মেয়েদের গায়ে হাত তোলা সবচেয়ে নীচ কাপুরুষের কাজ

অনেক ছোটবেলায় আম্মুর কাছ থেকে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ লেসন পেয়েছিলাম।

যখন প্রাইমারিতে পড়ি, তখন আমাদের বাসায় প্রায় আমার মতো বয়সীই একজন গৃহপরিচারিকা ছিলেন। তার একটা রুটিন কাজ ছিলো, আমাকে প্রতিদিন বিকেলে মগ ভর্তি করে গরুর দুধ দেয়া। সংগত কারনেই কাজটা আমি ভীষন অপছন্দ করতাম। কারন প্রতিদিন নিয়ম করে মগ ভর্তি দুধ খাওয়া সেসময় আমার কাছে রীতিমতো এক ধরনের ফিজিক্যাল টর্চার মনে হতো। দু চুমুক খাবার পরই বমি বমি ভাব হতো। বেশ কিছুদিন এই টর্চার সহ্য করে একদিন চেষ্টা করলাম মেয়েটার সাথে একটা সন্ধি করতে। ওকে বল্লাম যে, আম্মুর অগোচরে মগ ভর্তি দুধটাকে দু ভাগ করে ফেলতে। এক ভাগ ও খাবে, আরেকভাগ আমি খাবো। তাহলে আমার উপর চাপ কমবে। Continue reading

পুরুষের উপর নারীর মনস্তাত্ত্বিক নির্ভরশীলতা ও কিছু প্রাসঙ্গিক কথা

5db9b2a410cf05fca37719caeacac39b

তথাকথিত মর্ডান মেয়েদের কাছে ছেলেদের বেশ ভূষা পরে আধুনিক হওয়া একটা মানদন্ড হয়ে দাড়িঁয়েছে। এটা অবশ্য নতুন কিছু না। ছেলে হওয়ার এই ট্রেন্ড চালু হয়েছিলো ৫০ এর দশক থেকে, যখন পাশ্চাত্যে ছেলেদের মতো মেয়েরাও জিনস পড়া আরম্ভ করলো। মেয়েরাও ছেলেদের মতো ববকাটিং চুল ছাটঁ দেয়া শুরু করলো, ছেলেরা যা যা পড়ে বা করে, সে সব করাটাই মেয়েদের জন্য আইডল হওয়া শুরু হলো। কারন একটা মেয়ের জন্যে একটা ছেলেকে আইডল হিসেবে দেখাটা গর্বের এবং চিরন্তন। শুরু থেকেই এই বোধটা এত নিবিড়ভাবে মেয়েদের মননে গেথেঁ দেয়া হয়েছে যে, মেয়েরা এখন অবচেতনভাবেই ছেলেদের ফ্যাশনের দারস্থ হয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত ফ্যাশনসচেতন ভেবে মিথ্যা স্বান্তনা পাচ্ছে। নিজেদেরকে ছেলে ভেবে তৃপ্তি পাচ্ছে! Continue reading

উন্নত বিশ্বের আতশী কাচেঁর নীচে আমাদের অর্থমন্ত্রীর ভ্যাট-প্রহসন

Hecs_australia_Bangladesh_Vat_on_Education
উন্নত দেশগুলোতে পড়াশোনার খরচ এমনিতেই অনেক বেশী। সুতরাং, তারা তাদের নিজেদের ছেলে পেলেদের জন্য কি রকম সুযোগ সুবিধা রেখেছে, সেটা এই মূহুর্তে আমাদের জানা দরকার বলে মনে করি। তাতে আমাদের অর্থমন্ত্রীর প্রহসনটা ম্যাগনিফাইনিং গ্লাসের নীচে ধরা পড়বে। অন্য দেশের কথা জানি না, তবে অষ্ট্রেলিয়া তার নাগরিকদের সেমিষ্টার ফি দেবার জন্য অবিশ্বাস্যরকমের এফর্টবেল দুটো প্রোগ্রাম চালু রেখেছে।
Continue reading

ব্যক্তিগত ব্লগিং ও পেশাগত ব্লগিং নিয়ে কিছু কথা

blogger-2

(১)

নিজের একটা ছোটখাটো ব্যক্তিগত ব্লগ থাকার সুবাদে প্রায়ই আমাকে ইনবক্সে প্রশ্ন করা হয় যে, কিভাবে নিজের একটা ব্লগ সাইট খোলা যাবে। ওয়েল, আমি এর উত্তরে প্রথমেই বলি, আপনার যদি আগে কখনো ব্লগিং করার অভিজ্ঞতা না থাকে, তবে আপনার শুরুটা হওয়া উচিত কমিউনিটি ব্লগিং দিয়ে। কারন সেখানে আপনার হাত পাকবে, লেখা ম্যাচিউর হবে। আর সবচাইতে বড় যে উপকারটা হবে সেটা হলো, আপনি আপনার লেখার সমালোচনা সহ্য করার শক্তি অর্জন করতে পারবেন; যেটা অনেক বড় বড় কবি লেখকেরো নাই।

আপনার লেখার গঠনমূলক সমালোচনা আপনাকে অনেক বেশী শানিত করবে, নিজের দৌঁড় কতটুকু এবং আরো কতটা পথ আপনাকে যেতে হবে, সে ব্যাপারে সম্যক ধারনা পাবেন। এইসব কমুনিটি ব্লগেই সম্ভব। ব্লগিং লাইফের শুরুটা ব্যাক্তিগত ব্লগ দিয়ে শুরু করলে এই মূল্যবান সুযোগগুলো হারাবেন। আর অন্যদের লেখা, অন্যদের ব্লগ প্রচুর পড়বেন। শুরু অনন্ত একটা বছর নিজে খুব কম লিখবেন। পড়বেন বেশী। যতবেশী পড়বেন, আপনার ব্লগিংয়ের জন্য ততই মঙ্গল। Continue reading

পপকর্ণ টাইমঃ নিকট ভবিষৎতে আমাদের মুভি দেখার পদ্ধতি হয়তো এমনটাই হবে!

Le logo de PopCorn Time

সিনেমা হলে মুভি দেখতে বসলে প্রথমেই কোন জিনিসটার কথা আমাদের সবার আগে মনে পড়ে? হুম ঠিক ধরেছেন, পপকর্ণ! তো সফটওয়্যার ডেভেলপাররা এবার  অনলাইন দুনিয়ায় এই নামে নিয়ে এসেছে এমন একটি ওপেনসোর্স প্রজেক্ট, যার মাধ্যমে আপনি নিজের ঘরটাকেই আস্ত একটা সিনেমা হলে বানিয়ে ফেলতে পারবেন! শুধু তাই নয়,  দেখতে পারবেন নতুন নতুন  টিভি সিরিজও! তবে আপাততঃ মুভি দেখতে নয়, পপকর্ণ নিয়ে বসে পড়ুন এই পোষ্টটি পড়তে। Continue reading

যথাযথ পেশাদারিত্বের অভাব। প্রেক্ষাপটঃ ওয়েডিং ফটোগ্রাফি!

Professionalism

অনেক মানুষকেই দেখি নিজের পেশা নিয়ে বিতৃষ্ণা, বেতনের অংকে অস্তুষ্টি বা অফিসের বসের উপর রাগ ইত্যাদি পেশাগত ঝামেলা নিয়ে মুখে তুবড়ি ফোটায় অথচ আমাদের দেশের বেশীরভাগ পেশাজীবিদের মাঝেই যে প্রফেশনালিজমের বড্ড অভাব রয়েছে, এই ব্যাপারটা নিয়ে তেমন কাউকে উচ্চ্য বাচ্চ্য করতে দেখি না খুব একটা। এটা নিয়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে আছে কারন দেশের বাইরে ও ভেতরে উভয় জায়গাতেই অফিসিয়াল রিক্রুটিং প্রসেসের সাথে আমার সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বলা বাহুল্য, অষ্ট্রেলিয়ার ভেতরে সে অভিজ্ঞতা রীতিমতো চমকপ্রদ হলেও দেশের ভেতরে সে অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর নয়। যা হোক আপাততঃ ফটোগ্রাফারদের কথাই ধরি। Continue reading

আমেরিকাতে সমকামী বিয়ের বৈধতা প্রসঙ্গে কিছু কথা


PrideDesignঅষ্ট্রেলিয়াতে প্রতি বছরের শুরুর দিকে মারদিগ্রা (Mardi Gras) নামের একটা প্যারেড হয়। লেন্ট মৌসমের রোজা রাখার আগে সবাই মিলে পেট পুরে ভালো মন্দ খায়, ইচ্ছেমতো রিচ ফুড খায়, সেটাকেই তারা উদযাপন করে মারদিগ্রার মাধ্যমে। এটা আদ্যোপান্ত খ্রিষ্টিয় ধর্মীয় উৎসব কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই দিনে অষ্ট্রেলিয়ার সমস্ত সমকামী দম্পতি রাস্তায় নেমে আসে। কি তাদের বাহারি সাজ, কি তাদের পোষাক আষাক!! চারিদিকে আনন্দের হুল্লোড় বয়ে যায়। তারা জানে আপনি তাদের মতো নন, কিন্তু ঐদিন রাস্তায় আপনার সাথে দেখা হলো তারা আপনাকে চকোলেট দিবে, বিয়ার সাধবে, হাসিমুখে হ্যান্ডশেইক করে একসাথে ছবিও তুলবে।
Continue reading

দেশের তরুণ প্রজন্ম ও ইনসমনিয়াঃ এক অভিশপ্ত মেলবন্ধন

awakeএখনকার বেশীরভাগ সদ্য তরুনী বা তরুনী মেয়েদের মধ্যে একটা কমন জিনিস দেখতে পাচ্ছি, সেটা হচ্ছে এরা প্রায় সবাই ইনসোমনিয়ায় ভুগছে। [প্রশ্ন আসতে পারে, ছেলেরাও তো ভুগছে, সেটা খেয়াল করিনি? প্রশ্ন হচ্ছে, করেছি। কিন্তু ছেলেদের এই সমস্যা ইদানিংকার না, অনেক আগেরই। একটা সময় শুধু ছেলেরাই ইনসোমনিয়ায় ভুগতো, এখন সমানতালে মেয়েরাও ভুগছে]। আমার বন্ধু তালিকায় এমন কিছু মেয়ে রয়েছেন, তাদের সাথে আলাপচারিতায় জানতে পেরেছি তাদের রাতে না ঘুমানোর অভ্যেস রয়েছে, কেউ কেউ ভোর রাতে বা ভোরের দিকে ঘুমুতে যান এমনকি কেউ কেউ ঘুমের জন্য নিয়মিত ঘুমের ট্যাবলেটও খান। অথচ কেন তাদের রাতে ঘুম আসে না, এ ব্যাপারে প্রশ্ন করে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বেশীরভাগই কোন কারন বলতে পারেননি।
সম্প্রতী এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৫ বছর আগের তুলনায় এখনকার মেয়েরা নাকি প্রায় ২ ঘন্টা পর রাতে ঘুমুতে যায়। শতকরা ৪০ ভাগ নারী রাত ১/২টা পর্যন্ত জেগে থাকে সকালে অফিস বা ক্লাস থাকা সত্তেও! মনোবিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে পত্রিকায় দিক নিদের্শনা দিতে পারেন। কারন ব্যাপারটা অবশ্যই সিরিয়াস এবং আশঙ্কাজনক। এবং ভবিষৎতে এই সমস্যা আরো গুরুতর আকার ধারন করতে পারে, ক্যারিয়ার এবং দাম্পত্যজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। Continue reading

Status

ভোজনরসিক বাঙ্গালির ভূরিভোজন!

DSC_5305

বাঙ্গালীর উৎসবের অভাব নাই। সেই উৎসব উপলক্ষ্যে ভূড়ি ভোজেরও কোন শেষ নাই। বাঙ্গালীর প্রায় সকল উৎসবে ভোজের আয়োজন দেখলে মনে হবে, উৎসবটা এখানে গৌন। ভোজনটাই মূখ্য। যদিও ‘ভোজ’ থেকে ‘ভোজন’ এসেছে, কিন্তু আক্ষরিক অর্থ বিচার করলে দুটোতে কোন মিল পাওয়া যায় না। ভোজন মানে খাওয়া। সেটা পোলাও কোর্মা হতে পারে, হতে পারে এক গ্লাস পানীয়ও। অপরদিকে ভোজ মানে হচ্ছে খাবার দাবারের এলাহী কারবার! সেখানে পোলাও কর্মা এবং পানীয়ের কোন অভাব থাকে না। তাই সঙ্গতকারনেই, ভোজ ও ভোজন আমাদের সংস্কৃতির দুটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ধর্মীয় উৎসবে খাওয়া, সাংস্কৃতিক উৎসবে খাওয়া, সামাজিক উৎসবে খাওয়া। কোন উৎসবেই খাবার অনুপস্থিত নয়। তবে সামাজিক উৎসবে ভোজের আয়োজনটা অন্য সমস্ত উৎসবকে যেন ছাড়িয়ে যায়। ছোটবেলা থেকেই দেখছি, বর-কণের চাইতেও বিয়ে বাড়ীর প্রধান আকর্ষন হচ্ছে ভোজন। বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে বর বা কণেকে না দেখেই ফিরে আসতে দেখেছি অনেককে, কিন্তু না খেয়ে ফিরে আসা? কাভি নেহি। Continue reading

পুরুষের পর্দার কথা বলবে কে? (নারী এবং পুরুষের পর্দার একটি সামগ্রিক পর্যালোচনা)

Veil_men vs. woman

আমাদের দেশে সব সময়ই  নারীর পর্দা নিয়ে এত বেশী হৈ চৈ হয় যে, সেই অনুপাতে পুরুষের পর্দা নিয়ে কোথাও বিন্দুমাত্রও আলোচনা হয় না। তাই গত কয়েক মাস ধরেই ভাবছিলাম  এই বিষয়টা নিয়ে একটু বিস্তারিত লিখবো। এটা ভাবার কোনই কারন নাই যে পুরুষদের কোনভাবে ছাড় দেয়া হয়েছে।

এই লেখাটি বিশাল। অনেক সময় নিয়ে ধৈর্য্য ধরে পুরোটা পড়তে হবে। বিশাল পোষ্ট  হবার কারনে হয়তো অনেকেই এড়িয়ে যাবেন কিন্তু আমি এখানে এমন একটা বিষয় নিয়ে লিখেছি, যা নিয়ে এর আগে কেউ কখনো লিখেন নাই, এমনকি বলেনও নাই। Continue reading