আসুন, কিছু ঘটনা কল্পনা করা যাক!

osama-mission-accomplished

লেটস প্রোট্রেইট সাম ইভেন্টস! কিছু ঘটনা কল্পনা করা যাক।

এ মাসের ১৪ তরিখ। নাশকতার আশংকায় সরকার মাত্র ৯ ঘন্টা আগে কাদের মোল্লার ফাসিঁর দিন ক্ষন জানিয়েছে। আজ ভোর ৬ টা বাজে হঠাৎ করে রেডিও টিভিতে ঘোষনা, বিকাল ৩ টায় ফাসিঁ কার্যকর করা হবে। সরকার সাথে এও ঘোষনা দিলেন, বিজিবি আর সেনাবাহিনীর একটা প্লাটুন ১০ টা মেলিটারি গ্রেড হেলিকপ্টার গানশীপ নিয়ে রেডি আছে। জামাত শিবির যদি এই নয় ঘন্টায় দেশের কোথাও কোনরূপ অরাজকতা চালায় আর তার কারনে সেনাবাহিনী যদি তাদের কোন ক্ষতি করে, সে দায় দায়িত্ব সরকার নেবে না। খুব স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত এই ঘোষনা ক্ষনে ক্ষনে প্রচার করা হচ্ছে সকাল থেকেই।

দুপুর ১২টার দিকে আবার ঘোষনা দেয়া হলো, ফাসিঁ কোথায় দেয়া হবে সেটা জানানো হবে দুপুর ১ টায়। তবে সেটা হবে এমন কোন জায়গা যেখান থেকে দেশের প্রতিটা চ্যানেল ফাসিঁর পুরো প্রক্রিয়াটি লাইভ দেখাতে পারবে। টিভি চ্যানেলে সাজ সাজ রব পড়ে গেলো। মানুষ টিভি ছেড়ে বসতে শুরু করলো এখনই। এদিকে দুপুরের তপ্ত রোদেও এলাকায় বেশ কয়েকটি মিছিল বের হয়েছে। রাস্তায় গাড়ি চলাচল অনেকাংশে কমে গেছে! মাঝে মাঝে দুয়েকটা আর্মি হামভি ধীর গতীতে চলে যাচ্ছে।

পাড়ায় পাড়ায় মিষ্টি বিতরণ চলছে। শুনলাম গুলিস্থান আর ফার্মগেটের বেশ কয়েকটা রেষ্টুরেন্টের মালিক ফ্রি তে খাবার খাওয়াচ্ছে কাষ্টমারদের। ঘোষনার পর যারা খেতে ঢুকেছে, তাদের কারো কাছ থেকেই তারা বিল নিচ্ছে না।

শাহবাগে এক এলাহি কান্ড! মোড়ে হাজার জনতার ঢল। শাহবাড়ের মিষ্টি দোকানগুলো পুরো খুলে দেয়া হয়েছে। যে যেভাবে পারে মিষ্টি খাচ্ছে। পাশের বন্ধুকে মুখে তুলে খাওয়াচ্ছে। ফাসিঁর কয়েক ঘন্টা আগেই এই অবস্থা, ফাসিঁ হলে না যেন কি হবে!!

আজকে এমনতেই সরকার ছুটির দিন। সবাই মিরপুরের শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেছে। বিকাল দেড় টায় হটাৎ ঘোষনা হলো, ওখানেই ফাসিঁ হবে। আশেপাশের সিকিউরিটি তো ভোর থেকেই সেখানে কড়া। সরকারের বুদ্ধির তারিফ করলাম। কারন ঐদিন সারা বাংলাদেশে ওটাই ছিলো একমাত্র জায়গা, যেখানকার সিকিউরিটি বাড়ালেও দুবৃত্তরা ফাসিঁর স্থান বলে সন্দেহ করতো না!

চট্টগ্রামের দিকে কিছু শিবির কর্মী হালকা ককটেলবাজী করার চেস্টা করলো বিকাল ৪টার দিকে। চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে সাথে সাথে হেলিক্টার উড়াল দিলো। হেলিক্টার ল্যান্ড করলো চট্টগ্রামের রাজপথে। ল্যান্ড করার আগে কিছু আগে ফাকাঁ গুলি ছুড়লো। গানশীপের ফাকাঁগুলির আওয়াজও কলজে ঠান্ডা করে দেবার জন্য যথেস্ঠ! কযেকটা ধরা গেলো, কিছু পালিয়ে গেলো। এই কারনে চট্টগ্রামের শিবিরের চিহ্নিত ঘাটিঁতে হেলিক্টার নিয়েই তাৎক্ষনিক অভিযানে নামলো সেনাবাহিনী। আধা ঘন্টার রেইডে শ খানেক ছাগু খোয়াড়ে ঢুকলো এই ঘটনার পর আর কিছু করার সাহস পায়নি শিবির!

পূর্ব নির্ধারিত সময়ের আধঘন্টা আগে দুপুর আড়াইটায় ফাসিঁ হয়ে গেলো। বাংলার মাটি আজ কলঙ্কমুক্ত হলো।
কেউ একজন ঘোষনা দিলো, হাতিরঝিলে যেমন কিছুদিন আগে আতশবাজি হয়েছিলো, ঐ রকম আতশবাজি হবে সন্ধ্যার পর বেশ কিছুক্ষন। পাবলিক চিৎকারে ফেটে পড়ছে কিছুক্ষন পর পর।

কাদের মোল্লার লাশ নিতে একটা আর্মি হেলিক্টার আসছে। হেলিক্টারে কফিনটা ওঠার আগ মূহুর্তে আমি খুব কাছে গিয়ে রিকোষ্টে করলাম। কেন জানি, আমার অনুরোধটা রাখা হলো। আমি কাদেরর কফিনের উপর ওঠে ভি সাইন দেখিয়ে ছবি তুল্লাম। ছবি তুল্লেন উপস্তিত একজন আর্মি পারসন। কফিন থেকে নেমে শেষবারের দিকে তাকালাম। তারপর একদলা থুথু ফেল্লাম কফিনের উপর।

জানাযা পড়ে সন্ধ্যার আগেই কবর দিয়ে দেয়া হবে। তবে উপস্থিত জনতা চিৎকার করে স্লোগান দিচ্ছে, কাদেরর কবর যেন বাংলার মাটিতে না হয়। তারা এটা হতে দিবে না। সরকার জনতার দাবী মানবে বলে আশ্বাস দিলেন।

পাকিস্থানের সাথে যোগাযোগ করা হলে ওরা জানালো যে তারাও এই লাশ নিতে রাজী নয়। তারপর আমরা টিভিতে লাইভ দেখতে পেলাম একটা অভিনব ঘটনা! কাদেরর লাশ কফিনে ভরে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে পাঠিয়ে দেয়া বঙ্গোপসাগরে। চীন থেকে বাংলাদেশ যে দুটি সাবমেরিন কিনেছিলো, তার একটিতে করে লাশ নেয়া হলো সাগরের একদম তলদেশ পর্যন্ত। তারপর সেখানে আন্ডার ওয়াটার ড্রিলার দিয়ে ১০ ফিট গর্ত খুড়েঁ লাশ পুতেঁ ফেলা হলো। সেই জাগাটা সমুদ্রের কোথায় সেটা কেউ জানে না।

ছবিঃ স্কেচ, গুগল।

 

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *