিতভাবে ঠকতে হবে।  কারন আপনাকে কোন ধরনের ওয়ারেন্টি দেয়া হবে না, কোন মানি ব্যাক গ্যরান্টি পাবেন না। মানে কেনার সময় যা দেখার দেখে নিবেন, পরে আর কোন আপত্তি গ্রহন করবে না কেউ অবশ্য বসুন্ধরার দোকানগুলোতে নাকি ৬ মাসের সার্ভিস ওয়ারেন্টি দেয়। তাই ওরা দামও বেশী রাখে। Continue reading

Aside

বাংলাদেশের ব্যাংকিংখাত ও ভুক্তিভোগী হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা

bangladesh

আমি অর্থনীতি ভালো বুঝি না। তবে ঢাবিতে ম্যানেজমেন্ট পড়াকালীন একবার ক্লাসে স্যারের এক প্রশ্নের জবাবে ফাজলেমি করে উত্তর দিয়ে স্যারের মৃদু প্রশংসাবাক্য শুনেছিলাম। প্রশ্ন ছিলোঃ সরকারের টাকা দরকার হলে সরকার কোথা থেকে সেই টাকার ব্যবস্থা করবে? আমার উত্তর ছিলোঃ স্যার, সরকারের তো টাকশালই আছে। সরকার শুধু টাকা ছাপাবে আর ইচ্ছেমতো খরচ করবে।

ভাবলাম ঝাড়ি খাবো, কিন্তু স্যার বল্লেন, ইয়েস! গুড এনসার। খালি এইটা না, সরকার চাইলে লোনও করতে পারে। খালি টাকা ছাপানোটা তো কোন কাজের কথা না। দরকারের সময় টাকা ছাপালো, ভালো কথা, কিন্তু দরকার শেষ হলে কি করবে? বাজারে যে বাড়তি টাকাগুলা অলরেডি চলে গেছে, ঐগুলার কি হবে? ঐটাকে বলে ইনফ্লেশান। মুদ্রাস্ফিতি। বাজার থেকে বাড়তি টাকা তুলতে না পারলে টাকার দাম কমে যাবে। এক কাপ চা খেতে হবে ব্যাগভর্তি টাকা দিয়ে। ঠিক এই জিনিসটাই আমার দেখলাম নাইজেরিয়াতে। সেখানে লোকে বস্তাভর্তি করে টাকা নিয়ে চলা ফেরা করে। অথচ এক পোয়া সয়াবিন তেল কিনতেই টাকার বস্তা শেষ! কারন সেখানে আসলে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে নাই, বরং টাকার দাম কমেছে। Continue reading

Image

জেনে নিন – মোবাইল ফোনে আপনি কতটুকু আসক্ত?

মোবাইল নামক যোগাযোগের এই যন্ত্রটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রয়োজনীয়তার মাত্রা ছাড়িয়ে মোবাইলে আজ হেন কাজ নেই যা করা যায় না। বাংলাদেশে এখন নাকি অনেক রিকশাওয়ালাও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। কোনদিন দেখব এমন অবস্থা হয়েছে যে ফিডারের বদলে শিশুদের হাতে থাকবে মোবাইল। আর কানে ব্লুটুথ হেড সেট! :|

Continue reading