Aside

বাংলাদেশের নৃশংসতম ফরেনসিক টেষ্ট!

 forensics_title-600x450

একজন ধর্ষিতার ফরেনসিক টেষ্ট কিভাবে করা হয়? এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর কতজন সাধারন মানুষ জানেন? আমি জানতাম না। ভাসা ভাসা একটা ধারনা ছিলো। আজকে এক ফেসবুক বান্ধবীর শেয়ার করা একটা অনলাইন পত্রিকার লিংক থেকে ব্যাপারটা সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা হলো। বাংলাদেশে এই ব্যাপারটি যে এতটা ভয়াবহ , সেটা জানা ছিলো না। এতদিন শুনে এসেছি, ডাক্তারি পরীক্ষার নামে ভিকটিম ২য় বার রেপড হয়। এতদিন ভাবতাম, পরীক্ষার প্রয়োজনেই(!) তাকে বুঝি এই ”২য় বার রেপ করা হয়” এবং কথাটা রূপকঅর্থে ব্যবহৃত হয় এবং ব্যাপারটা পুরোটাই মেন্টাল ট্রমা। কিন্তু আদতে টেষ্টের পুরো প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিটি যে প্রায় আক্ষরিক অর্থেই একজন নারীর জন্য মানসিক ও শারিরীক যৌন নির্যাতন, এটা আজ জানলাম।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা এ ব্যাপারে কিছু গবেষনা করেছেন। তিনি সেই গবেষনার ফলাফল, ফরেনসিক টেষ্ট পদ্ধতি ও এ বিষয়ে নিজের মতামত বিস্তারিত জানিয়েছেন। শুরতেই তিনি বলেছেন, ”এই মেডিকেল পরীক্ষার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো একটি ভীষণ রাজনৈতিক লড়াইয়েরই অংশ।” আর আমার ধারনা, এই লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি সমাজ ও রাজনীতি সচেতন মানুষের অবর্তীন হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তার আগে পদ্ধতিটির ব্যাপারে সম্যক ধারনার পেতে তারঁ লেখাটি পড়ে নিতে হবে।

প্রতিবেদনটি বড়, কিন্তু ধৈর্য্য ধরে পুরোটা পড়ে শেষ করলে গা শিউড়ে ওঠতে হয়। আমি প্রতিবেদনটির মাঝখানের অংশ হুবহু কোট করছি।

”বিরাজমান এই নারীবিদ্বেষী মেডিকেল পরীক্ষণের ব্যবস্থাপনার সাথে সাথে ধর্ষণের মেডিকেল পরীক্ষার ফরমেট নিজেই একটি পুরুষালি মতাদর্শিক উৎপাদন। ব্যবহৃত টু ফিঙ্গার টেস্ট ধর্ষণের সার্ভাইভার নারীর যোনিপথের ঘনত্ব পরিমাপ করে, তার হাইমেনের উপস্থিতি-অনুপস্থিতি নির্দিষ্ট করে। সাক্ষাৎকার গ্রহণকৃত চিকিৎসক জানান, পরীক্ষার সময় নারীর হাইমেনকে একটি গোলাকার ঘড়ির ফ্রেম হিসেবে দেখা হয়। ঘড়ির কাঁটার ৩ বা ১০-এর অবস্থানে যদি ধর্ষিতার হাইমেন ছেঁড়া থাকে, তবে চিকিৎসক ধরে নেন এখানে জোরাজুরি বা অসম্মতির সেক্স হয় নি। আর যদি হাইমেন নিচের দিকে অর্থাৎ ঘড়ির কাঁটার ৫ অথবা ৮-এর দিকে ছিঁড়ে, তবে চিকিৎসক এটা ঘোষণা করেন যে এই হাইমেন ছেঁড়ায় জোরারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি টু ফিঙ্গার টেস্টে ব্যবহৃত চিকিৎসকের হাতের আঙুল তাঁর শরীরের আকার, গড়ন, ইত্যাদির ভেদে যেমন বিভিন্ন হয়, তেমনি একজন চিকিৎসক তাঁর আঙুলের বেড়ের সাপেক্ষে নিজস্ব অনুভূতিতে অনুভব করেন যে আঙুল কত সহজে বা কঠিনে যোনিপথে প্রবেশ করল। ফলে এই ভীষণ সাবজেকটিভ পরীক্ষণ পদ্ধতি কখনোই নারীর শরীরের ভিন্নতর গঠন বাস্তবতাকে নির্ণয় করবার কোনো ক্ষমতা রাখে না। বরং নারী শরীরের এই মাপজোকের সাথে নারীর যৌনসম্পর্কে অসম্মতি আছে কি নেই তার যতটা না সম্পর্ক রয়েছে, তার চাইতে ‘সত্যিকারের ধর্ষণের’ ধারণা এই মাপজোকের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণভাবে বৈজ্ঞানিক যৌক্তিকতায় প্রতিষ্ঠা পেতে থাকে।

for

মেডিকেল পরীক্ষার সময় আমরা ধরেই নেই, ধর্ষণ হতে পারে রাতের আঁধারে, অস্ত্রের মুখে, অচেনা মানুষ কর্তৃক এবং ‘হাইমেন অক্ষত থাকা’ সমাজের ‘কুমারী’ নারীর সাথে, যা কিনা নিচের দিকে, নতুন করে হাইমেন ছিঁড়লে এবং যোনিপথ শক্তপোক্ত হলেই কেবল ঘটতে পারে। ফলে যে নারীর হাইমেন আগে ছিঁড়েছে, সে যে কারণেই হোক, যে নারী বিবাহিত, যার যোনিপথ সমাজ অনুমোদিত ‘স্বামীসঙ্গের’ কারণেও ঢিলেঢালা হয়ে পড়েছে, মেডিকেল এভিডেন্স তাঁর প্রসঙ্গে ‘হাইমেন অল্ড রেপচার’ (সতীচ্ছদ আগে থেকেই ছেড়াঁ), ‘হেবিচুয়েট টু সেক্স’ (যৌনকর্মে অভ্যস্ত) এই বিশেষণগুলো ব্যবহার করবে। আর কোর্টে মেডিকেল পরীক্ষার এই অল্ড রেপচার, হেবিচুয়েট টু সেক্স বিশেষণগুলো নারীর পূর্বেকার যৌন ইতিহাসের বয়ান উপস্থিত করে, বিচারকক্ষে ধরে নেয়া হয় নারীটি পূর্বেও যৌনকাজে লিপ্ত হয়েছে। ফলে তাঁর ‘সতীত্ব’ নেই, পুরুষালি আইনি পরিসর ধর্ষকের তরফ থেকে নারীর ধর্ষণকেন্দ্রিক অসম্মতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করবার সুযোগ তৈরি করে দেয় এবং এই সামাজিক ধারণাতেই বিচার প্রক্রিয়া চলতে শুরু করে ‘যে নারী কুমারী না, তার ধর্ষণ হয় কীভাবে?’ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিশেষণ কোনো বিশেষ বয়সের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, টু ফিঙ্গার টেস্ট কোনো বয়সের ধর্ষিতা নারীর সাথে সম্পাদন করা যাবে এ নিয়ে কোোন নীতিমালা প্রণীত হয় নি, আর তাই মেডিকেল পরীক্ষার সনদে ৮, ৬ এমনকি ৫ বছরের মেয়েশিশুও (টু ফিঙ্গার টেস্টের পরে) ‘হাইমেন ওল্ড রেপচার’, হেবিচুয়েট টু সেক্স’ এই বিশেষণে বিশেষায়িত হতে পারেন।”

লেখাটি পড়ে যা বুঝলামঃ

১। মেডিকেল এবং আইনের ধারনা, একজন নারী তখনই ধর্ষণের শিকার হতে পারেন, যখন তার সতীচ্ছেদ পর্দা ও যোনীর ঘনত্ব অটুট থাকে। নারী তখনই ধর্ষিতা হতে পারেন, যখন তার পরীক্ষিত স্তন ঝুলে না-পড়ে, অর্থাৎ আপনি শারীরিকভাবে বহু ব্যবহারের সামাজিক অর্থ নিজের স্তনে বহন না-করে থাকেন।

২। আপনি যদি বেশ্যা না-হয়ে থাকেন কিংবা বিচার প্রক্রিয়ায় যদি কোনোভাবে অভিযুক্ত ধর্ষকপক্ষ আপনাকে বহুগামী যৌনসম্পর্কে (একাধিক পুরুষের সাথে নিয়মিত বা অনিয়মিত শারিরীক সম্পর্ক) সম্পর্কিত ‘মন্দ নারী’ বা ‘বেশ্যা’ হিসেবে প্রমাণ করতে না-পারে, কেবলমাত্র তখনই আপনি একজন ধর্ষিতা একথা প্রতিষ্ঠা করবার সুযোগ বিচারকক্ষে পেলেও পেতে পারেন।

৩। বিবাহিত নারীর ধর্ষণ, পায়ুধর্ষণ, শিশুধর্ষণ এই বিষয়গুলো সমাজের কাঙ্খিত ধর্ষণের চেহারার মধ্যে নেই।

৪। মেডিকেল পরীক্ষার সনদে ৮, ৬ এমনকি ৫ বছরের মেয়েশিশুও (টু ফিঙ্গার টেস্টের পরে) ‘হাইমেন ওল্ড রেপচার’, হেবিচুয়েট টু সেক্স’ এই বিশেষণে বিশেষায়িত হতে পারে। কারন কোন প্রাকৃতিক কারনে যদি ঐ শিশুটিরও সতী পর্দা ছেড়াঁ থাকে, মেডিকেল সার্টিফিকেটে সে শিশুও একজন “নিয়মিত যৌনকর্মে অভ্যস্ত” বলে পরিচিতি পাবে।

৫। ধর্ষণ মামলার মেডিকেল সনদের সামগ্রিক পদ্ধতিগুলো ধর্ষিতা নারীর অতীত যৌন আক্রমণ, হয়রানি এবং নির্যাতনের ইতিহাস নয়, বরং নারীর অতীত যৌন ইতিহাস দেখতে আগ্রহী। নারীটি আগে সেক্স করেছে কিনা, অতীত সেক্সের কোন আলাতম তার শরীর বহন করে কিনা এটার সাথে সে ধর্ষিত হয়েছে কি হয়নি – সেটার কি সম্পর্ক, আমার জানা নেই।

৬। ধর্ষিতার স্তন ঝুলে পড়েছে কিনা সেটাও নাকি পরীক্ষা করা হয়!!!!

একটা কথা বলে রাখি, টু ফিঙ্গার টেস্ট পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে ব্যবহার করা হয় না। কারন এই পরীক্ষা পদ্ধতি খুবই অবৈজ্ঞানিক, অযৌক্তিক, সনাতন ও সামাজিকভাবে বিতর্কিত। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও বহু আগে এই মেডিকেল পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। সেখানে আইন করা হয়েছে, ধর্ষিতার গোপনাঙ্গ ডাক্তারের সামনে কেবল চিকিৎসার জন্যই উন্মোচিত হতে পারে, নিরীক্ষার জন্য নয়।

forensics_main-image-01

অষ্ট্রেলিয়াতে যেভাবে একজন রেইপ ভিকটিমের ফরেনসিক টেষ্ট করা হয়ঃ

অষ্ট্রেলিয়াতে এজন রেইপড ভিকটিমের মেডিকেল টেষ্ট করা হয় এমন কারো সামনে যাকে সে বিশ্বাস করে বা যে সামনে থাকলে সে আশ্বস্ত হয় (যেমনঃ বাবা-মা, ভাই-বোন বা বয়ফ্রেন্ড/স্বামী, ছেলেবেলার বন্ধু ইত্যাদি)। এবং সেখানে একজন নারী সাইক্রিয়াটিষ্ট থাকেন এবং তাকে কখনই বিপরীত লিংগের কোন ডাক্তার দ্বারা এক্সামিন করা হয় না। পরীক্ষা শুরুর আগে তার মৌখিক ও লিখিত অনুমতি নেয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটির ভিডিও ও অডিও টেপ করা হবে, সেটা তাকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়। যদি সে না চায়, তবে ভিডিও বা অডিও রেকর্ড করা হয় না। সাইকোলজিষ্ট আলাদা একটা ঘরে তার সাথ কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নেন সে যে পরীক্ষার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত কিনা। প্রস্তুত না হলে তাকে প্রস্তুত করার জন্য কাউন্সিলিং দেয়া হয়। ক্রিমিনালকে ধরা হয়েছে বা ধরার জন্য কি কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, একজন পুলিশ অফিসারের উপস্থিতিতে সেটা তাকে বিস্তারিত জানানো হয়। কারন এর ফলে ভিকটিম খানিকটা নিরাপত্তা অনুভব করে। এরপর তাকে আরেকটি ঘরে নিয়ে গিয়ে প্রথমে তার শরীরের ভিজিবল আঘাতগুলো পরীক্ষা করা হয়। সবশেষে একজন নারী ডাক্তার একটি বদ্ধ রূমে ভিকটিমের বিশ্বস্ত মানুষের উপস্থিতিতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে ফরেনসিক টেষ্ট করেন। হাতে গ্লভস পড়ে একটি বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক কাঠি দিয়ে খুব ধীরে ধীরে তার হাইমেন পরীক্ষা করা হয়। সেটি ছেড়াঁ কিনা সেটার দেখার চাইতে সেখানে থাকা স্পার্মের খোজঁই বেশী করা হয়। স্পার্ম পাওয়া মাত্র সেটা ডিএনএ টেষ্টের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয় পুলিশের ডেটাবেজে থাকা কোন অপরাধীর ডিএনএর সাথে ম্যাচ করে কিনা সেটা পরীক্ষা করার জন্য। এবং হাইমেন টেষ্টের এই পুরো ব্যাপারটি ভিকটিম শুয়ে শুয়ে মনিটরে দেখতে পান। হাইমেনের কোথায় কি ধরনের চিহ্ন তারা খুজঁছেন, সেটা পরীক্ষা করতে করতে ডাক্তার ভিকটমকে বলেন। ভিকটিম ইংরেজী ভালো করে না বুঝলে একজন নারী ইন্টারপ্রেটার ব্যবহার করা হয়, সে পাশেররূম থেকে অডিও মডিউলের মাধ্যমে ডাক্তারের কথা ভিকটিমের মাতৃভাষায় অনুবাদ করে দেয়। ভিকটিমের হাইমেন খুব ক্ষতিগ্রস্থ হলে বা ইন্টারনাল বা এক্সটারনাল ব্লিডিং হলে টেষ্ট বাদ দিয়ে তাকে যথাথথ চিকিৎসা দেয়া হয়। অথচ বাংলাদেশে, আলামত নস্ট হয়ে যাবার ভয়ে চিকিৎসার আগেই টেষ্ট করা হয়।

অষ্ট্রেলিয়ান ফ্যামিলি ষ্ট্যাডিজের ওয়েবসাইট ঘেটেঁ আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানলাম। The forensic use of medical examinations of sexual assault victims is discussed with a focus on two important questions: why there are frequently no (or only minor) injuries resulting from the alleged assault; and why children who have accurately described penetration frequently have no medical injuries that are consistent with penetration. The article discusses the physical aspects of sexual assault—anatomy, functions, injuries and healing processes—in relation to adults and children and in cases of anal sexual assault. The discussion is aimed at helping courts assess the weight to be given to the medical findings in any particular sexual assault matter.

ধর্ষিতা নারী যখন আক্রান্ত হয়, তখন সে প্রবলভাবে বাধা দেয়। দাঁতে নখে লড়াই করে। ধর্ষণকারীও/রাও প্রবল শক্তি প্রয়োগ করে। এর ফলে ভিকটিম আহত হবে এটাই স্বাভাবিক। তার সারা দেহেই ইনজুরি থাকবে। তার নখে ধর্ষণকারীর শরীর চামড়া মাংস লেগে থাকবে, গায়ে কামড় বা লালাল দাগ থাকবে, এসব ফরেনসিক টেস্টের একটা বড় হাতিয়ার। সবকিছু বাদ দিয়ে ধর্ষিতার যৌনাংগে দুই আংগুল কেন প্রবেশ করার পদ্ধতিটি যে কতটা অমানবিক সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রতিবছর বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থী চিকিৎসক হয়ে বের হন, তারা বিভিন্ন হাসপাতালে ইন্টার্ণ করেন। কিন্তু আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করি, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে তাদেরকে খুব বেশ একটা দেখা যায় না। দেখা যায় গাইনী ডাক্তার হিসাবে। আমি তাই মেডিকেলে পড়ুয়া আমার পরিচিত সব মেয়েদের বলেছি, প্লিজ গাইনি বাদ দিয়ে অন্য কিছু হও। ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টে নারী ডাক্তার কম। সম্ভব হলে সেখানে তোমাদের উপস্থিতি বাড়াও।
গাইনী ডাক্তার আমাদের অবশ্যই দরকার, কিন্তু তারচাইতেও বেশী দরকার অন্যান্য শাখায়। আমার একজন কাজিনের খুব শখ ছিলো সে গাইনী পড়বে। আমি তাকে ক্রমাগত মানা করেছি। এখন সে একটা নামকরা হাসপাতালের নিউরো সার্জন। আমাকে প্রায়ই ফোন দিয়ে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

আমি লেখিকাকে একটি ইমেইল করেছি। তার লেখার শেষে তার ইমেইল ঠিকানা দেয়া আছে। আমি তাকে অনুরোধ করেছি, তার গবেষনার কেস স্টাডিগুলো ভিকটিমদের নাম-পরিচয় প্রকাশ না করে কোন ব্লগে বা ফেসবুকে বিষদ তুলে ধরতে। এবং সে লিংকটা যেন আমাকে দেয়া হয়। কারন আমার ধারনা, সেই কেসষ্টাডিগুলো থেকেও আমি এমন সব তথ্য জানতে পারবো, যেসব আমি আগে জানতাম না।

হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি রুর জারি করেছিলো। আমি সেটা নিয়ে ষ্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। [সেটার লিংক কমেন্ট সেকশনে আছে]। সে সময় অনেক চিকিৎসক এর বিরুদ্ধে কথা বলেছে। তাদের ধারনা, ঐ প্রতিবেদনে নাকি প্রথম আলো ডাক্তারদের রেপিস্ট উপাধি দিয়েছে! এবং হাইকোর্ট এই রুল জারি করে পরোক্ষভাবে তাদেকে অপমান করেছে! কিন্তু আমি এ বছরের এপ্রিলের ১৬ তারিখ হাইকোর্টের এই রুলকে যেমন অভিবাদন জানিয়েছিলাম, এখনও জানাই। আজবীনই জানাবো।

শেষ করছি লেখিকার শেষ বাক্যটি দিয়ে, এই আইনটি পাস হলে হয়তো ধর্ষণের সার্ভাইভার নারী জোর গলায় এই প্রশ্ন করতে পারবে আমার ছেঁড়া হাইমেন আর ঢিলা যোনিপথ থাকার সাথে যৌনকাজে অসম্মতি প্রকাশের সম্পর্কটা কী?

https://www.facebook.com/proloyhasan/posts/10151978954522220?stream_ref=10

ছবিঃ গুগলের সৌজন্যে

 

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *