বিচারপতি ও পেশকারের কথোপকথন

Behind-the-Scenes-Logos-and-Partnerships_1
স্থান: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের অফিস। তিনি মুখ গম্ভীর করে বসে আছেন। এই মাত্র তিনি কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় দিয়ে আদালত থেকে বের হয়ে নিজের অফিসে এসে বসেছেন। বাইরে তখন তুমুল আন্দোলন চলছে। পাবলিক একটু পর পর স্লোগান দিচ্ছে – “এই রায় মানি না, মানবো না। ওবায়দুল হাসান নিপাত যাক। কাদের মোল্লার ফাসিঁ চাই।” আদালত প্রাঙ্গনের পুলিশ জনগনের ভীড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

এমন সময় ওবায়দুল হাসানের পেশকার ভেতর ঢুকলেন। সালাম দিলাম। সালামের উত্তর না দিয়ে হাসান সাহেব বল্লেন –

– আমি না বল্লাম এই সময় যেন আমার ঘরে কাউকে ঢুকতে না দেয়া হয়।
– জ্বি স্যার, জানি। তাইতো খোজঁ নিতে আসলাম আপনার কোন সমস্যা হলো কিনা। আপনি তো এমন করেন না…
– তুমি এখন যাও।
– জনগনতো এই রায় প্রত্যাখান করেছে স্যার।
– জনগনের প্রত্যাখ্যান করবে কি করবে না, সেটা মাথায় রেখে তো আর আমরা বিচারের রায় দিই না।
– তা ঠিক। কিন্তু স্যার এই জল অনেক দূর গড়াবে মনে হয়…
– শোন যেইটা বোঝ না সেইটা নিয়ে কথা বলবে না। জামাতী নেতাদের ফাসিঁ দেয় এমন বুকের পাঠা ট্রাইবুনালের কারো নাই।
– ঠিক বলছেন স্যার। জানের মায়া তো সবারই আছে।
– ইয়ে, জামাতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী বা ওদের কেউ আসলে বলবেন তো আমার সাথে জরুরী ভিত্তিতে দেখা করতে।
– জ্বি স্যার বলবো। তবে কি জানেন স্যার….যে রায় দিয়েছেন, এখন আর তাদের প্রয়োজন নাই আপনাকে। আপনার প্রয়োজন শেষ।
– বলছে তোমাকে? এখনো ৫ জন আছে ভিতরে। সবে তো শুরু হলো।
– সেইটা জানি স্যার তবে তারা টাইম মতো সব শুরু করবে। আর আপনিও বাপ বাপ করে…যাক স্যার কিছু প্রশ্ন ছিলো…
– কি প্রশ্ন?
– বাচ্চু রাজাকার পলাতক। তাকে দিলেন ফাসিঁ। আর হাতের কাছে কাদের মোল্লাকে দিলেন যাবজ্জীবন। কেন স্যার?
– এইটেই যদি না বুঝো তাইলে তুমি আর কিসের পেশকারী করো? চাকরী ছেড়ে দিয়ে মুচির ব্যবসা করো।
– আর বলতে হবে না স্যার। বুঝছি।
– কি বুঝছো বলো।
– কাদের মোল্লাও যদি বাচ্চুর মতো পলাতক থাকতো তাইলে কাদেরকেও ফাসিঁ দিতেন। জনগন জানতো বিচারের উপযুক্ত রায় হয়েছে। আবার বাচ্চু রাজাকার যদি হাতের কাছে থাকতো তাইলে তাকেও দিতেন যাবজ্জীবন…তাছাড়া কাদের মোল্লা জামাতের উপর মহলের নেতা। সে হিসাবে বাচ্চু রাজাকার তো….

– হুম, সবই তো বুঝছো। তাহলে আবার প্রশ্ন করো কেন? (পেশকারকে শেষ করতে না দিয়ে বলে উঠলেন)
– আরেকটা প্রশ্ন ছিলো স্যার।
– আবার কি প্রশ্ন?
– কাদের মোল্লাকে যে যাবজ্জীবন দিলেন, স্যার, বেয়াদপী মাফ হয়, এটা কি সশ্রম কারাদন্ড নাকি বিনাশ্রম কারাদন্ড?
– সেইটা দিয়া তোমার দরকার কি? সংবাদপত্রে কি লিখছে?
– শ্রমের ব্যাপারে তো কিছুই লিখা নাই স্যার।
– তাইলে এইবার অফ যাও। কাদের সাহেব বুড়ো মানুষ। সশ্রম কারাদন্ড দেয়া তো অমানবিক।
– কথা সত্য স্যার। এত বয়স্ক একজন মানুষকে সশ্রম কারাদন্ড দেয়া যায় না। দুয়েকটা পত্রিকায় অবশ্য লিখছে স্যার সশ্রম কারাদন্ড দিছেন আপনি।
– তারা ভুল লিখছে। আমি দিয়েছি আর আমিই জানি না? সাংবাদিকরা হচ্ছে অরিজিনাল ছাগল।
– স্যার ট্রাইবুনাল তো সুপ্রিম কোর্টে আপীল করবে বলতেছে।
– বলুক। তারা এইটা বুঝতেছে না যে সুপ্রীম কোর্টে আপীল করা মানে তাদের নিজের পায়ে কুড়াল মারা।
– কেন স্যার? (পেশকার অবাক)
– আমি তো তাও যাবজ্জীবন দিয়েছি। সুপ্রীম কোর্ট দেবে বেকসুর খালাস!
– বলেন কি স্যার!!

– ট্রাইবুনালের ভেতর জামাত যে কি সেট করে রেখেছে সে বিষয়ে তোমাদের কারো ধারনাও নাই। চারিদিকে টোপ সেটাপ করা, ঠিকমতো টোপ ধরতে পারলে বাকী জীবন আর কিছু করতে হবে না। জান-মালের নিরাপত্তা তো পাবেই, বাকী জীবন পায়ের উপর পা তুলে খাবে। সুতরাং, ট্রাইবুনালের কারো সাথে দেখা হলে বলবে, আমার রায় নিয়েই যেন খুশী থাকে। আপীল টাপীলে যেন না যায়।
– তাহলে স্যার আওয়ামিলীগ যে যুদ্ধাপরাধীদের ব্চিার করবে বলছিলো, সেইটার কি হবে?
– আরে বেকুব তারা তো আর ফাসিঁ দিয়ে বিচার করবে সেইটা বলে নাই। শুধু বলছে বিচার করবে। এক মাসের জেল জরিমানাও তো আইনের দৃষ্টিতে বিচার। নাকি?
– হুম সেইটাও তো কথা।
– শোন, তুমি-আমি হলাম আদার ব্যাপারী। জনগনও আদার ব্যাপারী। কি দরকার খামোকা জাহাজের খবর নিয়ে বলো?
– কথা ঠিক বলছেন স্যার। একদম ঠিক। আরেকটা প্রশ্ন স্যার।
– তুমি তো ভাল যন্ত্রনা করছো।
– স্যার এই শেষ। তিনটা অভিযোগ ১৫ বছর করে আর দুটাতে যাবজ্জীবন, তাহলে আপনি তো সব মিলিয়ে কারাদন্ড দিয়েছেন টোটাল ৬০ বছরের। স্যার এই রায় তো জীবনেও কার্যকর হবে না। দন্ড শেষ হবার আগেই তো কাদেরর ভবলীলা সাঙ্গ হবে।

– তুমি কি ভাবছো আমার রায়ের কারনে কাদের মোল্লা জেলের ঘানি টানবো বাকী জীবন? এত বড় বেকুব তুমি? এই সরকার যতদিন আছে ততদিন সে হাজতে বসে পোলাউ কোরমা খাবে। পান চিবাবে। কোনমতে এই সরকারকে যেতে দাও। তারপর বুঝবা কত চাউলে কত পোলাউ।
– স্যার বুঝি এই ভয়েই আগে থেকে….
– তুমি এখন যাও তো। মাথা ধরেছে। আর শোন, তোমার সাথে এতক্ষন যা যা বল্লাম এসব যেন বাইরে না যায়। এমনিতেই স্কাইপ নিয়া কেলেংকারীর রেশ এখনো যায় নাই।
– মাথা খারাপ স্যার, তাইলে তো আামি নিজেও ফাসঁবো। তবে স্যার সাংবাদিক আসলে কি বলবো?
– বলবা আমরা উচ্চ আদালতে আপীল করছি খুব শীঘ্রই। এ রায় ট্রাইবুনালের কেউ মানে নাই। আর আমার কথা জানতে চাইলে বলবে আমি অফিসে নাই।
– ঠিক আছে স্যার। আপনি যেইটা বলেন।
– স্যার আরেকটা প্রশ্ন।
– তোমার প্রশ্ন এখনো বাকী আছে?
– স্যার আমার ব্যাপারটা যদি একটু দেখতেন….আমারও তো জান আছে বউ ছেলে মেয়ে আছে। মেয়ের জামাইকে বসুন্ধরায় একটা ফ্ল্যাট কিনে দেবো বলছিলাম। এখন সে চাপ দিতেছে….
– আমারটা পেমেন্টই তো পুরো পেলাম না এখনো। আমারটা পেলে তোমারটাও দেখবো। এখন যাও।
– স্যার সত্যি বলছেন?
– হ্যা বলছি।
– আপনাদের দিয়ে তো বিশ্বাস নাই (বিড় বিড় করে)
– কিছু বল্লা?
– স্যার বল্লাম যে আপনার দয়ার শরীর। এখন যাই স্যার। আপনি বিশ্রাম নেন।

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *