একটা ছিলো সোনার কইন্যা…

’শ্রাবন মেঘের দিন’ – সিনেমাটা যে সময় রিলিজ হয়, আমি তখন স্কুলে পড়ি। হাউস টিউটর লিটনস্যার বল্লেন, তিনি এই মুভিটার একটা ভিসিডি জোগাড় করেছেন। বিকেলে স্কুলে শেষ করে সোজা তার বাসায় চলে যেতে। সেখানে তিনি তার সব ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে তার সদ্যকেনা পেন্টিয়াম টু কম্পিউটারে এটা চালিয়ে দেখবেন। মুভি চলাকালীন থাকবে ঝালমুড়ি আর কোক। সেইরকম উৎসব উৎসব আয়োজন।

স্কুল ছুটির পর তার বাসায় খাটের উপর ১৪ ইঞ্চি ছোট্ট View Sonic এর মিনটরে প্রথম এই মুভিটি দেখলাম। আমার মনে আছে, এই গানটি শোনার সময় আমার চোখ বারবার ভিজে যাচ্ছিলো। আমার জীবনের প্রথম প্রেমটা খুব অদ্ভুতভাবে হয়েছিলো। সেই মানুষটাকে মনে পড়েছিলো ভীষন। আমার কিশোর মন হুঁ হুঁ করে কেদেঁ উঠেছিলো এই গানের বাশিঁর সুরে।

সবুজবরণ লাউয়ের ডগায় দুধসাদা ফুল ধরে,
ভুল করা কইন্যার লাগি মন আনচান করে..
আমার মন আনচান করে… 

জাহিদ হাসান আর মাহফুজের চরিত্রের নাম কি ছিলো মনে নেই, তবে এটুকু মনে আছে, গ্রামের বিখ্যাত গাতক জাহিদ হাসান কেশবতী কন্যা শাওনকে মনে মনে খুবই পছন্দ করে কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারে না। এদিকে মাহফুজের সে সময় দৃশ্যপটে আগমন এবং সে জানতে পারে মাহফুজ ভালো গান গায়। একদিন সে মাহফুজকে আমন্ত্রন জানায়, ভাবটা – দেখি তুমি কেমন গান পারো! আমার চাইতেও ভালো গান তুমি পারো কিনা দেখি। জাহিদ হাসানের তখন অহংকারে মাটিতে পা পড়ে না কারন গ্রামে তার গানের খুব নাম ডাক।

জাহিদ হাসান তার গানের দল বল নিয়ে একদিন দুপুরবেলা বলা নেই কওয়া নেই মাহফুজকে ধরে। উদ্দেশ্য, সবার সামনে তাকে অপদস্থ করা ও সে-ই যে গ্রামের সেরা গায়ক সেটা প্রমান করা। কিন্তু মাহফুজ গানে টান দিতেই জাহিদ হাসান হতভম্ব হয়ে যায়! সে বুঝতে পারে, মাহফুজের গানের গলা সত্যি সত্যিই তার চাইতে ভালো। এবং আরো হতভম্বের ব্যাপার হলো, যখন সে বুঝতে পারে এই মানুষটা তার কেশবতী সোনার কন্যাকে তার চাইতেও অনেক বেশী ভালবাসে।

পুরো ব্যাপারটিই জাহিদ হাসান এত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলেন যে, আমার কাছে মনে হয়েছে এটা তারঁ ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ ছিলো।

আর গানটার কথা কি বলবো? বাশিঁর সুর আর লিরিক আর গায়কী – যতবার শুনি ততবার বুকটা হুহু করে উঠে… আমি যতদিন বেচেঁ থাকবো, কোন দিন এই হাহাকার যাবে না বোধহয়…

হুমায়ূন আহমেদ ছাড়া এইরকম সিনেমা বানানো, এইরকম লিরিকে গান তৈরী করা – পৃথিবীর আর কারো পক্ষে সম্ভব না।

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *