একটি আলো আমার; একটি শিখা আমার

“একটি আলো আমার; একটি শিখা আমার
আমার সত্ত্বায় লেখা আছে যত,
আমার আলোর মত,
একটি যুদ্ধ আমার, একটি স্বাধীনতা আমার।

কত কষ্ট, কত বিনিদ্র প্রহর,
অম্লান চেতনা বিভোর।
এরই মাঝে গর্বিত স্বপ্নছায়া,
এই আমার স্বাধীনতা।”

এই ব্লগের পেছনের লোকেরা কি আগে জানতেন যে , নিয়মিত ব্যাবস্থাপনা ছাড়াও তাদের যে আরেকটি বাড়তি কাজ সেটার সাথে যোগ হবে? সেটা হলো ব্লগ থেকে নিত্য নতুন রাজাকার নিষিদ্ধ (ব্যান) করা। ব্যান করেও যে নিস্তার পাওয়া যায় তা নয়। একটা রাজাকার গেলো তো নতুন নিকে আরো হাজারটা এসে সেই একটার জাগা দখল করে। মাই ফুট! সব গুলোকে তাড়ানোর (কোনদিন আদৌ সম্ভব কিনা, মাবুদ জানেন) পর দেখা যাবে, আমাদের মধ্যে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। সব ক্রিয়েটিভিটি রাজাকার খেদাতে নিঃশেষ হয়ে গেছে। একটি ফুলের কলি থেকে প্রস্ফুটিত হওয়া নিয়ে আর কোনদিন পাতার পর পাতা লিখতে পারবো না। ৭১ এর রাজাকাররা আমাদের বুদ্ধিজীবিদের ধ্বংস করে দিয়েছিলো। এই প্রজন্মর রাজাকারেরা আমাদের বুদ্ধি তথা সাহিত্যবোধকে ধ্বংস করে দিতে চাচ্ছে। এই তথ্যটা কয়জন জানে?

আমি ব্যাপারটা মর্মে মর্মে উপলদ্ধি করছি। যেদিন আমি টের পাবো আমার ভেতরের সমস্তটাই কৃত্রিমতা দিয়ে আবৃত, নিজের প্রকৃতগতের সবটাই শূন্যতায় অসাড়, সেদিন থেকে “বেঁচে থাকা” নামক ব্যাপারটা আমার জন্য খুব একটা সহজ হবে বলে মনে হয় না।

আমি কখনোই ‘চাই চাই’ বলে কর্তৃপক্ষের কান ঝালাপালা করব না। বরং ব্লগে এসে নিজের মনে মাধুরী মিশিয়ে দুটো সুখ-দুঃখের কথা বলবার সুযোগ করে দেবার জন্য তাদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তবে হ্যাঁ, এইটুকু অবশ্যই করব, একটা “হারপিক অভিযান” চালাবো। ব্লগের সমস্ত রাজাকার নিক খুঁজে বের করে আমার ব্লগে ওদের ব্লক করে দিবো। আমার ব্লগ বাড়ীতে আসুক আর নাইবা আসুক; কমেন্ট করুক আর নাই করুক! আমার ব্লগ হবে সম্পূর্ন রাজাকার মুক্ত ব্লগ।

গতসপ্তাহ ধরেই খানিকটা অসুস্থ্য। অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠি। বুঝি, বিশ্রাম প্রয়োজন। কিন্তু আমার সারাদিন লিখতে ইচ্ছে করে। এখনো যে অনেক অনেক লিখার বাকী!

দেশ থেকে বিদায় নেবার আগে তায়াম্মুম করার জন্য একটি শুকনো মাটির দলা প্লাস্টিকের ব্যাগে করে সাথে নিয়ে এসেছিলাম। যখন কোন রাজাকারের দাম্ভিক পদশব্দে মাথার ভেতরটা ফুটন্ত আগ্নেয়গিরি হয়ে যায়, একটু শান্ত হয়ে এলে তখন সেই প্যাকেটটা বের করে নাকের সাথে ঠেকিয়ে ধরে বুক ভরে শ্বাস নেই। আমার দেশের সোনাঝরা মাটির গন্ধে ফুসফুসটা ভরে যায়! মনে হয় সে মাটির গন্ধ আমার প্রচন্ড বৃষ্টিতে ভেজা কোন রাতের সোদাঁ সোদাঁ গন্ধ, মনে হয় সে মাটি আমার ক্ষেতের আইলে পড়ে থাকা কাদারঁ স্যাঁত-স্যাঁতে গন্ধ, আর আটত্রিশ বছর আগের রক্তে ভেজা গন্ধ!

মাঝে মাঝে আমার চোখের জলে শুকনো মাটির দলাটা হালকা ভিজে উঠে।

শহীদের রক্তে গড়া মাটির বুকে এখনো প্রানীরা ঘুরে বেড়ায়! আমরা কিছুই করতে পারিনি এতগুলো বছরেও, ধিক আমাদের!

আমি শুধু আফসোস করি ওদের জন্য, মাতৃভূমিকে প্রান দিয়ে ভালবাসার যে কি স্বাদ, ওরা তা কখনোও বুঝলা না, নিজের দেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার আর বিকৃত করে, নিজের দেশের সাথে যারা বেঈমানী করেছিলো, তাদের কথা বড় গলায় গেয়ে বেড়ায়, একটা মানুষ কতটুকু দুর্ভাগা হলে তার এই পরিনতি হয়? খুব আফসোস হয় তোদের জন্য।

আমার যদি ক্ষমতা থাকত, ওদের প্রত্যেকটাকে ধরে ধরে ১০০ বার করে জবাই করতাম, তবে তার আগে মেইক সিওর হতাম, ওদের গা থেকে এক ফোঁটা অপবিত্র রক্তও যেন আমার দেশের পবিত্র মাটিতে না পড়ে। পড়লে সেই মাটি দিয়ে আমি আর হয়তো কোনদিন তায়াম্মুম করতে পারব না।

গত কিছুদিন সারাটা ক্ষন এমন একটা পরিবেশে ছিলাম, যে এসব নিয়ে হুড়াহুড়ি করতে একদম মন চাইছিলো না।

কিন্তু ফিরে এসে দেখি ফারজানাকে রাজাকার বলার ‘অপরাধে’ আমাকে নাকি সন্দেহের লিস্টে রাখা হয়েছে আর আমার কমেন্ট মুছে ফেলা হয়েছে। এটা পড়ে খুব ঠান্ডা মাথায় নীচের কমেন্টটা ওর পোস্টে গিয়ে করেছিলাম:

“ফারজানা, কাল তোমার ব্লগে এসে ঘুরে গেছি। ভিজিটিং লিস্টে আমার নামটা হয়ত দেখতে পাবে। তখন তোমার এই পোস্টে মন্তব্য করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ছিল না। আজ বাধ্য হয়ে করছি।

আমি আমার কমেন্টটা মুনিয়াকে করেছিলাম, তুমি নাক গলালে কেন বুঝলাম না, ব্লগটা/পোস্টটা তোমার বলে? হাহ্। শোন মূর্খ, আমি প্রশ্ণটা যাকে করেছিলাম তার বক্তব্যের সাথে সাবজেক্টিভ ছিল, তোমাকে করলে সাবজেক্টিভটি খুঁজে পেতে, এটাও বুঝিয়ে দিতে হল আমাকে? অন্যকে আবার পড়াশোনার খোঁচা দেও? হা হা হা ।

ফারজানা, একটা কথা বলছি, খুব মন দিয়ে শোন, আজ প্রথম আলোতে আনিসুল হক স্যারের একটা কলাম পড়ছিলাম সম্পাদকীয়তে। পড়া শেষে হঠাৎ মনে হল, তুমি যাদের পক্ষে সাফাই গাইছো, বাংলাদেশে আবার যদি আরেকটা মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, ওরা আবারো শান্তি(!) কমিটি, আল-বদর, আল-শামস বাহিনী গড়বে। ৩৮ বছর আগে তাদের যে ভূমিকা ছিল, সেই ভূমিকায় আবারো অবতীর্ন হবে। এমনও হতে পারে, তোমার মা-বোনদের সাথে তারা তোমাকেও ধরে নিয়ে যাবে তাদের আর তাদের মিত্রদের খাবার হিসেবে। তুমি যে তাদের হয়ে সাফাই গেয়েছো, সেটা তারা বেমালুম ভুলে যাবে।
আবারো বলছি, বাংলাদেশে আবার যদি আরেকটা মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, তারা আবারো আল-বদর বাহিনী গড়বে। ৩৮ বছর আগে তাদের যে ভূমিকা ছিল, সেই ভূমিকায় আবার অবতীর্ন হবে। এমনও হতে পারে, তোমার মা-বোনদের সাথে তারা তোমাকেও ধরে নিয়ে যাবে তাদের আর তাদের মিত্রদের খাবার হিসেবে। তুমি যে তাদের হয়ে সাফাই গেয়েছো, সেটা তারা বেমালুম ভুলে যাবে। এখন যাদের চামার বলছো, হয়ত তখন তারাই তোমাকে ঐ হায়েনাদের হাত থেকে ছিনিয়ে আনবে। তখন হয়ত তোমার ভুল বুঝতে পারবে। কিন্তু সমস্য হলো, বাংলাদেশে সেরকম আর যুদ্ধ হবে না। তাই তোমার ভুল ভাঙ্গবার কোন সম্ভাবনা দেখছি না। স্যারের শিরোনামটার মতই “অরন্যে রোদন।”

তুমি আমাকে ব্লক করতে পারো, কোন আপত্তি নেই। আমার ব্লগে তোমার বন্ধুরা ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ, তাই তুমি তো আমাকে করতেই পারো, তাই না?”

এই কমেন্টটা পোস্ট করার পর দেখি কোন কমেন্ট না করা সত্ত্বেও বেচারী ভয়ে আমাকে আগে ভাগেই ব্লক করে রেখেছে। তাই কমেন্টটা পোস্ট হয়নি। ব্লগের ইতিহাসে এমন নজির কি কেউ এর আগে দেখেছে? হা হা হা। ভাগ্যিস এম এস ওয়ার্ডে কপি করে রেখেছিলাম।

আমি তাতে খুশীই হয়েছি। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক তার একটা ভাষনে তারঁ সমালোচনার জবাবে বলেছিলেন: “মানুষ আম গাছেই ঢিল মারে, ফজলি আম গাছে আরো বেশী মারে। ক্যাওরা গাছে কেউ ঢিল মারে না।”

আমি শুধু একটু মুচকি হাসলাম। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক লেখাই দেখলাম ওর শো কেসে। “শো” কেসই বটে! মনে পড়ল কালকের খবরটা, রাজাকাররা নাকি মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি পরিষদ খুলছে। আরেকটা “শো” দেখছে বাংলার জনতা। রাজাকারদের পরস্পর ধ্যান ধারনার মিলের প্রশংসা করতে হয় তাই ওর শো কেসটা দেখে আবারো মুচকি হাসলাম আমি।:)

ফারজানাকে ব্যান করার জন্য গলা ফাটাবো না আমি। ঐ রাজাকার…রাজাকার বলে চেঁচিয়ে ব্লগ পাড়া মাথায় তুলব না। গত কিছুদিনের স্বর্গীয় পূত পবিত্র একটি পরিবেশ আমাকে যেন এসমস্ত কিছুর উর্ধ্বে নিয়ে গেছে। শুধু মনে হয়, এখনো অনেক কাজ রয়ে গেছে করার।

ওর পোস্টটাকে এ্যাবিউজ হিসেবে রিপোর্ট করেছি। মডারেটররা যদি এর পর মনে করেন ফারজানা নিকটাকে ‘ইতিহাসকে অস্বীকার ও বিকৃত’ করার দায়ে ব্যান করে দেবেন, তাহলে হৃদয়ের গহীন থেকে তাদের অভিনন্দন। আর যদি মনে করেন লঘু দোষে গুরু দন্ড হয়ে যাবে, তাহলে তাদের কাছে আবেদন করছি, ফারজানাকে “শো কজ” করার জন্য। সন্তোষজনক জবাব না দিতে পারলে ভবিষৎতে আরো দুঃসাহসিক কিছু লিখে দেশ প্রেমিক সবাইকে শকড করে দেবার আশংকায় স্বাধীনতা ঘোষনার এই মাসে, লিখিতভাবে, স্পষ্ট করে, খুব ঠান্ডা মাথায় শান্তিপূর্নভাবে ব্যান করার দাবি জানালাম। মানা না মানা তাদের ব্যাপার। তবে আমার বিশ্বাস, এটা আবারও প্রমানিত হবে যে নিজ হাতে গড়া ব্লগে তারা স্বাধীনতার শত্রুকে কখনোই প্রশ্রয় দিবেন না।

 

Untitled

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য