তারা নারী শুধু শাড়ি পড়ে গাড়ীর পাশে দাড়িঁ!

10921864_10153055610787220_1080052776_n

করপোরেট বিশ্ব অনেক অনেক বছর আগেই অন্যান্য ভোগ্য পণ্যের মতো নারীকেও কনজুমার প্রোডাক্ট বানিয়ে ফেলেছে সেটা তো নতুন কিছু নয়। তবে নারীদেরকে যতভাবে বিপননযোগ্য পণ্য বানানো হয়েছে – তার ভেতর সবচাইতে সস্তা, নগ্ন আর কুৎসিত পদ্ধতি হচ্ছে এইটা। প্রতি বছর বাণিজ্যমেলা আসলেই দেশের অনলাইন আর অফলাইন মিডিয়া সয়লাব হয়ে যায় এই জাতীয় ছবিতে অথচ আফসোস, তথাকথিত নারীবাদীদের এইসব নিয়ে খুব একটা কিছু বলতে শোনা যায় না।

তারচাইতেও দুঃখের বিষয় হচ্ছে, ছবিতে দাতঁ কেলিয়ে পোজ দেয়া এই সব মেয়েগুলার বেশীরভাগই দাবী করে তারা শিক্ষিত (!) পরিবার থেকে আগত। যে পরিবার থেকে তারা নিজের সন্মানবোধ আর ব্যাক্তিত্ববোধের শিক্ষা পায় না, আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করে সেই পরিবার আসলে কতটা শিক্ষিত বা আদৌ শিক্ষিত কিনা।

এইটা মনে হয় পৃথিবীর সবচাইতে নির্ভেজাল চাকুরী। খালি সেজে গুজে দাড়াঁয় থাকা ঘন্টার পর ঘন্টা। আর কোন কাজ নাই। এমনকি কাষ্টমারদেরকে তারা গাড়ীর ব্যাপারে কোন ইনফোও দেয় না, কারন সেই দায়িত্বে অন্য কাউকে এপোয়েন্ট করা আছে। তারা নারী শুধু শাড়ি পড়ে গাড়ীর পাশে দাড়িঁ।

তবে সবচাইতে বড় রসিকতা মনে হয় এই যে, আধুনিক ভাবধারা ও প্রগতীশিলতার ধ্বজাধারীরা কথায় কথায় নারী স্বাধীনতার যে ইউরোপীয় উদাহরন টানেন, এই জাতীয় স্থুল ট্রেন্ড চালু হয়েছে সেই খোদ ইউরোপ থেকেই। কিন্তু প্রগতীশিলদের ধরে কয়টা মাথা যে ইউরোপীয় করপোরেট বাপেদের বিরুদ্ধে কথা বলবে?

সবশেষে একটা রিয়েল লাইফ জোক।

কয়েক বছর আগে এক বান্ধবীর মামার সাথে বানিজ্য মেলায় গেছি। মামাই জোর করে নিয়ে গেলো, কারন আমি মেলা-ঠেলা পারতপক্ষে এড়িয়ে চলি। কারন আমার ভয়াবহ ডাষ্ট এলার্জি আছে। ধূলা বালি একেবারেই সয় না। কিন্তু তার জোরাজুরিতে গিয়ে গাড়ির স্টলে নারীও দেখতে পেলাম। গাড়ি সংখ্যার চাইতে নারীর সংখ্যাই বেশী, মনে হইলো যেন গাড়িদর্শনের সাথে নারীদর্শন (পুনশ্চঃ ’দ’ বলছি। ভুলে ‘ধ’ পইড়েন না) ফ্রি।

যাদের গাড়ী কেনার সামর্থ্য নাই তারা নারী দেখবে। করপোরেট বুদ্ধি খারাপ না।

এই পযন্ত সব ঠিকই ছিলো। কিন্তু গাড়ীর স্টল ছেড়ে হাতিলের ষ্টলে ঢুকতেই চক্ষু চড়ক গাছ! বিশাল এক খাটের উপর বিশাল বক্ষা এক রমনী বইসাছে। গলায় হাতিলের স্টাফ কার্ড। গাড়ীর পাশে না হয় নারীকে মানায়, কিন্তু তাই বলে একেবারে খাটের উপর? এর মাজেজা মাথায় ঢুকলো না। এদিকে মামাকে দেখলাম সেদিকেই যাইতে। আমি ঢোক গিল্লাম।

মামা খাট দাম দর করা শুরু করতেই ম্যানেজার দাতঁ কেলিয়ে বল্ল –

– ‘স্যার, আমাদের এটা পুরো একটা প্যাকেজ। খাটের সাথে সাইড টেবিল, টি টেবিল, টেবিল ল্যাম্প টেবিল সব মিলিয়ে একটা প্যাকেজ।’

মামার চোখ এবার গেলো খাটে বসা মেয়েটির দিকে। সেদিকে তাকিয়ে সে বল্ল – ’ এই প্যাকেজে আর কি কি আছে?’

ম্যানেজার আবার দাতঁ কেলালো – ’খাটের সাথে এখানে যা দেখছেন তার সবই আছে।’

মামা এবার ম্যানেজারের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বল্লেন – ‘ তাইলে তো খাটের উপর যিনি বসে আছেন, উনিও আছেন। তাই না?’

এ কথা মেয়েটির কানে যাওয়ামাত্র তড়াক করে লাফ দিয়ে উঠে দাড়াঁলো। 😀

10928610_10153055610792220_41527997_n

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য