একটি ঝড়ের রাতে…স্বপ্নের সাথে…

harican

বাইরে সেদিন প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। আকাশ পাতাল ওলোট পালোট করা বৃষ্টি। সেই সাথে প্রচন্ড শো শো বাতাস। থেকে থেকে চারদিক আলো করে, আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে এক একটা বাঁজ পড়ছে।
ঘড়িতে তখন রাত ৯ টা।

আমাদের ঘরে একটা সাদা রংয়ের মোমবাতি টিম টিম করে জ্বলছে।
আমি আমার স্বপ্নকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বসে থাকলাম অন্ধকারের ভেতর। মোমবাতির আলো স্বপ্নের গালে-চোয়ালে পড়ে ওকে আরো বেশী মায়াবী…আরো বেশী অস্খুত রহস্যময়ী করে তুলেছে। আমি ওকে হঠাৎ ডাকলামঃ

– স্বপ্ন…
ও বল্ল – উমম…
আমি জিজ্ঞেস করলাম- ভয় করছে তোমার?
ও বল্ল- হুমম…
আমি জিজ্ঞেস করলাম- শীত করছে না?
ও এবারও বল্ল- হুমম…

আমি আমার শীতল তর্জনী দিয়ে ওর উষ্ণ চোয়াল স্পর্শ করলাম। শিউরে উঠল ও! বাইরে বাতাসের তান্ডব আরো বেড়েছে। দরজা জানালা থর থর করে কাপছেঁ। ওর কানে ফিসফিস করে বল্লাম- “স্বপ্ন, ভয় করছে এখনও?”

স্বপ্ন বল্ল- উহুঁ…
আমি জিগেস করলাম- শীত করছে না এখনও?
স্বপ্ন বল্ল- উহুঁ…

ও আমার বুকে মুখ গুজে ছিলো অসহায় শিশুর মত।
আমি ওর থুতনি উচুঁ করে তুলে ধরলাম মোমবাতির শিখার নীচে। আমার দিকে একপলক তাকিয়ে সাথে সাথে ও চোখ বন্ধ করে ফেল্ল লজ্জায়। যেন বুঝতে পেরেছে কি ঘটবে একটু পর…

… আমি ওর ডান চোখে খুব আলতো করে ছোট্ট একটা চুমু দিলাম। চোখের পাপড়ি কেপেঁ উঠল ওর। ওর নিজের অজান্তেই হয়তবা।
মোমবাতির ক্ষুদ্র লেলিহান শিখাটা খুব চেষ্টা করছে তার পিঠ টান টান করে আরো উচুঁতে লাফিয়ে উঠতে, ঘরের সিলিং ছুতেঁ, কিন্তু কিছুতেই পারছে না বেচারা।

…স্বপ্ন এখনও চোখ বন্ধ করে আছে। ভয়ে অথবা লজ্জায়।
আমি আচমকা ওর ঠোটেঁ আমার ঠোটঁ ছোয়ালাম। এবার ওর সারা শরীরই কেপেঁ উঠল থর থর করে। মোমবাতিটির শিখার মত।
ওর ভেজা চুলের গন্ধে আমি তখন উন্মাতাল। ওর গলার কাছে নাক ঘঁষতে লাগলাম নাছোড়বান্দা; পাজির পা ঝাড়া এক বালকের মত।
ওর শ্বাস-প্রশাস ভারী হয়ে উঠল। খুব ভারী করে নিশ্বাস নিলো স্বপ্ন।

– স্বপ্ন, ভয় করছে?
ও কিছু বল্ল না। শুধু মাথা নাড়ল। করছে না।
– শীত করছে, স্বপ্ন?
ও এবারও কিছু বল্ল না। শুধু মাথা নাড়ল। ওর নাকি শীতও করছে না!

তবে স্বপ্ন আমাকে আকড়েঁ ধরে বসে আছে প্রচন্ড শক্ত করে। এত জোরে যে, আমি যেন ওর হৎপিন্ডের শব্দ আমার বুকের মাঝে টের পাচ্ছিলাম।

আমাদেরকে ক্রমাগত সঙ্গ দিতে থাকা মোমবাতিটি প্রায় ক্ষয়ে গেছে। ঘরের ভেতরের আধারঁটা ক্রমশঃ গাঢ় হয়ে আসছে।

স্বপ্ন এমন সময় কেন যেন আমার বা কানের ভেতর একটা ফুঁ দিল ছোট করে। আমি শিউরে উঠলাম এবার। তাকিয়ে দেখি ওর ঠোটেঁ ভীষন দুষ্টু দুষ্টু এক্টা হাসি।

এবার ও আমাকেই জিগেস করল, ফিসফিস করে বল্ল –
– কি হলো? ভয় করছে তোমার?
আমিও ওর মত ফিসফিস করে বল্লাম – তুমি আমায় আস্টে পৃষ্টে জড়িয়ে ধরে বসে আছো, ভয় করবে কেন?
ও বল্ল – তাহলে কি শীত করছে?
আমি উত্তর দিই – তোমার শরীরের উষ্ণতায় ডুবে আছি, শীত করবে কেন?
ও অনেকক্ষন চুপ করে থাকে। এরপর বলে –
– তুমি এত ভাল কেন প্রলয়?
– “তুমি যে আমার স্বপ্ন হয়ে আমার জীবনে এসেছো, হয়ত তাই।” হাসিমুখে সাথে সাথে প্রতুত্তর আমার।:)

স্বপ্ন আমার মাথাটা আগলে ধরে ওর বুকে চেপে ধরলো। এত জোরে যে, ওর হৃৎস্পন্দন শুনতে পাচ্ছিলাম স্পষ্ট। ওর শরীরের ঘ্রান নিচ্ছিলাম বুক ভরে!
বৃষ্টি ভেজা মাটির সোদাঁ গন্ধে সেটা মিলে মিশে একাকার হয়ে গেল…।

দূরে একাকী এক ডাহুক ডেকে উঠে হিজলের বনে…
পৃথিবীর সব সুখ আমাদের দুজনার মনে…
পৃথিবীর সব সুখ আমাদের দুজনার মনে…
পৃথিবীর সব সুখ আমাদের দুজনার মনে…

এমন সময়…এমন সময়…মোমবাতিটি ধপ করে নিভে গেল! দূরে আকাশ বাতাস কাপিয়েঁ আবার একটা বাজ পড়লো। ঘুটঘুটে অন্ধকারে এক পলকের জন্য স্বপ্নের চোখের জল আমার চোখে পড়লো…!

কিন্তু তবুও….তবুও…আমরা একটুও ভয় পেলাম না।
আমাদের আর একটুও শীত করলো না।
আমরা শুধু দু জন দুজনকে আকড়েঁ ধরে বসে থাকলাম অন্ধকারে, প্রবল এক ঝড়বৃষ্টির রাতে…!

-তুমি কি কাদঁছো স্বপ্ন?
-হুমম..
– হা হা। বোকা মেয়ে কেন কাদছোঁ?
– তোমাকে এত বেশী ভালবাসি কেন প্রলয়?
– আমি যে তোমাকে তার চাইতেও বেশী ভালবাসি, স্বপ্ন..

…তোমাকে তো পৃথিবীর সব কিছুর চাইতে আমি সবচেয়ে বেশী ভালবেসেছি স্বপ্ন।

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *