প্রেমিকা বনাম বউ – কে বেশী যুতসই?

schizo_girlfriend_vs_wife_tee_shirt-r65fc67da0e8e4857ae2054405b7044d0_i3iti_1024

 

ঘটনা একঃ

বন্ধুর ৩ বছরের প্রেমের সফল পরিনতি হলো গত সপ্তাহে। বিয়েতে আমিও আমন্ত্রিত ছিলাম। ওয়েডিং ফটোগ্রাফারেরা দেখলাম আমার বন্ধুর কোলে তার অতীব সুন্দরী নবপরীনিতাকে একদম শুইয়ে দিয়েছে; লম্বা কাউচের উপর সে তার মাথা আমার বন্ধুর উরুতে রেখে শুয়ে ছবির জন্য পোজ দিয়েছে, চারিদিকে চোখ ধাধাঁনো লাইট স্ট্রোব। খুবই রোমান্টিক সে দৃশ। দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম।

ওদের মতো এইরকম রোমান্টিক, ক্রিয়েটিভ আর স্মার্ট প্রেম খুব বেশী দেখি নাই। বন্ধুর সময়জ্ঞান ছিলো মাত্রাতিরক্তি খারাপ। গত ৩ বছরের প্রতি ডেটিংয়েই সে দেরী করেছে। কিন্তু মেয়েটি একটুও রাগেনি, বরং আসার পর বন্ধুকে নিজের ওড়নার আচল দিয়ে কপালের ঘাম মুছিয়ে দিয়েছে। বেশীরভাগ সময় বিল মেয়েটাই দিতো। বন্ধুকে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হতো বিল দেবার জন্য। অন্য মেয়েদের প্রতি তার ছিলো উদার মনোভাব। অন্য মেয়ের দিকে তাকালে বা কথা বল্লৈ রাগ করা বা কথা শোনানো, এসব সেই মেয়েটির স্বভাবে ছিলো না মোটেও। বন্ধুকে সময়মতো খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানোসহ যাবতীয় কাজের ব্যাপারে খোজ খবর নেয়া সে সুচারুরূপে সম্পাদন করতো। এসবই বন্ধুর মুখ থেকে গত কয়েক বছর ধরে শোনা।

গতকাল বন্ধুকে ফোন দিলাম, বেচারা খুবই বিমর্ষ। যা শুনলাম, তার মমার্থ হচ্ছে, আংকেল আন্টির সাথে তাদের পুত্রবধুর একবিন্দু বনিবনাও হচ্ছে না। আন্টি পুরনো আমলের মানুষ, সে গাছপালা নিয়ে থাকতে খুবই পছন্দ করে। তার ঘরের চারপাশে শুধু গাছ, কিন্তু এই গরমের দুপুরে ধনীর আদুরের দুলালী তার শ্বাশুড়ির এসিবিহীন কক্ষে ঢুকতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এমনকি এই কারনে গত ৭ দিনে সে একবারও আন্টির ঘরে প্রবেশ করেনি। আন্টির গাছ পালাপ্রীতিকে সে জঙ্গলপ্রীতি বলে, এমনকি সে নাকি কিছুদিন আগে তার মা কে ফোনে প্রায় ফিসফিস করে বলেছে – “পুরো বাড়িটাকে জঙ্গল বানিয়ে না রেখে নিজে জঙ্গলে গিয়ে থাকলেই তো পারে!” বন্ধু আড়াল থেকে এই কথা শুনে প্রচন্ড কষ্ট পেয়েছে। নিজের মাকে নিয়ে এই ধরনের কথা কোন ছেলেই বা ভালভাবে নেবে?

আংকেলের উচ্চ মাত্রার ডায়াবেটিক। তাকে নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয়, রুটিন মাফিক জীবন যাপন করতে হয়। নতুন বউ তাকে একটা রুটিন ইংরেজীতে কম্পোজ করে তার শ্বশুড়ের ষ্টাডি রূমে সেটেঁ দিয়েছি। বুড়ো মানুষ যাতে ওষুধ খেতে ভুলে না যায়, এই কারনে এই ব্যবস্থা। বুদ্ধি খারাপ না! কিন্তু শশ্বড়মশাই যে চান তার পুত্রবধু নিজের হাতে সময় মতো ওষুধ নিয়ে আসুক, সেটা বেচারী বুঝতে পারেনি মনে হয়।

আর দেবর-নননদের সাথে কি অবস্থা, সেটা আর নাই বা বল্লাম।

গতপরশু রাতে সে আল্টিমেটাম দিয়েছে, এই মাসের ভেতর আলাদা বাসা না দিলে সে আগামী মাসের ১ তারিখে তার বাবার ইস্কাটনের ফ্লাটে সুটকেস নিয়ে চলে যাবে। বন্ধু বল্ল – যে মেয়ে আমার ফ্যামিলির সাথে বিয়ের প্রথম ৭ টা দিন মিলেমিশে থাকতে পারলো না, সে বাকী জীবন কিভাবে থাকবে?

এ ঘটনা থেকে আমি যা শিখলামঃ কিছু কিছু মেয়ে হয়তোবা প্রেম করার জন্য খুব ভালো। কিন্তু সংসার করার জন্য একেবারেই নয়। :/

ঘটনা দুইঃ ভাইস ভার্সা 

স্কুল লাইফে আমার এক বন্ধু ছিলো, সেইরাম ডেশিং চেহারা। কিন্তু তার সাথে কালচক্রে প্রেম হয়ে গেলো একজন কদাকার মুখরা রমনীর। শুধু তাই নয়, আমরা খেয়াল করলাস, কোন এক আজব কারনে মেয়েটা আমাদের, মানে তার বিএফেরর বন্ধুদের অপছন্দ করতো। বন্ধু আমাদের সময় দেয়, এটা সে সহ্যই করতে পারতো না। এমনও অবস্থা হয়েছে, কয়েক মাস পর বন্ধুদের নিয়ে গেট টুগেদার করেছি, ওকে রেষ্টুরেন্টের সবার সামনে দিয়ে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে গেছে সেই মেয়ে। (উল্লেখ্য, আমাদের সার্কেলে কোন মেয়ে বন্ধু ছিলো না।) আমরা যারপরনাই বিস্মিত এবং প্রচন্ড অপমানিত ও ক্রুদ্ধ হয়েছি, এরপর আর কখনই বন্ধুকে আমাদের কোন ইভেন্টে ইনভাইট করা হয়নি।

তো আমি কলেজ জীবন শেষ করে দেশের বাইরে পাড়ি জমালাম। আর সে বন্ধু ৪ বছর কোন রকমে ’প্রেমের ঘানি’ টেনে গ্রাজুয়েশনের পরে বিয়ে করে বসলো সে মেয়েকে। ছেলে হিসেবে সে আরো বেটার মেয়ে ডিজার্ভ করতো, কিন্তু আমরা ‘জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে’ সব আল্লাহর হাতে ভেবে কখনই বন্ধুকে এ ব্যাপারে কিছু বলিনি। শুধু ভয়ে ভয়ে ছিলাম, কবে না শুনি ওদের ডিভোর্স হয়ে গেছে! বন্ধু মহলের কেউ কেউ তো একদম নিশ্চিত ছিলো যে, ওদের বিয়ে প্রথম এনিভারসেরির মুখও দেখবে না, তার আগেই তালাক হয়ে যাবে।

কয়েক সপ্তাহ আগে ফেসবুকে ওদের সিক্সথ এনিভারসেরির ছবি দেখলাম। দুটো ফুটফুটে বাচ্চাও হয়েছে। দুজনই তাদের বাবার রূপ পেয়েছে। বন্ধুর স্ত্রীর স্বাস্থ্য আগে থেকেই অনেক অনেক বেশীরকমের ভালো ছিলো 😛 অথচ সেদিন ছবিতে দেখলাম সে এমা ওয়াটসনের মতো প্যাকাটে হয়ে গেছে। বিয়ের পর মেয়েরা মোটু হয় বলেই জানতাম। এই মেয়ের হয়েছে উল্টোটা। এবং আগের চে সুন্দরী হয়েছে। সবচে বড় কথা এই বার বলি।

বন্ধুর বাবা গত কয়েক বছর যাবত প্যারালাইজড। পুরোপুরি শয্যাশায়ী। মানে বিছানাতেই সে হাগুমুতু করে। সেগুলো পরিস্কার করার জন্য লোক দরকার। প্রথম দিকে বুয়া রাখা হলো, কিন্তু কিছুদিন পর বুয়ারা চলে যায়। দূর সম্পর্কের আত্নীয় রাখা হলো গ্রাম থেকে এনে, তাদেরও একই অবস্থা, একজন তো পালিয়েই গেলো। কে করবে এই জঘন্য কাজ?

শেষে দায়িত্ব নিলো তার কদাকার মুখরা পুত্রবধুটি। সে গত আড়াই বছর যাবত তার বৃদ্ধ শয্যাশায়ী শ্বশুড়ের মলমূত্র পরিস্কার করে আসছে বিনাবাক্য ব্যয়ে!

আমি যত সহজে কথাটা বলে ফেল্লাম ব্যাপারটা তত সহজ না, বিশ্বাস না হলে আপনাদের কোন পুরোপুরি শয্যাশায়ি আত্নীয় স্বজনের কাছে গিয়ে দেখুন যে, ব্যাপারটা কতটা হৃদয়বিদারক। এই যুগে এমন পুত্রবধু পাওয়া, রীতিমতো অসম্ভব ও অবিশ্বাস্য!! তাদের বাসায় গিয়ে নিজের চোখে এই দৃশ্য দেখার পর তার প্রতি শ্রদ্ধায় আমার মস্তক অবনত হয়ে গিয়েছিলো, এবং মনে মনে খুবই লজ্জা পাচ্ছিলাম যে, আমি নিজেও মেয়েটার ব্যাপারে এতদিন কত খারাপ ধারনাই না পোষন করতাম।

এ ঘটনা থেকে আমি যা শিখলামঃ কিছু কিছু মেয়ে হয়তোবা প্রেম করার জন্য একেবারেই জঘন্য কিন্তু সংসার করার জন্য সে মেয়ের কোন তুলনা হয় না। ^_^

 

https://www.facebook.com/proloyhasan/posts/10153404303442220

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য