Quote

আমার মৃত্যুর পর

3563727688_b29313c2c2_bআমার মৃত্যুর পর, পৃথিবীর সব ঘড়ি থেমে যাবে,
হাতের বাধঁন মিলিয়ে যাবে বাতাসে!
প্রজাপতিরা সব রং ছেড়ে
সাদাকালো পাখা মেলবে বিমর্ষ ফুলের পাপঁড়িতে।আমার মৃত্যুর পর,
কান্নাগুলো আর ঝাকঁ বেধেঁ ছোকঁ ছোকঁ করবে না চারপাশে।
প্রতিনিয়ত ষ্টেনগান আর মর্টার বয়ে বয়ে ক্লান্ত হবো না।
আর কোনদিন ঘাসফুলের সমান উচ্চতায় দাড়িয়েঁ আকাশ ছুঁতে চাইবো না।

দিনের শেষ ট্রিগারটা টিপে দিয়ে
মুখ লুকোবো বৃষ্টিভেজা মাটির সোদাঁ গন্ধের ভেতর।
এরপর কেবলই মনে হবে,
হঠাৎ সমস্ত চরাচর স্তব্ধ হয়ে; আকাশ কালো করা মেঘ…
আর হু হু করে ধেয়ে আসা ঝড় দেখা হবে না কখনো আমার!
অনেক বৃষ্টির পর ব্যাঙের ডাক,
অথবা অনেক রাতে ঝিঁ ঝিঁর ডাক,
আর কোনদিন শোনা হবে না।

বিদ্রোহী নজরুলের মতো বিদ্রোহী কবিতা লেখার স্বপ্ন ছিলো আজন্ম
আমার মৃত্যুক্ষনে হয়তো হঠাৎ করে পেয়ে যাবো কিছু খেপাটে শব্দাবলী!
নজরুলও যা পান নি কখনো।

“…আমি অঞ্জলীপূর্ণ করিয়া বাতাবরণ লইবো,
আমি বিক্ষুদ্ধ, আমি চঞ্চলাবতী-নির্ঝঞ্ঝাট কিশোরীর রাঙ্গালতা-লজ্জা লতা চাহনী,
আমি যাই ভেদিয়া সকল কুজ্ঝটিকা…
আমি ঘাতকের বুকে বুলেট-বিদ্ধ হাহাকার!!”

আমার মৃত্যুর পর, পৃথিবীর সব ঘড়িরা থেমে যাবে…,
হাতের শক্ত বাধঁন মিলিয়ে যাবে বাতাসে!
আমার প্রিয়ার আলতা রাঙ্গানো পা
ভিজবে না আর শিশিরের জলে।
তার নরম আচঁল ঢাকবে না আর মুখ,
তার চুলের ডগা আর সুড়সুড়ি দেবে না চোখে-মুখে।
আর কখনো সে মুখ গুজবে না আমার বুকের রোমকূপে।

আমার মৃত্যুর পর, পৃথিবীর সবগুলো ঘড়ির টিক টিক থেমে যাবে…,
হাতের বাধঁন মিলিয়ে যাবে বারূদ পোড়া বাতাসে!
শুধু কালচে কিছু দাগ রয়ে যাবে
কবজি আর গোড়ালিতে।
আমার মৃত্যুর পর
আমার পাজর থেকে একবুক তাজা রক্ত পড়া এখানটায়,
রক্তলাল বুনো জবা জন্ম নেবে,
যার সারা শরীরে থাকবে আমার রক্তের ঘ্রান!

আমার মৃত্যুর ঠিক আগে আগে
যখন ঝাপসা হয়ে যাবে চোখ
যখন ভেজা পলি মাটির সোদাঁ গন্ধে আটকে আসবে দম,
গলার ভেতর দলা বাধাঁ অংশটাকে তখন গিলে ফেলে;
একসাথে তিনটি পিন দাতঁ দিয়ে ছুটিয়ে
হায়েনা আর শুয়রের খোঁয়াড়ে ছুঁড়ে দেবো
হাতের শেষ তিনটি গ্রেনেড।

তারপর চোখ বুজবো, শান্তিতে….।

আমার মৃত্যুর পর / প্রলয় হাসান / ২১.১১.১২

(পাদটীকা: ঠিক এক বছর আগে, ডিসেম্বরের ২য় সপ্তাহের এক রাতে, ঘোর লাগা এক স্বপ্নের ভেতর এই কবিতার প্রথম দুটি লাইন আমি আবৃত্তি করেছিলাম। কোন কারন ছাড়াই, এর আগেও আমি আমার কবিতার অনেক পংক্তি ঘুমের ঘোরে; স্বপ্নের ভেতর পেয়েছি কিন্তু এমন অদ্ভুত বাক্য এর আগে আর কখনো পাইনি। যেন মনে হচ্ছিলো একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা স্টেনগান উচিঁয়ে ধরে একযোগে কোরাস গাইছে। ঘুম থেকে ওঠার পরও লাইন দুটো মাথায় ঘুর ঘুর করছিলো। সেগুলো দিয়ে গতকাল রাতেই প্রথম বারের মতো পূর্ণাঙ্গ একটি কবিতা লেখা হলো।)

ছবির কপিরাইটঃ প্রলয় হাসান

https://www.facebook.com/proloyhasan/posts/10151288998577220

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *