Aside

বাংলাদেশের ব্যাংকিংখাত ও ভুক্তিভোগী হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা

bangladesh

আমি অর্থনীতি ভালো বুঝি না। তবে ঢাবিতে ম্যানেজমেন্ট পড়াকালীন একবার ক্লাসে স্যারের এক প্রশ্নের জবাবে ফাজলেমি করে উত্তর দিয়ে স্যারের মৃদু প্রশংসাবাক্য শুনেছিলাম। প্রশ্ন ছিলোঃ সরকারের টাকা দরকার হলে সরকার কোথা থেকে সেই টাকার ব্যবস্থা করবে? আমার উত্তর ছিলোঃ স্যার, সরকারের তো টাকশালই আছে। সরকার শুধু টাকা ছাপাবে আর ইচ্ছেমতো খরচ করবে।

ভাবলাম ঝাড়ি খাবো, কিন্তু স্যার বল্লেন, ইয়েস! গুড এনসার। খালি এইটা না, সরকার চাইলে লোনও করতে পারে। খালি টাকা ছাপানোটা তো কোন কাজের কথা না। দরকারের সময় টাকা ছাপালো, ভালো কথা, কিন্তু দরকার শেষ হলে কি করবে? বাজারে যে বাড়তি টাকাগুলা অলরেডি চলে গেছে, ঐগুলার কি হবে? ঐটাকে বলে ইনফ্লেশান। মুদ্রাস্ফিতি। বাজার থেকে বাড়তি টাকা তুলতে না পারলে টাকার দাম কমে যাবে। এক কাপ চা খেতে হবে ব্যাগভর্তি টাকা দিয়ে। ঠিক এই জিনিসটাই আমার দেখলাম নাইজেরিয়াতে। সেখানে লোকে বস্তাভর্তি করে টাকা নিয়ে চলা ফেরা করে। অথচ এক পোয়া সয়াবিন তেল কিনতেই টাকার বস্তা শেষ! কারন সেখানে আসলে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে নাই, বরং টাকার দাম কমেছে।

সেক্ষেত্রে আমাদের সরকার খুবই ভালো। তারা টাকা ছাপায় না। লোন নেয়। চড়া সুদে হলেও নেয়। তবু মুদ্রাস্ফিতির ঝুকিঁ নেয় না।

4fbb5-bb

কিছুদিন আগে সরকারী একটা ব্যাংক পুরো দেউলিয়া হয়ে গেলো। বিদেশে দেখছি, বেসরকারী ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যায়। সরকারী ব্যাংক তখন তাকে কিছু টেকা টুকা দিয়ে সান্ত্বনা দেয়। আর আমাদের দেশে সরকারী ব্যাংক দেউলিয়া হয়। অপরদিকে বেসরকারী ব্যাংকের ব্যবসা আরো রমরমা হয়। একটা দেশের ব্যাকিং খাতে কি পরিমান ধ্বস নামলে সে দেশের একটা সরকারী ব্যাংক নিজেই পথে বসে যায়?

বলছিলাম ব্যাংকিং ব্যবস্থার কথা। ব্রাক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি বিকাশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সরকার অনুমতির তোয়াক্কা না করেই দেদারছে বিজনেস করতেছে। এই দেশে কেউ তাদের মতো করে মানি ট্রান্সিফারিংকে ভাবে নাই। তাই ঠিক মতো দাও মারতে পারলো তারা। ১৬ কোটি মানুষ যদি এক টাকা করেও প্রতিদিন ট্রান্সফার করে, প্রতিদিন ১৬ কোটি টাকা! অনেকেই হয়তো জানেন না যে, বিকাশের পেছনে বিল গেটসের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটসের বিশাল অবদান আছে। বিকাশে তারা বেশ মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করেছে।

maxresdefaultএখন বিকাশের দেখাদেখি দেশের টেলি জায়ান্ট জিপিও এই লাইন ধরেছে। তাদের সেবার নাম ইউক্যাশ। এবং তারাও যথারীতি সরকারী নিয়মের ধার ধারে নাই। বাংলাদেশই মনে হয় একমাত্র দেশ, যে দেশে একটা কোম্পানি মোবাইলের নেটওয়ার্ক সেবা দেয়, আবার একইসাথে ব্যাকিং সেবাও দেয়। কত্ত চমৎকার করপোরেট মাল্টি ডারভারসিটি।

যাক, এই পর্যন্ত হলে তো ভালই ছিলো। গতবছর আমরা দেখলাম ব্রাক ব্যাংক থেকে নাকি কিছুদিন আগে একজন গ্রাহকের এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা উধাও। উধাও মানে উধাও! কোন হদিস নাই। ব্যাংক কিছু বলতে পারছে না। ঐ লোকের তো মাথায় হাত। শুনলাম ঐ লোককে প্রচুর হুমকি ধামকি দেওয়া হয়েছে ব্রাক থেকে, যাতে এটা মিডিয়াতে প্রকাশ না পায়।

1_Lead

তারও কিছুদিন আগে পড়লাম, রাজধানীতে একটা চক্র বেশ সক্রিয় যাদের কাজই হচ্ছে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি করা। ডিবি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে তারা কিভাবে ক্রেডিট কার্ড ডুপ্লিকেট করে সেইটার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে। সেই বিবরন এতই নিখুতঁ ও ভয়ংকর যে, একইসাথে অভিভূত হয়েছি ও শিউরে ওঠেছি। ইতোমধ্যে তারা কয়েক কোটি টাকা হাতিয়েও ফেলেছে বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম থেকে। অথচ কোন ব্যাংক নাকি এইটা স্বীকার করছে না সুনাম নষ্টের ভয়ে।

যাক এই পর্যন্ত হলে তো ভালোই ছিলো, ডিবিবিএল ব্যাংকের এটিম দেশের ভেতর সবচাইতে বেশী। ভালো কথা। কিন্তু সেই এটিএম গুলোর ১০ টার ভেতর ৮ টাই বছরের কোন না কোন মাসে এতিম (বিকল) থাকে। কাজের সময় টাকা পাওয়া যায় না এটিম থেকে। হয় টাকা নাই নয়তো মেশিন নষ্ট! তাইলে গন্ডায় গন্ডায় এটিএম করে লাভ কি হলো আলটেমিটেলি?

Bank Job

দুইদিন আগে বাস থেকে নেমে ১০ মিনিট হেটেঁ এটিম বুথে গিয়ে দেখি মেশিনে টাকা নাই। বুথ থেকে বের হয়ে কিছু জিগেস করার আগেই গার্ড দাতঁ কেলিয়ে বলে,

– ”স্যার মেশিনে টাকা নাই!“
– ”কেন টাকা নাই?” – মেজাজ সেইরাম খারাপ হয়ে গেলো!
– “অবরোধের কারনে টাকার গাড়ি আসতে পারে নাই।” – মুখের হাসি এখনো সরে নাই ব্যাটার। যেন খুব খুশীর একটা ঘটনা বলতেছে সে আমাকে!
– কত টাকা ভরে যে শেষ হয়ে যায়!!
– স্যার, একবারে চুরাশি লাখ ভরে।
– এইটা কতদিন যায়?
– শুক্কুর শনি হইলে স্যার দুই দিনেরই শেষ। অন্য দিন হইলে যায় চাইর পাচঁ দিন।
– আচ্ছা! টাকা যে নাই এইটা তো তুমি জানো। আমি ঢুকার আগে বল্লা না কেন? তাইলে তো আমার সময়টা নষ্ট হইতো না।
– স্যার আমি চাইছিলাম আপনি নিজের চোখে দেইখা আসেন। এর আগে এর ম্যাডাম রে কইলাম, হেয় বিশ্বাস করলো না। পরে নিজে দেইখা শান্তি হইলো। আপনারে কইলে মনেহয় আপনেও বিশ্বাস করতেন না। এই লিগা… [শালার হাসি একান ওকান হয়ে গেলো এবার]
– আরে ম্যাডাম আর কি স্যার কি এক হইলো? – আমি রাম ঝাড়ি দিলাম!
– সরি স্যার। [এইবার তার হাসি বন্ধ হইলো]
– আশে পাশে আর বুথ নাই?
– আছে স্যার। ঐদিকে।
– কতক্ষন লাগবে?
– বেশী না স্যার, হাইটা গেলে ৫ মিনিট।

আমি আর কথা না বাড়িয়ে হাটাঁ ধরলাম। আরো ৫ মিনিট হেটেঁ আরেকটা এটিমে গেলাম। ভেতরে ঢোকার আগেই ঐটার গার্ড দাতঁ কেলিয়ে বলে, – ”স্যার, ভিতরে গিয়া লাভ নাই। মেশিন নষ্ট! “

আমি একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে মনে মনে ভাবলাম, মানুষের বিপদে  এই লোকগুলান দাতঁ কেলিয়ে হাসে কিভাবে? এদের কি কোন ব্যাংকে  একাউন্ট আছে?  প্রয়োজনের সময় নিজের একাউন্টে রাখা  টাকা তুলতে না পারলে কেমন লাগে, এই লোকগুলা কি সেটা কোনদিন জানতে পারবে?

image_1105_170889

মনিটরিংয়ে দুর্বল হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক চেষ্টা করছে সবল হতে। ইতিমধ্যেই তারা কার্যকর এক হটলাইন চালু করেছে। দেশের যে কোন ব্যাংক নিয়ে যে কোন অভিযোগ থাকলে সাথে সাথে সেই নম্বরে কল করে আপনার অভিযোগ জানান। এছাড়াও কয়েক বছর আগে, দেশের সব কয়টা ব্যাংকে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

যাক এই পর্যন্ত হলে তো ভালোই ছিলো, আমার এক বন্ধুর স্ট্যার্ন্ডা চাটার্ডে একাউন্ট। ঐখানেও ফাইনানসিয়াল স্টেটমেন্টে কি এক ঘাপলা করলো ব্যাংক। দুই দিনের কথা বলে দুই মাসেও ব্যাংকের নাম নাই সেই ঘাপলা ঠিক করার।

ষ্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের রামপুরা রাস্তার এটিএম আমার ১০০০০/- টাকা খেয়ে ফেলেছে বছর খানেক আগে। আমি অনেক দেন দরবার করেও টাকা ফেরত পাই নাই। আমি টাকা পাই নাই, মেশিন নাকি বলে আমি টাকা নিয়েছি! আসলে আমি সব কাজ করে দেখি টাকা বের হয় না! আমি গার্ডদের জানালাম, আবার অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলাম। কিছুতে কিছু না। পরের মাসে দেখি আমার টাকা নেই। এর পরের কথা ইতিহাস!

এইবার আমার ইবিএলের অনলাইন ব্যাংকিয়ের অভিজ্ঞতা বলি। বড়ই সুখকর সে অভিজ্ঞতা।

আমার বাংলাদেশের সেলারি একাউন্ট ইবিএলে। প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত একবার অনলাইন ব্যাংকে ঢোকা আমার দীর্ঘ ৭/৮ বছরের অভ্যাস। কিন্তু দেশে আসার পর সঙ্গত কারনেই এই নিয়মে ভাটা পড়লো খুব ভালো করেই। মাসে দুয়েকবার ঢুকি এমন অবস্থা। হঠাৎ একদিন দেখি আমার অনলাইন আইডি পাস নিচ্ছে না। নেট ব্যাকিংয়ের আইডি পাস ভোলার মতো মানুষ আমি না।গত ৮ বছরের অনলাইন ব্যাংকিং জীবনে এইরকম ঘটনা আমার সাথে কখনো ঘটে নাই। কয়েকবার ট্রাই করলাম। একই ইরর ম্যাসেজ দেখায়। লগিন ফেইলড। প্লিজ চেক ইউজার নেম/পাসওয়ার্ড।

Formal-financial-sector-in-Bangladesh কাষ্টমার সার্ভিসে ফোন দিলাম কয়েকবার। একবারো পেলাম না। সবগুলা কি কাজে এত বিজি কে জানে? ৪ বারের বার পেলাম। মেয়েটাকে আমি বুঝাইতেই পারি না যে আমি আমার পাস ভুলি নাই বা ভুল লিখি নাই। এইটা তাদের সিস্টেম এরর। কিন্তু সেইটা সে স্বীকারই করে না। যেন তাদের সিসেটমে ভুল হওয়াটা অসম্ভব ব্যাপার। শেষে বাধ্য হয়ে বল্লাম, আচ্ছা ঠিকাছে। আমাকে নতুন করে পাসওয়ার্ড দেবার ব্যবস্থা করেন। সে বল্ল নিকটস্থ ইবিএলে গিয়ে ফরম পূরণ করতে। পরের সপ্তাহে পাস পেয়ে যাবো। আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোন রাখলাম। এই কথাটা প্রথমেই বলে দিলে তার কি সমস্যা হইতো আল্লাহই জানে!

বাইরের দেশে হটলাইন বা কাষ্টমার সার্ভিস মানেই ফ্রি কল। কিন্তু এই দেশের সিস্টেম যে ভিন্ন, ভুলে গিয়েছিলাম। একটু পর মোবাইলের ব্যালেন্স চেক করে দেখি আমার ৫০ টাকা খেয়ে দিয়েছে এই মেয়ে।
পেইড কাষ্টমার কেয়ারে মেয়েদের বসানো একটা পেইন ইন এ্যাস। একটা সমস্যা এদের বুঝাইতে জান বের হয়ে যায়। জানের সাথে সাথে মোবাইলের পয়সাও বের হয়ে যায়। তবু কপাল ভালো যে, বাংলাদেশী কাষ্টমার কেয়ারের মেয়েদের যে বুদ্ধি আছে, অষ্ট্রিলিয়ান মেয়েদের তার সিকিভাগ বুদ্ধিও নাই। তারা খালি একটা ওয়েব সাইট ঠিকানা মুখস্থ করে রাখে। যে কোন বিপদেই আপনে তাদের ফোন দেন না কেন, প্রথম ৩০ সেকেন্ড কথা বলে কোন না কোন প্রসংগে তারা ঐ ঠিকানাটা আপনারে ধরায় দিবে। ব্যস, তাদের কেয়ার নেয়া শেষ। সেই হিসাবে আমার দেশের মেয়েরা অনেক ভালো।

Business_Lead

তো ফরম পূরন করার পর জমা দিতে গিয়ে শুনি পাসওয়ার্ড পুনোরুদ্ধার বাবদ আমার একাউন্ট থেকে কাটা হবে আড়াইশ টাকা। যে কাজ আমি করি নাই, সে কাজের জন্য জরিমানা গুনতে কার ভালো লাগে? যাক, ভাবলাম নেট ব্যাংকের জন্য দিলাম না হয় বাড়তি আড়াইশ টাকা, খুব বেশী টাকা না। ১ সপ্তাহ পর অফিসের ঠিকানায় চিঠি আসলো। নতুন পাস। পাস না বলে লগিন কি বলাই ভালো। কারন এটা দিয়ে একাউন্টে লগিন করে আমি আমার ইচ্ছেমতো পাসওয়ার্ড বসাবো। কিন্তু খোদার কি লীলা, ইবিএলের দেয়া লগিন কি-ও কাজ করলো না। আমি যতবারই ঢুকাই, ততবারই ইরর ম্যাসেজ আসে। সাথে সাথে আবার ফোন দিলাম তাদের কাষ্টমার কেয়ারে এবং আমাকে যথারীতি “আপনি ব্রাউজার ক্যাশ ক্লিন করেন, ব্রাউজার চেঞ্জ করেন, ওএস বদলান, ক্যাপস লক চেক করেন” – ইত্যাদি বলে ধুন পুন বোঝানো হলো। যেন আমি সেদিনই প্রথম ইন্টারনেট চালানো শিখেছি।

যা হোক, রাগে দুঃখে ইবিএলের অনলাইন ব্যাকিংকে সিটিএন বলে ফোন রেখে দিয়েছি।

impact-of-information-system-on-bangladesh-banking-sector-24-638তবে আমার মনে হয়, শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, আমরা সাধারন মানুষরাও  এক্ষেত্রে কম যাই না। প্রসঙ্গক্রমে, ফেসবুক থেকে এই লেখাটির লিংক দিলাম। আগ্রহীরা পড়ে দেখতে পারেন। এছাড়াও, চোর ধরার ক্ষেত্রে এটিএম বুথে বসানো সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ধারনকৃত ভিডিওফুটেজ সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে প্রকাশ করে আমাদের পুলিশ বিভাগও বেশ স্মার্টনেসের পরিচয় দিচ্ছেন।

আমার একটা বদভ্যাস হলো, আমি অষ্ট্রেলিয়ার ব্যাংকিং সেবার সাথে আমাদের দেশের ব্যাংকিং সেবার তুলনা করে ফেলি মনের অজান্তেই। অষ্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যাংক কমনওয়েলথ ব্যাংকের গ্রাহক আমি সেই দেশে পা দেবার সপ্তাহ থেকেই। ছাত্রদের জন্য ফ্রি সেভিংস একাউন্ট। তারপর  একে একে ANZ (অষ্ট্রেলিয়া এন্ড নিউ জিল্যান্ড) আর ওয়েষ্টপ্যাকের গ্রাহকও হতে হলো পরবর্তী কয়েক বছরে। মনে আছে, HSBC এর অষ্ট্রেলিয়া শাখা অনেক চেষ্টা করে আমাকে তাদের গ্রাহক বানাতে পারেনি, কারন আমার যে সাপ্তাহিক মামুলী উপার্জন, সেটার জন্য ৩ টা ব্যাংক হিসাবের কোনই প্রয়োজন নাই। তার উপর বাড়তি আরেকটা বানিয়ে খামোকা কেন নিজের হ্যাপা বাড়াবো?

logo_australian_banks_vertical

সবচেয়ে মজা হয়েছিলো,  NAB ব্যাংক থেকে একবার আমাকে ফোন দিয়ে বলা হলো, আমার নামে নাকি একটা ৫০ হাজার ডলারের ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। আমি ক্রেডিট কার্ডের এপ্লাই করিনি, সুতরাং আমার নামে কোন ক্রেডিট কার্ড ইস্যু হওয়া অসম্ভব। এটার পেছনে কোন ধান্ধাবাজী কাজ করছিলো কে জানে?

যা হোক, দেশে আসার কিছু সময় পর আমার বোধদয় হয়েছে, সবকিছুতে দেশের সাথে অষ্ট্রেলিয়ার তুলনা করা বাদ দিতে হবে। আমাদের দেশের সমগ্র ব্যাংকিং সেক্টর কমপক্ষে ৫/৬ কোটি একাউন্ট হ্যান্ডেল করে। এই বিপুল পরিমান একাউন্ট যদি অষ্ট্রেলিয়ার সমস্ত ব্যাকিং সেক্টরকে বন্টন করে দেয়া হতো, তবে আমি নিশ্চিত যে, সেখানেও একটা বিরাটাকার ঝামেলা হয়ে যেতো। তাছাড়া, এই বিপুল পরিমান একাউন্ট নিয়মিত সামলোনো অবশ্যই চাট্টিখানি কথা নয়। এর জন্য সেইরকম লোকবল, প্রযুক্তি, মাষ্টার মাইন্ড এবং থিংকট্যাংকও দরকার। সেদিক দিয়ে চিন্তা করলে  বরং আমি আমাদের ব্যাংকগুলোর প্রশংসাই করি।

সেই সাথে এও মনে করি যে, আমাদের বেসরকারী ব্যাংকগুলোর এখনও অনেক সুযোগ রয়েছে আরোও উন্নত সেবার দেবার। বেসরকারী ব্যাংকের কথা এই কারনে বল্লাম যে,  যেহেতু মাসে মাসে একাউন্ট ফি বাবদ একটা মোটা অংকের টাকা দেয়া হয়, সেহেতু আমাদের দেশের মানুষ সরকারী ব্যাংকের চাইতে বেসরকারী ব্যাংকের কাছেই বেশী সুযোগ-সুবিধা আশা করেন। সুতরাং, বেসরকারী ব্যাংকিখাতকে এই কথাটা মাথায় রাখা দরকার।

 পোষ্টের ছবিগুলো নেয়া হয়েছে গুগল থেকে

ব্যাংক ডাকাত ডট কম

থার্ড-পার্টি সংযুক্তিঃ

https://www.facebook.com/shuvo.kamal.1/posts/10205561542411815

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য