মহিষের মাংসের লোভ দেখিয়ে ভোট আদায়

জয়পুরহাটের ইউপি নির্বাচনে একজন নারী প্রার্থী দারুন লোভনীয় এক উপায়ে জনসংযোগ শুরু করেছেন। তিনি প্রচার করছেন, ভোটে জিতলে তার গ্রামের সবাইকে দাওয়াত করে মহিষের মাংস দিয়ে ভাত খাওয়াবেন। লক্ষাধিক টাকা দিয়ে মহিষও কেনা শেষ। সেই মহিষের গায়ে রীতিমতো পোষ্টার সেটেঁই এখন চলছে তার গনসংযোগ। যদিও তার অপজিশন পার্টির দাবী, মহিষটি আদতে ভাড়া করে আনা হয়েছে! 

জয়পুরহাটে দুর্ভিক্ষ চলছে কিনা জানি না, অথবা সেখানকার লোকজন মহিষের মাংস বিশেষ পছন্দ করেন কিনা তাও জানি না তবে এ সংবাদ শুনে আমার মনে পড়ে গেলো, ছোটবেলায় বিটিভিতে দেখা হুমায়ূন আহমেদের নাটক ‘খাদক’ এর কথা। যেখানে একজন গ্রামবাসী এক বসায় আস্ত এক গরু খেয়ে ফেলে। পুরো গরুটা খেতে সে সময় নিয়েছিলো তিন দিন। ভয়াবহ অবস্থা।

আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন নিদারুন ভোজন রসিক। তার উপর আমি গরুর মাংস অত্যধিক পছন্দ করি। টানা বেশকিছুদিন একই খাবার খেলে নাকি অরুচি ধরে। আমি এটা পরীক্ষা করার জন্য টানা দুই সপ্তাহ গরুর মাংস ভূনা খেয়েছি। আমার বিন্দুমাত্র অরুচিও ধরেনি। আমার জিহবাতে স্রষ্টা এমনিতেও মারাত্নক রুচি দিয়েছেন অবশ্য!

ছোট বেলায় দেখেছি বিভিন্ন উপলক্ষ্যে আমাদের গ্রামের বাড়ীতে আমাদের দাদা-চাচারা বেশ আয়োজন করে বিশেষ এক ধরনের খাবার রান্না করার ব্যবস্থা করতেন। গঞ্জ থেকে ৩ জন এক্সপার্ট বার্বুচি ডাকিয়ে আনা হতো। তারা আমাদের উঠানে বিশাল বড় বড় কয়েকটা গর্ত করে টেম্পোরারি মাটির চুলা বানিয়ে ৪/৫টা ডেকচিতে ফজরের নামাজের পর থেকেই রান্নার জোগাড়যন্ত্র শুরু করে দিতেন। বাড়ীর আয়া-বুয়ারা মসলা বেটে রেডি করে রাখতেন আগের রাতেই। টানা জোহরের ওয়াক্ত পর্যন্ত রান্না বান্না চলতো।

সেই খাবারে প্রতিবারই অবধারিতভাবে থাকতো কয়েক মন মহিষের মাংস। সাথে নতুন ছোট আলু, আটার গুড়া আর রাজ্যের গরম মসলা। আমন্ত্রিত অতিথিরা জোহরের নামাজ পড়ে এসে আমাদের উঠানে কলাপাতা বিছিয়ে খেতে বসে যেতো। আটার গুড়া দেবার কারনে মাংসের ঝোালটা খুবই ঘন হতো। গরম ভাত, মহিষের লালচে মাংস আর বাতাবি লেবু দিয়ে সেই তরকারী মুটামুটি অমৃতের কাছাকাছি ছিলো। আমি এর স্বাদ এবং ঘ্রান জীবনেও ভুলবো না। আমি জানি না, এইরকম অদ্ভুত রেসিপিতে বাংলাদেশের আর কোন জেলায় ভূড়িভোজ হয় কিনা।

সংবাদটি পড়ে আমার ভোজন রসিক জিভে যথারীতি জল চলে এসেছে। কারন আমি চোখ বন্ধ করতেই আমাদের গ্রামের সেই বিশেষ রান্নার দৃশ্য আর নাকে সেই ঘ্রান চলে আসলো। আমি জয়পুরহাটে থাকলে হয়তো উক্ত ভদ্রমহিলাকে ভোট দিয়ে বসতাম এবং তিনি জিতে গেলে ছ্যাবলার মতো খুব কাছ থেকে মহিষ রান্না দেখতাম।

বলা বাহুল্য, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, ভোটারদের মহিষ জবাই করে খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ভোট চাওয়া নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। কেউ অভিযোগ করলে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *