প্রকৃতি এবং নারী, কর্পোরেট সাম্রাজ্যবাদ এবং ওয়ালস্ট্রিট আন্দোলন

mainনারীর সহজাত সৌন্দর্য্যের পুরোটাই প্রাকৃতিক এবং সেটার যতটা না শারীরিকভাবে তারচে অনেক বেশী মানসিকভাবে উপভোগ্য। হাল আমলের যে কর্পোরেট রূপ নারীর মাঝে দেখা যায় সেটার প্রায় পুরোটাই ‘আরোপিত’। কারন সেখানে ব্যবসা মূখ্য, সৌন্দর্য্য নয়। প্রশ্ন আসতে পারে, কর্পোরেট রূপের ব্যাখা কি?
কপোর্রেট রূপ বলতে শুধু অফিস আদালতে পরিধেয় জামা কাপড়কে বুঝায় না। সেগুলো ইউনিফর্ম। এমনকি সাধারন শাড়ী বা সালোয়ার কামিজ বা আটপৌরে পোষাক পরিহিত যে সব নারীরা তাদের কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত করেন, সেগুলো তাদের ব্যক্তিগত ফ্যাশনসচেতনতা। এ সচেতনতা তাদের নিজস্ব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ এবং রুচির মাধ্যমে গড়ে উঠে। কিন্তু এর বাইরে যদি কোন নারীর পোষাকের অনুষঙ্গ যদি থাকে (যেমন: অফিসিয়াল সুবিধা নেবার এবং/অথবা বস বা কলিগের দৃষ্টি আর্কষন করা ইত্যাদির মানসে) প্ররোক্ষভাবে কর্পোরেট, তাহলে নারীর পোষাকও কর্পোরেট লালসা দিয়ে প্রভাবিত হতে পারে। আর যদি নারীর অফিসিয়াল ইউনিফর্মই হয় তার জাতীয় ঐহিত্য বর্হিভূত এবং নারীর নিজস্ব অভিরুচির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, তাহলে সেটা প্রত্যক্ষভাবেই কর্পোরেট লালসার প্রতীক হয়ে দাড়াঁয়। এরজন্য আলাদা করে কোন অন্তনির্হিত তাৎপর্য খুজেঁ বের করতে হয় না। এক্ষেত্রে, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের রুপের সরাসির বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে তাদের অধীনস্ত কর্মী, বিশেষ করে নারী কর্মীদের পরিধেয় পোষাকের মাধ্যমে। সুতরাং, সে রূপটা কর্পোরেট রূপ হতেই বাধ্য।

বিজ্ঞাপন মডেলিং, জোর করে চাপিয়ে দেয়া বিদঘুটে বিদেশী পোষাক, এমনকি বিউটি পার্লার এবং সর্বোপরী গনমাধ্যমে (পত্রিকা, টিভি, সিমেনা এমনকি রেডিওতে) নারীর আপাতঃ রূপটাকে মোটা দাগে কর্পোরেট রূপ বলা যেতে পারে। কারন এখানে নারীর সৌন্দর্যকে পুজিঁ করে কর্পোরেট বেনিয়াদের অর্থ উপার্জনের মানসিকতা নগ্নভাবে পরিলক্ষিত হয়।

প্রকৃতিগতভাবেই, মানুষ সৌন্দর্যের পূজারী। আর প্রকৃতি তার সৌন্দর্যের একটা বিরাট অংশ লালন করে নারীর ভেতর। নৃত্বত্তবিদরা এর কারন উদঘাটন করতে গিয়ে দেখেছেন, একটি দেশের সংস্কৃতির মূল ধারক হন সে দেশের নারীরা, একই কথা খাটে ঐহিত্য এবং জাতীয়তার বেলাতেও। সুতরাং সামগ্রিকভাবে, একটি দেশের প্রকৃতিগত সৌন্দর্য্য, এহিত্যগত সংস্কৃতি এবং জাতীয় আচার যতটা না বেশী পুরুষের উপর নির্ভর করে, তার চেয়ে অনেক বেশী নির্ভর করে নারীর উপর। (হয়তো একারনেই ধর্মগুলোর মাঝে নারীর পোষাক আষাক এবং সেগুলো দিয়ে তাদের মনমানসিকতাকে নিয়ন্ত্রনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়)

এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিলো। কিন্তু কর্পোরেট ব্যবসায়ীরা সবকিছুকে তাদের অর্থ উপাজর্নের মাধ্যম বানাতে বানাতে গিয়ে তাদের ক্ষমতা এবং দুঃসাহস এই পর্যায়ে গিয়ে ঠেকলো যে, তারা মানুষের সুন্দর পূজার বৈশ্যিষ্ট নিয়েও ব্যবসা করতে আরম্ভ করলো। তেল, চাল-ডাল, নুনের মতই, নারী এবং নারীর ভেতর লুকায়িত সৌন্দর্য্যকে বানালো খোলা বাজারের পণ্য। তখন ধর্ম এসে বাধাঁ দিলো। এরপর সঙ্গতকারনেই, ধর্ম হয়ে গেলো কর্পোরেট বেনিয়াদের দুই চোখের বিষ। সুতরাং, ধর্ম খেদাও। ধর্মের বিরুদ্ধে নারী তথা গনমানুষকে উসকে দিতে কাজে লাগানো হলো নারী স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা, যৌন আবেদনময়তাসহ ইত্যাদি স্পর্শকাতর মানবিক উপাদানকে। কাজে লাগানো হলো কার্লমার্কস, সক্রেটিস, প্লেটো,এরিস্টটলদের মত প্রতিষ্ঠিত দার্শনিকদের প্রতিষ্ঠিত মতাদর্শকেও। কেউ নারীর সৌন্দর্য্যকে নিয়ে ব্যবসা করার বিপক্ষে কথা বল্ল না। সবাই কর্পোরেট স্বার্থেই কথা বলা শুরু করলো। কেউ সূক্ষভাবে, কেউ খোলাখুলিভাবে। যার ফলে, নারীরা এবং বিপ্লবীরা সবাই এক কাতারে এসে দাড়ালোঁ কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষা করতে। কর্পোরেট উদ্দেশ্য সফল হলো। তারা যথারীতি আধিপত্য বিস্তার করতে লাগলো। ধর্ম হয়ে পড়লো কোনঠাসা। ধারনা করা হয়, নারীকে ব্যাবসায়িক পন্য বানাবার বিপক্ষে অবস্থান করার কারনে ধর্মকেই প্রথম আক্রমনের শিকার হতে হয়। নারীর পক্ষে কথা বলার কারনে ইতিহাসে সর্বপ্রথম যে জিনিসটাকে চক্ষূশূল হিসাবে গন্য করা হয়েছিলো, সেটা হচ্ছে ধর্ম। ধর্ম কখনই কর্পোরেট স্বার্থকে সর্মথন দেয়নি। এটাই হচ্ছে ধর্মের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ। কিন্তু খোলাখুলিভাবে এইসব বলতে গেলে মানুষ সেটা ভাল ভাবে নিতে চাইবে না। সুতরাং, কমিউনিজম, নাস্তিকতা, মুক্তচিন্তা ইত্যাদির মোড়কে নিরীহ ধর্মকে উচ্ছেদের পায়তারা চলতে লাগলো। তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরা এসব কর্পোরেট উদ্দেশ্য বেশ ভাল করেই টের পেলো। কিন্তু তারা এর বিরুদ্ধে কিছু বল্লে সেটা যাবে ধর্মের পক্ষে, শুধুমাত্র এই কারনে অনেকে কপোরের্ট সা্ম্রাজ্যকে প্রশয় দিয়ে গেলো। ফলশ্রুতীতে কর্পোরেট ছুঁচোরা বিরাট এক মহিরুহে পরিনত হয়ে গেলো। যার কারনেই আজ বিশ্বের সব জাগায় ওয়ালস্ট্রিট আন্দোলন চলছে। কপোরের্ট উথ্থানের গোড়া থেকেই এসব নির্মূল করা গেলে, সোচ্চার হলে আজ হয়তো এ আন্দোলন চালাবার কোন প্রয়োজন ছিলো না।

মানুষ যদি কোন কারনে অসুন্দরের পূজারী হতো, কুৎসিততে আবাদ করতো, তাহলে কর্পোরেট ব্যবসায়ীরা সেগুলো নিয়েই ব্যবসা করতো। কাড়ি কাড়ি অর্থ বিনিয়োগ করে তারা অসুন্দরের প্রসার ঘটাতো। কারন ঐ যে বল্লাম, তাদের উদ্দেশ্য সৌন্দয্যচর্চা নয়, অর্থ কামানো। মানুষ নিজের ভেতর নান্দসিকতাকে ধারন করছে নাকি সন্ত্রাসকে, তাতে তাদের কিছু যায় আসে না।

( অসম্পাদিত এবং অসমাপ্ত)

 

এখানে মূল্যবান প্রাসঙ্গিক আলোচনা পড়তে পাওয়া যাবে।

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *