জামায়াতে ইসলামির মোনাফিকী – অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

bnr

অনেকেই জামাতে ইসলাম নামক ভন্ড ও মুনাফিক একটা রাজনৈতিক পার্টির কারনে ইসলামকে দেখতে পারে না। কেন ভাই, জামাত ইসলাম কি ইসলামিক শরিয়তের সোল এজেন্সি নিছে নাকি? জামাতী ইসলামী যে ভন্ড, প্রতারক ও মুনাফিক একটা দল, এইটার প্রমান তো তারা তাদের জন্মের পর থিকাই দিয়া যাইতেছে।  কিছুদিন আগে দেয়া পিয়াল ভাইর একটা পোষ্ট থেকে ভূমিকার অংশটুকু কোট করি – “কোরআন শরীফে একজন ঈমানদার মুসলমান হওয়ার যা যা নির্দেশিকা তার ঠিক উল্টাটাই করে যুদ্ধাপরাধীদের এই দলটা। তারা গিবত করে, তারা মিথ্যা প্রপোগান্ডা চালায়, হত্যা করে, ষড়যন্ত্র করে, সাম্প্রদায়িকতার চর্চা করে, সারাক্ষণ হিংসাদ্বেষ নিয়ে কাটায়। মোটের উপর কবিরা গুনাহ বলতে যা যা লিপিবদ্ধ, তার সবই জামায়াত অনুগতদের নিত্যকার যাপনের অঙ্গ।

অবশ্য এইটাই তো প্রত্যাশিতই। কারণ তারা তো মুসলমান না, মোনাফেক। মুসলমানের ভেকধারী। আল্লাহর নবী বলছেন : শেষ জমানায় কিছু প্রতারক সৃষ্টি হবে। তারা ধর্মের নামে দুনিয়া শিকার করবে। তারা মানুষের নিকট নিজেদের সাধুতা প্রকাশ ও মানুষকে প্রভাবিত করার জন্য ভেড়ার চামড়ার পোষাক পড়বে (মানুষের কল্যাণকারী সাজবে)। তাদের রসনা হবে চিনির চেয়ে মিষ্টি। কিন্তু তাদের হৃদয় হবে নেকড়ের হৃদয়ের মতো হিংস্র। (তিরমিজী) আমার চোখে তো এই শর্তাবলী পূরণে জামায়াত-শিবির ছাড়া আর কিছু পড়ে না।”

জামাতীরা অসংখ্য মুনাফিকী করছে অতীতে, বর্তমানে করতেছে। ভবিষৎতেও করবে। তার ভেতর থেকে যেসব মুনাফিকী সর্বজনবিদীত:

জামাতীগো অতীতের মুনাফিকি:

১. গোলাম আযম বাঙালি সন্তান হয়েও আজীবনই যে পাঞ্জাবী প্রভুদের ‘দাস’ ছিলেন তার প্রমাণ রয়েছে তার কর্মকাণ্ডেই। ১৯৭০ সালের ১১ এপ্রিল রাজশাহীতে গোলাম আযম বলেছিলো,‘বাঙালিরা কখোন জাতি ছিল না’। (দৈনিক পাকিস্তান, ১৩ এপ্রিল, ১৯৭০।)

একই বছর ১৮ জুন তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের শুক্কুরে তার পাঞ্জাবি প্রভুদের দেওয়া এক সংবর্ধনার জবাবে বলে, বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় সে  তাতে অংশ নিয়েছিলেন কিন্তু এই জন্য তিনি অনুতপ্ত। সে  আরো বলে, ’এদেশের মুসলমানদের ভাষা হওয়া উচিত উর্দূ’। (দৈনিক পাকিস্তান, ১৯ জুন, ১৯৭০।)

গোলাম আযম ডাকসুর একজন নেতা হয়েও ’৪৮ সালে চকবাজারে একটি সামান্য প্রচারপত্র বিলি করার কৃতিত্ব নিয়েই ভাষা আন্দোলনের অংশগ্রহনের খেতাব নিতে চাচ্ছেন, অথচ বাংলা ভাষার পক্ষে ডাকসুর নেতা হিসেবে একটি বিবৃতি সেদিন তিনি কুন্ঠাবোধ করেছিলেন। আর তিনিই সেই অংশগ্রহনের দাবিদার না হয়েও বলছে, ভুল করেছিলো। আজকে আবার তার যখন বিচারের সম্মুখিন হবার সম্ভাবনা হচ্ছে,তখন আবার বলছেন সে নাকি  ‘ভাষা সৈনিক’ ছিলো!

২. বিশ্ব রাজনীতির ইসলামিকীকরণে সবচেয়ে খুশী জামাতিরা, তারচেয়ে বেশি খুশী শিবিরের পোলাপাইন। এরা স্বপ্ন দেখা শুরু করছে বাংলাদেশেও ইসলামী ভাবধারার রাজনীতির সুসময় শীঘ্রই আসবে এবং তার নেতৃত্ব অবধারিতভাবে জামাতের হাতে থাকবো। এই প্রসংগে একটা কথা বলে রাখি, বিশ্বব্যাপী ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা মিল আছে, সেটা হচ্ছে এরা মোটাদাগে সকলেই সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার এবং তার দোসরদের বিরোধী। এবং তারা মধ্যপ্রাচ্যের আমরিকা-ঘেঁষা দালাল একানয়কদের অপছন্দ করে। কিন্তু বাংলাদেশের জামাতের এবং পাকিস্তানের জামাতেরও এই ব্যাপারে ভিন্ন ভূমিকা দেখা যায়। তারা আম্রিকা বা মধ্যপ্রাচের‍্যর এক নায়কদের বিরোধীতা তো করেই না উল্টা তাদেরকে হুজুর মানে। স্বয়ং পাকিস্তানে তাই ইসলামী ভাবধারার জনগন জামাতকে পছন্দ না করে ইমরান খানকে পছন্দ করে, পাকিস্তানি জামাতি ইসলামের ভন্ডামি এবং রাজনৈতিক পল্টি দেবার প্রবনতা এত বেশী যে তাদের যেকোন অবস্থানকে পাকিস্তানি সাধারণ জনগন কোন বেইল দেয় না। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানি জামাতি ইসলামীর সবচেয়ে শক্তিশালী সাপোর্টার এবং টাকার উৎস হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের একনায়করা। বিশেষ করে সৌদি আরব। জামাতি নেতৃত্ব তাই কোনদিনই মধ্যপ্রাচ্যের একনায়কদের বিরুদ্ধে কথা বলবেনা। শুধু তাই নয়, জামাতিরা কোনদিন প্রকাশ্যে মার্কিনবিরোধী অবস্থানও নিবেনা।

কারন কি? কারন একাত্তরে আম্রিকা পাকিদের পক্ষে ছিলো, জামাতীগো পক্ষে ছিলো, তাই জামাতীরা আজীবনই নৈতিক সমর্থন পাইতে আম্রিকাকে সাপোর্ট দিয়া যাবে। তাই ইরাক আক্রমনে করলেও তৎকালীন ক্ষমতাসীন নিজামি, গোআ এবং জামাতিরা কোন বিবৃতি দেয়না আম্রিকান প্রভুরা অসন্তুষ্ট হবে এই ভয়ে। জামাতিরা মার্কিনিদের এবং মধ্যপ্রাচ্যের দূর্নীতিগ্রস্থ আম্রিকান চামচা শাসকদের প্রতি সহানুভূতিশীল, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান দু’জায়গাতেই জনগনের এই মানসিকতা প্রবলভাবে বিদ্যমান এবং এই মানসিকতার পিছনে যথেষ্ঠ যুক্তিগ্রাহ্য কারন আছে। অদূর ভবিষ্যতে জামাতীদের কপাল থেকে এই কালিমা মুছে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। যেহেতু বিশ্বব্যাপী ইসলামী রাজনৈতিক জাগরনের মূলে মার্কিন এবং কর্পোরেইট বিরোধীতা কাজ করে, তাই জামাতিরা আম্রিকা আর স্বৈরশাসকদের সাপোর্ট করে ব্যাপক ধরা খেয়েছে বলা যায়। আন্তজার্তিক ইসলামিক রাজনৈতিক অংগনে জামাত তাই একরকম ‘একঘরে’ হইয়া আছে।

পাকিস্তানের জনগন ধর্মপরায়ন হওয়া সত্ত্বেও জামাতি ইসলামী সেখানে কোনদিনই সুবিধা করতে পারে নাই। মার্কিন দালালি ছাড়াও পাকিস্তানী আর্মীর প্রতি তাদের সমর্থন এবং ফায়দা নেওয়া চেষ্টাও জনগন তাদের আপোষকামিতা বলে মনে করে। পাকিস্তানি জামাতি ইসলামীর যে সমস্যা বাংলাদেশেও জামাতের সেই একই সমস্যা আছে, মার্কিনি দালালী এবং মধ্যপ্রাচ্যের একনায়কদের দালালী সম্পর্কে বাংলাদেশের জনগন ওয়াকিবহাল। জামাতের পাকি শাখার প্রধান সমস্যা হইতেছে আম্রিকাঘেষা নীতি আর সেনাবাহিনীর পা চাটা মনোভাব। আর জামাতের বাংলাদেশী শাখার সবচেয়ে বড় সমস্যা হইতেছে ১৯৭১।

জাফর ইকবাল স্যার তারঁ প্রায় প্রতিটা লেখায় প্রতিটা কলামে একটা কথা বলেন – ” একটা দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান করে কোনভাবেই একটা রাজনৈতিক দল টিকে থাকতে পারে না। পৃথিবীতে এর কোন নজির নাই। জামাতীরাও পারবে না।” ঠিক এই কারনেই জামাতীদের সমর্থন তাই এখন কমতে কমতে ৩% এ গিয়ে ঠেকেছে। তাই তো এই উপমহাদেশের অন্যতম বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক সংগঠন হয়েও জামাতকে আগাছার মতো অনুজ পার্টিগুলার ঘাড়ে চেপে ক্ষমতায় আসতে হয়। অবশ্য বাংলাদেশে জামাতীদের উত্থানের পুরো দায় এককভাবে জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির। যারা এ বিষয়ে দ্বিমত পোষন করেন, হয় তারা ইতিহাস জানে না নয়তো বিএনপির কট্টরপন্থী সাপোর্টার।

একটা সময় ভাবতাম, জামাতকে ইসলামীভাবাপন্ন সব জনগনের সহানুভূতি পেতে হলে ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে, নেতৃত্বাস্থানীয় থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বাদ দিতে হবে, মধ্যপ্রাচ্যের একনায়কদের সাথে আঁতাত বাদ দিতে হবে, মার্কিনিদের প্রতি দালালির মানসিকতা বাদ দিতে হবে,। কিন্তু পরে বুঝলাম জামাতকে দেশের মানুষ এখন এই পরিমান অবিশ্বাস আর ঘৃনা করে যে, এসব করলেও তারা কোনদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া মনে রাখতে হবে জামাত বিএনপি বা আওয়ামিলিগের মতো কোন নির্দিষ্ট একটি দেশের দল না। জামাতের শাখা ভারত, পাকিস্থান আর বাংলাদেশ – তিনজাগাতেই আছে। তাই এই সংস্কার প্রক্রিয়া শুধু বাংলাদেশ জামাতী ইসলামীর হাতে নাই, তাদেরকে পাকিস্তানি এবং ভারতীয় জামাতীদের সাথেও কাজ করতে হয়। শুধুমাত্র বাংলাদেশের জামাতীদের স্বার্থে পাকি আর ভারতীয় জামাতীরা তাদের মূলনীতিতে পরির্বতন আনবে, এমনটা মনে করার কোন কারন নাই।

জামাতের বর্তমান মুনাফিকী:

১. জামাতের মুনাফেকীর সর্বশেষ প্রকাশ হয়েছে তাদের গঠনতন্ত্র থেকে আল্লাহ-রসুলকে বাদ দেওয়ার মাধ্যমে। নির্বাচন কমিশনের আপত্তির মুখে জামায়াতে ইসলামী দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ‘ইসলামী জীবনবিধান’ বাদ দিয়ে ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ’ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। এ ছাড়া এতে ‘ইসলামের সুবিচারপূর্ণ শাসন কায়েম’-এর পরিবর্তে ‘সুবিচারপূর্ণ শাসন কায়েম’ বসানো হয়েছে। [এর পরও দলের নামের সঙ্গে ‘ইসলামী’ শব্দটি সংযুক্ত করার কী যুক্তি থাকতে পারে?]

২. গতকাল বিবৃতি দিয়ে জামাতীদের যেচে আম্রিকান দূতাবাসকে ক্ষতিপূরন দিতে প্রস্তুত থাকার কথা ঘোষনা করা প্রমান করে জামাতের বর্তমান মুনাফিকীকে। এই দেশ, দেশের মানুষ আর সম্পদের প্রতি তাদের কোন দায়বন্ধতা নেই, সেইটা সেই মুনাফিকীর একটা প্রধান অংশ।

জামাত এই মুনাফিকীর শাস্তি ক্রমাগত পেয়ে যাচ্ছে। প্রিয় নবী হযরত মোহম্মদ(সঃ)-এর সময়ে তাঁর নেতৃত্বে বদরের যুদ্ধ হয়েছিল। সেই পবিত্র ধর্মীয় যুদ্ধে যেসব বীর অংশ নিয়েছিলেন তারা ইসলামের ইতিহাসে আলবদর নামে খ্যাতি লাভ করেছিল। অপরদিকে গোলাম আযমরা ১৯৭১ সালে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের সময় এই নামেই একটি খুনী বাহিনী তৈরি করলো। মহান আল্লাহ সেদিন তাদের উপর্যপুরি অপদস্থ করেছিলো, শায়েস্তা করেছিল, তাদের ধ্বংস করেছিল, বেইজ্জত করেছিলো, সমূলে এদেশ থেকে উৎপাটন করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যাকারী, আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণকারী এই বাহিনীকে এখন বাংলার মানুষ রাজাকার-আলবদর বলে গাল দেয়। মীর জাফরের মতই “রাজাকার” শব্দটা এখন পাকাপাকিভাবে প্রচলত হয়ে গেছে বেঈমানির সমার্থক শব্দ হিসাবে। এই অপমান একটা দীর্ঘমেয়াদী শাস্তি।

আরেকটা শাস্তি হইলো, যেইটা উপরে একবার বলছি, জামাতীদের সমর্থন তাই এখন কমতে কমতে ৩% এ গিয়ে ঠেকেছে। তাই তো এই উপমহাদেশের অন্যতম বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক সংগঠন হয়েও জামাতকে আগাছার মতো অনুজ পার্টিগুলার ঘাড়ে চেপে ক্ষমতায় আসতে হয়। যে পাকিস্তানে জামাতের জন্ম, সেই পাকিস্তানেই তাগোরে কেউ দেখতে পারে না। জন্মের পর থিকা জামাত একবারো এককভাবে কোন দেশের ক্ষমতায় আসতে পারে নাই। না পাকিস্থানে, না বাংলাদেশে। আর ভারতে তো প্রশ্নই উঠে না। 

“১৯৫৩ সালে সমগ্র পশ্চিম পাকিস্তানে ধর্মের নামে হাজার হাজার পাকিস্তানিকে হত্যা,খুন,ধর্ষন ও লুটপাট করে এই দলটি ইতিহাসের জঘন্যতম কালিমা সৃষ্টি করেছিল। পাকিস্তানের তৎকালীন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিচারক,বিচারপতি মুনীর ও বিচারপতি কায়ানী এই হত্যাযজ্ঞ,লুন্ঠন,ধর্ষনের পরিকল্পনা ও প্ররোচনাদানের অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মওদুদী কে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলেন।কিন্তু ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে এই কুখ্যাত মাওলানা মওদুদীকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। যদি এই ভুলটি আইয়ুব খাঁর মতো স্বৈরশাসকরা না করতেন তাহলে হয়তো ইতিহাসের একই বর্বরতার পুনরাবৃত্তি নাও ঘটতে পারতো।

যেহেতু মাওলানা মওদুদী ইসলামের নামে খুন করেও বেঁচে গিয়েছিলেন,যেহেতু তাঁর ফাঁসির আদেশ হওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হল না,যেহেতু এই পাপিষ্ঠ তার কৃতকর্মের জন্য কোন প্রকার ভুল বা অনুতাপ প্রকাশ করে নি, সেহেতু ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে আবার ১৯৫৩ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটলো। এবারের ঘটনার নায়ক হয়ে আসলো খুনী মওদুদীর যোগ্য শিষ্য গোলাম আযম। এই আধুনিক খুনীদের একজনের নামের পূর্বে ‘মাওলানা’, আরেকজনের নামের পূর্বে ‘অধ্যাপক’ শব্দজুড়ে অত্যান্ত সুকৌশলে ধর্মের নামে দিনের পর দিন তারা প্রকাশ্যেই হত্যালীলার রাজনীতি চালিয়ে আসতে লাগলো।

গোলাম আযম ছিলো তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর আমীর এবং মওদুদী ছিলো সমগ্র পাকিস্তানের আমীর। তাঁরা প্রথম থেকেই বলে আসছে তারা নাকি ‘ইসলামী’আদর্শের রাজনীতি করেন। প্রকৃতপক্ষে তারা মহান ধর্ম ইসলামের বিবৃতি সাধন করে মওদুদীবাদ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে রত। তৎকালীন পাকিস্তানের হাক্কানী আলেমরা অনেকবার ফতোয়া দিয়ে জামায়াতে ইসলামী মওদুদীবাদীদের কাফের ঘোষণা করেছিলেন। আলেমরা এমনকি এই কথাও বলেছিলেন, মওদুদীবাদী গোলাম আযমের পেছনে নামাজ পড়লে নামাজ হবে না।

পীর মোহসীন উদ্দীন দুদু মিয়া ১৯৬৯ সালে জানিয়েছিলেন,মওদুদীর নামের আগে যে ‘মাওলানা’ শব্দটি ব্যবহার করেন তা সনদপ্রাপ্ত ‘মাওলানা’ খেতাব নয়। তিনি বলেন, ভারতের হায়দারাবাদের নিজামের দরবারে মওদুদী প্রভুদের তুষ্ট করার জন্য মওদুদী নানা রকম দালালির কাজকর্ম করতেন। সেখানে তিনি নিয়মিত সুট এবং টাই পরতেন। পরে অনৈসলামিক কাজে নিয়ত সাম্রাজ্যবাদী ওই প্রভুরা মওদুদীকে ‘মাওলানা’ খেতাব দেন। (দৈনিক পাকিস্তান,২০ অক্টোবর,১৯৬৯।)” [সংগৃহীত]

সারকথা, ইসলামের সাথে জামাতে ইসলামীকে মিলায় লাভ নাই। কারন পবিত্র ইসলাম হলো আল্লাহর ধর্ম। আর জামাতী ইসলামি হলো ইবলিস-শয়তানের ধর্ম।

জামাতের চূড়ান্ত ধ্বংসের জন্য জামাতের অতীত পাপ নয়, বরং জামাতের দম্ভ, ঔদ্ধত্য, অহংকার আর বাড়াবাড়িই যথেষ্ট। রাতের অন্ধকারে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গনে আর পল্টনে আগুন দিয়ে কুরআন শরীফ পুড়ানো, (লিংক কমেন্টে), বিএনপির গত শাসনামলে একজন বৃদ্ধ ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাকে প্রকাশ্যে লাথি মারা, (লিংক কমেন্টে), তাদের বাপকে ঝুলানোর সাথে সাথে ঘোষনা দিয়ে সারাদেশের দরিদ্র ও সংখালঘু জনগনের উপর জ্জালাও-পোড়াও অত্যাচার, – এসব জামাত শিবিবের চিহ্নিত দলীয় ঔদ্ধত্য!
 
আর সামু ব্লগে কামারুর পোলা ওয়ামীর মুক্তিযোদ্ধাদের কুকুর বলে গালি দেয়া, ‘টেরাইবোনাল বানাইয়া পারলে কামারুর ফাসিঁ দিয়েন” বলা, কাদের মোল্লা ও তার স্ত্রীর ভি সাইন দেখানো, কোর্টে দাড়িঁয়েই “বাংলাদেশ হয়েছে বলে অনেকের সাহস বেড়ে গেছে” বলা, এইগুলা জামাতের চিহ্নিত ব্যাক্তিগত ঔদ্ধত্য।
 
জামাতের দলীয় পতন আল্লাহর আইন দিয়েও নিশ্চিত করা সম্ভব। কারন, আল্লাহ বাড়াবাড়ি পছন্দ করেন না, কোন্দলকারীদের পছন্দ করেন না, হত্যাকারীকেও পছন্দ করেন না। পৃথিবীর ইহিতাসে যারাই এইসব করেছে, তাদেরকে অবশ্যাম্ভাবীভাবে চূড়ান্ত ধ্বংসের পরিনতিকেই বরণ করতে হয়েছে। জামাত এর বাইরে হিসাব করার কোনই কারন নাই।
 
জামাতের সব কয়টা যুদ্ধপরাধী শুয়োরের পতনও যে নিম্চিত, সেইটাও আল্লাহর হুকুম দিয়েও প্রমান করা সম্ভব। কারন আল্লাহ দম্ভোক্তকারীদের পছন্দ করেন না। এ কথা কোরআনে বেশ কয়েকবার বলা হয়েছে। পৃথিবীর ইহিতাসে যারাই এইসব করেছে, তাদেরকে অবশ্যাম্ভাবীভাবে চূড়ান্ত ধ্বংসের পরিনতিকেই বরণ করতে হয়েছে। জামাত শিবিরকে এর বাইরে কাউন্ট করার কোনই কারন নাই।
 
সুতরাং, জামাতের ভবিৎষত পরিনতির জন্য তাদের পাপ আর দম্ভই এককভাবে দায়ী। তাই জামাত শিবিরের ছাগু ও সুশীল বেশ্যাদের বলতেছি, ফাসিঁর জন্য এইখানে আওয়ামীলিগ, শেখ হাসিনা, গনজাগরন মঞ্চ এদেরকে দায়ী বানিয়ে লাভ নাই। এই পরিনতি তোদের নিজেদের হাতের কামাই।

ইলাসট্রেশানঃ  স্যাম।

কিছু প্রাসঙ্গিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য এখানে

 

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *