প্রেমিকাকে মুখে তুলে খাইয়ে দেবার উপকারীতা

304851831_2dfa6931e3_bগার্লফ্রেন্ডের ব্যাপারে আপনি কতটা কেয়ারিং এটা তাকে দেখাতে চান?

তাহলে তাকে মুখে তুলে খাইয়ে দিন। যতবার রেষ্টুরেন্টে তাকে নিয়ে যাবেন, চেষ্টা করুন চামচ দিয়ে খুব লো প্রোফাইলে তার মুখে খাবার তুলে দেবার। এই কাজে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলে বাসার পিচ্চি কোন কাজিন বা ভাগ্নি-ভাতিজাকে চামচ দিয়ে খাইয়ে কিছুদিন প্র্যাকটিস করে যেতে পারেন।যদি সম্ভব হয়, বেয়ারাকে বলবেন দুজনের জন্য এক প্লেট খাবার দিতে। তারপর একই চামচ দিয়ে আপনি নিজেও খাবেন। তাকেও মুখে তুলে দেবেন। একই চামচে তার খেতে আপত্তি আছে কিনা আগে জেনে নিবেন। যদি থাকে, তাহলে বেয়ারাকে দুটি চামচ দিতে বলবেন। একটি দিয়ে আপনি খাবেন, অন্যটি দিয়ে তাকে খাওয়াবেন।

একটু পর পর ন্যাপকিন দিয়ে তার ঠোটঁ ও তার আশেপাশের এলাকা আলতো করে মুছে দেবার চেষ্টা করবেন। খাওয়ানোর সময় হালকা ধরনের আলাপ করবেন। সিরিয়াস আলাপ মোটেও করবেন না।

সম্পূর্ণ স্বাভাবিক/ন্যাচারাল থাকার চেস্টা করবেন। এটা যে আপনার প্রি-প্ল্যান্ড, সেটা বুঝতে না দেওয়াই ভালো। গার্লফ্রেন্ড খাবার চাবানোর সময়টুকুতে নিজে খাবেন। সে কথা বলতে থাকলে তার মুখের সামনে খাবার ভর্তি চামচ নিয়ে তার কথা শেষ না হওয়া র্পযন্ত অপেক্ষা করুন। শেষ হলে মুখে তুলে দিন। কোন তাড়াহুড়ো করবেন না।

খাওয়ানোর সময় সে যদি কথা বলে, তবে সেগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। খাওয়ানোতে সব মনোযোগ দিয়ে ফেল্লে চলবে না। মাঝে মাঝে সংক্ষেপে প্রতুত্তর দিবেন যাতে সে বুঝতে পারে যে আপনি তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন।

মাঝে মাঝে জিগেস করবেন, পানি খাবে? সে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লে প্লেট নামিয়ে পানির গ্লাস তার মুখের সামনে তুলে ধরুন।

খাবার শেষ করার সময়, “আরেকটু অর্ডার দেই?” – “এই মাংসটুকু শেষ করো প্লিজ” – এসব বলবেন। এতে তার প্রতি আপনার আন্তরিকতার ষোলকলা পূর্ণ হবে। কিন্তু দুয়েকবারের বেশী জোরাজুরি করবেন না। গার্লফ্রেন্ড খেতে না চাইলে নিজেই খেয়ে ফেলুন। প্লেটে উচ্ছিষ্ঠ রাখবেন না। সে দেখবে যে, তার উচ্ছিষ্ঠ আপনি নিদ্বির্ধায় খেয়ে ফেলছেন। এতে আপনার জন্য তার মন দয়াদ্র হবে।

সে যদি মাত্র দুয়েক লোকমা খাবার পর বলে পেট ভরে গেছে, তাহলে চেস্টা করুন ছোটবেলায় আপনি যেভাবে খেতেন সেভাবে খাওয়াতে। বাবা-মার নামে গ্রাস ভাগ করে করে। এতে করে তার ছোটবেলার স্মৃতি মনে পড়বে। সে আরোও আদ্র হবে। আরো স্মৃতিকাতর হবে।

যদি বাই চান্স সে যদি জিগেস করে বসে, এইভাবে মুখে তুলে খাওয়ানো হচ্ছে কেন? আপনি বলবেন, ”আমার অনেক দিনের শখ ছিলো যে, আমার প্রিয় মানুষটোকে আমি মুখে তুলে খাইয়ে দিবো। তাছাড়া, ছোটবেলায় মা যখন খাইয়ে দিতো, তখন মা বলতেন, বড় হলে তুই-ও তোমার সন্তানদেরকে এমন করে খাইয়ে দিবি। তাই তোমাকে দিয়েই প্র্যাকটিস শুরু করলাম, যাতে আমাদের বাচ্চাকাচ্চা হবার পর তাদেরকে খাইয়ে দিতে আমার কোন অসুবিধা না হয়।” মেয়েরা এ ধরনের রোমান্টিক ও সাংসারিক ফিউচারপ্ল্যান খুব পছন্দ করে।

আর লাঞ্চ বা ডিনারের সময় তাকে বাসায় নিয়ে গেলে, নিজের হাতে ভাত মেখে তারপর তাকে মুখে তুলে খাইয়ে দিন। মনে রাখবেন, মেয়েদের মুখের গ্রাস ছেলেদের মতো বড় বড় নয়। তাদের মুখ ছোট, তাই ছোট ছোট লোকমায় তারা খেয়ে অভ্যস্ত। সুতরাং, বড় লোকমা তার মুখের সামনে তুলে ধরবেন না।

যথারীতি, এই কাজে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলে বাসার পিচ্চি কোন কাজিন বা ভাগ্নি-ভাতিজাকে চামচ দিয়ে খাইয়ে কিছুদিন প্র্যাকটিস করে যেতে পারেন।

কোনদিকে বসতে হবে, এক এক লোকমা কতটুকু বড় হবে, হাড় থেকে মাংস কিভাবে আলাদ করে তাকে খাওয়াবেন, এসব আগে থেকেই ঠিক করে রাখবেন।

কার্যকারীতাঃ মুখে তুলে খাইয়ে দেবার আদর/কেয়ারিংটুকু একটা মেয়ে খুব ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, এটা একটা ছেলের কাছ থেকে একটা মেয়ের জন্য একেবারেই অপ্রত্যাশিত একটা ব্যাপার। ঠিকভাবে করতে পারলে সে খুবেই সারপ্রাইজড হবে। সুতরাং এটাকে কাজে লাগান। নিশ্চিতভাবে বলছি, আপনাদের রিলেশনশিপ ওয়ার্কআউট করুক বা না করুক, গার্লফ্রেন্ড সারাজীবন আপনার এই আদরটুকু মনে রাখবে। ট্রাষ্ট মি, ইট ওয়ার্কস বাডি। এন্ড আই রিপিট, সারাজীবন মনে রাখবে।

সাইকোলজিক্যাল এক্সপ্লানেশনঃ সাধারনত একটা মেয়ে জীবনে প্রথম প্রেমে পড়ে তার বাবার। এবং সে তার বাকী জীবন বাবার মতো একজন পুরুষকে মনে মনে খুজঁতে থাকে। এরপর মেয়েটা যখন তার ছেলে বন্ধুটির ভেতর বাবার সেই পিতৃত্ববোধ দেখতে পায়, ছোটবেলায় তার বাবা যেভাবে তাকে আদর করতো, সেটার একটা ছোট্ট অংশ তার বন্ধুর মাঝে দেখতে পায়, সে তখন একইসাথে যারপর নাই বিস্মিত ও অভিভূত হয়ে যায়।

প্র্যাকটিক্যাল এপ্লিকেশনঃ আমার এক বন্ধুকে এই টিপস দিয়েছিলাম, তার জিএফ বড়ই দুষ্টুমতি। সহজে তাকে বাগে আনা যাচ্ছিলো না। বন্ধু আমার টিপসমোতাবেক রেষ্টেরেন্টে নিয়ে গিয়ে তাকে মুখে তুলে খাইয়ে দিলো, জিএফ চোখ ছল ছল করে পুরোটা সময় চুপচাপ খেলো। তারপর বিদায় নিয়ে চলে যাবার পর একটা হৃদয়কাড়া এসএমএস করলো, যার সারাংশ, মুখে তুলে খাইয়ে দেবার কারনে সে তার প্রতি অনেক অনেক কৃতজ্ঞ্। এই ঘটনার কথা সে কখনো ভুলবে না। এবং নেক্সট টাইম রেষ্টুরেন্টে গেলে সে আমার বন্ধুকে মুখে তুলে খাইয়ে দিয়ে তার ঋন শোধ করবে। [এখন তারা চুটিয়ে প্রেম করছে। তবে সেই মেয়ের অভ্যাস খারাপ হয়ে গেছে। ডেটিংয়ে সে এখন আর নিজের হাতে খেতে পারে না। প্রতিবারই আমার বন্ধুর তাকে খাইয়ে দিয়ে হয়।]

উপসংহারঃ এই পর্যন্ত মোট ৯ জন বন্ধুর ১১ জন জিএফের উপর এই টিপস অত্যন্ত সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। আপনারাও প্রয়োগ করুন এবং ফলাফল কমেন্টের ঘরে শেয়ার করুন।

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ নিজ দায়িত্বে টিপস এ্যাপ্লাই করুন। মানে, ”কয়জনরে এমন কইরা খাওয়াইছো?” – বলে গার্লফ্রেন্ড দৌড়ানি দিলে প্রলয় হাসান দায়ী থাকবে না।]

https://www.facebook.com/proloyhasan/posts/10152081146752220

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

2 thoughts on “প্রেমিকাকে মুখে তুলে খাইয়ে দেবার উপকারীতা

    • প্রলয় হাসান says:

      হা হা হা! আচ্ছা বেশ। আপনার সিন্ধান্তকে আন্তরিক প্রশংসা করছি। এবং আপনার অভিজ্ঞতার গল্পটা শোনার অপেক্ষায় রইলাম। ধন্যবাদ, রাহী। 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *