একজন জাফর ইকবাল ও দু-চারজন সরকারী আমলা

lubdhok01_1337833279_1-2010-02-16-17-58-31-094607800-jaforikbal2জানি না কতটুকু সত্যি, তবে শুনেছি সিলেটের মানুষজন নাকি লন্ডনে কেউ তাদের অরিজিন জিজ্ঞেস করলে বলে, উই আর নট ফ্রম বাংলাদেশ। উই আর ফ্রম সিলঠ। যদি সত্যি হয় তাহলে বলবো এই যাদের অবস্থা, তারা হয়তো কিছুদিন পর সিলেটের স্বাধীনতাও দাবী করতে পারবে।

সিলেটের ননমেট্রিক মেয়র কতখানি র্নিবুদ্ধি হলে শাবিপ্রবিতে ৫০% কোটা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখতে পারে আমার মাথায় আসে না। মেয়েরের মোটা মাথায় এটা ঢুকার ক্ষমতা ছিলো না, ৫০% কোটা বরাদ্দের অনেক মানে হতে পারেঃ

১) সিলেটি শিক্ষার্থীদের হেডম নাই সারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সাথে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে চান্স পাওয়া।
২) শাবিপ্রবিতে অর্ধেক কোটা মানে সারা বাংলাদেশের সবগুলো ইউনি থেকে সিলেটিদের উৎখাত ও নিষিদ্ধ করার দাবী আসার সম্ভাবনা।
৩) ঢাকার প্রতিটি ইউনিতে এলাকাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য কোটা তৈরী করা।
৪) শুধুমাত্র জন্মসূত্রে সিলেটি হবার কারনে অর্ধেক সিট পেলে আমরা ঢাকাবাসীরা অধিকার রাখি ঢাকার সব ইউনিতে কোটা পাবার।
৫) জন্মসূত্রে সিলেটি এইটা প্রমান করার উপায় কি? ভোটার আইডিতে তো বাংলাদেশী লেখা থাকে। সিলেটি লেখা থাকে না।

আমি এও বুঝতে পারি না, সিলেটের বাম নেতাগুলো ছাগুদের সাথে যোগ দিয়েছে নাকি ছাগুরাই বামদের সাথে একাট্টা হয়ে জাফর স্যারের বিরুদ্ধে লেগেছে? যেটাই হোক না কেন, সিলেটি ছাগু এবং বামর – উভয় পক্ষই জাফর স্যারকে অনেকদিন থেকেই চেনে। সুতরাং, ঠিক কোন জাগায় গিয়ে তার বিরোধীতা করলে তিনি চাকরী ছেড়ে অনত্র চলে যেতে পারেন, এটা অনুমান করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য ছিলো না।

যে মানুষটা কলম ধরলেই সেখান থেকে অবধারিতভাবে লেখাপড়া আর মুক্তিযুদ্ধের কথা বের হয়, সেই মানুষটাকে আমাদের দেশের অর্থব রাজনীতিবিদ আর শিবিরের ছাগু-শুয়োররা দুই চোখে দেখতে পারবে না, সেটাই সঙ্গত। তারা জানে, বাংলাদেশে এই একটা মানুষই আছেন, যে কিনা নিজের স্বপ্নটাকে কোটি কোটি মানুষের ভেতর নিপুনভাবে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন। নিজের দেশ প্রেমটাকে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় পর্যন্ত পৌছেঁ দিতে পেরেছেন। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এত সূদরপ্রসারী ও যুগোপযোগী ভাবনা জাফর স্যার ছাড়া আর কেউ ভাবে নাই। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার মতো অভূতপূর্ব আবেগের বহিঃপ্রকাশ আর কেউ দেখানে পারে নাই। এই দেশের তরুণপ্রজন্মকে নিয়ে যখন বৃদ্ধপ্রজন্ম হতাশ, তখন যাটোর্ধ এই মানুষটা তরুণপ্রজন্মকে নিয়ে সবচেয়ে বেশী স্বপ্ন দেখেন।

জাফর স্যারের পৈতৃক ভিটা ময়মনসিংহে হলেও তার জন্মস্থান সিলেট। পৃথিবীর অন্যতম সেরা কমিউনিকেশনস গবেষনাগার থেকে ১৮ বছর গবেষনা করে সিলেটে জন্মনেয়া এই মানুষটি আবার সিলেটেই ফিরে গিয়েছিলেন। টাকার জন্য নয়, খ্যাতি বা সন্মানের জন্য নয়, গিয়েছিলেন জন্মভূমির টানে। দেশ ও মানুষের ভবিৎষত চিন্তায়, তরুণপ্রজন্মকে আলোকবর্তিকা দেখানোর আশায়।

কিন্তু আওয়ামী সরকার বদলের মাত্র মাসখানেক আগে আমরা দেখলাম যে, অত্যন্ত যুক্তি ও ন্যায় সঙ্গত একটা দাবীর বিপরীতে অবস্থান করে এই মানুষটার বিরোধীতা করা হলো, যার ফলশ্রুতিতে মানুষটি স্বস্ত্রীক পদত্যাগ করলেন। এরপর স্থানীয় ছাত্রদের প্রবল দাবী আর অনুরোধের মুখে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের সাথে সাথে আমরা দেখলাম, স্যারের বাসার সামনে ককটেল ফোটানো হলো। ছাত্রী হলগুলোর সামনেও হয়েছে।

এখন যা করণীয়ঃ
ক) এই মূহুর্তে জাফর স্যার ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার দিকটি সবার আগে দেখতে হবে। শিবিরের কাছ থেকে গত দেড় দুই দশক ধরে ক্রমাগত মৃত্যুহুমকি পেতে থাকা জাফর স্যার দুয়েকটা ককটেলে আওয়াজে বিন্দুমাত্রও ভিতু নন। কিন্তু, আমাদের নিজেদের স্বার্থেই তাকে আমাদের যথাসম্ভব নিরাপত্তা দেবার চেষ্টা করা উচিত।

খ) সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষা পদ্ধতি শুধু যশোর আর সিলেটের জন্য নয়, বরং এর আওতায় দেশের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয় যেন চলে আসতে পারে, সে দাবীকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সব কয়টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী যার যার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মসূচী গ্রহন করা। এতটা বছর ধরে অসমন্বিত পরীক্ষা দিতে গিয়ে আমাদের দেশের শিক্ষাথীরা যে পরিমান হয়রানির শিকার ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেটা যেন আর কখনো না হয়।

গ) সিলেটের মেয়র, ডান-বাম দলের পাতি নেতারা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ব্যাপারে নাক না গলায় – এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রথমতঃ সাষ্টিয়ানদেরন। দ্বিতীয়তঃ সিলেট বাসীর। সিলেটের জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও হয় রাজনীতি নয়তো ক্যাম্পাস থেকে দূরে রাখতে হবে। সমন্বিত শিক্ষাপদ্ধতির বিরোধীতা করা নাকি জাফর স্যারের বিরোধীতা করা, কোনটা তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো এটাও খেয়াল রাখতে হবে।

ঘ) অর্থমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীদ্বয় সমন্বিত পদ্ধতির বিরোধীতা করেছেন। কেন তারা এটা করলেন, সম্বনিত পদ্ধতির কি কি খারাপ দিক তারা দেখলেন, সে বিষয়ে যেন প্রেস কনফারেন্স করে তারা বিষদ ব্যাখা করেন – দেশের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অতি সত্বর এমন দাবী জানানো উচিত।

ঙ) দেশের অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য খুবই উসকানীমূলক ছিলো। তারা প্রকাশ্যে বলেছেন – পদত্যাগের ব্যাপারে হস্তক্ষেপের সুযোগ কম। এতে আসলে প্রমান হয়, জাফর স্যার পদত্যাগ করলেন কি করলেন না, তাতে তাদের তেমন কিছু যায় আসে না। এটা প্রমান করে দিয়ে তারা তাদের বিদায় বেলায় শেষমূহুর্তে খুবই খারাপ কাজ করলেন। দেশের শিক্ষার্থীরা এটা অনেক দিন মনে রাখবে। তাদের এটা জানা উচিত যে, দুই চারটা অর্থমন্ত্রী-শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করলে দেশের কিছুই যায় আসে না। কিন্তু একজন জাফর ইকবাল পদত্যাগ করলে অনেক কিছু যাবে আসবে। অনেক কিছু।

 

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *