আমার সমন্ধে

DSC6307

আমি প্রলয় হাসান। অন্তর্জালে আমার একমাত্র পরিচয়, আমি একজন ফ্রিল্যান্স ব্লগার।  লেখালেখি করে পেট চালাই না তবে মন চালাতে হয়। ২৯ বছরের এই জীবনে যতগুলো কাজ শিখেছি, তার ভেতর এটাই সবচাইতে ভালো পারি।

অতীতঃ

আমার লেখালেখির অভ্যাসটা মূলতঃ জেনেটিক।  আব্বু-আম্মু দুজনেই একটা সময় নিয়মিত লিখতেন। খুব ছোটবেলা থেকেই প্রাইমারি স্কুলের দেয়ালিকা, স্কুল ও কলেজের বাৎসরিক পত্রিকা, লিটল ম্যাগ ও আমার ব্যক্তিগত ডায়রিতে দিনপঞ্জি টুকে রাখাসহ টুকটাক লেখালেখি করলেও অনলাইনে লেখালেখির শুরুটা হয় প্রবাস জীবনে, ২০০৬ সাল থেকে। নিয়মিত লেখার শুরুটা হয় আরো প্রায় ১ বছর পর। তারপর আর থেমে থাকা হয়নি। একের পর এক লিখে গিয়েছি বাংলাদেশের স্বনামধম্য প্রায় সব কয়টা কমিউনিটি ব্লগ  এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও দৈনিক পত্রিকায় (অনিয়মিতভাবে)। তুমুল পদচারনা ছিলো  আন্তজার্তিক মিউজিক ও প্রাযুক্তিক ফোরামগুলোতে, অনলাইন ফটোগ্রাফারস কমিউনিটি ‘ফ্লিকরে’ আর টুইটারে।  গত ৫ বছর ধরে ফেসবুকে লিখলেও সেখানে থিতু হয়েছি বছর দুয়েক হলো।  সেখানেই আপাততঃ সবচাইতে বেশী নিয়মিত।

কেন লিখি? 

লিখি আপাদমস্তক নিজের জন্য, নিজের আনন্দের জন্য। একটা লেখা মাথা থেকে নামিয়ে থরে থরে শব্দ দিয়ে সাজানোর পর যে অনাবিল সুখটুকু পাওয়া যায়, সেটাকে বারবার পাবার লোভ থেকেই লেখালেখির চর্চাটা ধরে রাখা।  আর ব্লগিংয়ের শুরুটা হয় নিখাদ সাহিত্য চর্চা বা ক্রিয়েটিভ রাইটিংসের উদ্দেশ্যে। নিজের লেখালেখি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পছন্দ করি  এবং আমার লেখার গঠনমূলক সমালোচনাকে খুব গুরুত্বের সাথে নেই।

কি নিয়ে লিখি?

আমার লেখালেখির কোন নির্দিষ্ট বিষয় নেই। আমি যেমন সর্বভুক, মানে সবকিছু খাই এবং হাতের কাছে পড়ার মতো যা কিছু পাই পড়ে ফেলি; তেমনি আমার লেখালেখির বিষয়বস্তু নিয়েও কোন বাছ বিচার নেই। গল্প, কবিতা বা উপন্যাস থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, কল্পবিজ্ঞান গল্প, ফটোগ্রাফি, মিউজিক, কমেডি, রিলেশনশিপ টিপস, হৃৎকলম, মুভি রিভিউ, দেশীয় ও আন্তজার্তিক রাজনীতি, সমসাময়িক কলাম, ধর্মপদেশ, তথ্য প্রযুক্তি, রান্নাবান্না এ সবকিছু নিয়েই প্রচুর লেখা হয়। ইদানিং ঘন ঘন লেখা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি, মুভি রিভিউ আর রিলেশনশিপ টিপস নিয়ে।

লিখে কি পেলাম এ যাবত?

ব্লগ, ফোরাম, ফেসবুক – সবখানেই আমার বস্তাপচাঁ লেখা কম-বেশী পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।  বিনয়ভরে স্বীকার করি যে, এটা আমার লেখার গুন নয়, বরং আমি খুব ভাগ্যবান যে আমার পাঠকরা খুব উদার মনের। তাই তারা আমার ছাইপাশ লেখা পড়েও বাহবা দিয়ে আমাকে উৎসাহ দেন। আর বুক ভরা ভালবাসা পেয়েছি। কাছের মানুষগুলো তো বটেই,  এমনকি দূরের মানুষগুলোর কাছ থেকেও লিখে পেয়েছি নিঃস্বার্থ ও নিঃশর্ত ভালবাসা। এই একটা কারনেই মাঝে মাঝে মনে হয় আমার মানব জন্ম সার্থক।  মানুষের ভালবাসা না পেলে তো মানুষ হিসেবে বেচেঁ থাকার কোন মানে নেই।

কেন ব্যাক্তিগত ব্লগ?

স্বপ্নদুয়ার.কম নামের এই শখের  ব্লগসাইটটা প্রথম খোলা হয় ২০০৯ সালে; কমিউনিটি ব্লগগুলো থেকে আমার ব্যক্তিগত খেড়োখাতায় নিজের লেখাজোকাগুলোকে খানিকটা সাজিয়ে রাখার প্রয়াসেই। তারপর প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা আর পড়াশোনার সম্মিলিত চাপে সেটাকে আর নিয়মিত চালু রাখা গেলো না। এক সময় কিভাবে কিভাবে যেন স্বপ্নদুয়ারের দুয়ারটা বন্ধ হয়ে গেলো। এমনকি ডোমেইনের নামটাও পরিত্যাক্ত হয়ে গেলো।

shopnoduar_oldস্বপ্নদুয়ারের আগের ভার্সনের স্ত্রিনশট

প্রায় ৫ বছর পর, ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসের ১৫ তারিখে সেটাকে আবার চালু করে ফেল্লাম। অনেক কিছু বদলে গেছে এই দীর্ঘসময়টুকুতে। ওয়ার্ডপ্রেস  আগের চাইতে আরো অনেক বেশী স্বাচ্ছন্দ্যময়তাপূর্ণ। আমার ছাইপাশ লেখার হাতটাও মনে হয় আগের চাইতে অল্প একটু শাণিত। দেখি, এবার কতটা দূর যাওয়া যায়।

নামকরণের পেছনের গল্পঃ

‘স্বপ্নদুয়ার’ আমার খুব পছন্দের একটি নাম। আমার ই-মেইল ঠিকানা, ফেসবুক  ও ফ্লিকর গ্রুপ, বাসার ওয়াই-ফাই, বাসার এবং অফিসের সিস্টেম ইউজার এ্যাকাউন্ট, আমার আরো অনেককিছুর নাম ‘স্বপ্নদুয়ার’। যে স্বপ্নের দুয়ারে নিজেকে পৌছেঁ দেবার জন্য অর্হনিশ খাটুনি দিয়ে যাচ্ছি, হয়তো মিছেমিছি একটা নাম বানিয়ে সেটাকেই ছুয়েঁ খানিকটা নিছক ছেলেমানুষি তৃপ্তি খোজাঁর চেষ্টা….

নিজের সমন্ধে আরেকটু

অবসরে গিটার বাজাই মাঝে সাঝে। আমি বইয়ের পোকা। বই পড়তে অসম্ভব ভালো লাগে।  এতটাই যে, শুধু অবসরে নয়, ব্যস্ততার মাঝেও বই পড়তে ভালবাসি। ব্যক্তিগত সংগ্রহে আছে প্রায় হাজার দেড়েক বই, যদিও এর কয়েক শতাংশ এখনো অপঠিত। আর চারটা কাজ করতে খুবই ভালবাসি। ছবি তুলতে, পিয়ানো বাজাতে, নিজের হাতে রান্না করে খেতে আর মুভি দেখতে। ইদানিং একটা শর্টফিল্ম বানাবার পায়ঁতারা করছি। স্ক্রিপ্ট আর ক্যামেরা রেডি, কিন্তু ঠিক সাহস করে উঠতে পারছি না!

সৃজনশীল মানুষদের খুব সন্মানের চোখে দেখি। আমার কাছে একজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষের চাইতে একজন সৃজনশীল মানুষের সন্মান অনেক বেশী। কেননা শিক্ষিত হওয়া সহজ, সৃজনশীল হওয়া নয়। টাকা পয়সা আর ইচ্ছে থাকলে যে কেউই শিক্ষিত হতে পারেন, কিন্তু টাকা-পয়সা আর ইচ্ছে থাকলেই যে কেউ সৃজনশীল হতে পারেন না।

ব্যক্তিগত ভাবে মুটামুটি ধর্মপরায়ন, ধর্ম নিয়ে পরিস্কার ধারনা রাখতে পছন্দ করি। উচ্চাভিলাষী কোন আকাঙ্খা নেই। কিশোর বয়স থেকে Lucid Dream এর প্রতি আসক্ত।  নিজের বানানো জগতকে স্পষ্ট ভিজুয়ালাইজ করতে পারি। চোখ বন্ধ করে ঘন্টার পর ঘন্টার সেখানে বিচরন করতে পারি।

আমি প্রচন্ডরকমের নিভৃতচারী এবং ঘরকুনো। কাউকে স্বান্তনা দিতে পারি না, জোরাজুরি করতে পারি না, বাহুল্য সামাজিকতা দেখানোর ব্যাপারে বড়ই অপটু। উপস্থিত বুদ্ধি কম, তাই কটু কথার সমুচিত জবাব দিতে পারি না, কোন কিছু গুছিয়ে বলতে পারি না।

জীবনের চিরাচরিত বাস্তবতাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। প্রকৃতির কাছে মানুষ কি পরিমান অসহায়, সেটাও প্রগাঢ়ভাবে উপলদ্ধি করেছি।  আমার জীবনবোধ খুব তীক্ষ।

রাজনৈতিক মতাদর্শনঃ

অতি মাত্রায় পাকিস্থান-বিদ্বেষী। চিহ্নিত ও কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের মনে প্রাণে ঘৃণা করি, তাদের ফাসিঁতে উল্লসিত হই। বাঙ্গালী হিসেবে যত না অহমবোধ করি, বাংলাদেশী হিসেবে তার চাইতেও বেশী করি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের মতো একজন শতাব্দি-সেরা মানুষকে আমাদের নেতা হিসেবে পেয়েছিলাম বলে অসম্ভব গর্ব বোধ করি। আদর্শের প্রশ্নে সর্বদা আপোষহীন। আদর্শ রক্ষা করতে গিয়ে নিজের প্রিয় লেখার জায়গা কিংবা প্রিয় বন্ধুর সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করতেও পিছপা হইনি।


স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য