পুরুষের উপর নারীর মনস্তাত্ত্বিক নির্ভরশীলতা ও কিছু প্রাসঙ্গিক কথা

5db9b2a410cf05fca37719caeacac39b

তথাকথিত মর্ডান মেয়েদের কাছে ছেলেদের বেশ ভূষা পরে আধুনিক হওয়া একটা মানদন্ড হয়ে দাড়িঁয়েছে। এটা অবশ্য নতুন কিছু না। ছেলে হওয়ার এই ট্রেন্ড চালু হয়েছিলো ৫০ এর দশক থেকে, যখন পাশ্চাত্যে ছেলেদের মতো মেয়েরাও জিনস পড়া আরম্ভ করলো। মেয়েরাও ছেলেদের মতো ববকাটিং চুল ছাটঁ দেয়া শুরু করলো, ছেলেরা যা যা পড়ে বা করে, সে সব করাটাই মেয়েদের জন্য আইডল হওয়া শুরু হলো। কারন একটা মেয়ের জন্যে একটা ছেলেকে আইডল হিসেবে দেখাটা গর্বের এবং চিরন্তন। শুরু থেকেই এই বোধটা এত নিবিড়ভাবে মেয়েদের মননে গেথেঁ দেয়া হয়েছে যে, মেয়েরা এখন অবচেতনভাবেই ছেলেদের ফ্যাশনের দারস্থ হয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত ফ্যাশনসচেতন ভেবে মিথ্যা স্বান্তনা পাচ্ছে। নিজেদেরকে ছেলে ভেবে তৃপ্তি পাচ্ছে!

অপরদিকে, একটা ছেলে যদি ভুল ক্রমেও মেয়েদের বেশ ভূষা পড়ে, মেয়েদের পোষাক পড়ে, মেয়েদের মতো আচার আচরন করে, তাকে নিয়ে নিন্দা মন্দের ঝড় ওঠে, সবাই তাকে ক্ষ্যাপায়। শাকিব খানের মেয়েলী চেহারা বা আচার আচরনের কারনে বেচারাকে নিয়ে কম ঠাট্টা মস্করা হয় না। এর কারন কি? এর কারন ছেলেদের কাছে মেয়েদের পোষাক বা কর্ম কোনটাই কোন আদর্শ নয়। বরং তাদের কাছে এটা ডিগ্রেডিং একটা ব্যাপার। লজ্জার একটা ব্যাপার!

d983ae3c5a2207963e9f74e6a741f9a8

অনেক নারীবাদীদেরও দেখেছি, মেয়েদেরকে ছেলেদের মতো হতে তাদেরকে প্রণোদনা দেয়, ‘ছেলেরা পারলে আমরাও পারবো।’ অথচ কোন নারীবাদীকে বলতে শুনি না, ‘মেয়েরা পারলে ছেলেরাও কেন পারবে না’ – বলতে। ছেলেদের অনুকরন করে করে নিজেদের হেডম জাহির করার চেষ্টা করার এই প্রবনতা বিশ্বজুড়ে, কিন্তু মেয়েদের অনুরকন করার প্রবণতা ছেলেদের মধ্যে দেখা যায় না কেন? এই উল্টো অবস্থার জন্য দায়ী কারা?

দায়ী মেয়েরাই। তারাই যেচে ছেলেদেরকে ’আইডল’ বানিয়েছে। আদর্শ বিচারের মানদন্ডে ছেলেদেরকে বেঞ্চমার্ক  ধরা হয়। এই কারনেই, এখনকার বেশীরভাগ মেয়ে আজীবন ছেলেই হতে চায়, মানুষ বা নারী হতে চায় না। অনেকদিন আগে তসলীমা নাসরিনের একটা লেখায় জেনেছিলাম, ছেলেরা দাড়িঁয়ে প্রশাব করে বলে সেও দাড়িয়েঁ প্রশাব করতে চায়। বাহ! তারমানে ছেলেদেরকে সে আদর্শ হবার মানদন্ড হিসেবে বিচার করেছে। শোভন-অশোভন কোন বিষয় না, যে কোন ক্রমেই হোক, ছেলেদের সমকক্ষ হতেই হবে। তারা এটা বুঝে না যে,  নারীর জন্য পুরুষকে মানদন্ড হিসেবে ধরাটাই আদ্যোপান্ত এক পুরুষবাদীতা।

quote-you-think-that-being-a-girl-is-degrading-but-secretly-you-d-love-to-know-what-it-s-like-charlotte-gainsbourg-78-33-22

তাহলে এর প্রতিকার কি? এর প্রতিকারও মেয়েদের হাতেই। ছেলেরা কোনদিন এর প্রতিকার করতে পারবে না। [যারাও বা করতে চেয়েছে, তাদেরকে পুরুষবাদী হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। ‘নারীবিদ্বেষী’ বলে গাল দেয়া হয়েছে।] মেয়েরা যতদিন না নিজেদেরকে ছেলে না ভেবে মেয়ে বা মানুষ ভাবতে শেখবে, ততদিন এর থেকে তাদের আসলে কোন প্রতিকার নেই।

আমি এতদিন ভাবতাম,  কিছু কিছু মেয়ে ফ্যাশন-বেশ-ভূষার জন্য পুরুষের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু ব্যাপারটা আসলে শুধু এখানেই থেমে নেই। অনেক মেয়ে আছে, তারা শুধু পোষাক আষাক নয়, মনস্তাত্ত্বিকভাবেও ছেলেদের উপর নির্ভরশীল। তারা ভাবে, একটা পুরুষ না হলে তাদের জীবন অর্থহীন। একটা বয়ফ্রেন্ড না থাকলে বান্ধবীদের সামনে মুখ দেখানোই বুঝি দায়। আবার যার বয়ফ্রেন্ড আছে, তার অধিক হ্যান্ডসাম বয়ফ্রেন্ড চাই।

একটা মেয়ে তার পছন্দের একজোড়া জুতার জন্য বায়না কার কাছে ধরবে? বাবা বড় ভাই এর কথা মনে আসার আগে প্রথমেই মনে আসে বয়ফ্রেন্ডের কথা। সেদিন ফেসবুকে মজা করে একটা ষ্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। এখানে যেহেতু প্রসঙ্গ উঠলো, সেহেতু কোট করা যায় মনে হয়।

উইন্ডো শপিংয়ে গিয়ে এক জোড়া দামী হাই হিল জুতো ভীষন পছন্দ হয়ে গেলোঃ১. বাবার আদুরে মেয়েঃ কালই বাবাকে বলবো এটা কিনে দিতে।…

Posted by Proloy Hasan on Sunday, October 20, 2013

 আরো ভয়ংকর ব্যাপার হলো, তারা তাদের জীবনের সুখের জন্য একজন ‘প্রিন্স চার্মিং’ এর জন্য আজীবন অপেক্ষা করে। তারা ধরেই নিয়েছে, পুরুষ ছাড়া আর কেউ তাদেরকে সুখী করতে পারবে না।

prince-charming-might-existbut-you-dont-have-to-be-sleeping-beauti-waiting-for-him-to-resccue-you-beauty-quote

মেয়েরা চায় ‘আসল পুরুষ।’ পুরুষের  পৌরূষ  গড়পড়তা মেয়েদের আরাধ্য, হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই ঠিক যখনই তাদের এই চাওয়াটা কোন কারনে বাধাগ্রস্থ হয়, তারা সেটাকে মেনে নিতে পারে না। আপনি একটা ভাল পয়েন্ট ধরেছেন, কোন মেয়েলী যুবাকে অন্য সাধারন যুবা তো দূরের কথা, মেয়েরাই স্বয়ং সহ্য করতে পারে না। তারা পুরুষকে তাদের আরাধ্য বেশেই দেখতে চায়। যেখানে তাদের মানসিকতারই এই দৈন্য দশা, সেখানে পুরুষের পোষাক পরিধান করে পুরুষ হতে চাওয়াটা একটা হাস্যকর হিপোক্রেসী ছাড়া আর কিছুই নয়।

গতকাল রাতে আমার খুব প্রিয় একটা জার্মান মুভি ‘র‍্যাবিট উইদাউট ইয়ারস’ [আগ্রহীরা এখান থেকে মুভিটির ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পারেন] ২য় বারের মতো দেখছিলাম। সেখান থেকে কিছু ডায়লোগ এ ব্যাপারে খুবই প্রাসংগিক মনে হলো। বার্লিনের একটি ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে হাটঁতে হাটঁতে মুভির নায়িকা এনা নায়ক লুডোকে তার পুরনো সম্পর্কগুলোর ব্যাপারে বলছে। এক পর্যায়ে পুরুষদের প্রতি এনার ক্ষোভ ঝড়ে পড়লো –

Men are jerks and makes you unhappy.

প্রত্যুত্তরে লুডো এনাকে কিছু চমৎকার কথা বলে –

No man in the world can make you happy if you were NOT already happy with yourself. You have to make yourself happy first. I think, It’s totally selfish to wait at home, frustrated, and expecting someone else to make you happy all the time. Anyway, It’s normal to be unhappy. I don’t turn around everyday saying, “life is awesome!’ why does everyone expect to be happy all the time as being happy and being unhappy both are part of our life?

এনা চুপচাপ শুনে বল্ল –

Sounds nice, but what do you know about relationships?

12019968_10153677913547220_4946888180742176309_n

লুডো বল্ল –

Think I have never had a relationship? That’s why I am alone! Actually It’s so difficult so find someone who’s got it together. And doesn’t expect me to make them happy. And blame me for it when they are not. (তোমার কি মনে হয়, কখনো আমার সাথে কারো সম্পর্ক হয়নি এই কারনে আমি একা থেকে গেছি? আসলে, সবকিছু আছে (সুখী হবার ব্যাপারে আমার দৃষ্টিভংগির সাথে মেলে) এমন কাউকে খুজেঁ পাওয়া খুব কঠিন। যে নিজেকে সুখী করার জন্য আমার কাছে কোন আশা রাখবে না। আর অসুখী হলে সেই দায়ভারও আমার ঘাড়ে চাপাবে না।)

এত গুছিয়ে, এত অল্প কথায় জীবনের এই গূঢ় দর্শনটি হয়তো আর কোনভাবেই বলা যেতো না।

এনা’র মতো হীনমন্য সেইসব মেয়েদের এটা বুঝতে হবে যে, তুমি যদি নিজেকে নিয়ে আগে থেকেই সুখী না থাকতে পারো, তবে পৃথিবীর কোন মানুষ তোমাকে সুখী করতে পারবে না। তোমার নিজেকে নিজে সুখী করতে হবে। স্বার্থপরের মতো, বিষন্ন হয়ে একলা ঘরে বসে বসে ভাববে, কোন একদিন এক রাজপুত্র এসে তোমাকে সুখী করে দেবে, সব সময় সুখী রাখবে, তাহলে নির্ভরশীলতা বাড়বে না কমবে? আর কেউ যদি অসুখী হয়ও, সেটাও স্বাভাবিক। তাই, জীবনে কেউ আসেনি বলে আমি অসুখী, এমনটা বোকারাই ভাবে। কেন সবাই সব সময় সুখীই হতে চায়? কেন সুখী হতেই হবে? সবাই তো ‘জীবনটা দারুন’ বলে প্রতিদিন নিশ্চিন্তমনে ঘুরে বেড়ায় না। আর সুখী হওয়া এবং অসুখী হওয়া দুটোই তো আমাদের জীবনের অংশ, তবু মানুষ কেন শুধু সুখীই হতে চায়?waiting

 

আর একান্তই যদি সুখী হতে হয়, তবে সে সুখের জন্য কেন অন্যের দারস্থ হতেই হবে?

এই কথাগুলো একইভাবে পুরুষদের জন্যও প্রযোজ্য। কোন সংসারী মেয়ে এসে আমার সংসারটাকে গুছিয়ে দিয়ে যাবে, নিজের সব কিছুর জন্য আমার স্ত্রীর উপর আমি পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে যাবো, এমনটা কুড়েঁ আর অর্থবদের চিন্তা-ভাবনা।

ছবিঃ গুগল

 

কিছুদিন আগে লিখেছিলাম, কিছু কিছু মেয়ে ফ্যাশন-বেশ-ভূষার জন্য পুরুষের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু ব্যাপারটা আসলে শুধু এখানেই থেম…

Posted by Proloy Hasan on Saturday, December 22, 2012

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য