বাড়িওয়ালা-বিয়ে-গ্যারেজে অফিস-বিড়ম্বনা

আমার বাল্যবন্ধু তার বাড়িওয়ালাকে মাসখানেক আগে থেকে বলে রেখেছে, ’আংকেল, আপনার ৭ তলার ফ্ল্যাটটা আমি ভাড়া নিতে চাই। অফিস বানাবো।’ আংকেলও সায় দিয়েছেন। জানালেন, সাত তলার ছোট্ট ফ্ল্যাটটিতে একটা ব্যাচেলর ছেলে থাকে। আংকেল সেই ব্যাচেলর ছেলেটিকে সাফ জানিয়ে দিলো, ব্যাচেলরদের আর ভাড়া দেয়া হবে না বলে তিনি সিন্ধান্ত নিয়েছেন। সে যেন আগামী মাস থেকে অনত্র বাসা খুজেঁ।

আংকেল নিশ্চিতমনে বন্ধুকে জানায় দিলো, ৭তলার ফ্লাটটা আগামী মাসেই খালি হয়ে যাবে। বন্ধুও নিশ্চতমনে অফিসের জোগাড় যন্ত্র করতে লাগলো। এমনকি, বাড়িওয়ালা আংকেলকে বেশ কিছু টাকা এডভান্সও করলো অফিসের ভাড়া বাবদ।

দুই সপ্তাহ পর। আংকেল সেই ৭ তলার ব্যাচেলরকে আবার নক দিলেন দরজায়। উদ্দেশ্য, অনত্র বাসা খোজাঁর কদ্দুর, সেটার আপডেট নেয়া। দরজা খুললো ঘোমটা দেয়া একটা অল্পবয়সী সুন্দরী মেয়ে। একটু পর পেছনে এসে দাড়াঁলো সেই ছেলেটি। তার মুখের হাসি একান ওকান। আংকেল মুটামুটি হতভম্ব।

– নতুন বাসা খোজাঁর কদ্দুর, বাবা? 
– বাসা খুজঁবো কেন আংকেল? 
– কেন? তোমাকে না সেদিন বল্লাম আমি আর ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া দেবো না?
– আংকেল বাসা মনে হয় খোজাঁ লাগবে না! 
– মানে?
– আংকেল আমি আর ব্যাচেলর না। আমি গত পরশু দিবাগত রাত্রিরে বিবাহ করেছি।  
– তাই নাকি? (আংকেলের চোয়াল ঝুলে পড়লো)
– জ্বি আংকেল। এই রিমি, তাকিয়ে কি দেখতেছো? ইনি আমাদের বাড়িওয়ালা আংকেল। কদমবুসি করো।

মেয়েটা ঘোমটাটা টেনে আরো লম্বা করে আংকেলকে পা ছুয়েঁ সালাম করলো। আংকেল বিড়বিড় করে মেয়েটার মাথায় রেখে কি বল্ল শোনা গেলো না। মনে হয় বল্ল বেচেঁ থাকতে।

বন্ধুকে এসে বাড়ীওয়ালা বল্লঃ

– বাবা, একটা ঝামেলা হয়ে গেছে।
– কি হয়েছে আংকেল?
– হারামজাদা তো বিয়ে করে ফেলেছে। 
– কোন হারামজাদা বিয়ে করে ফেলেছে?
– ৭ তলার ব্যাচেলর হারামজাদা!
– সর্বনাশ বলেন কি আংকেল? আমি এখন কি করবো?
– বুঝতেসি না, হারামজাদা এত তাড়াতাড়ি বিয়ে কিভাবে করলো এইটা একটা রহস্য!
– আংকেল রহস্য পরে সলভ করেন, আমার কি করবেন করেন।
– তুমি চিন্তা করো না বাবা, আমি একটা ব্যবস্থা করতেছি দাড়াঁও।

টাকা এডভান্স নিছেন, ব্যবস্থা না করে কই আর যাবেন বেচারা বুড়ো আংকেল? 

যা হোক, শেষ খবর পাওয়া অনুযায়ী, আমার বন্ধুর অফিসের জন্য আংকেল তাহার নিজের গ্যারেজে ব্যবস্থা করেছে। বন্ধু Mehedi Doha যারপরনাই পিসড অফ। আংকেলের উপর নাকি ৭ তলার সদ্য বিবাহিত দম্পতির উপর, সেটা মনে হয় সে নিজেও জানে না। 

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *