তিন উপাখ্যান

bigstockphoto_Three_Girl_Friends_Celebrating_212140

প্রথম উপাখ্যানঃ

১. রাত ফুরিয়ে চারিদিকে ভোরের আলো ফুটছে। চারিদিকে একটি পবিত্র ভাব। খুব শীতল শীতল আবহাওয়া। কৃষক রমিজ মিয়া ফযরের নামায পড়ে ঘরের দাওয়ায় বসে বসে বিড়ি টানছে। এমনিতে সে নামায কালাম পড়ে না, কিন্তু আজ একটি বিশেষ মূহুর্ত। আজ তার পুত্র সন্তান হবে। পর পর তিনটি মেয়ে হবার পর জীবনের প্রতি সে বড়ই বীতঃশ্রদ্ধ। ৩য় মেয়েটি হবার পরই তার খালা তাকে বলেছিলো আরেকটি বিয়ে করতে কিন্তু সে আরেকটিবার সুযোগ দিতে চাইলো তার স্ত্রীকে।

২. কয়েকদিন আগে এইরকম ভোর বেলায় সে স্বপ্নে দেখেছে ফেরেশতার মত একটা ফুটফুটে ছেলেকে সে কোলে নিয়ে বসে আছে। খুশীতে তার ঘুম ভেঙ্গে গেছে। কারন ভোর বেলার স্বপ্ন নাকি সত্য হয়! রমিজ মিয়া সেই খুশীতে সক্কাল সক্কালই বাজার থেকে মিষ্টি কিনে আনল। নিজের হাতে তার মেয়ে ৩টি আর বউকে মিষ্টি খাইয়ে দিল। সবাই জিজ্ঞেস করলো ঘটনা কি? রমিজ মিয়া কাউকে কিছু বলে না। শুধু তার বউকে পান চিবুতে চিবুতে বল্ল – “বুঝলা বউ, ইনশাল্লাহ এইবার আমাগো স্বপন পূরা হইবো। আমি আইজ বিয়ান বিলা খোয়াব দেখছি যে আমাগো একটা পোলা হইছে। বিয়ান বেলার খোয়াব সইত্য অয়।” শুনে তার বউ কিছু বল্ল না। শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেল্ল। কারন সে জানে এই স্বপ্ন সত্য না হলে তার কপালে অনেক দুগর্তি অপেক্ষা করছে।

৩. রমিজ মিয়া আগে ভাগেই তাদের গ্রামের বিখ্যাত কালিপ্রদ ময়রাকে খবর দিয়ে রেখেছে, তার জন্য যেন আধ মন মিষ্টি বানিয়ে রাখে। খবর পাওয়া মাত্র সে যেন মিষ্টি নিয়ে তার বাড়িতে হাজির হয়। গতকাল মাঝরাতে তার স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠে। সেই থেকেই রমিজ মিয়ার খুশী আর ধরে না। কুলসুমা দাঈ এসেছে তখনই। রমিজ মিয়া তার ৩ মেয়েকে ঘিরে বসে আছে। একটু পর পর বদ্ধ দরজা সামনে থেকে ঘুরে আসছে। তার আর তর সইছে না যেন। সে মনে মনে কল্পনা করছে, ছেলেটা দেখতে কার মত হবে, খুব দুষ্টু হবে কিনা, তবে যাই হোক, তার ছেলেকে অবশ্যই সে ডাক্তার ইন্জিনিয়ার কিছু একটা বানাবে। দরকার হলে সে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পরের জমিতে বর্গা দিয়ে যাবে। সবাই যখন বলবে – “অমুক ডাক্তারের বাপে যাইতেছে” তখন গর্বে তার বুকের ছাতি ৩ হাত হয়ে যাবে। “আরে অমুক বলবে কেন, পোলার কি নাম নাই? আসলেই তো! পোলার তো একটা নাম দরকার। কি নাম দেয়া যায়?” অনাগত ছেলের নামের চিন্তায় সে বিভোর হয়ে গেল। তার মেয়ে ৩ টা অবাক হয়ে তাদের বাবার উত্তেজনা লক্ষ্য করছে!

৪. হঠাৎ ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ শুনতে পেল রমিজ মিয়া। দৌড়ে গেল। কুলসুমা একটা কাঁথায় জড়িয়ে একটা শিশু নিয়ে এসেছে। রমিজ মিয়া “কই আমার বাজান কই” বলে বলতে গেলে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল শিশুটিকে। কোলে নিয়ে হাসতে হাসতে বল্ল- “একদম আমার বাপের মত হইছে আমার বাজানটা।” বলেই সে শিশুটির উপর থেকে কাথাটাঁ সরাল। সাথে সাথে তার সমস্ত মুখ আধারঁ হয়ে উঠল। মোহগ্রস্তের মত রমিজ মিয়া তার ৪র্থ কন্যা সন্তানটিকে কুলসুমার কোলে দিয়ে দিল। কুলসুমা চুপচাপ দাড়িয়ে রইল শিশুটিকে কোলে নিয়ে।

৫. রমিজ মিয়ার খালা আর রমিজ মিয়া দুজনেই মাথায় হাত দিয়ে ঘরের দাওয়ায় বসে আছে। রমিজ মিয়াকে প্রচন্ড বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে। এতগুলা মেয়েকে মানুষ করা এবং বিয়ে দেবার খরচ সে কোথা থেকে জোগাড় করবে এই চিন্তায় সে দিশেহারা। একটা ছেলে থাকলে অন্ততঃ তাকে আয় রোজকার করে একটু সাহায্য করতে পারত। ইচ্ছে করছে তার বউ আর ৪ মেয়েকেই গলা টিপে মেরে ফেলে, তারপর নিজে জমিতে দেবার জন্য সদর থেকে আনা কিটনাশক খেয়ে আত্নহত্যা করে । তার ৪০ বছরের জীবনে তার কোন পুত্র সন্তান নাই এটা সে কল্পনাও করতে পারছে না। তার শেষ আশাও তো শেষ! না, আশা এখনও একটা বাকি আছে।

– “খালা, তুমি মোকাদ্দেস মিয়ারে খবর দেও। তারে কও যে তার বিধবা মাইয়ারে আমি বিয়া করতে রাজি আছি। সামনের মাঘ মাসের শীত আসনের আগেই বিয়া সাইরা ফেলতে চাই। তুমি দিন ক্ষন ঠিক কইরা আমারে জানাও।” – খুব শান্ত স্বরে কথাগুলো বলে রমিজ মিয়া বেরিয়ে গেল। তার স্ত্রী সবই শুনেছে তার কথা। প্রসব পরবর্তী ব্যথা ভুলে হৃদয়ের ব্যাথায় সে ডুকরে কেদেঁ উঠল। তার সদ্য জন্ম নেয়া মেয়েটা তখনও কাদছেঁ।

২য় উপাখ্যানঃ

১. রাত ফুরিয়ে চারিদিকে ভোরের আলো ফুটছে। চারিদিকে একটি পবিত্র ভাব। খুব শীতল শীতল আবহাওয়া। জগলুল পাশা পান্জাবী পায়জামা পড়ে গম্ভীর মুখে বসে বসে রাজকীয় হুক্কা টানছে। সে এই গ্রামের চেয়ারম্যান। আশে পাশে ১০ গ্রামে তার মত প্রভাব প্রতিপ্রত্তিওয়ালা লোক নাই। তিনি ৩টি ছেলের বাবা। বিয়ের পর থেকে তার খুব শখ ছিলো তার দুটি ছেলে আর একটি মেয়ে হবে। মেয়ের আশায় আশায় তার স্ত্রী পর পর ৩ বার সন্তানসম্ভবা হন। ৩য় ছেলে হবার পরই জগলুল পাশা ক্ষান্ত দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার মা আর স্ত্রীর কথায় মেয়ে সন্তান নিতে গিয়ে পরপর ৩ বার তাদের ছেলে হয়। তার স্ত্রী অন্য কোন মহিলার কন্যা সন্তান পেলে এমন আচরন করে যেন আকাশের চাদঁ হাতে পেয়েছে। কোন কন্যা শিশুর বাড়ীর সামনে বসে খেলা করলে সে দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। ৩ টা ছেলে হবার পর জগলুল পাশা বুঝতে পারলা যে তাদের কপালে কন্যা সন্তান নাই। তাই সে একটা মেয়েকে দত্তক নিতে চাইলো। কিন্তু তার স্ত্রী কিছুতেই তাতে রাজী নন। তার চাই নিজের সন্তান। এবং সবচেয়ে ভয়াবহ কথা হলো, সন্তানধারন ক্ষমতা থাকা পর্যন্ত নাকি তার স্ত্রী একটি কন্যা সন্তানের জন্য চেষ্টা করে যাবে। প্রথম প্রথম ব্যাপারটাতে উৎসাহ পেলেও এখন এই ব্যাপারটিতে জগলুর পাশা খুবই বিরক্ত। কতবার স্ত্রীকে বোঝাতে চেষ্টা করেছে – “আল্লাহ যা দিছে, সেইটাতেই তিপ্ত থাকো, এইরকম কইরা মেয়ে মেয়ে কইরো না বউ। আল্লাহ নারাজ হইবো।” কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি।

২. জগলুল পাশা জানে এইবারো তার ছেলে হবে। আর ছেলে না হয়ে মেয়ে হয়েও তার কিছু যায় আসে না। ছেলে – মেয়ে যাই হোক, দুইটাতেই তার লাভ। কারন ছেলে হলে তার বংশের আরেকটা প্রদীয় জ্বলবে, সংসারে আয় রোজগারের লোক আরেকটা বাড়বে, লোকের কাছে গর্ব করে বলতে পারবে “৪ পোলার বাপ” সে। ৪ ছেলেকে বিয়ে দিয়ে যে পরিামান যৌতুক সে আনতে পারবে, সেগুলো রাখার জন্যই তাকে বাড়ির পশ্চিম ভিটায় আরেকটা দোতলা বাড়ি বানাতে হবে। আর মেয়ে হলে তার মা এবং স্ত্রী দুজনেরই মুখ বন্ধ থাকবে। মেয়ে মেয়ে করে তার কান ঝালাপালা করবে না, বেহুদা ডাক্তার পথ্যে পয়সা খরচ হবে না, তার স্ত্রীর সেই ভয়ংকর প্রতিজ্ঞাও ভাঙ্গবে। তাছাড়া সে শুনেছে মেয়েরা নাকি বেশী বাবা ন্যাওটা হয়। তার বোনগুলো তার বাবা ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না। তাই ছেলে-মেয়ে একটা হলেই হলো। জগলুল পাশার কোন টেনশন নাই। এসব চিন্তা করতে করতে সে নাক দিয়ে হুক্কার ধোঁয়া ছাড়ছে।

৩. হঠাৎ এক সময় ঘরের ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ শুনতে পেল জগলুল পাশা। এক জীবনে সে ঠিক এই রকম আওয়াজ এর আগে আরো ৩ বার শুনেছে। এটা তার চতুর্থ অভিজ্ঞতা। তাই স্বভাবতইঃ সে খুব বেশী আবেগ – উত্তেজনা দেখাল না। স্রেফ কয়েক সেকেন্ডের জন্য হুক্কা টানা বন্ধ করেছিলো। একটু পর আবার হুক্কা টানা শুরু করলো। সে মনে মনে রেডি হয়ে রইলো একটু পর তার স্ত্রীর ঘরে গিয়ে দাড়িতে হাত বুলিয়ে চোখে চোখ রেখে গর্বের হাসি হাসবে। যেন এমন একটা ভাব – “দেখছো বউ, চেয়ারম্যান জগলুল পাশা এখন ৪ টা পোলার বাপ।”

৪. কিন্তু একটু পর তার কাছে খবর আসলো তার একটা কন্যা সন্তান হয়েছে। সে খুব অবাক হলো। উঠে গিয়ে ভেতরে গেল। দেখল তার স্ত্রীর কোলে ফুটফুটে একটি শিশু। তার স্ত্রী তার দিকে তাকিয়ে হাসলো। তাকে অসম্ভব পরিতৃপ্ত দেখাচ্ছে। যেন বলছে – “দেখেছো, শেষতক আমিই জিতে গেলাম।”

৫. মহিলারা তাকে ভেতরে যেতে মানা করলো। সে দাওয়া ঘরে এসে মোবাইল বের করলো- “মোতালেব, ঘুম থিকা উঠছস? আরে ফযরের ওয়াক্ত শেষ হইয়া যাইতেছে আর তুই অখনও ঘুমাস? শোন, তার ভাবীর একটা মাইয়া হইছে। তুই এক কাজ কর, কালকে বিয়ান বেলা একটা গরু জবাই দে। গেরামের লোকজনের একটু খানা পিনার ব্যবস্থা কর। আমার মাইয়ার আকিকা দিমু। আর তার আগে আইজ সকালের মধ্যে আমার বাড়ির উঠানে আমি ৩ মন দই-মিষ্টি চাই। মনে থাকবো?”

তার মা এসে তাকে হাসতে হাসতে বল্ল – “জগারে, তুই তো অহন মাইয়ার বাপ!” জগলুর পাশা কিছু বল্ল না। শুধু মিহি স্বরে বল্ল – “আলহামদুলিল্লাহ, আম্মা।” মার কথায় সে আসলে খুব লজ্জা পেয়েছে।

একটু পর সে আবার হুক্কা টানতে লাগলো আয়েশ করে। ভেবেছিলো একটু আরাম করবে এখন, কিন্তু মোতালেব মিষ্টিগুলো নিয়ে আসলে সেগুলো আবার বিলি বন্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। তার আরামের টাইম কই? তার ৩ ছেলে তখনও বেঘোরে ঘুমুচ্ছে!

৩য় উপাখ্যানঃ.

১. রাত ফুরিয়ে চারিদিকে ভোরের আলো ফুটছে। চারিদিকে একটি পবিত্র ভাব। খুব শীতল শীতল আবহাওয়া। বাংলাদেশের অন্যতম স্বনামধন্য শিল্পপতি মিঃ রায়ান চৌধুরী সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হসপিটালের ১৯ তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাভানা চুরুটে টান দিচ্ছেন মৃদু করে। চারিদিকে শীতল আবহাওয়া হলেও রায়ান সাহেব ঘামছেন। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। ৫ম বিবাহবার্ষিকীর পর আর কোন বিবাহবার্ষিকীই ঘটা করে পালন করা হয়নি তার। কারন রায়ান দম্পতি নিঃসন্তান। তার স্ত্রী সবর্দা মন খারাপ করে থাকেন এ জন্য। কিন্তু এবছর হঠাৎ তিনি কনসিভ করলেন। তাই এই আনন্দকে সেলিব্রেট করার জন্য গত সপ্তাহে সে তাদের ১৩ তম বিবাহবার্ষিকী অত্যন্ত ঘটা করে পালন করলো। কয়েকজন মন্ত্রী এবং বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এসেছিলেন সে পার্টিতে।

২. এর আগে আরও একবার তার স্ত্রী কনসিভ করেছিলেন, তাদের বিয়ের সাত বছর পর। তবে সে সন্তানটি জীবিত প্রসব করতে পারেননি মিসেস রায়ান। সেটি ছিলো তাদের প্রথম পুত্র সন্তান এবং দুঃখের বিষয়, জন্মাবার আগেই ছেলেটি মারা যায়। তার স্ত্রীর সে কি কান্না!! পরের দুটা বছর তার স্ত্রী প্রতিরাতে কেদেঁছে। এই দুবছর তারা কোন সন্তান নেবার চেষ্টা করেনি। কিন্তু গত চারটি বছর ধরে একটি সন্তানের জন্য কোন চেষ্টা বাকি রাখেননি রায়ান দম্পতি। গ্রাম্য হুজুরদের পানি পড়া থেকে শুরু করে হিমালয় গিয়ে মুনি ঋষিদের তাবিজ কবজ বা আগ্রার তাজমহল গিয়ে দোয়া চাওয়া, চায়না গিয়ে হারবাল চিকিৎসা, আমেরিকা গিয়ে জিন রিপ্লেসমেন্ট, আরো হাবিজাবি কত কি -ই না করেছে গত চারটি বছর। কাড়ি কাড়ি টাকা ঢেলেছে রায়ান সাহেব। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। ৪ বছর পর হঠাৎ মিসেস রায়ান কনসিভ করেন। অনেকটা কাকতালীয় ভাবেই। মাত্র ৬ মাস পরেই তাকে ভর্তি করানো হয় মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে। রায়ানের সুস্থ সন্তানের জন্য তার মা নাকি ১০ টি গরু মানত করেছে। সন্তান নিয়ে সহি সালামতে বাংলাদেশে পৌছঁতে পারলে তাকে ১০ টি গরু কোরবানি করে সেগুলি দিয়ে খিচুড়ী বানিয়ে গরিব মিসকিনদের মাঝে বিলিয়ে দেবেন।

৩. চার বছর আগে ঠিক এ হাসপাতালেই রায়ান সাহেবের মৃত পুত্র সন্তানটি হয়। কিন্তু তখন তার তেমন টেনশন ছিলো না যতটা এখন হচ্ছে। সে কুসংস্কারে বিশ্বাস করে না কিন্তু এখন করতে ইচ্ছে করছে। কেন সে এই হাসপাতালেই আবার ফিরে আসলো। এটা কুফা হাসপাতাল। এই হাসপাতাল তাকে একটা জীবিত সন্তান পর্যন্ত উপহার দিতে পারেনি। সে বিরাট ভুল করেছে। এখানে ফিরে আসাটা তার কিছুতেই উচিৎ হয়নি । আর এবারও যদি তার মৃত সন্তান হয়, সে এই হাসপাতালের নামে মিলিয়ন ডলারের সু করে দেবে।

কিন্তু এই যে তার এত্ত এত্ত সয়-সম্পদ, এসব কিসের জন্য? তার একার জীবনে তো এগুলা ভোগ করা সম্ভব নয়। তার কোন ছেলে-পুলে না হলে তো এসব বারো ভূতে লুটে পুটে খাবে। তার রক্ত পানি করে তিলে তিলে গড়ে তোলা সম্পদের পাহাড় তার কোনই কি কাজে আসবে না? রায়ান সাহেব আর চিন্তা করতে পারলো না। তার মাথা ঝিম ঝিম করতে লাগলো। তার কপালে ঘামের রেখা গাঢ় হচ্ছে।

৪. আধ ঘন্টা পর। রায়ান সাহেবকে একজন সিনিয়র ডাক্তার এসে হাসি মুখে হ্যান্ডশেইক করলেন। “কনগ্রেচুলেশানস মিঃ রায়ান, ইউ হ্যাভ বিন ব্লেসড উইথ আ বেবি গার্ল, মাদার এন্ড বেবি বোথ আর ওয়েল” – রায়ান সাহেব নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলেন না। বিয়ের এক যুগ-এক বছর পর তাদের একটি সুস্থ্য সন্তান হলো। সে কিছুক্ষন ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। ডাক্তারকে যে এখন তার ধন্যবাদ দেয়া উচিৎ এটা তার খেয়ালই নেই। একটু পর সে হাউ মাউ করে কেদেঁ উঠে ডাক্তারকে জড়িয়ে ধরল। সিঙ্গাপুরী ডাক্তার বিরাট এক্টা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল!

৫. রায়ান সাহেব সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে নামকরা ফটোগ্রাফারকে ডেকে আনল তার কন্যা শিশুর ছবি তোলার জন্য। মিষ্টির খোজঁ নিতে গিয়ে জানা গেল সিঙ্গাপুরে কোন মিষ্টি নাই। রায়ান সাহেব দেশে তার পিএ কে ফোন দিয়ে বল্লেন – মিস রুবিনা, আপনি এক কাজ করতে পারবেন?

– জ্বি স্যার বলুন।

– সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে আমার ঠিকানায় ৫০০ কেজি মিষ্টি পাঠিয়ে দিন ডিএইচএল করে। যত টাকা লাগে ম্যানেজার সাহেবের কাছ থেকে নিয়ে যান। আমি তাকে ফোন করে বলেছি।

– স-সরি স্যার?” পিএ এইরকম অর্ডার তার জীবনে শোনে নাই সেটাই বলাই বাহুল্য।

– আরে আপনি কি বাংলা কথা বোঝেন না নাকি? বল্লাম যে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে আমার ঠিকানায় ৫০০ কেজি মিষ্টি পাঠিয়ে দিন ডিএইচএল করে। যত টাকা লাগে ম্যানেজার সাহেবের কাছ থেকে নিয়ে যান। আমি তাকে ফোন করে বলেছি।

-স্যার, আপনার একটা রিটেন স্টেটম্যান হলে ভাল হয়…

– “আরে কি যন্ত্রনা, আচ্ছা ঠিকাছে, আমি ফ্যাক্স করে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আর শুনুন, মিষ্টি কাল সকালের ভেতর চাই আমি। আর মুসলিম সুইটের মিষ্টি হলে ভাল হয়। হাসপাতালের ডাক্তার নার্স পিয়ন থেকে শুরু করে রোগিদের পর্যন্ত মিষ্টিমুখ করাবো। শালারা দেখুক, বাংলাদেশের মিষ্টির স্বাদ কেমন!”

তার মা হাসপাতালের লবিতেই বসে ছিলেন। তার কাছে গিয়ে বল্লেন – “মা, তুমি ১০ টা গরু নয়, তুমি ৫০ টা গরু কোরবানি দিয়ে দাও। ঢাকা শহরের সবগুলো ফকিরকে দাওয়াত করে দাও। “

রায়ান সাহেব পাগলপারা হয়ে গেলেন। কি করবেন বা কি করা উচিৎ বুঝতে পারছেন না। তিনি প্রানপন চেষ্টা করছেন মাথা ঠান্ডা রাখতে, নিজেকে শান্ত রাখতে, কিন্তু কিছুতেই পারছেন না।

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *