সত্যিকার প্রেমের সংজ্ঞা কি?

সত্যিকার ভালবাসার সংজ্ঞা কি?

মজনু যখন লায়লার শহরে ঢুকে শহরের এ দেয়াল ও দেয়ালে চুমু খাচ্ছিলো, তখন লোকে তাকে মজনু পাগলা বলে ডাকতো। সেটা দেখে মজনু বলতো –

”তোমরা কি ভেবেছো শহরের ভালবাসা আমার হৃদয়কে আছন্ন করেছে? তা নয়, বরং সেখানে যে থাকে, সে-ই আমার হৃদয়কে হরণ করেছে।”

কিছুদিন পর মজনু খেয়াল করে দেখলো, লায়লার শহর দিয়ে একটা কুকুর প্রায়ই যাওয়া আসা করে। মজনু তার প্রেমিকা লায়লার জন্য এমনই পাগল ছিলো যে, সে আনন্দে অভিভূত হয়ে সেই কুকুরের পা ধরে আদর করা শুরু করলো।

সত্যিকার ভালবাসার একটা অন্যতম সংজ্ঞা হলো, প্রেমাষ্পদের সবকিছু ভালো লাগা। ভালোটা তো বটেই, খারাপটাও ভালো লাগে। মজনুর কাছে শহরের দেয়াল, কুকুরের পা – সবকিছুই ভালো লাগতো। কারন সে দেয়াল আর কুকুর ছিলো লায়লা যে শহরে বাস করতো সে শহরের।

সত্যিকারের ভালবাসা হলো, প্রচন্ড যুক্তিবাদী ছেলেটারও অযৌক্তিক হয়ে যাওয়া। বর্ষা কালের প্রচন্ড বৃষ্টিতে মাঝ রাতে প্রেমিকার বারান্দার নীচে ভিজে চিপসে যাওয়া ফুল হাতে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িঁয়ে থাকা। যেটার কোন যুক্ত নেই, আদ্যোপান্ত পাগলামি ছাড়া!

সত্যিকার ভালবাসা হলো, প্রচন্ড সাহসী মেয়েটার বুকও দুরুদুরু করতে থাকা। ফোন দিয়ে নির্ঘাত রাম ঝাড়ি খাবে, এটা জেনেও ফোন করা। এবং ফোনে ঝাড়ি খেয়েও বুকের ভেতর শান্তি শান্তি লাগা।

প্রিয় মানুষটা যখন প্রচন্ড কষ্ট দিয়ে দূরে সরে যায়, নিজেকে ফেলে আরেকটা মানুষের সাথে মিতালী গড়ে, তখনও ভালোবাসা কোন কমতি হয় না বরং মানুষট একদিন ফিরে আসবে ঠিকই – এই আশায় বসে থাকাই সত্যিকারের প্রেম।

যখন মানুষটা ফিরে আসে, বা আসার অভিনয় করছে – এটা জেনেও আবার ঠিক আগের মতো প্রগাঢ় ভালোবাসায় তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে – তার নামই সত্যিকারের ভালোবাসা।

সত্যিকার ভালবাসা হলো, সবচাইতে রূঢ় আর ড্যাম কেয়ার ছেলেটারেও প্রেমিকার সামনে দাড়াঁলে নার্ভাস হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া! সত্যিকার ভালোবাসা হলো, সবচাইতে সাহসী মেয়েটারও প্রেমিককে কল দেবার সময় হাতের তালু ঘামতে থাকা।

সত্যিকার ভালবাসা হলো বিনিময়ে কিছুই না চাইবার ভালবাসা। সত্যিকার ভালোবাসা হলো প্রেমিকার এক ধমকে ১০ বছরের সিগারেটকে ছুড়েঁ ফেলে দেয়া। সত্যিকার ভালোবাসা প্রেমিকের হু হু কান্নাস্রোতে বাধঁ ভাঙ্গা তীব্র আলিঙ্গন।

সন্ধ্যা ৬ টা থেকে পরদিন সকাল ৭ টা পর্যন্ত টানা কথা বলার পরও স্কাইপে কলটা কাটার আগে উভয় প্রান্ত থেকেই একসাথে “ওহ, আসল কথাটাই তো বলা হলো না” – বলে চেচিঁয়ে ওঠার নাম প্রেম।

কথা বলার মাঝে যখন নেট ডিসকানেক্ট হয়ে যায়, তখন নিজেদের ফোনের ব্যালেন্স, ইর্মাজেন্সি ব্যালেন্স, পাশের ঘরের ছোট ভাই/বোনের ফোনের ব্যালেন্স, নানুর মোবাইলের ব্যালেন্স, আম্মুর রূমে চুপিচুপি গিয়ে তার ফোন নিয়ে এসে সেটারও ব্যালেন্স – মানে বাসার মুটামুটি সব ফোনের ব্যালেন্স শেষ করে মন খারাপ করে ফোন রাখার নাম প্রেম।

নিজের টিফিনের টাকা বাচিঁয়ে, কোচিং আর প্রাইভেট পড়ার বারোটা বাজিয়ে, আধ মাইল পথ পায়ে হেটেঁ বাড়ী ফিরে রিকশাভাড়া বাচিঁয়ে সেই টাকা জমিয়ে বেকার প্রেমিকের হাতে একটা নতুন টি শার্ট তুলে দিয়ে “ ঐ ছেড়াঁ শার্টটা আর পড়বে না তুমি!” – বলার নাম প্রেম।

রাত ১২টার সময় বিদায় দিয়ে বাসায় ফিরে ফোনটা হাতে নিয়ে প্রবল উৎকন্ঠা, তারপর মোবাইলের একটা ছোট্ট ম্যাসেজ “just arrived home” – পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার নাম প্রেম।

প্রেমিকের মুখ থেকে প্রথমবারের মতো শোনা, “তোমাকে জিনসের প্যান্টে মানায় না।” মেয়েটা বুঝলো, উনি চায় না যে ও জিনস পরুক। সেদিন সন্ধ্যায় বাসায় এসে সে তার আলমারিতে ধুয়ে স্ত্রি করে পরিপাটি করে রাখা ৫টা দামী জিনসের প্যান্ট নামিয়ে হাসিমুখে ছাদে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলল। এর নাম প্রেম।

( পরে আরো আপডেট হবে। আপাততঃ ডিনারে গেলাম।)

মধ্যবয়স পার করে দেবার পরও ছেলেটা নার্ভাস হয়ে যায়, মেয়েটার সামনে আসলে। তার মুখে কথা জড়িয়ে যায়, অথচ ছেলেটি সুনাম আছে ভালো আবৃত্তিকার হিসেবে। ছেলেটা ঐ মেয়েটার চাইতেও সুন্দরী মেয়ের সাথে মিশেছে, হাজারটা মেয়ে তার ফ্যান, কোথাও দেখা হলে তাকে সুন্দরীরা অটোগ্রাফের জন্য ছেকেঁ ধরে, অথচ সেই ছেলেই তার প্রেমিকার সামনে আসলে তার হার্টবিট বেড়ে যায়, নার্ভাস হয়ে তোতলাতে থাকে। এর নাম প্রেম।

মেয়েটি তার চেয়ে ৩ বছরের ছোট একটা ছেলের প্রেমে পড়েছে। নিতান্তই বাচ্চা একটা ছেলে, অথচ তার সামনে আসলেই মেয়েটি মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কি করে সময়গুলো উড়ে যায় টেরই পায় না। এর নাম প্রেম।

মেয়েটি ৫ বছরের প্রেমের পর তার বিএফকে বিয়ে করে, অথচ ৩য় এনিভার্সারীর পরেও স্বামীর সামনে আসলে মেয়েটির হাত পা ঘামা শুরু করে, কপালে ঘামে, আর হার্টবিট বেড়ে যায়। কি করবে ভেবে পায় না। এর নাম প্রেম।

মহিলাটি ঘর ভর্তি করে ভাসিয়ে ফেল্ল বমি করে। স্বামিটি কোনকিছু না ভেবেই তার দু হাত পেতে দিলো তার বমির স্রোতের নীচে। একটু পর পরিস্কার হয়ে এসে মহিলাটিকেও পরিস্কার করে দিয়ে হাসিমুখে তার মুখ মুছিয়ে দিলো। এর নাম প্রেম।

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *