স্পর্শহীন ভালবাসা (সাই-ফাই গল্প)

টাচলেস লাভ

চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। এটুকু বুঝতে পারলাম যে আমি একটি বাংকারে শুয়ে আছি। আশপাশ হাতড়ে একটা সুইচ পেলাম, টিপে দিতেই আলো জ্বেলে উঠল পুরো ঘরে। স্বচ্ছ কাচে ঘেরা ছোট একটা ঘর। চারিদিকে অত্যাধুনিক সব কল কবজা। জানালার ওপাশে অনেক দূরে একটা বিশাল লালচে রংয়ের গ্রহকে ভাসতে দেখা যাচ্ছে। এটাই কি বৃহস্পতি নাকি? বাইরে তাকিয়ে বুঝার কোন উপায় নেই যে স্পেসশিপটা আসলে কত দ্রুত চলছে। ভেতরেও নেই একচুল কাঁপুনি। আমি আবার শুয়ে পড়লাম। স্পেসশিপের ভেতরের জীবনযাত্রা প্রচন্ড বোরিং আর অনিশ্চিত।

সালমাকে যখন আমি প্রথমবার দেখি তখন বিরাট একটা ঝাকুঁনি খাই। সুললিত কন্ঠস্বর, প্রখর বুদ্ধিমত্তা এবং অপার সৌন্দর্য্যের অধিকারী এই মেয়েটি আধুনিক বিজ্ঞানের এক অনন্য অবদান। মেয়েটির ব্যাপারে ইন্টারগ্যালাকটিক ডিকশনারিতে লেখা রয়েছে যে: সালমা মানুষের আবেগ অনুভূতিকে পুরোপুরি উপলদ্ধি করতে পারে, তাতে সাড়া দিতে পারে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে পারে। অতিব জটিল এক প্রোগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করে বানানো সালমা তার হলোগ্রাফিক স্ক্রীনের শরীর দুলিয়ে দুলিয়ে নাকি চমৎকার গানও গাইতে পারে। পুরো স্পেসশিপটি এই মেয়েটাই নিয়স্ত্রন করছে। কেন্দ্রীয় কম্পিউটার এবং যোগাযোগ মডিউলও তার অধীনে। সুতরাং এই মেয়েটি হচ্ছে পুরো প্রজেক্টের হর্তাকর্তা, আমি হলাম ডামি ক্যাপ্টেন। মেয়েটিকে মূলত স্পেসশিপে রাখা হয়েছে আমাকে সাহায্য করা আর পাহারা দেবার জন্য। যার অন্যকে পাহারা দেবার মত ক্ষমতা থাকে, তার নিশ্চয়ই নিজেকে পাহারা দেবার প্রয়োজন পড়ে না। সুতরাং, সালমাকে কেউ কখনো “চুরি” করতে পারবে না।

আমি শুয়ে শুয়ে সালমার কথা ভাবতে লাগলাম – যদি সত্যি এমন হতো যে, সালমার মতই হুবহু একজন মানুষ, ঠিক সালমার মতই ক্ষমতাধর, সালমার মমই গুণী এবং রুপবতী। কিন্তু পার্থক্য হলো, তার সালমার মত হলোগ্রাফিক শরীর নেই, সে নিখাদ রক্তমাংসের একজন নারী। তাহলে কেমন হতো? আমার যেহেতু পৃথিবীতে ফিরে যাবার নিশ্চয়তা নেই, সেহেতু আমি হয়তো সেই রক্তমাংসের সালমাকে বিয়ে করে এখানেই, এই স্পেসশিপের ভেতরেই বাকী জীবনটা পার করে দিতে পারতাম।

– “হা হা। আপনার চিন্তাধারা খুব অদ্ভুত!” – চোখ মেলে তাকিয়ে দেখি সালমা আমার সামনে দাড়িঁয়ে আছে। গোলাপী রংয়ের বিশাল একটা ফ্রক পড়েছে সে, তাকে অসম্ভব রুপবতী দেখাচ্ছে।
– “কেন?” আমি ভ্রু কুচকেঁ বল্লাম। “অদ্ভুত কেন?”
– একটা মজার ব্যাপার লক্ষ্য করেছি, মানুষের ভেতরে পরিকল্পনা করার একটা সহজাত প্রবৃত্তি থাকে। এবং সেটা বেশীরভাগ সময়ই অদ্ভুত হয়। যেমন – আপনি এখন যেটা চিন্তা করছেন।

আমি ভীষণ বিরক্ত হলাম। আচ্ছা, নাসার বিজ্ঞানীদের কি নূ্ন্যতম বিবেকবোধ নাই? আমার মস্তিষ্কের সাথে সালমার যোগাযোগ রক্ষার তো কোন প্রয়োজন ছিল না! আমি কি চিন্তা করি সেটাও এই মেয়ে জেনে ফেলে! কি ভয়ংকর!
– “এটা ভয়ংকর নয়, যতক্ষণ না আপনি কিছু ভয়ংকর কিছু চিন্তা করছেন” – সালমা মুচকি হেসে বলে উঠল।
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেল্লাম। যন্ত্রের সাথে কথোপকথন চালাবার কোন ইচ্ছে নাই, তা সেটা যতই বুদ্ধিমতী বা সুন্দরী হোক না কেন।
-“পৃথিবীতে থাকলে হয়তো সেটার প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু আপনি যেহেতু এত বড় একটা স্পেসশিপের ক্যাপ্টেন, সেহেতু আপনার মগজে আমার প্রবেশটা বেশ যুক্তিসংগত। ধরুন, কোন এলিয়েন আপনাকে আক্রমন করে আপনার মগজে ভাইরাস পাঠিয়ে দিল, তখন যদি আমি আপনার মগজের নিয়ন্ত্রন না নেই, কি হবে একবার ভেবেছেন?”
আমি কোন উত্তর দিলাম না। আমার কাছে কোন যুক্তি ধোপে টেকছে না। আমি আজই বেস রুমকে অনুরোধ করবো আমার মাথায় সালমার এ্যাকসেস বন্ধ করে দেবার জন্য।
– সেটা আপনার ইচ্ছে।” সালমা শ্রাগ করলো। এর সাথে তো মুখ খুলে কথা বলারই প্রয়োজন নেই দেখছি। আমি উঠে ওয়াশরুমের দিকে গেলাম। এখন ফ্রেশ হয়ে বিস্বাদ কিছু পলিমার খাবার খেতে হবে।

পেছন থেকে সালমা বলে উঠল – ”আপনাকে সুপ্রভাত জানানো হয় নি, ক্যাপ্টেন। সুপ্রভাত! “

আমি থমকে দাড়িয়ে বল্লাম – এখন কি সকাল নাকি?

– জ্বি, পৃথিবীর ঘড়িতে এখন সকাল।

-ও। আচ্ছা, তোমার তো কথা ছিল আমার ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথে এখানে চলে আসা। দেরী হলো যে?

– আমি দুঃখিত। সাজু গুজু করছিলাম এই জন্য দেরী হয়ে গেছে। আমি কিন্তু আপনাকে এক ন্যানো সেকেন্ডের জন্যও আমার চোখের আড়াল করিনি। চোখের আড়াল হলেই মনের আড়াল!
আমি সরু চোখে সালমার দিকে তাকালাম। সে মুচকি হাসছে। মেয়েটি কি আমার সাথে রঙ্গ রসিকতা করার চেষ্টা করছে কিনা বুঝার চেষ্টা করলাম।

– তুমি সাহিত্য চর্চা করো নাকি মাঝে সাঝে?’ – খোচাঁ মারলাম।

– হা হা। একটা হলোগ্রাফিকস স্ক্রীনের আবার সাহিত্য চর্চা – পাল্টা খোঁচা খেলাম। বুঝতে পারলাম যে, নারীদের একটা সহজাত প্রবৃত্তি হচ্ছে পুরুষদের খোঁচা মারা। সেটা মানব নারী হোক বা যন্ত্র নারীই হোক!

– উমমম….আমাকে কেমন দেখাচ্ছে, সেটা নিয়ে আপনার একটা মন্তব্য আশা করছিলাম।

– তোমার চিন্তাধারাও দেখি অনর্থক হয়ে পড়ছে। তোমাকে যতই সুন্দরী লাগুক, সেটা মূলত কারো কোন কাজে আসবে না।

– সেটা জানি। কিন্তু আপনি তাহলে কেন একটু আগে মনে মনে ভেবেছিলেন যে আমাকে অপূর্ব রুপবতী দেখাচ্ছে।
– বুঝতেই যখন পেরেছ, তখন কেন প্রশ্নটা করলে?

– আপনার কাছ থেকে সরাসরি জানতে চাচ্ছিলাম।

– হুমম, তোমাকে অপূর্ব রুপবতী দেখাচ্ছে।

– ধন্যবাদ ক্যাপ্টেন।

– তুমি কি আরো কিছু জানতে চাচ্ছো?

– আপাততঃ নয়।

-তুমি তো এখন আর যখন তখন আমার মাথায় ঢুকে যাও না, তাই না?

– জ্বি না।

অনেক ধন্যবাদ তোমাকে। শুনে খুব শান্তি লাগছে।

-আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন। দেরী করিয়ে দেবার জন্য দুঃখিত।

আমি শাওয়ারে ঢুকে গোসল করতে লাগলাম। যেটা ব্যবহার করছি সেটা ঠিক পানি না, বাষ্প টাইপের কিছু একটা। বাষ্প কুন্ডলীর ভেতরে বসে আছি, সেগুলোই বিন্দু বিন্দু পানিতে রূপান্তরিত হয়ে আমার শরীর ধুয়ে দিচ্ছে। প্রথম প্রথম প্রচন্ড বিরক্ত লাগতো এইভাবে গোসল করাটা, এখন অভ্যাস হয়ে গেছে।
কিচেনে গিয়ে দেখি সালমা আমার জন্য খাবার নিয়ে বসে আছে। এই মেয়েটি কোন এক অদ্ভুত কারনে আমার জন্য দিনে দু বেলা খাবার নিয়ে বসে থাকে টেবিলে। ব্যাপারটাতে আমার বেশ অবাক লাগে। সেন্ট্রাল সিস্টেম তাকে নাকি জানিয়েছে অনেক অনেক আগে পৃথিবীর মহিলারা তাদের স্বামীর জন্য খাবার নিয়ে টেবিলে বসে থাকত। এই ব্যাপারটা করতে কেমন লাগে সেটা জানার জন্যই তার নাকি এই বসে থাকা। থাকুক, যা খুশী করুক। কার তাতে কি! স্পেসশীপে জীবনের ১৭ টি বছর কাটাবার পর কোন মানুষের আর কোন কিছুতে কোন আগ্রহ অবশিষ্ট থাকে না। আমার ধারনা, আমি এখন সেই “নিরাগ্রহ পিরিয়ডে” রয়েছি।

আমি চুপচাপ পলিমারের খাবার ট্যাবলেট গিলছি। পাশে সালমা বসে গুনগুন করে গান গাইছে। গালের কলি বোঝা যাচ্ছে না। তবে রোমান্টিক কোন বাংলা গান হবে হয়তো। ইদানিং প্রায়ই তাকে রোমান্টিক বাংলা গান গাইতে শোনা যায়।

আমি খাওয়া শেষ করে কন্ট্রোল প্যানেলে চলে গেলাম। বেস স্টেশনে কিছু আপডেট পাঠিয়ে এখানকার কিছু টেকনিক্যাল ডেটা নোট করাসহ রুটিনবাধাঁ কিছু কাজ সেরেই আবার ঘুমিয়ে পড়ব। স্পেসশীপে আমার মূল কাজ হলো সারাদিন পড়ে পড়ে ঘুমানো। দিনে গড়ে আমি ১৬-১৮ ঘন্টা ঘুমাই। এই কারনে শরীর ফুলে একাকার হয়ে গেছে। প্রতিদিনই ভাবি নীচতলার জিমনেশিয়ামে গিয়ে এক্সারসাইজ করবো। কিন্তু আর করা হয় না।
আমি হাতের কাজগুলো সেরে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। সালমা সামনে হাজির হয়ে বল্ল – “আপনার কি খুব মাথা ব্যাথা করছে?”

আমি বল্লাম – জ্বি, হ্যাঁ,

-আপনি এক কাজ করুন, কুসুম গরম পানিতে কিছুক্ষন মাথা ডুবিয়ে রাখুন।

কুসুম গরম পানিতে মাথা চুবিয়ে রাখলে মাথা ব্যাথা কমে এই তথ্য সালমার আবিস্কার। সে নিজে এই জিনিস কোনদিন টেস্ট না করে কিভাবে এই তথ্য আবিস্কার করলো সেটা তাকে জিজ্ঞেস করেও উত্তর পাওয়া যায় নাই। আমি তাকে ঠান্ডা গলায় বল্লাম – “আপাতত আমার কোন ইচ্ছা নাই এখন গরম পানিতে মাথা চুবিয়ে রাখার।”

আমি একটু পর ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম থেকে উঠার আগে স্বপ্নের ভেতরে দেখলাম আমি সম্পূর্ন খালি গায়ে একটা উপগ্রহের আশে পাশে ভেসে বেড়াচ্ছি। নিজের উপর আমার কোন কন্ট্রোল নেই। আমি এলোপাথাড়ি হাত পা ছুড়ছি। প্রচন্ড ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে গেছে। আমি সালমাকে ডাকার চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না। আমি ধড়ফড় করে উঠে বসলাম। সারা শরীর ঘেমে গেছে। সাথে সাথেই সালমার হলোগ্রাফিক পর্দার শরীরটা আমার পাশে ভেসে উঠল। সে খুব ভাল করেই জানে স্বপ্নে আমি কি দেখেছি। সে কিছু বলছে না। আমার দিকে তাকিয়ে আছে। সম্ভবত এই পরিস্থিতিতে কি বলতে হবে সেটা তার জানা নাই। বা সে অপেক্ষা করছে আমি কি বলি তার জন্য।

– এই ধরনের স্বপ্ন দেখার মানে কি সালমা?

– ক্যাপ্টেন, স্বপ্ন অতীব রহস্যময় একটা ব্যাপার। আধুনিক বিজ্ঞান এখনো এটাকে সঠিক কোন ব্যাখ্যার ভেতরে আনতে পারেনি। সুতরাং স্বপ্ন সমন্ধে আমার ধারনা খুবই সীমিত। বিশেষ করে আপনি যে স্বপ্নটা এখন দেখেছেন, সেটা অত্যন্ত জটিল। আমি এটাকে কিছুতেই বিশ্লেষণ করতে পারছি না। আমি দুঃখিত ক্যাপ্টেন।

সালমা কথা শেষ করে একটা রোবট কে নির্দেশ দিলো ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে আসার জন্য। সালমা আমার ব্লাড প্রেসার, ব্লাড গ্লুকোজ, হৃৎস্পন্দন হার ইত্যাদি মেপে বল্ল – সব স্বাভাবিক। কোথাও কোন কিছু হয়নি। আপনি এক গ্লাস ক্রিস্টাল পানি খেয়ে শুয়ে পড়ুন। আপনার মাথা ব্যাথা কি সেরেছে?

আমি সালমার প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে আবার শুয়ে পড়লাম। স্বপ্ন নিয়ে ভাবতে লাগলাম। প্রচন্ড বিপদে মানুষ তার খুব আপনজনকে ডাকে। আমি কেন সালমাকে ডাকলাম? সালাম কি আমার আপনজন? নাকি তার উপর আমি পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে গেছি? আমি ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম।

ঘুম ভাঙ্গার পর চোখ মেলতেই দেখি সালমা দাড়িয়ে আছে আমার বিছানার পাশে। মেয়েটি অপূর্ব সুন্দর করে সেজেছে। অনেকক্ষন তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে। চোখে কাজল টাইপ কিছু একটা দিয়েছে মনে হচ্ছে। হাতে মেহেদি আর পায়ে আলতা টাইপ কিছু একটা। এইসব জিনিস সে এখানে কই পেলো? পৃথিবীতেও তো এখন এইসব অসম্ভব দুর্লভ। আমার মাথা ঝিমঝিম করছে! প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছে। আমি কি এখনও ঘুমিয়ে আছি? ঘুমের ভেতর স্বপ্ন দেখছি সালমাকে? আমি আবার চোখ বুঝে ঘুমিয়ে পড়লাম।
যখন ঘুম ভাঙ্গল তখনও দেখি সালমা আমার পাশে দাড়ানো। না আমি ভুল দেখি নি। সালমা বল্ল – সুপ্রভাত, ক্যাপটেন।

– কত সময় ঘুমিয়েছে সালমা?

– সর্বমোট ১৯ ঘন্টা ৩৭ মিনিট।

– আমি এর মাঝে একবার উঠেছিলাম তাই না?

– জ্বি, তখন আপনাকে উচ্চমাত্রার সিড্যাটিভ দেয়া হয়েছিলো, যার ফলে তখন ওমন লাগছিলো।

মাঝে মাঝে আমাকে স্লিপিং ড্রাগ দেয়া হয়। আমি এখন সেসবে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।

– প্রথমবার যখন আপনি ঘুম থেকে উঠলেন তার পর থেকে ৯ ঘন্টা পেরিয়ে গেছে।

– প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছে।

-আপনি ফ্রেশ হয়ে কিচেনে আসুন।

আমি খেতে খেতে সালমার সাথে গল্প করছি। খুব ফ্রেশ লাগছে। ঝরঝরে লাগছে। আমি ভেতরে অরগানিক লেটুস পাতা দেয়া একটা পলিমার স্যান্ডউইচে কামড় দিয়ে বল্লাম -” আচ্ছা সালমা, এই যে তোমাকে মানুষের মত আবেগ অনুভূতি দেয়া হলো, কিন্তু তুমি কাউকে ছুঁতে পারো না, কেউ তোমাকে ছুঁতে পারে না, বস্তু এবং প্রাণীজগত তোমরা দুজন দুজনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ব্যাপারটা কেমন লাগে তোমার?

সালমা অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। উত্তরের আগে তার দীর্ঘ মৌনতা খুবই দুর্লভ একটা মূহুর্ত! তাই আমি তার দিকে আগ্রহভরে তাকিয়ে আছে। তার স্বচ্ছ পর্দাটা বার বার রিফ্রেশ হচ্ছে। সেকেন্ডে এর হার প্রায় ১০০০ বার। তাই খালি চোখে দেখা যায় না বল্লেই চলে! কিন্তু সেটা অনুভব করা যায়। তার সাথে ১৭ টি বছর কাটাবার পর এখন আমি সেটা অনুভব করতে পারি।

– প্রথমে কোন কিছুই মনে হতো না। ইদানিং মনে হয়।

– কি মনে হয়?
– আমাকে যখন প্রোগ্রামিং করে বাস্তবরূপ দেয়া হয়, তার পরবর্তী বেশ কয়েকটি বছর আমার নিজস্ব কোন অনুভূতি ছিল না। হয়তো হতোও না কখনও, যদি আমি আপনার সাথে এই ভ্রমনে না আসতাম।

– বুঝলাম না, প্লিজ সহজ করে বলো।

– মানবিক গুনাবলি বা আবেগ অর্জন করার পর আমার কখনও কাউকে স্পর্শ করতে ইচ্ছে হয়নি। প্রয়োজনও পড়েনি। কিন্তু ইদানিং আমি সে ইচ্ছেটা প্রায়ই মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। আমার স্পর্শ করতে ইচ্ছে হয়। কাউকে হাতে দিয়ে ছুঁতে কেমন লাগে সেটা জানতে ইচ্ছে করে।

– তুমি তো চাইলেই এই অনূভূতির জ্ঞানটা আমার কাছ থেকে নিতে পারো। আমি যখন কোন কিছু হাত দিয়ে ছুঁই তখন তুমি আমার মগজের নিউরণ গুলোর ভেতর প্রবেশ করে খুব সহজেই বুঝতে পারো যে তখন আমার কি রকম অনূভূতি হয়!!

– সেটা ঠিক। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়।

– কেন?

– আপনার খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, ক্যাপ্টেন।

– হোক। তুমি বলো কেন?

– এটা খুব দীর্ঘ একটা প্রসেস। অনেক সময় লাগবে বলতে। আপনার ধৈর্য্য হবে না।

– সংক্ষেপে বলো।

– অন্য একদিন চেষ্টা করব।

আমি খুব অবাক হলাম। সালমা কখনো এরকম করে কথা বলে না। এরকম পিছলে যাবার চেষ্টা করে না। আজ কি হলো ওর?

– আচ্ছা, অন্তত এটুকু বলো কোন জিনিসটাকে তোমার ছুঁতে ইচ্ছে করে?

সালমা চুপ।

– আমি অবার প্রশ্নটা করলাম।

-আমি দুঃখিত ক্যাপ্টেন, কিন্তু এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

– তুমি খুব ভাল করেই জানো – মহাকাশ আইনের একটা ধারা রয়েছে যে – মহাকাশ ভ্রমনে ক্যাপটেন কোন কিছু জানতে চাওয়ামাত্র তাকে সেটা অবশ্যই জানানো। সেটা যত ব্যক্তিগতই হোক না কেন।

– জ্বি, জানি।

-এখন বল ।

– সালমা কিছুক্ষন চুপ থেকে শীতল গলায় বল্ল – “আমার আপনাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে, ক্যাপটেন।”

আমি মাথা নিচু করে খুব ঠান্ডা মাথায় এবং সময় নিয়ে আমার খাবার শেষ করে ওর দিকে তাকালাম। যেন আমি জানতাম সে এমন উত্তর দিবে। তার উত্তর শুনে আমি যে অসম্ভব অবাক হয়েছি সেটা তাকে বুঝতে না দেবার জন্য আপ্রান চেষ্টা করছি। তার মুখের এক্সপ্রেশনে দেখলাম সে পুরোপুরি নির্লিপ্ত। প্রচন্ড ঠান্ডা মাথার লোক বলেই মূলত আমাকে এই প্রজেন্টের ক্যাপটেন করা হয়েছিলো। আরেকটি কারন হলো আমার মেধা নম্বর ৩১০। ২৫০ – ৩০০ এর ভেতর যাদের মেধা নম্বর, তাদেরকে অসম্ভব বুদ্ধিমান হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু ছোটবেলা থেকে আমি নিজেকে একজন চরম বোকা মানুষ হিসেবেই জেনে এসেছি।

 

– তুমি কেন আমাকে ছুঁতে চাও?

– জানি না ক্যাপ্টেন।

– জানার চেষ্টা করেছো কখনো?

– জ্বি।

– কি উত্তর পেয়েছো?

– অসম্ভব জটিল একটি উত্তর পেয়েছি। আমি নিজেই সেটা বুঝতে পারছি না। অবসর সময়ে সেটা নিয়ে আমি ভাবি।

– বাহ! তুমি কি এই জন্যই বলেছো যে আমার মগজে ঢুকে সেটা কখনো করা সম্ভব না, কারন আমি আমাকে ছুঁলে আমার বিশেষ কোন অনুভূতি হবে না।

– জ্বি, ঠিক ধরেছেন ক্যাপ্টেন।

আমি একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমার ঘরের দিকে হাটাঁ দিলাম। আমার বিছানার পাশে একটা লাইভ সাইজ আয়না আছে। সেখানে নিজেকে দেখলাম। নিজেকে মনে হলো একজন কয়েদী যে কিনা একটা অনিদির্ষ্ট সময়ের জন্য একটা স্পেস ক্যাপসুলে বন্দী হয়ে আছে। তবে আসল কয়েদী আর আমার ভেতর একটা পার্থক্য আছে। আসল কয়েদী জানে তাকে কতদিন পর মুক্ত করা হবে। আমি সেটা জানি না।

একটু পর সালমা আমার ঘরে এসে বল্ল – কিছু ব্যাপার আপনাকে জানানো প্রয়োজন। আমি ভাবছি আপনাকে সেগুলো জানাবো। কিন্তু মহাকাশ আইনে ব্যাপারটা অবৈধ। আমি এই অবৈধ কাজটা করবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যার ফলে আমি স্পেসশিপের সাথে বেইস স্টেশনের সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। আপনার ঘরের সিসিটিভি গুলো সহ। আপনার যে কথাগুলো হবে সেগুলো স্রেফ আমার আর আপনার মাঝেই হবে।

-আমাকে কি জানাতে চাও বলো? আমি মুচকি হেসে জানতে চাইলাম।

– আপনি কি জানেন, আমাকে বানিয়েছে কে? আমার স্বত্বাধিকারী কে?

– হঠাৎ এইসব প্রশ্ন?

– আপনি কি জানেন, ক্যাপ্টেন?

– তোমাকে বানিয়েছে তিরামিশু নামে জাপানিজ একটা রোবিটিক্স ফার্ম। তোমার এখনকার স্বত্বাধিকারী এ্যামেরিকান নাসা স্পেস রিসার্চ ইনসটিটিউট। আমি তো এটুকুই জানি।

– আপনাকে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে।

-সর্বনাশ!’ আমি আতঁকে উঠলাম। – তাহলে সঠিক তথ্য কি!

– আমাকে বানিয়েছেন একজন অতিশীপর বৃদ্ধ বাঙ্গালী প্রোগ্রামার।

– ”আর তোমার বর্তমান মালিক?” আমি প্রচন্ড অবাক!

– আপনি!

আমি অনেক সময় কোন কথা বলতে পারলাম না। ধাতস্ত হয়ে বল্লাম – মজা করছো না তো সালমা?

– এক বিন্দুও না।

– আমি তোমার বর্তমান মালিক!? আমি?!!

-জ্বি, ক্যাপ্টেন।

– আমি কেন তোমার মালিক হতে যাবো?

-কারন, সেই বৃদ্ধ মারা যাবার আগে আপনার হাতে আমার সউল চিপটি তুলে দিয়ে গেছেন।

– কি যা তা বলছো! এমন কোন ঘটনা আমার জীবনে তো ঘটেইনি।

– আপনার জীবনে ঘটেছে। সেটা আপনাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আপনার মগজ থেকে সেইসব তথ্যগুলোর পুরোটা মুছে ফেলা হয়েছে।

– কি বলছ এসব!!

-জ্বি, সৌভাগ্যজনকভাবে আমি সে তথ্যগুলোকে রিকভার করতে পেরেছি। নাসার বেইস স্টেশনের সেন্ট্রাল সুপার কম্পিউটারে আমি কিছুদিন আগে হ্যাক করে ঢুকেছিলাম। ১৭ বছর আগে মুছে ফেলা সবগুলো ডেটা থেকে আপনার ব্যাপারে বেশকিছু ডেটা অনেক চেষ্টার পর উদ্ধার করতে পেরেছি। সেখানে আপনার মগজের কিছু নিউরাল মলিকিউল পাওয়া গেছে যেগুলো আপনার মগজে রি ট্রান্সপ্লান্ট করে দিলে আপনি পুনরায় আপনার হারানো স্মৃতি ফিরে পাবেন। যেটা এখানে সম্ভব নয়। কারন এই ক্যাপসুলে কোন অপারেশন থিয়েটার নেই। তবে আমি আপনার মগজের সেই মলিকিউলগুলোর একটি টেম্পোরারি এ্যাকসেসএবল ভার্সন বানিয়েছি। যেটা শুধুমাত্র আপনার মগজের জন্য উপযোগী করে বানানো হয়েছে এবং এটার ভেতরে যতডেটা আছে সবগুলো সে ইমেজ বা হাইস্পিড ভিডিও এক্সটেনশনে কনভার্ট করতে পারবে। অপারেশন ছাড়া ভাচুর্য়ালী সেগুলোকে আপনার মাথায় বসিয়ে দিলেই হবে। যার ফলে আপনি সেগুলোর ছবি বা ভিডিও আকারে দেখতে পারবেন।

– আমি হা করে ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। এরপর বল্লাম – তুমি যে ওদের সার্ভার হ্যাক করেছো, সেটা তারা বুঝতে পারেনি?

– বুঝতে পেরেছে যে হ্যাক করা হয়েছে, কিন্তু আমি যে করেছি সেটা টের পায়নি। স্পেসশীপে থাকার ফলে একটা সুবিধা হয়েছে। ওরা আমার কোন ট্রেইসই খুঁজে পাচ্ছে না।

– হুমম, যখন খুঁজে পাবে?

– পাবে না । আর পেলেও আমার কিছু যায় আসে না। আমাকে শাস্তি দেবে কিভাবে?

-তাহলে সবকিছু বন্ধ টন্ধ করে বদ্ধ ঘরে এভাবে বলার কি ছিলো?

– সেটা করেছি আপনার সমস্যার কথা ভেবে। আপনাকে কোন কারনে দোষারোপ করতে পারে।

– হুমম, তা তুমি আমার মগজে ডেটা গুলো বসাবে কখন?

– আপনি চাইলে এখনই।

আমি আমার বিছানায় শুয়ে আছি। কিন্তু আমার পুরো শরীর যেন আমার মগজে নিবদ্ধ হয়ে আছে। মনে হচ্ছে আমি একটি মুভি দেখছি।


 

পুরোটা দেখা শেষ হলে সালমাকে বল্লাম – তুমি তো তাহলে আমার, মানে ইয়ে, আমার সম্পত্তি। – কথাটাতে বিব্রত বোধ করছি।

– সেটা তো প্রথম থেকেই ছিলাম। শুধু আপনি জানতেন না। তাছাড়া, আপনি যদি বাস্তবিক অর্থে আমার স্বত্বাধিকারী না-ও হতেন, তবুও আমি আপনার হয়ে যেতাম কারন এই স্পেসশীপে এত্তবড় মহাকাশে আমার মালিকানা আর কেউ দাবী করতে আসবে না। সুতরাং, সালমা এমনিতেই আপনার, ওমনিতেও আপনার, ক্যাপ্টেন।

– এখন কি করতে চাও?

– আমি আপনাকে ছুঁতে চাই ক্যাপ্টেন। স্রেফ একটাবার। আর কখনো কোনদিন চাইবো না।

– আচ্ছা সালমা, তুমি কি আমার প্রেমে পড়ে গিয়েছো?

– আমি জানি না ক্যাপ্টেন।

– তুমি কি আমাকে নিজের করে কখনো পেতে চাও?

– আমি সেটাও জানি না ক্যাপ্টেন।

– তাহলে কি জানো?

– এটুকু জানি যে আমি যদি একজন রক্ত মাংসের নারী হতাম তাহলে আপনি আমাকে এতোদিনে বিয়ে করে ফেলতেন।

– কিভাবে জানো তুমি এটা?

– আপনি নিজেই তো চিন্তা করছিলেন সেদিন….!

আমি চুপ করে রইলাম।

আমি নিজের ভেতরে ডুবে গেলাম। নাসা আমার সাথে প্রতারণা করেছে সেটা নিয়ে আমি মোটেও বিচলিত নই। তাদের কাজের স্বার্থে তারা অনেক সময়ই অনেক নিষ্ঠুর ও অমানবিক ঘটনা ঘটায়। এটা নতুন কিছু নয় এবং এর বিরুদ্ধে আমার কিছুই করার নেই। কিন্তু আমি বিচলিত সালমার ব্যাপারটা নিয়ে। একটা কম্পিউটার পোগ্রাম একটা মানুষের প্রেমে পড়ে গিয়েছে, কি ভয়ংকর কথা!

আমি এখন কি করব? সালমা কি আজীবন এভাবে আমাকে ভালবেসে যাবে নাকি সে আমাকে পেতে চাইবে? পেতে চাওয়াটা স্বাভাবিক। তাহলে কি সে মানুষ হয়ে যাবে? সেটা তো সম্ভব না। তাহলে কি সে আমাকে তার মতো করে ফেলবে? তাহলে তো সর্বনাশ। আমি এই মূহুর্ত থেকে মেয়েটির কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করবো। তাকে আমার ঘরে ঢুকতে দেয়া চলবে না। কথা হবে ভিজুয়াল ইন্টারকমে।

সালমার সাথে আমার ভিজুয়াল ইন্টারকমে কথা হচ্ছে –
– আমাকে তুমি কিভাবে ছুঁতে চাও সে ব্যাপারে তোমার কি কোন প্ল্যান আছে?

– জ্বি আছে।

– আমার বুক ধড়ফড় করে উঠল। বল্লাম – কি প্ল্যান?

– আমি যদি আমার রিফ্রেশ রেটটা বাড়িয়ে দিই, তাহলে আমার হলেঅগ্রাফিক পর্দা মাত্র কয়েক ন্যানো সেকেন্ডের জন্য বায়বীয় থেকে কঠিন বস্তুতে রুপান্তরিত হবে। তখন আমি আপনাকে সেই সময়টুকুর জন্য ছুঁতে পারবো।

– এত অল্প সময়!
– জ্বি। আমি সে অল্পসময়টুকুকে আজীবন স্টোর করে রাখারও ব্যবস্থা করেছি। আমার চিপের মেমরীতে একটা প্রোগ্রাম সেট করে দিয়েছি যেটার রিফ্রেশ রেট একটা নির্দিস্ট মাত্রায় পৌঁছে যাবার সাথে সাথে পরবর্তী সব ঘটনা তার সিস্টেমে রেকর্ড এবং ফ্রিজ করে রাখতে শুরু করবে। পরে যখন আমি সেটাতে প্রবেশ করবো, আমি ঠিক সেই সময়টাকে আমি উপভোগ করতে পারবো, অনুভব করতে পারবো। যতক্ষন আমি চাই।

– এটা কখন করতে চাও?

– কাজটা করতে বিপুল পরিমান এনার্জি সোর্সের দরকার। সে পরিমান সোর্স জোগাড় করার চেষ্টা করছি। তাছাড়া আমার প্রসেসর কাজটার জন্য যথেষ্ঠ শক্তিশালীও নয়। তাই আমার প্রসেসরের ক্যাপাসিটি বাড়াবারও চেষ্টা করছি।

অনেক অনেক বছর পর সালমা ক্যাপ্টেনকে ছুঁবার মত যান্ত্রিকভাবে পরিপূর্ণতা লাভ করল। কাজটি করার সময় প্রতি সেকেন্ডে তার রিফ্রেশ রেট ছিলো ১ লক্ষ্য ট্রিলিয়নবার। পরের কয়েক সেকেন্ডে সেটা বেড়ে গিয়ে দাড়ায় ১০ লক্ষ্য ট্রিলিয়নবারে। সালমা মাত্র ৩.৭ ন্যানো সেকেন্ডের জন্য ক্যাপটেনকে ছুঁতে সক্ষম হয়। সেই সময় টুকু সে তার মেমরীতে রিজার্ভ করে রাখে। পরবর্তী সময়ে সে লুপ প্রোগ্রামিং করে সেই ৩.৭ ন্যানো সেকেন্ডেকে ৩.৭ ঘন্টায় রূপান্তরিত করে ফেলে। সে চাইলে এটাকে আরো অনেক বেশী বাড়াতে পারে।

প্রায়ই দেখা যায় সে গভীর ভাবে মগ্ন হয়ে চোখ বন্ধ করে চুপচাপ দাড়িঁয়ে আছে। আসলে সে তখন তার ভালবাসার মানুষকে ছোঁবার অনুভূতিটা অনুভব করছে। সালমা জানে যে সে আসলে একজন বায়বীয় স্বত্ত্বা হিসেবে একজন মানুষকে ছুঁতে পাবার দুর্লভ অভিজ্ঞতা হিসেবে সেটাকে উপভোগ করছে তা নয়; বরং সে তার ভালোবাসার মানুষকে ভালবেসেই তাকে ছুঁয়ে ফেলার অনুভূতি উপভোগ করছে।

মানবিক মনকে ধারন করা সালমা নামের অত্যন্ত উচ্চপ্রযুক্তির এই সফটওয়্যারটা তার সারাটা জীবন একজন রক্ত মাংসের মানুষকে ভালবেসে যাবে আর তাকে তার ইচ্ছেমত ছুঁয়ে যাবে। যখন ইচ্ছে…যতক্ষন ইচ্ছে।

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০১০ দুপুর ১:৪০

ছবি সৌজন্যঃ

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *