লিটনের ফ্ল্যাট

অফিসে ওয়েব ডেভেলপার রিক্রুটিং চলছে কিছুদিন ধরে। তাই প্রসংগক্রমে মনে পড়লো বছর দুয়ের আগে আমার প্রাক্তন সফটওয়্যার ফার্মে রিক্রটিং এর একটা ঘটনা যেটা মনে পড়লে এখনো দারুন মজা পাই।

তৎকালীন লিড প্রোগ্রামার টিপু ভাই খুবই নির্ভেজাল টাইপ মানুষ, তাই কোড লেখা ছাড়া অন্য কোন কাজে তিনি বড়ই অনীহা প্রকাশ করেন। অথচ সেই টিপু ভাইকেই আমাদের বস অনেক জোরাজুরি করে বসিয়ে দিলেন ইন্টারভিউ বোর্ডে। সেখানে আমিও ছিলাম। আমি দেখলাম টিপু ভাইর ভ্রু কুচঁকে আছে। খুবই বিরক্ত তিনি। কারন লাইভ সার্ভারে কাজ করছিলেন, জটিল ও আর্জেন্ট কাজ। সেখান থেকে তাকে বলতে গেলে কোলে করে তুলে ইন্টারভিউ বোর্ডে বসিয়ে দেয়া হয়েছে। কারন, ইন্টারভিউ বোর্ডের একজন অসুস্থ্যতার কারনে আসতে পারেনি সেদিন।

প্রথম যে ছেলেটাকে ডাকা হলো, তার নাম লিটন। বোর্ডে আমি, বস, প্রজেক্ট ম্যানেজার আর টিপু ভাই। সবাই গুরু গম্ভীর মুখে বসে আছেন। এর মধ্যে হঠাৎ টিপু ভাই কথা শুরু করলো।

– আপনার নাম লিটন?
– জ্বি। 
– ঢাকাতে কোন ফ্ল্যাট টাট আছে আপনার?
– সরি স্যার? … না স্যার নাই। (ছেলেটা ব্যাপক থতমত খেয়ে গেসে)
– আপনার নাম লিটন আর ঢাকাতে ফ্ল্যাট নাই এইটা কোন কথা? (টিপু ভাই তখনো ভ্রুঁ কুচঁকে আছে। আমি অনেক কষ্টে হাসি চেপে আছি।  )

ঠিক তখনি বস এনামুল ভাই ইন্টারভিউয়ের গ্রীপ না নিলে টিপু ভাই যে আর কি কি সব প্রশ্ন করতো আল্লাহই জানে। যাক তার বুদ্ধি কাজে লাগছিলো। লিটন নামের ঐ ছেলেটার ইন্টারভিউ শেষ হবার পর পরই টিপু ভাইকে তার ডেস্কে ফেরত পাঠানো হয়েছিলো। 

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *