দেশের তরুণ প্রজন্ম ও ইনসমনিয়াঃ এক অভিশপ্ত মেলবন্ধন

awakeএখনকার বেশীরভাগ সদ্য তরুনী বা তরুনী মেয়েদের মধ্যে একটা কমন জিনিস দেখতে পাচ্ছি, সেটা হচ্ছে এরা প্রায় সবাই ইনসোমনিয়ায় ভুগছে। [প্রশ্ন আসতে পারে, ছেলেরাও তো ভুগছে, সেটা খেয়াল করিনি? প্রশ্ন হচ্ছে, করেছি। কিন্তু ছেলেদের এই সমস্যা ইদানিংকার না, অনেক আগেরই। একটা সময় শুধু ছেলেরাই ইনসোমনিয়ায় ভুগতো, এখন সমানতালে মেয়েরাও ভুগছে]। আমার বন্ধু তালিকায় এমন কিছু মেয়ে রয়েছেন, তাদের সাথে আলাপচারিতায় জানতে পেরেছি তাদের রাতে না ঘুমানোর অভ্যেস রয়েছে, কেউ কেউ ভোর রাতে বা ভোরের দিকে ঘুমুতে যান এমনকি কেউ কেউ ঘুমের জন্য নিয়মিত ঘুমের ট্যাবলেটও খান। অথচ কেন তাদের রাতে ঘুম আসে না, এ ব্যাপারে প্রশ্ন করে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বেশীরভাগই কোন কারন বলতে পারেননি।
সম্প্রতী এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৫ বছর আগের তুলনায় এখনকার মেয়েরা নাকি প্রায় ২ ঘন্টা পর রাতে ঘুমুতে যায়। শতকরা ৪০ ভাগ নারী রাত ১/২টা পর্যন্ত জেগে থাকে সকালে অফিস বা ক্লাস থাকা সত্তেও! মনোবিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে পত্রিকায় দিক নিদের্শনা দিতে পারেন। কারন ব্যাপারটা অবশ্যই সিরিয়াস এবং আশঙ্কাজনক। এবং ভবিষৎতে এই সমস্যা আরো গুরুতর আকার ধারন করতে পারে, ক্যারিয়ার এবং দাম্পত্যজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

insomnia

আমি এ বিষয়ে লেখার জন্য ঢাবির কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট ডঃ মেহতাব খানম এবং ডঃ আনোয়ারা সৈয়দ হককে ই-মেইল করে জানিয়েছি। হক আন্টি জানিয়েছেন লিখবেন। তাকে যথাসম্ভব আরো তথ্য উপাত্ত দিয়ে সাহায্য করতে বলা হয়েছে। উনি কিছু মেয়েদের সাথে সরাসরি কথা বলতে চেয়েছেন। আর খানম আন্টির কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোন রিপ্লাই পাইনি।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, রাতে ঘুম না আসা আর ইনসমনিয়া এক জিনিস নয়। সাময়িক স্ট্রেসে বা টেনশানে [যেমন: পরীক্ষার আগের রাতে] অনেকের ঘুম আসে না। কিন্তু সেই স্ট্রেস বা টেনশন যদি কোন কারনে দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়, তবে ইনসমনিয়া হবার চান্স থেকে যায়। ইনসমনিয়ায় আক্রান্ত হবার সবচেয়ে বড় লক্ষন হচ্ছে, রোগী রাতে বা দিনে কোন সময়ই ঘুমুতে পারে না।

নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খাওয়া কোন কাজের কথা নয়। ডাক্তাররা এটাকে পুরোপুরি ডিসকারেজ করেন। ঘুমের ওষুধ প্রধানত হাসপাতালের রোগীদের জন্য, যাদের ইনসট্যান্স ঘুম দরকার বা নিদারুন শারীরিক ব্যাথার কারনে ঘুমাতে পারেননা। ঘুম আসে না বলে ঘুমের ওষুধ খাবার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে।

insomnia-definition

ইনসমনোয়িার কারন যতটা না শারীরিক, তার চাইতে অনেক অনেক বেশী মানসিক।

রিল্যাক্সেশন থেরাপি, নির্জন ও অন্ধকার ঘরে ঘুমের পরিবেশ করে দেয়া, প্রতিরাতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম, টেনশান বা স্ট্রেস ফিল না করা ইত্যাদি ইনসমনিয়ার চিকিৎসা। আমার মতে, যাদের ইনসমনিয়া আছে, ঘুম না আসলেও তাদের উচিত ঘড়ি ধরে সময়মতো বিছানায় যাওয়া। ঘুম আসলেও বিছানায় শুয়ে কিছুক্ষন গড়াগড়ি করা বা হালকা বই পড়া বা ক্ল্যাসিক্যাল গান/মিউজিক শোনা। তবে খবরদার, এই সময়টাতে কোনমতেই টিভি দেখা বা কম্পিউটারের সামনে বসা যাবে না।

এবার নিজের ব্যাপারে বলি, আমি রাত জাগি আজ প্রায় ৮/৯ বছর ধরে। বেশীরভাগ সময়ই আমি ঘুমুতে যাই ভোরবেলা অথবা সকাল ৭-৮ টার দিকে। কিন্তু দুনিয়ার কোন ডাক্তার আমাকে বলতে পারবে না আমার ইনসমনিয়া আছে। কারন ঘুমের উপর আমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রন রয়েছে। [কিভাবে এটা হয়েছে আমি জানি না]। মানে আমি যখন ঘুমুতে চাইবো, ঠিক তখনই আমার ঘুম আসে। সেটা রাত ১০ টা হোক আর সকাল ৮ টা হোক। কখনো “ঘুম আসছে না কেন” এমনটা মনে হয়না। আমি বরং চাই আমার ঘুম না আসুক। কারন অনেক কাজ করার বাকী, অনেক বই পড়ার বাকী, অনেক লেখার বাকী। ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু শরীর ঠিক রাখতে চাইলে সেটা না ঘুমিয়ে কিছুতেই সম্ভব নয়। যেদিন ঘুমের হালকা সমস্যা হয়, সেদিন আমি খুব খুশী হই কারন শুয়ে শুয়ে বই পড়া আর গান শোনার একটা সুযোগ পাওয়া গেছে ভেবে।

insomnia

সবচেয়ে বড় কথা, আমি দিনের বেলা পড়ে পড়ে ঘুমুতে পারি, টানা ১৯ ঘন্টা ঘুমোবার রেকর্ডও আছে আমার! এক বন্ধু রসিকতা করে বলতো, লোকে ঘুমুতে যায় ঘড়ি দেখে, তুমি যাও ক্যালেন্ডার দেখে।

https://www.facebook.com/proloyhasan/posts/10151200396122220

 

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য