আমেরিকাতে সমকামী বিয়ের বৈধতা প্রসঙ্গে কিছু কথা


PrideDesignঅষ্ট্রেলিয়াতে প্রতি বছরের শুরুর দিকে মারদিগ্রা (Mardi Gras) নামের একটা প্যারেড হয়। লেন্ট মৌসমের রোজা রাখার আগে সবাই মিলে পেট পুরে ভালো মন্দ খায়, ইচ্ছেমতো রিচ ফুড খায়, সেটাকেই তারা উদযাপন করে মারদিগ্রার মাধ্যমে। এটা আদ্যোপান্ত খ্রিষ্টিয় ধর্মীয় উৎসব কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই দিনে অষ্ট্রেলিয়ার সমস্ত সমকামী দম্পতি রাস্তায় নেমে আসে। কি তাদের বাহারি সাজ, কি তাদের পোষাক আষাক!! চারিদিকে আনন্দের হুল্লোড় বয়ে যায়। তারা জানে আপনি তাদের মতো নন, কিন্তু ঐদিন রাস্তায় আপনার সাথে দেখা হলো তারা আপনাকে চকোলেট দিবে, বিয়ার সাধবে, হাসিমুখে হ্যান্ডশেইক করে একসাথে ছবিও তুলবে।

খুব সম্ভবত আমেরিকার কিছু কিছু ষ্টেটে সমকামী বিয়ে এলাউড ছিলো কিন্তু সম্প্রতী সমগ্র আমেরিকাতেই সমকামীদের বিয়ে বৈধ করে দেয়া হয়েছে। আমেরিকাতে সমকামী দম্পতির সংখ্যাটা বিশাল। গত প্রায় এক দশক ধরে এই ব্যাপারটা নিয়ে আমেরিকার এই বিপুল সংখ্যক সমকামীরা আন্দোলন করে গেছে, রীতিমতো রাস্তায় নেমে স্লোগান দিয়ে তারা এ দাবী আদায় করেছে। কোর্ট এমনি এমনি তাদের এ সুবিধা দিয়ে এ রায় দেয়নি।

সঙ্গত কারনেই তাদের এই দাবীটা অন্যায্য কিছু ছিলো না। মানবিক দৃষ্টিকোণ দিয়ে দেখলে দাবীটা অহিংস, মানে এতে কারো কারো ক্ষতি নেই।        

                                   আমেরিকাতে ২০০৯ সালের মারদিগ্রার চিত্র। সূত্রঃ উইকিপিডিয়াআমেরিকাতে ২০০৯ সালের মারদিগ্রার চিত্র। সূত্রঃ উইকিপিডিয়া

তবে সমকামীদের বিয়ের বিপক্ষে পৃথিবীর সব জাগাতেই প্রধানতঃ দুটি শক্ত কারন দেখানো হয়।

ক. নৃতাত্বিক কারণঃ সমকাম বিয়ে বৈধ হলে বংশবিস্তার কমে যাবে/হবে না। সুতরাং, এক সময় জাতিগত অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। কোন সরকারই বা চাইবে তাদের জাতিগত অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ুক? (বেবী এডপশন সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গ। শুধুমাত্র বেবী এডপ্ট করে জাতিগত অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।)

খ. ধর্মীয় কারণঃ প্যাগানসহ পৃথিবীর সবকয়টা বড় বড় ধর্মীয় দর্শনেই সমকামকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে রেইপ যেমন পাপ, সোডোমি আর বড় পাপ। আমার ধারনা, প্রথম কারনটিও এর সাথে রিলেটেড। মানে, সমকাম বৈধ হলে বংশবিস্তার থেমে যাবে, নিজেদের ধর্মের অনুসারী কমতে কমতে একটা সময় স্বয়ং ধর্মেরই অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে এই কারনে প্যাগান ধর্মগুলোও সমকামের বিরোধীতা করেছে। কারন অনুসারী না থাকলে ধর্মের কোন অস্তিত্ব থাকবে না। নারী-পুরুষ সেক্স হবে, বাচ্চা কাচ্চা হবে, মানব বংশ বিস্তার হবে। ধর্মের অনুসারীদের মাঝে দিয়ে ধর্ম টিকে থাকবে।

ইসলামে সমকামকে কঠিনভাবে নিষিদ্ধ ও দমন করা হয়েছে। হযরত লুত (আঃ) এর কওমকে অত্যন্ত নৃশংস ও অভিনব এক পদ্ধতিতে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছিলো। কারন তারা সমকামী ছিলো, এমনকি স্বয়ং নবীর সাথেও তারা সমকামে লিপ্ত হতে চেয়েছিলো কারন লুত (আঃ) দেখতে অসম্ভব সুদর্শন ছিলেন। ফলসরুপ আল্লাহতাআলা জিব্রাইল (আঃ) পাঠালেন। তিনি তার পাখা দিয়ে পুরো কওমকে ৪র্থ আসমানে উঠিয়ে নিলেন। হাদিসের কিতাবে এসেছে, ৩য় আসমানের ফেরেশতারা কওমে লুতের গবাদি পশু পাখিদের চিৎকার ও মানুষজনের আর্তনাদ শুনতে পেয়েছিলো। এবং এরপর হঠাৎ করেই জিব্রাইল (আঃ) তারঁ পাখা উল্টিয়ে দেন। ভূপতিত হয়ে সেটা ডেড সিতে পরিনত হয়। ডেড সি এর পানি এতটাই বিষাক্ত যে, সেখানে কোন সামুদ্রিক পানি বাস করতে পারে না।

কোরআনে বর্ণিত এই ঘটনার উপর ভিত্তি করে মুফতিরা সমকামের শাস্তি নির্ধারণ করেছেন, অপরাধীকে পাহাড় বা উচুঁ দালানের উপর থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া।

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, একজন মানুষ যদি জেনেটিক্যালি সমকামী হয়, এমনকি যদি উভকামীও হয়, এবং তিনি যদি তার মতই আরেকজন সমকামী বা উভকামী মানুষের সাথে মিলিত হতে চান, সেখানে আপত্তির কিছু নেই, যতক্ষন না ব্যাপারটাতে কোন জোর জবরদস্তী হচ্ছে। আমাদের ইউনির সাইকোলজির একজন নামকরা প্রফেসর একদিন আমাদের ক্লাসে বলেছিলেন –

”মিউচুয়ালি হলে দুনিয়ার যে কোন সেক্সুয়াল রিলেশনশীপই বৈধ হবার যোগ্যতা রাখে। সেটাকে অবৈধ করা হয় শুধু হয় ধর্মীয় বা সামাজিক কারন দেখিয়ে। তোমরা একটা ব্যাপার মনে রাখবে, ধর্মীয় বা সামাজিক মূল্যবোধ কালে কালে বদলায়, কিন্তু মানবিতকার সংজ্ঞা, দর্শন ও মূল্যবোধ পৃথিবীর সব জাতির সব যুগের জন্যই সমান ছিলো, আছে এবং ভবিৎষতেও থাকবে। মানবতার সংজ্ঞাতে নতুন নতুন ধারনা যুক্ত হবে, কিন্তু কখনো পুরনো ধারনা বদলাবে না বা বাতিল হবে না। যেমনঃ দাসপ্রথা যে অমানবিক একটা ব্যাপার ছিলো, সেটা সে সময়ের লোকজনও জানতো। কিন্তু ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাশালীদের ভয়ে সেটা কেউ স্বীকার করতে চাইতো না। আরবে এক সময় কন্যা শিশুদের জ্যান্ত পুতেঁ ফেলা হতো, সেই্ সময়ের লোকরা জানতো এটা অমানবিক, সেটা জেনেই তারা তা করতো। কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষ যখন মানুষের মানবিক দিকগুলো বুঝতে শুরু করলো, এর অপকারিকতা চাক্ষুষ করতে শুরু করলো, তখন তারা আন্দোলন করে দাসপ্রথা বন্ধ করলো, ইসলাম এসে মেয়েদের পুতেঁ ফেলা বন্ধ করলো। মানবিক ধারনা বদলায়নি। শুধু আপডেট হয়েছে, আপগ্রেড হয়েছে। এডিট হয়নি।”

প্রফেসর র‌্যস যখন ক্লাস নিতেন, আমরা ৯ দেশের ৪৭ জন ছাত্র ছাত্রী মন্ত্রমুগ্ধের মতো তার কথা শুনতাম। তিনি বলতেন, ”তোমরা জানো তোমাদের ইউনি আমাকে কেন মোটা অংকের বেতন দেয়? না ক্লাস নেবার জন্য আমাকে বেতন দেয়া হয় না। আমাকে বেতন দেয়া হয় আমার ডেস্কে বসে চিন্তা করার জন্য। গবেষনা করার জন্য, তারপর তার ফলাফল দিয়ে থিসিস পেপার লেখার জন্য। আমি যখন চিন্তা করতে করতে বোর হয়ে যাই, বা যখন মাথা জ্যাম হয়ে যায়, তখন রিফ্রেশমেন্টের জন্য তোমাদের ক্লাস নিতে আসি।” ইউনিভার্সিটি অব ওয়েষ্টার্ণ সিডনীতে আমার প্রিয় চারজন প্রফেসর ছিলেন। এর ভেতর র‌্যস একজন। তিনি জাতে ইহুদি। ধর্মবিশ্বাসে নাস্তিক। তারঁ অনেক থিসিস পেপার ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও জার্নালে ছাপা হয়েছে।

যা বলছিলাম। সমকামীদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে ফেসবুক সুপ্রীম কোর্টের এ রায়কে সেলিব্রেট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সবার প্রোফাইল ছবিতে রংধনু একেঁ। যারা যারা চাইবেন, তারা তাদের প্রো পিককে রাঙ্গাতে পারবেন বর্ণিল রংয়ে। আমি যেহেতু সমকামীদের বিয়েকে স্রেফ মানবিক কারনেই সমর্থন করি, সেহেতু আমিও আমার প্রোফাইল ছবি রাঙ্গিয়েছি।

আরেকটা্ ব্যাপার, শুধু সমকামী নয়, আদালদের রায়টি কিন্তু ছিলো উভকামী ও বৃহন্নলাগোষ্ঠির জন্যও। এটা সমর্থন করার আরেকটা কারন হলো, মার্ক জাকার বার্গ নিজে তার প্রোফাইল ছবি রঙ্গিন করেছেন। তার মানে কি সে নিজে সমকামী? নোপ। বরং সে আমার মতই একজন ”সমকাম বিয়ে” সমর্থক।

স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, মার্ক যা করেন, আমার কাছে তাই ভালো লাগে। কারনটা তার বিশাল হৃদয় আর প্রখর ডিসিশান মেকিং এবিলিটি। এই কারনেই আমার অন্যতম প্রিয় ব্যাক্তিত্ব ষ্টিভ জবস মার্ক কে দেখে বলেছিলেন – আমি আমার নিজের ছায়া ওর মাঝে দেখতে পাই।

কিছুদিন আগে মার্ক যে অত্যন্ত অভিনব অথচ ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ এক খাতে ৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান করেছিলেন, সেটা নিয়ে বিস্তারিত লিখেছিলাম। আমেরিকাতে বিলিওনিয়ারের অভাব নাই, মাল্টি মিলিওনিয়ার যে কতজন আছে, তার তো কোন হিসাবই নাই। কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক খাতে বিনিয়োগ করার লোকের বড়ই অভাব সেখানে। মার্ক ঠিক এই কাজটিই করছেন। যে খাতে কেউ বিনিয়োগ করে না, কেউ করার কথা চিন্তাও করে না, সেই সব খাতগুলোতেও সে মুক্তহস্তে দান করে। তার ইন্টারনেট ডট ওরগ নিয়ে প্রচুর নেগেটিভ কথা শুনি, সে সব বিশ্বাসও করি, মার্কের নিজের স্বার্থ সেখানে আছে, আমি জানি, তবুও মন্দের ভালো, এটা তো অস্বীকার করার জো নেই যে, এই মানুষটির কারনেই আমার দেশের অজ পাড়া গ্রামের একজন কৃষক তার মোবাইলে প্রতিদিনকার টাটকা দৈনিক পত্রিকা পড়তে পারছেন। যেটা হয়তো সে আগে কখনো কল্পনাও করেনি।

 

আবার অষ্ট্রেলিয়াতে ফিরে আসি। এখানকার বেশীরভাগ রেষ্টুরেন্টের সেইফ এবং নরসুন্দর গে বা লেসবিয়ান। এর কারনটা জানি না। হয়তো গেরা সেইসব পেশাতেই বেশী ফিট। তবে, নিজেদের বিয়েকে বৈধতা দিতে তাদের আন্দোলনটা নিজের চোখে দেখা। শুধুমাত্র সেক্সুয়াল ওরিয়েণ্টেশন ভিন্ন হবার কারনে, দুজন মানুষকে কত সংগ্রাম করে জোড়া বাধঁতে হয়, তারপর জোড়া বাধারঁ পর আবার সংগ্রাম করতে হয় বিয়ের দাবীর জন্য, সামাজিক স্বীকৃতির জন্য, সেই ব্যাপারে আমাদের তো দূরে থাক, অনেক সাদা চামড়ারও ধারনা নেই। তারাও মনে করে সমকামীরা যেন খানিকটা ‘অচ্ছুৎ’। এমনকি, অষ্ট্রেলিয়ান অনেক বুড়ো বুড়িকে দেখেছি, রাস্তায় কোন সমকামী দম্পতি দেখলে ঘৃণায় নাক মুখ কুচঁকে ফেলতে। ওরা হয়তো জানে না যে, সমকামীদের প্রতি ঘৃণা দেখানোটাও এক প্রকার রেসিজম।

সমকামীদের ব্যাপারে আমাদের অনেকেরই অনেক অনেক ভুল ধারনা আছে। অনেকে মনে করে, আপনি নিজেকে সমকামী পুরুষ বা মহিলা বলে ঘোষনা দিলে অন্য একজন সমকামী পুরুষ বা মহিলা সেক্স করার জন্য আপনার উপর ঝাপিঁয়ে পড়তে চাইবে। ধারনটা যে কতটা হাস্যকর তা একটি উদাহরন দিলেই বোঝা যাবে। ধরুন, আপনি নিজেকে ষ্ট্রেইট বলে ঘোষনা দিয়েছেন। এখন কি রাস্তার সব স্টৈইট মানুষজন আপনার উপর ঝাপিয়েঁ পড়বে? সমকামীরা আমাদের মত করেই ভালবাসে। নিজের মধ্যে ভালবাসা তৈরী না হলে শুধুমাত্র সমকামী হবার কারনে তারা কখনো আপনার উপর ঝাপিঁয়ে পড়বে না। এইরকম কোন নজির নেই।

অনেকেই ভাবতে পারেন, লিভ টুগেদার করলেই তো হয়, বিয়ের জন্য আন্দোলনের দরকার কি? দরকার আছে। কারন সমকাম বিয়ে বৈধ হওয়া মানে রাষ্ট্র কর্তৃক সমকামীদের সামাজিক স্বীকৃতি দেয়া। আর বিয়ের পর উন্নত দেশগুলোতে যে সকল সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়, সে সব না হয় বাদই দিলাম। নির্ভেজাল লিভ টুগেদারের মাধ্যমে তৃপ্ত না থেকে তারা কঠিন পন্থা বেছে নিয়েছে, আন্দোলন সংগ্রাম করে তারা নিজের অধিকার এবং স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছে। আমেরিকা তথা সমগ্র বিশ্বের সমকামী দম্পতিতের এই রাজনৈতিক স্পিরিটকে আমি সমীহ করি। এবং এই কারনেই আমেরিকাতে তাদের এই বিজয়কে আমি নিজে ষ্ট্রেইট হয়েও উদযাপনযোগ্য মনে করি।

আমার ধারনা, আমাদের দেশের তরুন প্রজন্মের একটা বড় অংশ কৈশোরেই সমকামের শিকার হয়। ক্লাস নাইনে পড়ার সময় আমার অনেক প্রতিবেশী বন্ধুকেই অন্য ছেলেদের সাথে সমকাম করতে দেখে ফেলেছিলাম। এটাকে যে সমকাম বলে, আমি এখন নিশ্চিত যে তারা তখন সেটা জানতো না। তারা সমকামী নয়, কিন্তু সমকামের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমার একজন ফেসবুক বান্ধবীও আমাকে জানিয়েছিলেন , মহিলা হোষ্টেলে থাকাকালীন তার সমকামী রূমমেটদের রীতিমতো চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা। আমি প্রায় নিশ্চিত যে, ঐ মেয়েগুলোও সমকামী নন। তারা নিশ্চয়ই স্বামী সংসার নিয়ে সুখে শান্তিতে আছেন। কিন্তু হয় তারা উভকামী অথবা সমকাম করে ক্ষনিকের সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসির অভিজ্ঞতা নিয়েছিলেন।

এসব বলার কারন হলো, সমকাম ব্যাপারটা অস্পৃশ্য কোন ব্যাপার নয়। সমকামীরাও আপনার আমার মতো মানুষ। আরেকটা কথা, এটা কোন রোগ নয় যে এর চিকিৎসা দরকার হবে। তবু আমরা তাদের ব্যাপারে খারাপ ধারনা রাখি। কারন, আমাদের সমাজে যা কিছু বাস্তব, আমরা সেগুলোকেই অস্বীকার করার চেষ্টা করি, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করার চেষ্টা করি। এর আরেকটা উদাহরণ হচ্ছে আমাদের দেশের বৃহন্নলাগোষ্ঠি। এই ব্যাপারে ইতিমধ্যেই বিস্তর বলা হয়েছে, আমি আর কিছু না বলি।

অনেকেই আমাকে ইনবক্স করে কটু কথা বলার চেষ্টা করছেন, সমকামী বিয়ে সমর্থন করার অপরাধে আমাকে খাটো করার চেষ্টা করছেন, তাদের প্রতি আমার সবিনয় বক্তব্য হলো – আমি বিশ্বাস করি, একজন মানুষ বা একটা গোষ্ঠির ন্যায্য দাবী অর্জনকে সন্মান করলে নিজের সন্মান বাড়ে বৈ কমে না। এই বাস্তবতাটা আমাদের মধ্যে যত দ্রুত উপলদ্ধ হবে, তত মঙ্গল।

ফেসবুকে আমার নোটঃ 

ডঃ সেজান মাহমুদের নোটঃ কমেন্টেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে

ডঃ সেজান মাহমুদের সেই নোটের একটি বর্ধিত কলেবর

কিছুক্ষন আগে একটা সুশীলিয় নোট লিখছিলাম আম্রিকার সেইম সেক্স ম্যারিজ নিয়া। ফ্রেন্ড লিষ্টের অনেকেই পড়ছেন। কিন্তু ভয়ে নোটে কোন ইন্টারেকশান করে নাই পাছে সমকামী সাপোর্টার সিল লেগে যায়। হাহা। তা ভাবলাম, এইবার একটা অসুশীলিয় পোষ্ট দেই তাইলে।

একটা তিতা কথা দিয়া শুরু করি। ফেসবুকের যেইসব পোলাপাইন সেইম সেক্স ম্যারিজের ১৪ গোষ্ঠি উদ্ধার কইরা পুষ্ট দিতেছে, আমি বাজি ধইরা বলতে পারি, তাদের সবার হার্ডডিস্ক ঘাটাঁ দিলে শতকরা ৮০ জনের কাছে আমেরিকান লেসবিয়ান পর্ণ পাওয়া যাবে। তারা সারাদিন গে লেসবিয়ানের পি মাইরা দিন শেষে লেসবিয়ান সেক্স দেখতে দেখতে হাত মাইরা ঘুমাইতে যায়। এমনকি আমি একটা ইন্ডিয়ান মাইয়াকে বলতে শুনছি, সে গে পর্ণ ইনজয় করে।

আমি এই ফেবুতেই একবার একটা পোলারে পোষ্ট দিতে দেখছিলাম – ”আমি গে ম্যারিজ সাপুট করি না কিন্তু লেসবিয়ান ভিডিও দেখা সাপুট করি। (এরপর ব্রাকেটে চোখ টিপির ইমো)”

রাত জাইগা সমকামী পর্ণ দেখাটা মানসিক বিকারগ্রস্থতা নাকি দিনের পর দিন সামাজিক ও রাজনৈতিক লাঞ্ছনা সহ্য করে নিজেদের অধিকার আদায় করাটা মানসিক বিকারগ্রস্থতা?

LGBT-study

বাঙ্গালির হিপোক্রেসির কোন তুলনা নাই। বাঙ্গালী থিকাই মিরজাফরের উৎপত্তি, অন্য কোন জাতি থেকে না। সুতরাং, এরাই যে দিনের বেলা গে ম্যারিজের কারনে জাত/ধর্ম গেলো রব তুলে রাতের বেলা টাটকা লেসবিয়ান পর্ণ নামায়া দেখে, তারপর হাত মেরে প্রগাঢ় যৌতৃপ্তি নিয়ে ঘুমাতে যাবে এতে আর আশ্চর্য কি? এতে শরীরও শান্ত হয়, আবার ফেসবুকে নিজের মুখটাও রক্ষা হয়।

আর আমাদের দেশের মাদ্রাসাগুলোর কথা আর কি বলবো? এমন একটা কওমী মাদ্রাসা নাই যেটাতে পেডোফাইল হুজুররা নাই। যেটাতে হুজুররা কোমলমতি ছেলেদের পশ্চাৎদেশে তাদের নোংরা লিংগ ঢোকানোর চেষ্টা করে নাই। কই তাদের মানসিক বিকৃতি নিয়ে তো কোনদিন আপনারে কিছু বলতে শুনলাম না। আর সমকামীদের রাজনৈতিক বিজয় উদযাপনেই আপনার আপত্তি?

তবু আমি আশা করি, এখন যেমন বৃহন্নলাদের ব্যাপারে অনেকটাই গনসেচতনতা বৃদ্ধি পাইছে, তেমনি সমকামীদের ব্যাপারেও পাবে। অথচ একটা সময় মানুষ হিজড়াদের দূর দূর করতো। কেউ কি তখন ভাবতে পারছিলো যে হিজড়াদের অধিকারের জন্যও এই দেশে মিটিং মিছিল হবে? একটা দেশ, একটা সমাজের ক্রমবর্ধমান বিবর্তনে এক সময় সমকামীদের ব্যাপারটাও স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কারন নর্মের সংজ্ঞা নাই কোন। সংখাগরিষ্টতা নর্ম তৈরী করে না। নর্ম তৈরী করে গন মানুষের স্বাভাবিক বুদ্ধি, বিবেচনাবোধ আর লোকাচার।

lgbt

আপনার কাছে যেইটা নর্ম আমার কাছে সেইটা এবনর্ম হইতেই পারে। তেমনি আপনার কাছে যেমন পোলা-পোলা মাইয়া-মাইয়া সেক্স ঘিন্নার জিনিস, তেমনি একজন সমকামীর কাছে আপনার আর আপনার বিপরীত লিংগের পার্টনারের সেক্স জিনিসটা গা গুলানির জিনিস। নিজের রুচিবোধটাকেই ফাইনাল, নর্ম বা বেটার মনে করার কোন কারন নাই। সবচে বড় কথা হইলো, আমি নিজে ষ্ট্রেইট বলে তাদের ঘিন্না পিত্তা করি অথচ তারা আপনাকে কখনো এইসব বলতে আসবে না। বলবে না ষ্ট্রেইট জিনিসটা তার খারাপ লাগে।

বিষমকামীরা সংখ্যালঘু বলেই সংখ্যাগরিষ্ঠ সমকামীদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা, বা তাদের অসন্মান করার কোন রাইট তাদের নাই, এই কথাটা কি বোঝা খুবই কঠিন?

আমি নিজে সোজা বলিয়া অপর একজন ব্যাকাঁ লোককে নিয়া হাসি তামাশা ছি ছি ঢি ঢি করার কোন রাইট আমার নাই। মনে রাইখেন, যখন এইটাও নর্ম হয়ে যাবে তখন এই আপনারাই সমকামীদের ব্যাপারে আহা উহু করে পোস্ট দিবেন। নিজেদের হিপোক্রেসী তো কম দেখলাম না।

‪#‎IAmStraightButIDoSupportLGBT‬.

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য