পুরুষের পর্দার কথা বলবে কে? (নারী এবং পুরুষের পর্দার একটি সামগ্রিক পর্যালোচনা)

Veil_men vs. woman

আমাদের দেশে সব সময়ই  নারীর পর্দা নিয়ে এত বেশী হৈ চৈ হয় যে, সেই অনুপাতে পুরুষের পর্দা নিয়ে কোথাও বিন্দুমাত্রও আলোচনা হয় না। তাই গত কয়েক মাস ধরেই ভাবছিলাম  এই বিষয়টা নিয়ে একটু বিস্তারিত লিখবো। এটা ভাবার কোনই কারন নাই যে পুরুষদের কোনভাবে ছাড় দেয়া হয়েছে।

এই লেখাটি বিশাল। অনেক সময় নিয়ে ধৈর্য্য ধরে পুরোটা পড়তে হবে। বিশাল পোষ্ট  হবার কারনে হয়তো অনেকেই এড়িয়ে যাবেন কিন্তু আমি এখানে এমন একটা বিষয় নিয়ে লিখেছি, যা নিয়ে এর আগে কেউ কখনো লিখেন নাই, এমনকি বলেনও নাই।

 প্রথমেই কোট করছি একটা প্রাসঙ্গিক লেখা –

ধম্ম-কম্মের টিকিটিও পাওয়া যায়না ইউরোপ-আমেরিকারএই দেশগুলোতে কিন্তু ব্যভিচার বৈধ। নারীদের ওপর যত কিসিমের সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট হতেপারে – সেক্সুয়ালহ্যারাসমেন্ট, ইভটিযিং, রেইপ ইত্যাদি ইত্যাদি, সেগুলো সংঘটিত হওয়ার হারের ওপর ভিত্তিকরে টপ টেইন কান্ট্রির একটা লিস্ট তৈরি করা আছে যেই লিস্টের দশটা দেশের মধ্যে এই আটটাদেশ আছে। (১) Sweden (২) USA (৩) England  (৪) New Zealand (৬) Canada (৭) Australia (৮) Denmark and Finland (১০)

এখন প্রশ্নটা হল, যে দেশগুলোতে ব্যভিচার বৈধ সেই দেশগুলোতে তবে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট আর রেইপের মত ঘটনাগুলো এত বেশি কেন?

উত্তরঃ বেশিরভাগ পুরুষের মধ্যে যে জানোয়ার প্রবৃত্তি আছে, যে পশু প্রবৃত্তি আছে, সেটা বিবেক বা যুক্তি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবেনা। নিয়ন্ত্রণ করা গেলে শুধু মিউচুয়াল সেক্সটাই হত – টিযিং নয়, রেইপ নয়। পুরুষের পশু প্রবৃত্তির মাত্রাটা কেমন হতে পারে সেটা বোঝার জন্য টিএসসিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা একটু বিশ্লেষণ করি।

যদি ধরা হয় বস্ত্রহরণের ঘটনার পিছনে পুরুষগুলোর যৌনাকাঙ্ক্ষা দায়ী, তবে একবার ভেবে দেখুন পশু প্রবৃত্তির কোন পর্যায়ে যেতে পারলে টিএসসিভর্তি হাজারো মানুষের সামনে একজন মানুষ স্বীয় যৌনাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে ফেলে। যৌনাকাঙ্ক্ষার মত ব্যাপারটা খুবই স্পর্শকাতর এবং গোপনীয় বিষয়; সবার সামনে প্রকাশ মত কিছু একেবারেই নয় তা। এমনটাও নয় যে টিএসসিতে তখন শুধু নারীই ছিল, কোন পুরুষ ছিলনা। পুরুষ ছিল, ছিল পুরুষ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মী। সবার সামনেই দুষ্কৃতকারীগুলো নারীদের বস্ত্রহরণের ঘটনা ঘটিয়ে বিকৃত সুখ লাভের একটা চেষ্টা নিয়েছে।

আর এমন পৈশাচিক মানুষগুলোকে আপনারা যুক্তি আর বিবেকের দোহাই দিতে চাইছেন? খোলা গাত্র দেখে লোভাতুর হয় পাশবিক পুরুষ শারীরিকভাবে দুর্বল নারীর ওপর চড়াও হয়ে নিজের বীরত্ব জাহির করতে চায়। আল্লাহ তায়ালা জানেন পুরুষের মধ্যকার এই স্বভাব। তিনি জানতেন কিছু পুরুষ টিএসসিতে এমন কাজ করবে। তিনি জানতেন কিছু পুরুষ নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করবে আর কিছু পুরুষ নিয়ন্ত্রণ করবেনা। তিনি জানতেন যুক্তি-বিবেকের দোহাই দিয়ে সবাইকেই একই লেভেলে আনা যাবেনা। আর তাই এই সামাজিক আর নৈতিক বিশৃঙ্খলা রোধেতিনি সব নবীর মাধ্যমেই একটা Floor নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যেটা মানতে হবে সবাইকেই – নর-নারী, নিয়ন্ত্রণ করতে পারা, নিয়ন্ত্রণকরতে না পারা – সবাইকে।

Floor মানে কী? ফিন্যান্সের সাথে পরিচিত সবাই Floor/Cap সম্পর্কে জানেন। ফ্লোর মানে – এর নিচে আর যাওয়া যাবেনা। ক্যাপ মানে – এর ওপরে আর ওঠা যাবেনা।

এবার উদাহরণটা একটু খেয়াল করুণ।

ধরুন এক ক্লাসে দুইজন এক্সট্রা অর্ডিনারি স্টুডেন্ট আর দশজন একেবারে মার্জিনাল কোয়ালিটির স্টুডেন্ট আছে। বিচক্ষণ শিক্ষক যখন প্রশ্নপত্র তৈরি করবেন তখন সেই দশজনের কথা মাথায় রেখেই প্রশ্ন তৈরি করবেন। এমন কঠিন প্রশ্ন করবেন না যেটার উত্তর শুধু ওই দুজন ভালো ছাত্রই করতে পারবে। এমন একটা প্রশ্নপত্র তৈরি করবেন যেটার উত্তর ওই বারো জনই করতে পারবে। এর ফলে, প্রশ্নটা হাতে নিয়ে সেই দুইজন এক্সট্রাঅর্ডিনারি স্টুডেন্টকেও একই সহজ প্রশ্নের উত্তর করতে হবে যেগুলোর উত্তর বাকী দশজনই করছে। আমরা অনেক ভাল স্টুডেন্ট – এই দাবীতে কিন্তু তাদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবেনা। এক এবং অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা হবে।

টিএসসি এবং এই জাতীয় ঘটনা থেকে বিশৃঙ্খলা এড়ানোর জন্য Floor হিসেবে আল্লাহ সব নর-নারীর জন্যই স্বাভাবিক কিছু পোষাক আষাকের বাইরেও  বিধান দিয়েছিলেন।  (খেয়াল করুন, শুধু নারী বলা হয় নাই। নর ও নারী বলা হয়েছে। ছেলেদের পর্দার বিষয়ে নীচে বিস্তারিত বলেছি।) ফ্লোর হিসেবে অ্যাটলিস্ট কিছু পর্দা করতেই হবে, এর নিচে যাওয়া যাবেই না। এর উপরে যদি আরও স্ট্রিক্ট হওয়ার সুযোগ থেকে তবে স্ট্রিক্ট হলে ভালো। কিন্তু ফ্লোর মেইন্টেইন করতেই হবে।

আর নারীদের পর্দার এই ফ্লোরটা সব পুরুষের জন্যই– নিয়ন্ত্রণ করতে পারে যে পুরুষ তার জন্যেও, নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা যেই পুরুষ তার জন্যেও; এক এবং অভিন্ন প্রশ্নপত্র।

“রাস্তাঘাটে পর্দা মেন্টেইন না করে আরও অনেক নারীই তো চলা ফেরা করে। কই, আমাদের বাবা-ভাই তো তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পরেনি?”

বস্ত্র হরণের শিকার বোনরা যদি আমার কথাগুলোর প্রেক্ষিতে এই প্রশ্নটা করেই থাকে তবে বলি, কুরানের মাধ্যমে বিধান নাযিল করার সময় ক্লাসের ওই দশজন দুর্বল স্টুডেন্টের কথা মাথায় রেখেই আল্লাহ বিধান নাযিল করেছেন। আপনার বাবা-ভাই ক্লাসের সেই দুইজন এক্সট্রা অর্ডিনারি স্টুডেন্ট, তাদেরকে অভিনন্দন। কিন্তু তাই বলে আল্লাহর নির্দেশ  বাকী ১০ জনের জন্য ভিন্ন হয়ে যাবে না।

ভেবে দেখুন, পরম করুণাময় আমাদের সৃষ্টিকর্তা, তিনি জানেন আমাদের জন্য কী ভাল আর কী মন্দ। ভালটা ম্যাক্সিমাইয করার জন্য আর মন্দটা মিনিমাইজ করার জন্য ইসলাম নামক ব্যালেন্সড একটা সিস্টেম তৈরি করে দিয়েছেন। এই ব্যালেন্সড সিস্টেমের বাইরে যাই পড়বে তাই ইম্মব্যালেন্সড এরিয়াতে পড়বে, সমাজে বিশৃঙ্খলা শুরু হবেএবং যেটার একটা নজির মাত্র টিএসসিতে দেখতে পেয়েছেন।

স্বেচ্ছায় ব্যালেন্সড এরিয়া থেকে বের হয়ে গিয়ে কপালে দুর্ভোগ টেনে আনার পর ‘জানোয়ারের বাচ্চা’ বলে গালি দিয়ে নিজেই নিজের সাথেই উপহাস করলেন। আপনারা কী হন আমার? কিছুই না। একই আদম-হাওয়ার বংশ থেকে আমরা সবাই জন্মেছি বলে আমি আপনাদের বোন ডাকি। আপনাদের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই এটা লেখলাম।
(লেখাঃ তারেক হাসান।)

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

A Veiled Woman in the Middle East shot taken by OLYMPUS DIGITAL CAMERA

এবার আমি কিছু যুক্ত করি। প্রথমেই স্পষ্ট করে জানিয়ে রাখি,  আমি বলছি না যে পর্দা করলেই আমাদের সমাজে একজন নারী পুরোপুরিভাবে নিরাপদ থাকতে পারবেন। যদি তাই হতো, তবে –

  • ক) ডক্টর ইভা ডিউটিতে থাকা অবস্থায় ধর্ষিত হতেন না। কারন তিনি নিয়মিত হিজাব পরতেন।
  • খ)  ৫ বছরের শিশু ধর্ষিত হতো না।
  • গ) আমাদের দেশের মেয়েরা রাস্তা-ঘাটে, বাসের ভেতরও অফিস আদালতে যৌন হয়রানির স্বীকার হতেন না। কারন আমি পরদা করা অনেক মেয়েকেও হ্যারেসড হতে দেখেছি।
  • ঘ) গতকাল বিবিসির অনলাইন পোর্টালে পড়লাম, দুই জন ইরানী কিশোরকে যৌন নির্যাতন করার কারনে সৌদিআরবের সমস্ত ওমরাহ ফ্লাইট বাতিল ঘোষনা করেছে ইরান।

উপরের ৪টি ঘটনার সাথে পর্দা করা না করার কোন রিলেশন নেই।

niqab-drawingসবচেয়ে বড় কথা হলো, কিছু প্রচন্ড রকমের আবাল পুরুষ মানুষ ও  মোল্লা  আমাদের দেশে আছে, যারা ধরেই নেয় যে, এদেশের সকল নারীই মুসলিম এবং তাদের জন্য পর্দা করা ফরজ। ভীড়ের মধ্যে অমুসলিম নারীরাও যে থাকতে পারে এবং তাদের উপর পর্দাপ্রথা প্রযোজ্য নয়, এই ব্যাপারটা তাদের আবাল-মস্তিস্ক ধারন করে না।

পোষ্টের শুরুতেই তারেক হাসান নামের ভদ্রলোকটি পৃথিবীর সকল সমাজের তাবত পুরুষের যে গড়পড়তা পশু প্রবৃত্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তা আদতে কতটা ভয়াবহ ও দুর্দমনীয় হতে পারে, তা বোঝার জন্য উপরের চারটি উদাহরনই মনে হয় যথেষ্ঠ। এমন হওয়াও বিচিত্র নয়, পশু পুরুষটি অন্য কোথাও থেকে যৌন উত্তেজিত হয়ে সেটা সুযোগ মতো চরিতার্থ করেছে অপেক্ষাকৃত  দুর্বল শিকারের উপর (যেমনঃ ক ও খ নম্বর কেস) তবে নারীরা  যদি মনে করে, পুরুষদের পশু পবৃত্তি এটুকুর ভেতরই সীমিত, তাহলে তারা ভুল করবেন। এর বাইরেও অনেক ভয়াবহ প্রবৃত্তি একজন পুরুষের মাঝে থাকতে পারে, যা হয়তো আমি নিজে পুরুষ হয়েও অনুমান করতে পারি না। পুরুষের সমকামী এবং/অথবা উভকামী মনোভাবের কথা আমাদের দেশের অনেক নারীই জানেন কিন্তু পুরুষের মর্ষকামীতার কথা হয়তো আমাদের সমাজের বেশীরভাগ নারীই জানেন না। (মর্ষকামীতার সংজ্ঞা এবং ইরেজী টার্ম আমি এখানে উল্লেখ করছি না, কারন আমার ধারনা তাতে বরং এটাকে উৎসাহ দেয়া হবে)।

মজার ব্যাপার হলো,  পাশ্চাত্য মিডিয়া, মুভি এবং সাহিত্যাঙ্গন পুরুষের  এই মর্ষকামীতাকে (পড়ুন ’যৌন বিকারগ্রস্থতাকে’) বিভিন্নভাবে শুধু  যে  স্বীকৃতি দেয় তাই নয়,  প্রমোটও করে থাকে। এমনকি তারা নারী-পুরুষের সমধিকারের দোহাই তুলে নারীদেরকেও মর্ষকামীতায় উদ্ধুদ্ধ করতে চেষ্টা করে যার ফলে অনেক ইরোটিক উপন্যাস বা মুভিতে নারীকেও পুরুষের  মতো মর্ষকামী চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। এধরনের চর্চা কোন সভ্য দেশে কাঙ্খিত হতে পারে না। এই কারনেই ফিফটি-শেডস-অব-গ্রে মুভিটি মালয়শিয়া ও ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অবশ্য, ভারতে নিষিদ্ধ হবার মূল কারন হলো, দুইজন ভারতীয় যুবক তাদের সহপাঠি ও প্রেমিকার উপর মুভির ষ্টাইলে মর্ষকাম প্রয়োগ করেছে। এই মুভিটি নিয়ে পড়ুন আমার সংক্ষিপ্ত রিভিউ।

mysterious_woman_black_mystery_veil_awesome_hd-wallpaper-1900727

এমনকি ইংরেজী সাহিত্য পড়ুয়া একজন নারী সেদিন আমাকে গর্ব ভরে জানালেন, ইংরেজী সাহিত্য পাঠের শুরুতেই যৌনতা, অরগি বা গ্রুপ সেক্স, অবাধ যৌনাচার, নগ্নতা  এমনকি ইনসেষ্ট সমন্ধেও তাদেরকে সম্যক ধারনা দেয়া হয় যাতে করে পাঠ্যের পরবতী ধাপে তাদেরকে ’শকড’ না হতে হয়। বলা বাহুল্য, এইসব শুনার পর আমি নিজেই উল্লৈখযোগ্য মাত্রায় শকড হয়েছিলাম। এতটাই যে, বাদানুবাদের এক পর্যায়ে উক্ত নারীর সাথে আমার সম্পর্কই  প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিলো।

যা বলছিলাম,  একজন নারী তার আশে পাশের পুরুষদের হয়তো কখনই এতগুলো নোংরা ও ঘৃণ্য রুপে একত্রে আর্ভিভূত হতে দেখেন নি, কিন্তু তাই বলে যে ফ্যাক্টগুলো বল্লাম, সেগুলো মিথ্যে নয়; আমার মনগড়া নয়। পুরুষ জাতির এই ফ্যাক্টগুলো জেনেই পৃথিবীর সকল মেয়েকেই বড় হতে হয়, বড় হতে হবে। যারা হয় না, তাদেরকে কম বেশী পুরুষালী শক্তির কাছে  নিস্পেষিত হতে হয়। আর প্রত্যেক সমাজেই কিছু পুরুষ নামের কুলাংগার থাকে, যারা ভীড়ের সুযোগে ইচ্ছেমতো নারীদেহ হাতায়। সিডনীতে নিউ ইয়ারের ফায়ারওয়ার্কসের ভীড়ে এবং ফিরতি পথে ট্রেনে বেশ কয়েকটা কিশোরকে আমি  নিজের চোখে দেখেছি তাদের চেয়ে বয়সে বড় নারীদেহের স্পর্শ নিতে। প্রচন্ড ভীড়ের মধ্যে মেয়েগুলো শুধু চিৎকার করে এফ ওয়ার্ড ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেনি।

এই যদি হয় পুরুষের অবস্থা, সেখানে এজন অবলা নারী কি করে এতগুলো পুরুষের ভীড়ে নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারেন? যদিও সে হিযাব পড়েও, যদি তার সাথে একজন পুরুষ সংগী থাকেও, তাহলেও তো এত গুলো পুরুষ নামের কীটের ভীড়ের মধ্যে যাবার মতো নির্বুদ্ধিতা হবার কথা নয়। (এই ভীড় এবং ভুভুজেলার অসম্ভব বিরক্তিকর আওয়াজ এড়ানোর জন্যই আমি এবার সেখানে যাইনি।)

পুরুষের এই স্বভাবজাত দোষ কেয়ামতের আগ পর্যন্ত থাকবে এই কথা আমি হলফ করে বলতে পারি।  এমনকি, রাষ্ট্র যদি  তার নারীদের পুরোপুরি নিরাপত্তা দিতে পারেও, তবু আমি জানি বেশ কিছু সংখ্যক পুরুষ আবার পুরনো দিনের মতো সুযোগের অপেক্ষায় লোলুপ অপেক্ষা করবে।

Woman_with_veil_by_MarcioMartinsতাহলে আমাদের দেশের নারীদের উপায় কি?

১)  নারীদেরকে আপাদমস্তক বোরখা পড়ে পর্দা  করতে বলবো না। কারন কোরআনের কোথাও আপদমস্তক তাবুঁর মতো বোরখার কথা বলা নেই। বোরখা টার্মটাই ভারতীয় উপমহাদেশের সৃষ্টি।  বোরখা পড়া তাকওয়া। মানে পড়লে হয়তো বাড়তি সওয়াব পাওয়া যাবে, কিন্তু না পরলে কবিরা গুনাহ হবে না। এই কারনেই দেখবেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের কোন মুসলিম রমনী আমাদের উপমহাদেশীয় ষ্টাইলে বোরখা পড়েন না। তাই বলে কি তারা পর্দা করেন না? অবশ্যই করেন। তারা বোরখা ছাড়াই বেশ ভালভাবে পর্দা করছেন।

তাছাড়া, নিজে পুরুষ হয়ে অন্য নারীকে পর্দা  করতে বলা খুব সোজা। কেননা আমি জানি লৈঙ্গিক পরিচয়ের কারনে  আমাকে কখনোই হিযাব পড়তে হবে না। সুতরাং, প্রচন্ড গরমের মধ্যে একজন নারীর বোরখা পড়তে কেমন লাগে সেটাও উপলদ্ধি করতে পারবোনা, বড় জোর অনুমান করতে পারবো। তাছাড়া, আমাদের সামাজিক অবক্ষয় এই পর্যায়ে চলে গেছে যে, এখন আর পর্দাও একজন নারীকে ধর্ষনের হাত থেকে বাচাঁর গ্যারান্টী দেয় না।  উদাহরন তো উপরে দিলামই। আমি বড়জোর আমার অধীনস্থ নারী, যেমন আমার স্ত্রী, ছোটবোন আর মেয়ে – এই তিন জন নারীকে পর্দা করতে অনুরোধ করতে পারি। আমি মনে করি, এর বাইরে অন্য কোন নারীকে বোরখা পড়তে বলা মাত্রাতিরিক্ত স্পর্ধা ও অবভ্যতার সামিল।

download

আরেকটা কথা হলো, আমি বিশ্বাস করি, পর্দা কখনই  কাউকে জোর করে করানো যায় না, যদি না সে এটা নিজে থেকে করে। আর নারীদের পর্দা করার সবচাইতে সহজ ও কার্যকর উপায় হচ্ছে, পুরুষদের পর্দা করা।যেদিন থেকে দেশের সকল মুসলিম পুরুষরা পর্দা করা শুরু করবে, সেদিন থেকে দেশের সকল মুসলিম  নারীরা পর্দা করতে বাধ্য।

আমাদের অনেকেরই ধারনা যে, পর্দা বা শালীন থাকার মানেই হচ্ছে বোরখা পড়া, হিযাব পড়া। আমাদের মা-খালা-নানীদের তো বোরখা পড়তে দেখিনি ছোটবেলায়, তাই বলে কি তারা সেসময় বেপর্দা থাকতেন? মোটেই না। ফুল স্লিভ ব্লাউজ পরে, সালোয়ার কামিজ পড়ে বা  পরিমিত ঘোমটা দিয়েও যথেষ্ঠ শালীন থাকা যায়। তারা সেভাবেই পর্দা করতেন। আবার  এমন এক ধরনের আটো সাটোঁ হিযাব আর বোরখা এখন বাজারে বেরিয়েছে যে, সেগুলো পড়লেও পর্দা দূরে থাক, নারীকে উলঙ্গই মনে হয়। সেই রকম পর্দা করেই বা লাভ কি?

Niquab

১/(ক) আচ্ছা পর্দার কথা না হয় বাদই দিলাম, আমাদের দেশের সংস্কৃতিও তো আমাদের নারীদের বেলাল্লাপনা শিক্ষা দেয় না। হাতা কাটা ব্লাউজ পরা বা পিঠ খোলা ব্লাউজ বা পেট-নাভী দেখনো শাড়ী পরা আমাদের সংস্কৃতির অংশ নয়। এইগুলা অপসংস্কৃতি। সংস্কৃতি আর অপসংস্কৃতির মধ্যে পার্থক্য করতে শেখেন।  আমি বলছি না যে, পহেলা বৈশাখের উৎসবে সব নারীই হাতা কাটা ব্লাউজ পরে বা পিঠ খোলা ব্লাউজ বা পেট-নাভী দেখনো শাড়ী পরে সেখানে গিয়েছেন। আবার এ কথাও বলতে পারছি না, সেখানকার সব নারীই ফুলস্লিভ ব্লাউজ পরে ঘোমটা দিয়ে যথেষ্ঠ শালীনভাবেই গিয়ে ছিলেন। আর যদি রেশিও বিচার করা হয়, তবে অনুপাতটা কি দাড়াবেঁ, সেটা আপনি আমি ন্যূণতম  অভিজ্ঞতা থেকে ভালই বলতে পারবো।

ছোট বেলায় নানী-দাদীদের দেখেছি, তার নাতির বয়সী ছেলেদের দেখেও নিজের অজান্তেই ঘোমটা টানতে। এই কিছুদিন আগেও গ্রামের বাড়ীতে আমি দেখেছি,  একজন হিন্দু মহিলাকেও পরপুরুষ দেখে ঘোমটা দিতে, আঁচল দিয়ে শরীর ঢাকতে। এর মানে হচ্ছে, নারীদের স্বাভাবিক লজ্জাপ্রবণতা আমাদের নিজস্ব  সংস্কৃতিরই অংশ। শুধু ইসলামই নয়, আমাদের সংস্কৃতিও আমাদের নারীদের শালীনতার শিক্ষা দেয়। অনেকেই হয়তো ভাবছেন,  আমি সেই ঘুরে ফিরে মেয়েদের পোষাকের কথাই কেন বলছি বার বার? ওয়েল, এর উত্তর দিয়েছেন ব্লগার স্বর্ণমৃগ ওরফে মাহবুব হাসান। 

ওড়না ছাড়া বুক কিংবা নাভি দেখানো পোশাকে আপনাকে দেখে পুরুষেরা সাথে সাথে চোখ নামিয়ে নিবে অথবা মাথা নিচু করে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকবে এবং আপনার সাথে সহজ আচরণ করবে, প্যারালাইজড একটা সোসাইটি তে বাস করে এটা আশা করা হাস্যকর।
পুরুষেরা যেমন অশালীন কিছু দেখা থেকে তাদের দৃষ্টি কে অবনত রাখবে, লজ্জাস্থান কে নিয়ন্ত্রণে রাখবে। মেয়েরাও তেমনি শালীন পোষাকে চলবে।
দ্যাট’স দ্য ডিসেন্সি। প্লেইন এ্যান্ড সিম্পল।
সব মেয়ে এক নয়, সব পুরুষ ও এক নয়। যে পুরুষের খাসলত খারাপ, সে বোরখা পরা মেয়ে থেকে শুরু করে ছুড়ি-বুড়ি সবার মধ্যেই যৌনতা খুজবে, কারন তার ক্যারেক্টার টাই অমন।
আবার কিছু পুরুষ আছে যারা আপনাকে রাস্তাঘাটে অশালীন পোশাকে দেখে নানা ধরণের অনাকাংখিত পরিস্থিতি তৈরি করে।
মানতে চান বা না চান, ফ্যাক্ট স্টিল রিমেইনস দ্য সেইম। এ ধরণের রিয়্যাকশন গুলোর জন্য ঐ পুরুষগুলোর পাশাপাশি আপনিও সমানভাবে দায়ী।
শরীর আপনার সো যা খুশি তাই পরে চলার অধিকার আপনার আছে। কিন্তু আপনি যেহেতু সমাজে আরো কিছু মানুষ কে সাথে নিয়ে বাস করেন বা চলেন, সেই সমাজের তৈরি করা নিয়ম ভেঙ্গে যখন আপনি নিজের ইচ্ছামত চলতে গিয়ে অরুচীকর পোশাক পরে আনসিভিলাইজড হবেন- আপনার বিপরীত লিঙ্গের মানুষ গুলোও আনসিভিলাইজড বিহেভিয়ার এর জন্ম দিচ্ছে এবং দিবে।
সমস্যা হলো, এই পৃথিবী দিনে-দিনে যতই আধুনিক হোক না কেন, যত কিছুই আবিস্কার করুক না কেন, এর বাসিন্দা গুলো কখনোই পুরোপুরি সিভিলাইজড হবেনা। তাই ব্যালান্স টা দু পক্ষ কেই করতে হবে।
আমার যা খুশি তাই পরব, যেভাবে খুশি সেভাবে চলবো, তুমি তোমার মেশিন সামলাও টাইপ স্লোগান দিয়ে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে যা পাবেন তা হলো- প্রকান্ড একটা অশ্বডিম্ব!
যেটা খারাপ, সেটা সর্বাবস্থায়ই খারাপ। পুরুষরুপী জানোয়ারগুলোর প্রতিবাদ করতে গিয়ে যদি আপনি নিজেও সেই একই পথে হাটেন, ওদের সাথে আপনার তফাৎ টা রইলো কই?

 

veiled_woman_by_lap12-d5oqvf9

২) আপনি যদি ইসলাম বাদে অন্য কোন ধর্মাবলম্বী হন, অথবা  যদি পর্দা করতে শারীরিক সমস্যা হয় (যেমনঃ হাই প্রেশার, মাত্রাতিরিক্ত গরম লাগা), আবার বাইরেও বেরুতে হয়, তবে আমার মনে হয় আপনার জন্য অন্যতম প্রধান সল্যুশন হলো, সজোরে বিচিতে লাত্থি মারতে শেখা। এখন অনেক গার্লস স্কুল/কলেজেই তায়কন্দো শেখানো হয়। আমার খালাতো বোন শহীদ আনোয়ার কলেজ থেকে তায়কন্দোতে গোল্ড মেডেল পেয়েছে। সেখানে ভর্তি হয়ে যান। এবং এরপর ব্যাগ/পকেটের ভেতর একটা এন্টি কাটার রাখুন।  এর এক্সপার্ট ব্যবহার শিখুন। শুধু পারভার্ট পুরুষ নয়, ছিনতাইকারীরহাত থেকেও আপনি নিজেকে বাচাঁতে পারবেন।

আপনার পুরুষ সংগী, আপনার ধর্ম, আপনার রাষ্ট্র, এসব  আপনাকে নিরাপত্তা দিবে – সব সময় এমনটা নাও হতে পারে। নিজের নিরাপত্তা নিজেই নিশ্চিত করার চেষ্টা করুন।   ১০-১৫ জনের গ্রুপের কাছে আপনি একজন নারী হয়তো কিছু করতে পারবেন না, কিন্তু নিজের পোষাকটা অন্তত গায়ে জড়িয়ে রাখতে পারবেন, দুয়েকটা শুয়োরের বলস হয়তো ফাটাতে পারবেন, সেটাও কম নয়। সবচাইতে বড় কথা হলো, পাল্টা আঘাত বা প্রচন্ড প্রতিরোধের জন্য ইভটিজারদের কোন ধরনের মানসিক প্রস্তুতি থাকে না। তাই তারা শুরুতেই একেবারে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। এটাই আপনার জন্য সুযোগ। তারা পুরোপুরি সামলে ওঠার আগেই আপনাকে আপনার কাজ সারতে হবে।

যদি এভাবে আত্নরক্ষা না করতে পারেন আবার নন-মুসলিম হয়ে থাকেন, তবে ১/(ক) অংশটিতে হয়তো সমাধান খুজেঁ পাবেন।

৩) যদি মনে করেন, আপনার ফ্রেন্ডলিস্টের, বা ফেসবুকে এইসব শ্লীলতাহানীর জন্য মেয়েদের দায়ী করা কোনো শুয়োরবৎসের বাসা পর্যন্ত আপনি যেতে পারবেন – তাহলে দয়া করে পদক্ষেপ নিন। ইউনিক ও  কার্যকর এই পদ্ধতির ব্যাপারে বিস্তারিত লিখেছেন ব্লগার শুভজিৎ ভৌমিক

“এই দেখেন, অমুক শুয়োরের বাচ্চা, অমুক ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট বলেছে যে, কাপড়ের কারণে সে ধর্ষণ করতে উৎসাহিত হয়েছে” – এই হারামজাদার জন্য কয়টা লাত্থি ?

এই সমস্ত স্ক্রিনশট দিয়ে অনলাইনে দুইটা গালাগাল পাড়া খুব সোজা। এক সময় টাইমলাইনের অতলে তলিয়ে যাবে সেই গালি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হবে না।

সমস্যার সমাধান আন্তরিকভাবে করতে চাওয়াটা একটু কঠিন, তবে অসম্ভব না। সমস্যারে নিজের সমস্যা মনে করলেই দেখবেন কোনো না কোনো একটা সলিউশন আপনার হাতের কাছে আছে। আপনার আশপাশটা পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করতে হবে আপনাকেই, এবং এমনভাবে করতে হবে যাতে সেই সমস্যা ভবিষ্যতে ফিরে আসার চান্স কমানো যায়।

সম্ভবত ২০১৩ সালের দিকে ইন্ডিয়ার এনডি’টিভির একজন নারী রিপোর্টার রাতের বেলা হাইওয়ের পাশে দাঁড়িয়ে কিছু একটা রিপোর্ট করছিলেন। তিনজন তরুণ সেই হাইওয়েতে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলো। সেই রিপোর্টারকে দেখে ছেলেগুলো “আয় যাইগা” টাইপের কিছু বাজে মন্তব্য করে। ওরা খেয়াল করেনি যে ক্যামেরা আছে। পরে ক্যামেরা দেখে গাড়ি টান দিয়ে ওরা পালিয়ে যায়।

ঘটনার ফলাফল ভয়াবহ হয়েছিলো। এমনিতেই ইন্ডিয়ান নিউজ চ্যানেলগুলো আর এদের উপস্থাপকেরা সামান্য ঘটনাকে এমনভাবে চিৎকার করে পরিবেশন করে, দেখে মনে হয় মহাপ্রলয় ঘটে গেছে। আর এইখানে কেইস তো সিরিয়াস। ক্যামেরার ফুটেজে নাম্বার প্লেট দেখে সেই গাড়ি খুঁজে বের করা হয়। সেই তরুণদের ধরা হয়।

এবং সর্বশেষ কাজের কাজ যেটা করা হয়, সেটা হচ্ছেঃ এদের বাপ-মা’কে প্রকাশ্যে এনে প্রশ্ন করা হয় – ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় আপনারা এদের বড় করেছেন, বলেন। আমরা অন্যান্যদের সতর্ক করবো যাতে তারা তাদের ছেলেদের সেইভাবে বড় না করে। আপনারা কি জানেন, আপনারা ব্যর্থ বাবা-মা ?

লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে গেছিলো সেই বাপ-মায়েদের। রিপোর্টের শেষের দিকে দেখা গেছিলো, এক মা হিড়হিড় করে ছেলের কান ধরে টানতে টানতে জুতা দিয়ে দানাদান পেটাচ্ছেন আর কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, “কী শুয়োর জন্ম দিলাম আমি”।

ওই পেটানোর আঘাত খুব বেশি না, তবে যে লেভেলের অপমান করা হলো – তার তুলনা নাই। এটাই ওদের প্রাপ্য ছিলো, অবশ্যই প্রাপ্য ছিলো।

আপনার যদি মনে হয়, আপনার ফ্রেন্ডলিস্টের, বা ফেসবুকে এইসব শ্লীলতাহানীর জন্য মেয়েদের দায়ী করা কোনো শুয়োরবৎসের বাসা পর্যন্ত আপনি যেতে পারবেন – তাহলে দয়া করে পদক্ষেপ নিন। সদিচ্ছা থাকলে অসম্ভব কিছু না একজনকে খুঁজে বের করা। সাথে চার-পাঁচজন বন্ধু-বান্ধব রাখতে পারেন।

বাবা-মা’দের জানতে দিন, তাদের সন্তান ফেসবুকে কী করছে। স্ক্রিনশট দেখান সেই ছেলের লেখার। সিম্পল একটা মোবাইল ক্যামেরাতে ভিডিও রেকর্ড করুন ঘটনার – কীভাবে কী করেছেন। না করলেও সমস্যা নাই। করলে ভালো।

তাদের একই প্রশ্ন করুনঃ ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় আপনারা এদের বড় করেছেন, বলেন। আমরা অন্যান্যদের সতর্ক করবো যাতে তারা তাদের ছেলেদের সেইভাবে বড় না করে। আপনারা কি জানেন, আপনারা ব্যর্থ বাবা-মা ? – এরপর দেখেন রি-একশনটা কী হয়।

সমস্যা হচ্ছে, অনেক বাবা-মা’ই ওই সন্তানদের মতো করে ভাবেন যে, যতো দোষ মেয়েদের কাপড়ের। এই চিন্তাটা পরিবর্তন করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আলোচনা করতে পারেন বাবা-মায়ের সাথে, যুক্তিযুক্তভাবে। আজকাল টিভিতে ক্রাইম রিপোর্ট সংক্রান্ত “তালাশ” ধরনের যে অনুষ্ঠানগুলো হয়, সেগুলো কিন্তু ঠিক একই প্রক্রিয়ায় কাজ করে। ক্যামেরার একটা বিশাল প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে, যে কোনো অপরাধী ক্যামেরাকে ভয় পায়। তাই ক্যামেরার শক্তিকে ব্যবহার করে অনেক কিছু করা সম্ভব।

সম্প্রতি নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, পহেলা বৈশাখের ঘটনার পর ফেসবুকে ভিডিও ম্যাসেজগুলো বেশ ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। এটাও সেরকম একটা ভাইরাল স্টেপ হতে পারে। একটু সময়সাপেক্ষ, তবে কার্যকর হবে বলে আমার ধারণা।

যদি মিশন সাক্সেসফুল হয়, তাহলে আপনাদের ভিডিওতে কান ধরিয়ে ওই ছেলের জবানবন্দী নিয়ে আসবেন এই মর্মে যেঃ “আমি স্বীকার করছি, মেয়েদের শ্লীলতাহানীর জন্য ছেলেরা এবং শুধুমাত্র ছেলেরাই দায়ী। এখানে কাপড়ের কোনো ভূমিকা নাই।”

তুমি স্বীকার করবা না, তোমার বাপ স্বীকার করবে। তবে স্বীকার তোমারে করতেই হবে। মেয়েদের নামে উল্টা-পালটা কিছু লিখে যদি নিজের দোষ ঢাকার চেষ্টা করো, তাহলে তোমার সর্বনাশ করে ছেড়ে দেয়া হবে। নটরডেম কলেজের বিখ্যাত শিক্ষক মুখতার আহমেদের ডায়লগ অনুসারে এই ক্যাম্পেইনের নাম দেয়া হলোঃ‪#‎সর্বনাশ_করে_ছেড়ে_দেবো‬

যদি কেউ এই রিগার্ডে কোনো ধরনের হেল্প চান, ইনবক্স সব সময় খোলা আছে। আপনি আমন্ত্রিত।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, ইভটিজিংয়ের জন্য পাশ্চাত্য ভোগবাদীতা ও কোর্পোরেট লালসাও সমানভাবে দায়ী, কিন্তু কিছুতেই ধর্ম নয়। বিস্তারিত এখানে… 

পর্নোগ্রাফি আমাদেরকে তথাকথিত “বেশ্যা” এর নয়া ডেফিনিশন এবং ডাইমেনশন দেখিয়েছে। নতুন করে চিনিয়েছে “বাস্টি” এবং “ফেটিশ”। পর্নোগ্রাফির জনরা, সাব-জনরায় মা-বাপ থেকে স্কুল গার্ল, সেলস গার্ল, আর্মি থেকে আমলা কোনো নারী-ফেটিশই বাদ যায় নাই। আমরা প্রতিদিন স্রেফ এই জ্ঞানার্জন করছি যে, রাস্তায় যেতে যেতে, অফিসে বসে বসে, বাড়িতে শুয়ে শুয়ে হঠাৎ করে অজানা অচেনা মানুষের সাথে যৌনতা শুরু করে দেওয়া যায়। এরচেয়েও ভয়াবহ হলো, নারী সে কর্পোরেট চাকুরে হোক, জজ হোক, ডাক্তার হোক বা আর যাই হোক না কেন, তার কতিপয় বিশেষ ভঙ্গিমাই তাকে বেশ্যায় রূপান্তর করতে যথেষ্ট। নো ম্যাটার হোয়াট শি উইয়ারস, ইট ইজ দ্য ইনটেনশন হুইচ ইজ ফোকাসড ইন ইচ পর্ন ফিল্ম। ওখানে বিকিনি আর আর্মির ইউনিফর্ম একাকার হয়ে যায়, একাকার হয়ে যায় মিনি স্কার্ট থেকে বোরকা। চরম কাল্পনিক রাজ্যের ওইসব নারীরা তাই জামা গায়েও যেমন, জামা ছাড়াও তেমন, বিশেষ পার্থক্য নাই।

সমস্যাটা হয়ে যায় বাস্তবতায় ফেরার পর। কোনো মেয়ে স্কুলগার্ল, কি কর্পোরেট চাকুরে, কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী – ব্যাপার না, আমাদের ক্ষুরধার কল্পনাশক্তি তাকে ন্যাংটো করবেই। তার পোশাকের স্ফিত অংশ হয়ে উঠবে মোহনীয় স্তন। এর হাত থেকে বোরকাও বাদ যায় না, ট্রাস্ট মি!

কারণ, আমরা চুলের জেল থেকে গায়ের সেন্ট সব মেখেছি হট হওয়ার জন্য এবং হট করার জন্য। এরপর গাছের আম (স্লাইস জুস – আমসূত্র, ক্যাটরিনা) থেকে কুঁচকির চুল (ভিট-ক্যাটরিনা) পরিষ্কারকারী ক্রিম – সবখানেই লাগিয়েছি যৌনতা। ক্রমাগত “হটায়ন” প্রক্রিয়া আমাদের ঘরের মেয়ের চালচলনকে “হট দৃষ্টিতে দেখো” বলতে চেয়েছে। এখন আমাদের অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, সামান্য ক্রিয়াপদ ও তাদের ধাতুও আমাদের যৌনাকাঙ্খা থেকে রেহাই পায় না। যদি বলি “চুষি” তাহলেও মুচকি হাসি, যদি বলি “লাগাই” তাহলে তো সিনেমা চলে কল্পরাজ্যে।

তথাকথিত উন্নত বিশ্ব নিজেরা পর্নোগ্রাফি ও পর্নোগ্রাফিক প্রোডাক্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে সারাবিশ্বে। চাইল্ড পর্নোগ্রাফি নামক ভয়াবহ ব্যাপারটি ব্যাপকভাবে ছড়ানোর জন্য আপনি ধর্মকে দোষ দিবেন নাকি পশ্চিমাবিশ্বের পর্নোগ্রাফি মিডিয়াকে? অথচ, আজ এই বিশাল ইন্ডাস্ট্রির কথা আমরা যেন ভাবিই না। আমরা ভাবি কেবল ধর্ম আমাদের কি ক্ষতি করলো। ভেবে ভেবে ক্লান্ত হই এবং ক্লান্তি আনি। অথচ, চোখের সামনে সমস্যার গোড়া, দেখতে পাই না। অবশ্য, দেখতে না পাওয়াটা বিচিত্র নয়, নিজেরা কতোটা অবসেসড তাও তো ঠিকঠাক জানিনা।

 লিখেছেনঃ

Yamin Isckra Rahman

veiled-women-saman-khan

                                   এবার লেখার ২য় পর্বে আসা যাক।  আমার মনে হয় এইটাই সবচাইতে গুরুত্বপূণ অংশ কারনএই বিষয়টা নিয়ে কখনো কাউকে বলতে শুনি নাই।

টিএসসির ঘটনাকে উদাহরন টেনে দেশে ইসলামী শাসন কায়েম করা, নারীদেরকে পর্দা করতে বাধ্য করা, ইত্যাদি ত্যানা প্যাচাচ্ছেন মৌলবাদীরা। তাদের সাথে তাল মিলিয়ে অনেকে সুশীল আবার টিএসসি    বজনের ঘোষনাও দিয়েছে। তাদেরকে বলছি, শরিয়ত সম্মত পর্দা পালন করলে একজন নারী হেনস্তা হবে না, এই গ্যারান্টি কি আপনি দিতে পারবেন? কোনদিনও পারবেন না। তাছাড়া, শুধুমাত্র নারীর পর্দাই কি যথেষ্ঠ? পুরুষের পর্দার দরকার নাই? ইসলাম কি খালি নারীদের দিয়েই পর্দা করাতে চায়? আর পুরুষদের সাতখুন মাফ?

অনেকে মনে করেন, পর্দা-বিধান শুধু নারীর জন্য। এ ধারণা মোটেও ঠিক নয়। পুরুষের জন্যও পর্দা অপরিহার্য। যে শ্রেণীর জন্য যে পর্দা উপযোগী তাকে সেভাবে পর্দা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাশ্চাত্যের ও প্রাশ্চাত্য প্রভাবিত পুরুষদের অন্তরে সীলমোহর পড়ে যাওয়ার কারণে তারা এই বাস্তবতা অনুধাবন করতে না পারলেও আজকের পশ্চিমা নারীরা এ বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছে। আর এই বিধানটিই তাদেরকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার মাধ্যম হয়েছে। পর্দা সম্পর্কে খন্ডিত ধারণার কারণে অনেকে মনে করেন যে, পর্দা শুধু নারীদের বিধান, পুরুষ এই বিধান থেকে মুক্ত। এই ধারণা একেবারেই ঠিক নয়। নারী-পুরুষ উভয়কেই পর্দার বিধান দেওয়া হয়েছে। এমনকি কুরআন মজীদেও শুধু নারীকে নয়, নারী-পুরুষ উভয়কেই সম্বোধন করা হয়েছে। তবে নারী-পুরুষের স্বত্তা ও স্বভাবগত ভিন্নতা এবং কর্ম ও দায়িত্বগত পার্থক্যের কারণে অন্য অনেক বিষয়ের মতো পর্দার ক্ষেত্রেও ভিন্নতা ও পার্থক্য হয়েছে।

আমরা যদি ইসলামের সামগ্রিক পর্দা-ব্যবস্থাকে পর্যালোচনা করি তাহলে তিন ধরনের বিধান পাই : ১. কিছু বিধান নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য। যেমন সতরের বিধান, নজরের বিধান, নারী-পুরুষের মেলামেশার বিধান ইত্যাদি। ২. কিছু বিধান শুধু নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন গৃহে অবস্থানের বিধান, প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার সময় নিজেকে আবৃত করার বিধান, সজ্জা ও অলংকার প্রদর্শন না করার বিধান ইত্যাদি। ৩. কিছু বিধান মৌলিকভাবে শুধুমাত্র পুরুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন পরিবারের কর্তা হিসেবে অধীনস্তদের পর্দা সম্পর্কে অবগত করার বিধান এবং তাদের পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের বিধান এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিচালক হিসেবে সর্বশ্রেণীর মুসলিম নর-নারীর জন্য পর্দার বিধান জানা ও মানার ব্যবস্থা, পর্দা-বিরোধী সকল অপতৎরতা বন্ধ এবং সমাজে পর্দাহীনতা ও অশ্লীলতা বন্ধে সর্বাত্মক প্রয়াস গ্রহণ করার বিধান ইত্যাদি।

tuareq_young_man_with_covered_headdress

মোটকথা, ইসলামের পর্দা বিধান শুধু নারীর জন্য নয়, নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য। তেমনি পর্দা-বিধান শুধু ব্যক্তিজীবনের বিষয় নয়। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনেরও বিষয়। (সূত্রঃ আলকাউসার.কম)

 মুসলমানরা কি ইসলামের সবটুকুই মেয়েদের দিয়ে পালন করাতে চায়? মোটেই না। আসুন, পুরুষদের জন্য পর্দার বিধানগুলো এক নজরে দেখা যাকঃ 

১) পুরুষের জন্য নাভীর নীচে ও গোড়ালীর নীচে কাপড় পড়া নিষেধ এবং তা কবীর গুনাহ। (এই কারনে অনেক সময় দেখবেন, মসজিদে নামায পড়ার সময় ইমাম সাহবে তার মুসল্লীদের প্যান্ট বা পাজামা ফোল্ড করে গোড়ালীর উপরে নিতে বলেন।) আর হাটুর উপরে কাপড় তোলা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই হারাম। কোন অবস্থাতেই করা যাবে না।

MEN VEIL

২) পুরুষদের জন্য মেয়েলী পোশাক এবং নারীদের জন্য পুরুষদের পোশাক পরা এবং একে অন্যের সাদৃশ্য গ্রহণ করা নিষেধ। আমাদের নবী (সাঃ) সেই সব পুরুষের উপর অভিসম্পাত করেছেন, যারা নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে (তাদের মতো আকৃতি, তাদের পোশাক ও তাদের চাল-চলন গ্রহণ করে)। আর সেই সব নারীর উপরও অভিসম্পাত করেছেন, যারা পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণ করে।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩৮৮৫

৩) পুরুষদের জন্য স্বর্ণালংকার পড়া হারাম। মসলিন এবং মখমলের কাপড় পরাও হারাম। পুরুষকে ঢিলা ঢালা পোষাক করতে সুপারিশ করা হয়েছে। দৃষ্টিকটু, অশ্লীল পোষাক পড়তে বারন করা হয়েছে। পারতপক্ষে উদোম গায়ে নামায পড়তেও নিষেধ করা হয়েছে। একা ঘরে অন্ধকারে নামায পড়লেও একজন পুরুষের উচিত গায়ে অন্তত একটি গামছা বা তোয়ালে রাখা। – উসুলে আহাল।

৪) ইসলামের চারটি মাদহাবেই প্রত্যেক মুসলিম পুরুষকে দাঁড়ি রাখতে বলা হয়েছে। কোন মাদহাব বলেছে দাঁড়ি রাখা ফরয, কোন মাদহাব বলেছে ওয়াজিব। মানে দাড়িঁ রাখতেই হবে। এতে কোন দ্বিমত নেই। কতটুকু পরিমান রাখতে হবে, তা মাদহাব টু মাদহাব ভ্যারি করে। যেমনঃ হানাফি বা আমাদের মাদহাবে কমপক্ষে এক মুঠো পরিমান দাড়িঁ রাখা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষের জন্য ফরয। এক মুঠোর কম হলে দাড়িঁতে ক্ষুর বা কাচিঁ লাগানোও হারাম। আবার শাফেয়ি বা হাম্বালি মাদহাবে দাড়িঁ ট্রিম করা যায়, চাপ দাড়িঁ রাখা যায়। (প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যে কোন মুসলিম নর-নারী তাদের ইচ্ছেমতো মাদহাব বদলাতে পারেন। তবে শর্ত হলো, যে মাদহাব অনুসরন করবেন বলে মনস্থির করা হয়েছে, সে মাদহাবের আদ্যপান্ত অনুসরণ করতে হবে। প্রাক্তন মাদহাবের সাথে গুলিয়ে ফেলা যাবে না।) সূত্রঃ বায়হাকী, ফেকাহ-উল-উসুল।

৫) প্রত্যেক মুসলমান পুরুষের জন্য সর্বাবস্থায় মাথায় টুপি পড়া সুন্নতে মোয়াক্কায়াদাহ। (শুধু ঘুমানো আর গোসলের সময় বাদে)। – সূত্রঃ ফেকইয়াহ উল উলুম, মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রাঃ)

৬) “হে নবী, বিশ্বাসী পুরুষদেরকে আপনি বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে। (মেয়েদের দিকে বা অন্য কোন উল্টাপালটা দিকে যেন না তাকায়)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের মনের খবর জানেন।” – সূরা নূর। । আয়াত ৩০। কম বেশী অর্থ।

LOWER YOUR GAZE

৭) আবু সাইদ আল খুদরী (রাঃ) বলেছেন – একদিন নবী (সাঃ) আমাদের বল্লেন, ’রাস্তার ধারে অবস্থান নিও না।’ আমরা তাকেঁ জিগেস করলাম – রাস্তার ধারে অবস্থান না করে তো আমরা থাকতে পারবো না, কারন সেগুলো তো আমাদেরই জায়গা, যেখানে আমরা কথা বলি ও প্রয়োজনীয় কাজ সারি।” – নবী  এরপর বলেন – “বেশ, তোমরা যদি রাস্তায় একান্তই থাকতে চাও, তবে রাস্তার হক আদায় করো।”  আমরা বল্লাম – ”হে আল্লাহর নবী, রাস্তার হক আবার কি?” তিনি জবাব দিলেন – “নিজেদের দৃষ্টিকে নিচু করে রাখা, হারাম বস্তু বা প্রাণী বা বেগানা নারীদেরকে দেখা থেকে বিরত থাকা, সালাম দেয়া, অন্যকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকা ও সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা।”  – মুসলিম, সহিহ বুখারী। (মানে হলো, রাস্তার ধারে থাকাবস্থায় এইসব কাজগুলো করতে হবে। নাহলে রাস্তায় অবস্থান নিতে স্বয়ং নবী (সাঃ) সকল মুসলিম পুরুষদের নিষেধ করে দিয়েছেন!

যেসব লোক বখাটেদের মেয়ে দেখলে উৎপাত করাকে “মেয়েরা পর্দা কেন করেনা” বলে যুক্তি দেখায়, উপরের হাদিসটা তাদের জন্য উপযুক্ত জবাব। এম্নিতে রাস্তায় দাড়িয়ে আড্ডা দিতেই নিষেধ করা হয়েছে, আর যে রাস্তা দিয়ে মেয়েরা যাতায়াত করে সেখানে দাড়িয়ে ঈভ টিজিং করাটা শরিয়তের দৃষ্টিতে কতটা জঘন্য অপরাধ হতে পারে সেটা তো কল্পনাই করা যায়না। যদি খুব দরকারে দাড়াঁতেও হয়, তাহলে পুরুষের দৃষ্টিকে নীচের দিকে রাখতে বলা হয়েছে, যেটা করলে মেয়ে বেপর্দা না বেগানা নাকি অন্যকিছু সেটা তো দেখতে পাওয়ার প্রশ্নই আসেনা। 

৮) রাস্তার ধারে পেশাব করতে বসা, পাছার খাজঁ বের করা প্যান্ট পড়া, যেখানে সেখানে লুংগী বাধাঁ, কাছা দেয়া, লুংগীকে ভ্যান্টিলেটর হিসেবে ইউজ করা, বা আটোঁ সাটোঁ প্যান্ট পরা যার কারনে নিতম্ব বা পুরুষাংগ-বা অন্ডকোষের অবয়ব বোঝা যায় এমন পোষাক পড়া –  এইসব পুরোপুরি হারাম। আই রিপিট, হারাম। ষ্ট্রিক্টলি হারাম।

৯) “চোখ হচ্ছে শয়তানের তীর। শয়তান  এই তীর দিয়ে তার শিকারকে ঘায়েল করে। পুরুষেরা তাদের চোখকে হেফাজত করুক।” Allah was aware that exposed bosoms aroused sexual desires in men; He therefore, asked Muslim men to “lower their gaze and guard their modesty” in order to protect their manly purity from being soiled by lust.

A Muslim man sits at the ruins of the Feroz Shah Kotla mosque before offering prayers on the occasion of Eid-al-Fitr in New Delhi August 20, 2012. Eid-al-Fitr marks the end of Ramadan, the holiest month in the Islamic calendar. REUTERS/Ahmad Masood (INDIA - Tags: RELIGION SOCIETY) ORG XMIT: DEL24

A Muslim man sits at the ruins of the Feroz Shah Kotla mosque before offering prayers on the occasion of Eid-al-Fitr in New Delhi August 20, 2012. Eid-al-Fitr marks the end of Ramadan, the holiest month in the Islamic calendar. REUTERS/Ahmad Masood (INDIA – Tags: RELIGION SOCIETY) ORG XMIT: DEL24

১০) ’যে ব্যক্তি তার দুই চোয়াল, দুই চোখ আর দুই রানের মাঝের অংশের সুরক্ষা করবে, আমি তার জান্নাতের সুরক্ষা করবো ‘ – বায়হাকী, তিরমিযী।

১১) কেয়ামতের দিন মানুষের প্রত্যেক অংগ প্রতংগ সাক্ষ্য দিবে। যারা ভীড়ের ভেতর নারীদেহ হাতায়, তাদের হাতই তাদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দিবে।

১২) পর্দার পাশাপাশি পুরুষদের জন্য অতুলনীয় ভব্যতার শিক্ষাও দেয়া  হয়েছে। সুন্নত হচ্ছে, কোন মুসলমানের পুরুষের জন্য কোন মহিলা তো বটেই, এমনকি তার স্ত্রীর ঘরেও নক না করে প্রবেশ করাটা অভদ্রতা।  বাবা-মার শোবার ঘরে নক না করে প্রবেশ করাটা সন্তানের জন্য হারাম।  অর্থাৎ, নক করে, অনুমতি নিয়ে তারপর বাবা-মা ঘরে প্রবেশ করতে হবে। কোন পুরুষ কোন নারীর ঘরে উকিঁ দেয়া হারাম। (তালাত – আল-ইয়াহিয়া)

এভাবে প্রত্যেকটি কাজ শরিয়তে স্পেসিফিকলি বলে দেয়া হয়েছে, পুরুষদের জন্য করা যাবে কি যাবে না। এতটুকু মানলেই মেয়েরা আপনাতেই পর্দা করা শুরু করবে। মুসলমান বোনদের বলছি, কোন ছেলে বা পুরুষ আপনাদেরকে পর্দা করতে ধমক দিলে তাকে মনে করয়ে দিন যে সে উপরের কয়টি পর্দা ভঙ্গ করছে।

মেয়েদেরকে ধর্মের ষোলআনা পালন করানোর জন্য বাধ্য করব আর নিজের বেলায় ধর্মের কোন খোঁজখবর নেই, এটা সম্পূর্ণভাবে মুনাফেকীর লক্ষণ। একজন মুসলমান নিজের জন্য যা পছন্দ করবে অন্যের জন্যও তাই পছন্দ করবে, নাহয় সে প্রকৃত মুসলমানই না। দেখেন পারেন কিনা, ঢাকার রাস্তায় ১ মাইল হেঁটে দেখেন আর যত মেয়ে আসে তাদের দিকে না তাকিয়ে দৃষ্টি নিচের দিকে করে রাখবেন, সুন্দরী হোক অসুন্দরী হোক, তাদের দিকে তাকাবেন না। যদি নিজের দৃষ্টিকে সংযত করতে না পারেন তাহলে আপনার বোন, আপনার স্ত্রী, আপনার পাড়া প্রতিবেশী কাউকেই পর্দা করানোর জন্য জোর করার কোন অধিকার আপনার নেই।

Muslim man praying on an empty dock

Muslim man praying on an empty dock

(নোটের পুরুষ অংশের কিয়দংশ ব্লগার নরাধমের পোষ্ট থেকে উদ্বৃত। ৫ বছর আগে পুরুষদের পর্দা নিয়ে সংক্ষেপে লিখেছিলেন ব্লগার মাহফুজ আহমেদ। নোটের কলেবর বৃদ্ধির আশংকায় লিংক দিচ্ছি শুধু, ওটা পড়লেই চলবে আপাততঃ )

মৌলবাদীরা যদি ভাবে, এই ঘটনার কারনে এই দেশেইসলামী তথা জংগী রাষ্ট্র কায়েম করা অনেক সোজা হয়ে যাবে, তাহলে তারা বিরাট ভুল করবে। আমি জানি যে, এখনকার ছেলেমেয়েরা দরকার হলে শরিয়ত সম্মত পর্দা করবে, তবু নিজের দেশকে চোখের সামনে জংগী রাষ্ট্র হতে দেবে না।

আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে যথাযথ পর্দা করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

One thought on “পুরুষের পর্দার কথা বলবে কে? (নারী এবং পুরুষের পর্দার একটি সামগ্রিক পর্যালোচনা)

  1. প্রলয় হাসান says:

    কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ মোঃ কামরুজ্জামান পরান। কমেন্ট না করে পারার কথা আসছে কেন? আমি তো চাই-ই আমার পাঠক কমেন্ট করুক, আমার সাথে ইন্টার‌্যাকশন করুক। যাই হোক, আমার ইসলামী জ্ঞান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতেই পারেন কারন আমি কোন ইসলামিক স্কলার নই, মাওলানা বা মুহাদ্দীসও নই। তবে নিজে যেটুকু জেনেছি, সেটুকু অপরের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা ও সমাজের ভ্রান্ত ধারনাগুলোর নিস্পত্তি কামনা করাই এমন লেখার মূল চালিকাশক্তি আমার জন্য।

    আমাকে সংশোধন করতে এগিয়ে আসার জন্য আপনাকে সাধুবাদ। কিন্তু জনাব, দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে, আমার তথ্যগুলো সঠিক করতে গিয়ে আপনি নিজেই বেশ কিছু ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ফেলেছেন। আরেকটা ব্যাপার, আমি কিন্তু সূত্র উল্লেখ করেছি, ধারনা করে বলিনি। কিন্তু আপনি প্রথম তিনটি পয়েন্টের ফেভারে কোন রেফারেন্স উল্লেখ করতে পারেন নি। সুতরাং, আপনার কথাটা আপনাকেই ফিরিয়ে দিচ্ছি – মনে রাখবেন ধারনা করে (ইসলাম বা হাদিস-কোরানের ব্যাপারে) কিছু বলা হারাম।

    1) Islam e kono majhhab nei, (No where in quran or sunnah, its human made) –

    মাদহাবের সংজ্ঞা জানলে মনে হয় না এইরকম কান্ডজ্ঞানহীনের মতো কোন বিবৃতি দিতেন। ৪টি মাদহাব গঠিত হয়েছে কোরআন আর সুন্নাহ থেকেই। একটা উদাহরন দেই, যেমনঃ কোরআনে বলা আছে – “সমুদ্রের বুকে যা কিছু আছে তা তোমাদের জন্য হালাল।” – কম বেশী অর্থ। সমুদ্রের বুকে তো অনেক কিছু আছে। হাঙ্গর আছে, তিমি আছে, বিষাক্ত প্রাণী আছে, ডুবে যাওয়া পুরনো জাহাজসহ ইত্যাকার জিনিসপাতি আছে যেগুলো খাওয়া যাবে না, সম্ভবও না। এখন বলেন, তাহলে আল্লাহ কেন এই কথা বল্ল? সমুদ্রের সবকিছু খাওয়া যাবে না এইটা তো সে জানেই। তাহলে কেন এই আয়াত নাজিল করলেন তিনি? আপনি এই আয়াতের কি অর্থ ধরে নিবেন? আপনি এমন একটা উত্তর কি দিতে পারবেন যেটা কোন মাদহাবের ভেতরে পড়বে না? পারলে দিন এর উত্তর। দেখি, আপনার কত বুদ্ধি। আপনি নিজেই প্রমান করে দিবেন মাদহাব আছে কি নেই।

    তাছাড়া, ইজমা-কিয়াস আর ইজতেহাদও তো হিউম্যান মেইড। তাহলে ইজমা কিয়াসের মাধ্যমে গাজাঁ/সিগারেট ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য হারাম করা হয়েছে, ইসলামে গাজাঁ/সিগারেটসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য হারাম

    2) Islam e Dari rakha sunnah, not farz. – এটাও চরমতম ভুল একটা তথ্য। যে জিনিস আমাদের নবী সর্বদা পালন করতেন, সেটা সুন্নতে মোয়াক্কাদাহ। (কারন উনি তারঁ জীবনে সব সময়ই দাড়িঁ রেখেছেন, কোনদিন সেইভ করেন নি।) আর সুন্নতে মোয়াক্কাদাহ ওয়াজিবের কাছাকাছি। ওয়াজিব ফরজের কাছাকাছি। তার মানে সুন্নতে মোয়াক্কাদাহ ফরজের কাছাকাছি। ইসলামে দাড়িঁ রাখা শুধু সুন্নাহ, এটার পক্ষে দলিল দেখান।

    3) Apni bolesen, Non muslimder porda kora Farz noi, ata Vul totho, Hindu, christian n muslim shobar jonno porda farz. – আবারো ভুল তথ্য। কারন ইসলাম আসার পর ক্রিশ্চান ধর্মটাই আল্লাহ বাতিল বা রহিত করেন দেন এবং সমস্ত খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের আদেশ দেয়া হয়, তাদের খ্রিষ্ট ধর্ম ত্যাগ করে ইসলামের ছায়াতলে আসার জন্য। সেই সময় আয়াত নাজিল হয় – “আজ থেকে তোমাদের ধর্ম হিসেবে দ্বীন ইসলামকে মনোনীত করলাম” (কম বেশী অর্থ), সুতরাং, যে ধর্মটাই তিনি বাতিল করে দিয়েছেন, সেই ধর্মে যদি মেয়েদের পর্দার কথা বলাও থাকে, তবে তা খ্রিষ্টান নারীদের জন্য রহিত হয়ে যায়। এটা বুঝতে মাওলানা হবার প্রয়োজন নেই। কমন সেন্সই যথেষ্ঠ। আপনার মনে হয় সেটাও নেই।

Comments are closed.