কর্পোরেট আবালগুলার জন্য একবুক করুণা

LE-BookReview-Bloom

একটু আগে আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর সাথে ফোনে কথা হলো। তার সাথে যে কনভারসেশনটা হলো, সেটা অনেকেরই জানা দরকার। কারন আমার ধারনা এইসব প্রশ্ন এখন অনেককেই ফেইস করতে হয়।বন্ধু একটা বহুজাতিক ব্যাংকে চাকরী করে। এই ফাকেঁ বলে রাখি, কর্পোরেট চামচাগিরি যারা করে, তাদের বেশীরভাগরই কোন বিবেকবোধ থাকে না। অনুভূতি ভোতাঁ হয়ে যায়। যে যত বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরী করে, তার অনুভুতি ঠিক ততটাই ভোতাঁ। আমার বন্ধুটিও তার ব্যতিক্রম নয়। তিন বছর ধরে নামী ব্যাংকে দামী চাকরী করতে করতে তার বিবেকবোধ আর অনূভূতি ভোতাঁ হতে হতে ভোতাঁ হবার আর কোন জায়গা নাই। ফোন দিয়ে আমাকে বলে –

– খবর কি তোর?
– ভাল। শাহবাগ যাস? [উদ্দেশ্য, গেলে একসাথে যাওয়া। ইদানিং আমাকে যেই ফোন করে, এই প্রশ্ন করি।]

– কেন? শাহবাগ কেন?
– ওহ, তুই তো দেশের কোন খবর রাস না। এসির হাওয়া খাস, ক্যালকুলেটর আর এক্সেলে হিসাব নিকাশ করস, দেশের খবর রাখার তোর টাইম কই?

– শোন এইসব আকামে নাই আমি।
– হ তাতো বটেই। তোর মতো দুয়েকটা যদি আরো থাকতো একাত্তরে, তাইলে আর মামা তোমার চাকরী কইরা গায়ে হাওয়া লাগায়া বউকে নিয়ে ঘুরা লাগতো না। আর তুমি একাক্তরে থাকলে নিশ্চিত হয় গুলি খাইয়া মরতা নাইলে শান্তি বাহিনীতে নাম লিখাইতা।

– এইসব আন্দোল কইরা কি হবে বল?
– কি বলতে চাস?

– দেখ, দেশে এত এত সমস্যা, পদ্মাসেতু নিয়া দুনীর্তি, হলমার্ক আর শেয়ার কেলেংকারী, [বাসায় গ্যাস নাই পানি নাই…ব্লা…ব্লা…ব্লা], আর তোরা এইসব কি শুরু করলি? এগুলা নিয়া আন্দোলন করতে পারস না?
– দোস্ত, তোমার মতো কর্পোরেট আবালগুলারে এইজন্যই দেখতে পারি না। কারন বিবেক বা কমনসেন্স কোনটাই তোমাগে ভিত্রে আর অবশিষ্ট নাই। সবকিছু জলাঞ্জলী দিয়া বইসাছো।

– মানে কি?
– শোন তোরে একটা সিম্পল কোয়েশ্চন করি। তোকে যদি কেউ তোর বাবা-মা হত্যার বিচার চাইবার সুযোগ দেয়, তবে তুই কোনটার আগে বিচার চাইবি? তোর বাবা-মার হত্যাকারীর বিচার চাইবি নাকি তোর পায়খানার ট্যাপ নষ্ট আর চুলায় গ্যাস নাই বলে বাড়িওয়ালার বিচার আগে চাইবি?

– কিসের লগে কি মিলাস?
– আমার মিলানি ঠিকই আাছে। তুই উত্তর দে।

– আমার বাবা-মা হত্যার বিচার চামু।
– যাক তোর বিবেকের ছিটে ফোটা একটু আছে তাইলে এখনো। তা আমরা তো এখন সেইটাই চাইতেছিরে বেকুব!! আমার পূর্বপুরুষদের হত্যার বিচার চাইতেছি। এই দেশের সাথে যারা বেইমানি করতেছে এখন তাগো ফাসিঁ চাইতেছি। এর ভেতর তুই কি নিয়া আসলি? তুই নিয়া আসলি তোর ঘরের পায়খানার বদনা ফুটা, চাল দিয়া পানি পড়ে এইসব। আরে বেকুব, এইসব সমস্যা তো আজীবনই থাকবো, দুনিয়ার সব দেশেই থাকে, কিন্তু যুদ্ধাপরাধী দুনিয়ার কয়টা দেশে আছে আমারে বল। দুনিয়ার কয়টা দেশ যুদ্ধাপরাধীদের ৪২ বছর জামাই আদর কইরা পালছে, আমারে খালি এমন একটা দেশের নাম বল।

– (বন্ধু চুপ।)
– আমরা পালছি। এই রকম গনজাগরন দরকার ছিলো ৪২ বছর আগে, এতদিন পারি নাই আর এখন সময় আসছে সেইটার প্রায়শ্চিত্ত করার। এখন যদি না পারি, আর জীবনেও পারমু না। এইটা একটা লাইফ টাইম চান্স। একবারই আসে। সুতরাং এই সুযোগের ব্যবহার করতে হবে ঠিকমতো। অথচ তোদের মতো কর্পোরেট বেকুবরা পানি নাই গ্যাস নাই বইলা হাবিজাবি জিনিসপাতি ভাবতাছিস। এখনো সময় আছে, বিবেকে একটু ধার দে। নাইলে সারাজীবন পস্তাইয়াও কুল পাবি না।

– ধর কেউ যদি কাল থেকে আর না যায় শাহবাগে, তখন কি করবি?

– শাহবাগের যুদ্ধটা অন্য কারো না রে বলদ, যুদ্ধটা আমার। আমার নিজের যুদ্ধ। তাই শাহবাগে কেউ না গেলেও আমি যামু, আমি একাই যামু, একাই সেখানে গিয়ে স্লোগান দিয়া রাজাকারগো বিচার চামু। কেউ আমার সাথে গলা মিলাইলো কিনা, আমি সে জন্য বইসা থাকমু না। শাহবাগে এখন যারা আছে, তারা যুদ্ধটা নিজের মনে কইরাই গেছে সেখানে, অন্যের ঘাড়ে চাপায় দিয়া বাসায় কম্বল মুড়া দিয়া শুইয়া থাকে নাই। আর তোর মতো দুই চারটা ফার্মের মুরগীর মতো কর্পোরেট মুরগী না আসলে আন্দোলনের কিচ্ছু যাইবো আসবো না। এইটা মাথায় রাখিস।

– বুড়াগুলান তো এমনিতেই মইরা যাইবো। ফাসিঁ না দিলেও মরবো। [মিনমিন কইরা বলে বন্ধুটা]

– এই জন্যই তো আরো বেশী কইরা আন্দোলন করতাছি যাতে কইরা ওগুলা নিজ থিকা মরনের আগেই ঝুলায় দেয়া যায় নাইলে সারা দুনিয়া আর আমাগো ভবিৎষত প্রজন্ম বলবো – জীবনে কোনদিন তোমগো হেডম হয় নাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করনের। শেষে তারা বুইড়া হয়ে বার্ধক্যজনিত কারনে মইরা গেছে। এইটা যে কি পরিমান অপমানকর হইবো, সেইটা তো তোর মতো বেকুবের বুঝার কথা না।
– দোস্ত রাখি। একটু বাইরাতে হবে।

– ঠিকাছে। আর শোন, কিছু মনে করিস না, তোর ধারনা যদি না বদলায়, তাহলে দোস্ত আমার সাথে আর যোগাযোগ না করাই তোর জন্য ভাল হবে। আমি আমার আর্দশের জন্য অনেক কিছু বাদ দিছি, সুতরাং তুই যদি ভাবস তোর-আমার বন্ধুত্বটা বাদ দিতে পারবোন না, তাইলে বিরাট ভুল ভাববি। আর যদি বিবেক খাটায়া আমার কথাগুলো বুঝতে পারিস, তাইলে ফোন দিস, দুই দোস্ত এক সাথে শাহবাগ যামু। ঠিকাছে?
– ঠিকাছে।

ফোন রাইখা কিছুক্ষন আফসোস করলাম ওর জন্য।

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *