হরর গল্পঃ বেসিন বিস্ফোরণ

unnamed

( ডিসক্লেইমারঃ যেসব মেয়েরা রাতে একা ঘুমান/একা ঘরে থাকেন, দয়াকরে এই লেখাটি পড়া থেকে তারা বিরত থাকবেন।)

ছোট খালুদের ফ্ল্যাটে আজ দুপুরে খুবই অদ্ভুত একটা কান্ড ঘটেছে। যেটার কোন কার্যকারণ কিছুতেই খুজেঁ পাওয়া যাচ্ছে না। খালুর ১৪ হাজার টাকা দিয়ে সদ্য কেনা কিচেন সংলগ্ন বেসিন হঠাৎ করে কোন কারন ছাড়াই বিস্ফোরিত হয়েছে। একদম ভেঙ্গে চুরমার। টয়লেটের পাইপে গ্যাস জমে বিস্মোরণ হয় শুনেছি, কিন্তু হাত-মুখ ধোবার বেসিন কেন বিস্ফোরিত হলো বুঝে আসতেছে না। ঘটনার সময় খালুর মা শুধু বাসায় ছিলেন। তিনি দুপুর বেলা তার ঘরে শুয়ে বিশ্রাম করছিলেন, হঠাৎ ডাইনিং রূমে বিকট শব্দ শুনে গিয়ে দেখেন বেসিনের শক্ত সিরামিক মেঝেতে গুড়ো গুড়ো হয়ে পড়ে আছে! অথচ বেসিনের উপরের আয়না এবং সাবান রাখার অংশটা পুরোপুরি অক্ষত আছে!

আশেপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন আসলো, বাসার টেকনিশয়ান আসলো কিন্তু কেউ এই ঘটনার কোন ব্যখা দিতে পারলো না। ঘটনাটা শুনে আমার কাছেও অবিশ্বাস্য ঠেকছে, অথচ ছোট খালু একটু আগে নিজে আমাদের বাসায় এসে ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করে গেলেন।

তিনি এও জানালেন, এটাই প্রথম নয়, এর আগেও তাদের বাসায় রহস্যজনক ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। তার মা রান্নাঘরের চুলা বন্ধ করে ঘুমাতে যেতেন, সকালে উঠে দেখতেন কে যেন চুলা ধরিয়ে রেখেছে। পর পর কয়েক রাত এই ঘটনা ঘটেছে। শেষে খালুর বাবা বাধ্য হয়ে রান্নাঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর সিন্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তবে ঘটনার শুরু হয়েছিলো আজ থেকে প্রায় বছর তিনেক আগে, এক গভীর রাতে খালুর বেডরূমের টিভি হঠাৎ কোন কারন ছাড়াই টিভির ষ্ট্যান্ড থেকে মেঝেতে পড়ে যায় সশব্দে। তিনি ঘুম থেকে জেগে বাতি জ্বালিয়ে দেখেন তার সনির ২১ ইঞ্চি টিভিটা মেঝেতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। খালু দরজা জানলার বন্ধ করে এসি ছেড়ে ঘুমান। সুতরাং, ঝড়ো বাতাসে এমন হয়েছে তাও নয়। ভূমিকম্পের কারনেও না, কারন যে ভূমিকম্প টিভি মেঝেতে ফেলে দেবার ক্ষমতা রাখে, সেরকম ভূমিকম্প হলে খালু কখনই ঘুমিয়ে থাকতো পারতো না, টিভি পড়ার আগেই ঘুম থেকে জেগে যেতো। এই ঘটনারও কোন ব্যখা সে আজ পর্যন্ত পায়নি।

60285-thumb

তাদের বাসার দুজন গৃহপরিচারিকা অনেকদিন আগে অভিযোগ করেছিলো, তারা রাতের বেলা বারান্দায় ঝুমুরের আওয়াজ পায়। কে বলে ডাক দিলেই শব্দ থেমে যায়। একটু পর আবার শুরু হয়। এমনকি কান পেতে থাকলে জোরে জোরে শ্বাস নেবার আওয়াজও নাকি তারা শুনতো। ছোটখালু যথারীতি সেগুলো ভাওতাবাজি বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, খালুরা কয়েক বছর আগে নতুন ফ্ল্যাট কিনেছে মিরপুরে। সেইখানেই এইসব ঘটনা। শুনেছি ঐ বিল্ডিংয়ের নীচে একটা পারিবারিক কবরস্থান ছিলো। পরে সেটা মাটি ফেলে ভরাট করে ডেভেলোপারদেরকে দিয়ে দেয়া হয়। তারা ওটার উপরই বিল্ডিংয়ের ফাউন্ডেশন দেয়।

খালু সরাসরি অফিস থেকে ফিরে আমাদের বাসায় এসেছেন এই ঘটনা বলার জন্য। পরনে তার অফিসিয়াল পোষাক। তো আমি ঘন্টখানেক আগে খালুকে এগিয়ে দিতে গেলাম তার বাসা পর্যন্ত। কারন তার দু হাত ভর্তি, ল্যাপটপের ব্যাগ ও আরো কি কি সব যেন। সবটা নিয়ে একা যেতে পারবেন না, এত রাতে গলির ভেতর রিকশাও নাই। তাই ভাবলাম এগিয়ে দেই। খালুর হাতে জামা কাপড়েরর একটা ব্যাগ ছিলো। ওটা ছিলো আমার হাতে। ল্যাপটপের ব্যাগটা খালুর হাতেই ছিলো। ওটা বেশী ভারী বলে খালু কখনই ওটা আমাকে বহন করতে দিতে চান না।

এদিকে টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়া শুরু করেছে। দুজনে কথা বলতে বলতে হাটতেঁ লাগলাম। আমাদের বাসা থেকে মিনিট পাচেকেঁর হাটাঁ পথ।

হঠাৎ ইলেকট্রিসিটি চলে গেলো। রাস্তা এমনিতেই ফাকাঁ, এরপর আরো ফাকাঁ হয়ে গেলো। একটু পর শুরু হলো তুফান। আর সেই সাথে বজ্রপাত। পুরো রাস্তা ঘুটঘুটে অন্ধকার! ভালো করে খেয়াল করে দেখলাম, পুরো রাস্তায় আমি আর খালু ছাড়া আর কেউ নাই। আমি সামনে সামনে হাটঁছি আর খালু খানিকটা পেছনে।

খালুর বাসার কাছাকাছি যখন পৌছেঁ গেছি, তখন তাদের বাসার গেটের চাবি নেবার জন্য খালুর দিতে হাত বাড়ালাম। কোন সাড়া না পেয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখি পুরো রাস্তা ফাকাঁ কেউ নাই। আমি কোনমতে কাপাঁ কাপাঁ হাতে কলিংবেল টিপলাম। আমি চাবি দিয়ে গেট খোলার সময় ওটা মাটিতে রেখে দুহাত ফ্রি করেছিলাম। যখন ধাতস্থ হলাম তখন আর ব্যাগটা খুজেঁ পাইনি।

বৃষ্টিতে ভিজে আমি কাই হয়ে গেছি কিন্তু সেদিকে কোন খেয়াল নাই আমার।

এর মধ্যে দেখি খালু লুগিং আর সেন্ডোগ্যানজি পড়ে তার বাসার ভেতর থেকে বের হলেন। তখন আমার হৃপিন্ডের শব্দ যেন বাইরে থেকেও শুনছিলাম। আমাকে বল্লেন – ’কি ব্যাপার প্রলয়? এত রাতে এই বৃষ্টিতে! কি হয়েছে?’ যে খালু থাকার কথা আমার পেছনে, সেই খালুকে দেখলাম আমার সামনে তার বাসা থেকে বের হতে। কোনমতে বল্রাম – ’আপনাদের বাসায় নাকি আজকে একটা একসিডেন্ট হয়েছে? বেসিন বিস্ফরণ হয়েছে?’

খালু অবাক হয়ে গেট খুলতে খুলতে বল্লেন – ‘হ্যাঁ, কিন্তু তুমি জানলে কিভাবে? এটা তো আমি এখনো কাউকে বলিনি। তোমার খালামনিও জানে না। তুমি কিভাবে জানলে?’

আমি গেটের ভেতরে ঢুকে বোকার মতো তার চেহারার দিকে তাকিয়ে আছি। কি উত্তর দিবো ভাবছি….বাইরে সেই সময় চারিদিক আলো করে প্রচন্ড শব্দে বাজ পড়লো একটা…

giphy

(যেসব মেয়েরা রাতে একা ঘুমান/একা ঘরে থাকেন, দয়াকরে এই লেখাটি পড়া থেকে তারা বিরত থাকবেন।) ছোট খালুদের ফ্ল্যাটে আজ দুপ…

Posted by Proloy Hasan on Monday, June 22, 2015

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য