মান অভিমানে এক টুকরো ভালোবাসা…

দগরড

মেয়েটার প্রোফাইল দেখে ছেলেটা খুবই বিরক্ত হয়। প্রোফাইল ভর্তি মেয়েটার ছবি। যদিও হালকা প্রাইভেসি দেয়া প্রতিটি ছবিতে তবু সেখানে অন্য ছেলেদের লাইক আর কমেন্ট দেখে তার গা জ্বালা করে। তার উপর সে জানতে পারলো ছবিগুলো তুলে দিয়েছে তার ছোট ভাইর মেডিকেল পড়ুয়া হাউস টিউটর।

এরপর ফোনে মান অভিমান, সেখান থেকে রাগরাগি। এক পর্যায়ে ছেলেটা বলে,

: আমার এক বান্ধবী ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড পাওয়া ফটোগ্রাফার। ওকে দিয়ে আমার ছবি তোলাবো। তুলে ফেবুতে দিবো। পাবলিক ওর পোট্রেইট দেখে ট্যারা হয়ে যায়। তুমিও যাবে।

: কি বল্লা তুমি? ঠিক আছে তুইলো। কোন সমস্যা নাই খালি এটুকু জেনে রাখো, তুমি একটা তুল্লে আমি একশটা তুলবো। আমাকে চিনো নাই তুমি।

: ঠিকাছে দেখা যাবে। (এটা মুখে বল্লেও ছেলেটা মনে মনে অনেক খুশী হয়। কারন তার ছবি দেয়ার কথাটা মেয়েটাকে শঙ্কিত করে দিয়েছে। নিজের সবচাইতে প্রিয় মানুষটাকে হারাবার মৃদু আশংকা।)

আরেকদিন কথা প্রসংগে মেয়েটা বল্ল:

:আমাদের ইউনির স্যারদের বেতন কি কম নাকি? একেকজনের পে স্কেল শুনলে টাসকি খাবা।

: বাহ, তাহলে তো তোমাদের ইউনিতে একটা সিভি ড্রপ করতে হয় শীঘ্রই!

: ওহ, তুমি আমাদের লেকচারার হবা? দারুন হবে। সারাদিন বোরিং ক্লাস করে মরার বদলে তোমার সাথেই ক্লাস করা যাবে। কয়েক ঘন্টার ব্রেকে ষ্টাডি রুমে না ঝিমিয়ে তোমার সাথে ক্যাম্পাসে আড্ডা মারা যাবে। [মেয়েটা খুশীতে হড়বড় করে কথাগুলো বলে যায়]

: হুম তা ঠিক। কিন্তু একটা সমস্যাও আছে। ক্লাসে লেকচার দেবার সময় তোমাদের ক্লাসের মেয়েরা যখন হা করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকবে….

: থাপড়ায়া সবগুলার দাতঁ ফালায় দিবো না আমি!! (মেয়েটা ছেলেটাকে শেষ করতে দেয় না, তার আগেই প্রায় চিৎকার করে বলে ওঠে!)

: ক্লাসের ভেতর মারামারি করবা তুমি? (ছেলেটা খুশীতে গদগদ হয়ে বলে)

: ”হুম দরকার হলে আরো বেশী কিছু করবো।” একটু থেমে প্রায় ফিসফিস করে বলে – “লাগবে না ইউনির লেকচারার হওয়া। তুমি শুধু আমার লেকচারার হবা!”

জেলাস হওয়া, হিংসুক হওয়া, ভালবাসারই এক অবিচ্ছেদ্য মিষ্টি অংশ। এতে বিরক্ত হবেন না। একটা মানুষ কখনই তার প্রিয়জনকে অন্যের সাথে ভাগাভাগি করতে চায় না। সেই সম্ভবনার কথা সে কল্পনাও করতে পারে না। যে ভালবাসায় জেলাসি নেই, উভয় উভয়ের এইসব কান্ডের প্রতি ড্যাম কেয়ার ভাব দেখায়, সে ভালোবাসা বিশাল একটা রোমান্টিকতা থেকে বঞ্চিত। হুম মাত্রাতিরিক্ত সন্দেহ বা নিয়ন্ত্রন অবশ্যই খারাপ কিন্তু তাই বলে একেবারে ছেড়ে দেয়া নয়। ভালবাসার ভেতর জেলাসি নিয়ে এইরকম ছোটখাটো খুনসুটি ভালবাসাকে আরো গভীর আর সুদৃঢ়ই করে তোলে। 

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ ফ্লিকর।

https://www.facebook.com/proloyhasan/posts/10152353277002220 

 

 

 

 

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য