রাশ (The Rush) নিয়ে একরাশ ভাল লাগা

rush-movie-poster-10Just Finished Watching Rush, and its wroth each and every piece of my penny, each and every second of my time~!

৭০ এর দশকের থিমে তৈরী করা এই মুভিটি প্রথম যেদিন টরেন্ট সাইটগুলাতো এসেছিলো, সেদিন কোন কিছু বাছ বিচার না করেই নামিয়ে ফেলেছিলাম ১০৮০পি প্রিন্টটা। প্রথমে ভেবেছিলাম কার রেসিং মুভি, এমন আহামরি কিছু হবে না। কিন্তু আইএমডিবি রেটিং দেখে তো চক্ষু চড়কগাছ! ৮.৩, রেটিং দিয়েছে প্রায় লাখ দেড়েক লোক। কিন্তু মুভির ব্রিফ সাইনোপসিসটা মাত্র দেড় লাইনের। এরপর যখন দেখতে বসলাম, কিভাবে পুরোটা সময় কেটে গেলো টেরই পেলাম না! আরো মজার ব্যাপার, মুভিতে দেখতে পাওয়া বেশীরভাগ ঘটনাই কিন্তু সত্যি। স্রেফ কল্পনা নয়।

rush_ver11

গ্রেইট বিট্রেনের পেশাদার ফরমূলা ওয়ান রেসার জেমস হান্ট একজন অত্যন্ত সুদর্শন তরুন, যে কিনা প্রতি রেসের আগেই প্রচন্ড উত্তেজনা আর টেনশানে হালকা বমি করে। সে ১৯৭৬ এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো। সে এক শ্বাসরুদ্ধকর ইতিহাস। কারন তার রেসের দিনটা অন্য আর দশটা সাধারন দিনের মতো ছিলো না। বাস্তব জীবনে হান্ট ছিলো খুবই প্লে বয় চরিত্রের একজন মানুষ। নারীসঙ্গ, উদ্দাম যৌনতা ও সুরা খুবই পছন্দ করতো। মুভিতেই দেখা যায়, সে পর পর তিনটি নারীবন্ধু পাল্টিয়ে শেষতক একজন উঠতি মডেলকে বিয়ে করে বসেন! কিন্তু সে জীবিকার তাগিদ-তাড়িত শুধুই একজন পেশাদার “রেসিং-কার চালক”!

Rush_movie_posterঅপরদিকে অষ্ট্রিয়ার বিখ্যাত ব্যবসায়ী ও অভিজাত পরিবারের সন্তান নিকি লাউডা। ব্যবসা করা তাদের পরিবারের ঐতিহ্য, নিকির বাবাও চায় বংশের ধারা বজায় রেখে নিকিও ব্যবসা করুক। কিন্তু নিকি এমনই একরোখা ও এমনই আত্নবিশ্বাসী ছিলেন যে, তার বাবার মুখের উপর না করে দিয়ে সে চলে আসে। বলে, “আমি যেদিন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবো, সেদিন তুমি আমার নামও পত্রিকার প্রথম পাতায় দেখবে।” (রেসে ঢোকার প্রথম দিন থেকেই নিকি জানতো সে হবে চ্যাম্পিয়ন। এবং ইতিহাস বলে, পর পর ৩ বার তিনিই চ্যাম্পিয়ন হন।) তার বাবার কাছ থেকে সে এক কানা কড়িও নেয় না। আমরা জানি যে, ফরমূলা রেসিংয়ে অংশগ্রহন ও এর আগের প্র্যাকটিসের জন্য প্রচুর পরিমান অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই রেসিং কারের ড্রাইভের প্রতিবারই স্পন্সর খুজঁতে হয়। কিন্তু নিকি লাউডা তার ধনী বাবার কাছ থেকে কোন টাকা পয়সা না নিয়ে, ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমান অর্থ ঋন নিয়ে সে কার রেসিং এ নামে। বাস্তব জীবনের নিকিও নাকি ঠিক এমনটাই ছিলেন।

rush_ver6অথচ  জেমসের মতো নিকি স্রেফ একজন রেসিং কার ড্রাইভার ছিলেন না। তার মুখেই শোনা যাক – “ আমি রেসিং ভালো বুঝি বলেই এখানে এসেছি। এখানে ক্যারিয়ার গড়তে চাই। অন্য কিছু ভাল বুঝলে হয়তো অন্য কিছুই করতাম।” সে ছিলেন একজন রীতিমতো দক্ষ, সেলফ লার্নড, অত্যন্ত অভিজ্ঞ একজন রেসার। সে তার জীবনের প্রথম রেসিং গাড়ীটি একজন দক্ষ এ্যারোডাইনামিক ইঞ্জিনিয়ারের মতো নিজের মতো করে গড়ে তোলে। এমনকি পেশাদার ও অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারও তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দেখে অভিভূত হয়ে যায়। রেসিং কারের গঠন, ধরন নিয়ে সে প্রচুর পড়াশোনা করেছে, প্রচুর পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছে। সে ছিলো খুব ঠান্ডা মাথার লোক। সে বিশ্বাস করতো, রেসে জিতলে হলে শুধু গতি নয়; একাগ্রতা, উপস্থিত বুদ্ধি, পর্যাপ্ত জ্ঞান আর ধৈর্য্যও প্রয়োজন। রেসিং এর ব্যাপারে তার জ্ঞান ও আত্নবিশ্বাস কি পরিমান ছিলো, তা মুভির একটা ঘটনায় টের পাওয়া যায়।

rush_fan_made_movie_poster_by_miamsolo-d64voa0একের পর এক নিকি যখন প্রতিটা রেস জিতছিলো, তখন স্পেনের একটা রেসে হঠাৎ করেই সে জেমসের কাছে হেরে যায়। হারার পর নিকির হিসাব ওলট পালট হয়ে যায় কারন এটা কিছুতেই হবার কথা ছিলো না। সে কারন খুজঁতে খাকে। এবং পেয়েও যায়। জেমসের রেসিং কারটার পেছনের দু চাকার মাঝের মাত্র ১.৫ সেন্টি মিটারের বাড়তি ব্যবধানটা সে ধরতে পারে। এত ক্ষুদ্র পার্থক্য ধরে ফেলা একজন মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিলো, যদি না সেই মানুষটা নিকি লাউডা হতো! সমস্যা সেটা না, সমস্যা হলো, ব্যাপারটা রেসিং গাইডলাইনের পরীপন্থী এবং অবৈধ। ফলশ্রুতিতে, জেমসের গাড়ীকে ডিসকোলায়ালিফাইড করা হয়। এবং কাজে কাজেই, তার জয়ী হওয়াটাও বাতিল হয়ে যায়।

final

বাস্তব জীবনে কি অদম্য আর ভীষন রকমের একরোখা ছিলেন নিকি। সারা শরীরে দগদগে ঘাঁ, সেই ঘাঁয়ের উপরই চিৎকার করতে করতে মাথায় রেসিং হেলমেট পড়ার প্রানান্ত চেষ্টা…এবং সে চেষ্টায় সফলও হওয়া…
থরের নায়ক হিসেবে, মুভির শুরুতেই আপনি হয়তো জেমসের পক্ষে চলে যাবেন। কিন্তু পরবর্তীতে জেমসের প্রায়-উশৃঙ্খল জীবন ও নিকি লাউডারের নম্রতা ও বদান্যতা ও জ্ঞান আপনাকে মুগ্ধ করে দেবে। আপনি আপনাতেই চাইবেন, নিকিই পরের রেসগুলোতে জিতুক। কিন্তু মুভি যতই এগুবে, ততই আপনি দিধান্বিত হবেন, রেস ট্রেকে আপনি কার জয় চাইবেন? নিকি নাকি জেমস? কারন ততক্ষনে দুজনেই আপনার প্রিয় হয়ে উঠেছেন!

cinema--rush--a-ugc-les-halles-parisএকটা ব্যাপার বুঝলাম, এখনকার মতো সেসময়বার টেবলয়ডেও হলুদ সাংবাদিকতার ছড়াছড়ি ছিলো। জেমসের সাথে তার স্ত্রীর ছাড়াছাড়ি হবার পর কার্যকারন হিসাবে সে সাংবাদিকদের কাছে বলে এক, কিন্তু তারা ছাপায় আরেক। তার মানে আসলে, সেলিব্রেটিদের নিয়ে যেসব ঘটনা ছড়ায় বা নিউজ হয়, তার পুরো দায় আসলে মিডিয়ার এবং তার চাইতেও বড় কথা, সে সবের বেশীরভাগই বানোয়াট।

বাজে সাংবাদিকতার আরেকটি বাজে উদাহরন মুভিতে দেখতে পাওয়া যায়। এক প্রেস কনফারেন্সে নিকিকে একজন সাংবাদিক খুবই অভব্য এবং অপমানকর একটা প্রশ্ন করে। নিকি শুধু জবাবে তাকে এফ ওয়ার্ড বলে। কিন্তু কনফারেন্সে শেষে, নিকিকে অভব্য প্রশ্ন করার অপরাধে একজন মানুষ সেই সাংবাদিককে জেনারেটর রূমে গিয়ে পিটিয়ে তাকে রক্তাক্ত করে। সেই মানুষটি আর কেউ নন, নিকির চির প্রতিদ্বন্দী জেমন হান্ট! অপরদিকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিকি জেমনকে ঈর্ষা করে গেছেন। পাঠক, হিংসা নয়, ঈর্ষা করেছেন তিনি। দর্শক অবাক হবেন, সবচাইতে শক্ত অপনেন্টের প্রতি রেসিং ট্র্যাকের বাইরে একজন বিশ্বসেরা রেসারের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা দেখে!!

20130803-074444মুভির শেষের দিকে দর্শকরা হঠাৎ করেই আসল জেমস হান্টকে দেখতে পাবেন। সেই ব্লন্ড চুল, লম্বা এক হারা গড়ন আর চোখা নাকের জেমস, সেভেনটিসের ফ্যাশনদুরস্ত একজন সুর্দশন তরুন। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে সত্যিকারের নিকি লাউডের ভয়েস…যে জেমসের ব্যাপারে তার মুগ্ধতার বয়ান করছে…
শেষ করছি দুজনের দুটি কোটেশন দিয়ে। খুব ভাল লাগার দুটি কোট।

rush-film-movie-posterNiki: “Stop thinking of it as a curse to have been given an enemy in life. It can be blessing too. A wise man gets more from his enemies than a fool from his friends.”

[জীবনে শত্রু থাকাকে অভিশাপ মনে করো না। এটা তো আর্শীবাদও হতে পারে। একটা বোকা লোক তার বন্ধুর কাছ থেকে যা পায়, একজন বুদ্ধিমান মানুষ তার শত্রুর কাছ থেকে তার চাইতেও বেশী পায়।] 

নিকিকে বলা জেমসের শেষ কথা:

James Hunt: I intend to enjoy myself first. Some of life needs to be for pleasure. What’s the point of having a million cups, medals and planes if you don’t have any fun? How is that winning?

[আমি নিজেকে সবার আগে উপভোগ করতে চাই। কিছু জীবন শুধু সুখের জন্যই থাকা উচিত। তুমি যদি জীবনকে উপভোগই করতে না পারো, তবে লাখ লাখ কাপ, মেডেল আর প্লেন পেয়ে কি লাভ বলো? সেই জেতার মানেই বা কি?]

রাশ আমার জীবনে দেখা অন্যতম সেরা একটা মুভি হয়ে থাকবে। হয়তো কখনো ভুলতে পারবো না এটার কথা…! কারন Its NOT just about racing, its way more than that!

WFTCRMImageFetch.aspx

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *