আমার বৃষ্টি, আমার শৈশব… আর একটি দুঃস্বপ্ন

nightmare

আজ রাতে বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। একটু পর পর চারিদিক কাঁপিয়ে সারা আকাশ আলো করে বাজ পড়ছে। দেশে থাকলে এই সময়টাতে নির্ঘাত বিদুৎ চলে যেত।

খুব ছোটবেলায় এইরকম পরিবেশে মোমবাতি জ্বালিয়ে আম্মুর গা জড়িয়ে কাঁথার নীচে গুটিশুটি মেরে শুয়ে থাকতাম। আম্মু তখন আমাকে “ঠাকুরমার ঝুলি” থেকে ভূতের গল্প পড়ে শুনাতো। আমি প্রচন্ড ভয় পেতাম। সেটা দেখে আম্মু বলতেন- “এখন ঘুমাও। আর গল্প শুনতে হবে না।” আমি বলতাম – “তুমি গল্প শেষ করো মামনি।” – আম্মু বলতেন – তুমি তো ভয় পাচ্ছ!
-হু। তবু তুমি পুরোটা বলো।”
শেষ পর্যন্ত আমি পুরো গল্পটা শুনেই ঘুমুতে যেতাম।

…গায়ে চাদর জড়িয়ে ব্যালকনিতে গিয়ে বৃষ্টি দেখতে দেখতে খানিকটা আগে কিছুক্ষনের জন্য অনেক আনমোনা হয়ে গিয়েছিলাম….মনে হচ্ছে আজকের রাত আম্মুর গলা জড়িয়ে ধরে সেই ভূতের গল্প শোনার রাত…

ভাবছি আম্মুকে ফোন করে বলবো এ কথা। আম্মু কি বলবেন জানি। আম্মু হেসে বলবেন, “তুই তো এখন বড় হয়ে গেছিস!”

আমি তো অনেক বড় হয়ে গেছি তাই না মা? এখন তো আর তোমার গলা জড়িয়ে ধরে ভূতের গল্প শুনা যাবে না! Sad

ছোটবেলায় ভাবতাম – কবে যে বড় হবো? আর এখন ভাবতে ইচ্ছে হচ্ছে -মানুষ কেন এত বড় হয়? কি দরকার ছিলো এত বড় হবার?….                                                                                   

========================  শেষ =============================

ভয়াবহ একটা দুঃস্বপ্ন দেখলাম।

অদ্ভুত একটা দ্বীপে আমি আর আমার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সিনিয়র বন্ধু একযোগে কার সাথে যেন প্রচন্ড যুদ্ধ করছি। প্রচন্ড গোলাগুলি চলছে। হঠাৎ আমার এমুনেশন শেষ হওয়াতে আমি একটা বড় প্রাসাদের ভেতর ঢুকে গেলাম। শত্রুরাও আমার পেছন পেছন আসতে লাগল। আমি ছোট ছাদমত একটা জাগায় এসে দেখলাম কয়েকজন নারী ও শিশু জড়ো হয়ে আছে, মানে তারা এখানে আত্নগোপন করেছে। আমার জন্য তারাও বিপদের মুখে পড়বে কারন শত্রুরা আমার পিছনেই! তারা যেন সেই নারী-শিশুর দলটিকে দেখতে না পায় তাই আমি অন্যদিকে ছুটতে লাগলাম। হঠাৎ একটা রুমের ভেতর দেখি সাইফুল হাসান ভাই (আমার এক সিনিয়র ভাই) স্যান্ডো গেন্জি আর একটা ট্রাউজার পড়ে আছে। আমাকে দেখেই বল্ল- “ঐ নারী-শিশুদের দলটিকে গিয়ে বলুন আমার ঘরে আশ্রয় নিতে। আমার ঘর ঐ ছাদ থেকে বেশী নিরাপদ।”

আমি তার ঘর থেকে বেরিয়ে পা বাড়াতেই দেখি একদল লোকের ছায়া সিড়িঁতে। তারমানে শত্রুরা সেই নারী-শিশুদের দলের দিকেই এগুচ্ছে। আমি দৌড়ে সাইফুল ভাইকে ঘটনা জানিয়ে বল্লাম-” তাদেরকে আর বাচাঁতে পারলাম না সাইফুল ভাই।” সাইফুল ভাই আমার কথায় কান না দিয়ে তার সংগ্রহে থাকা সামুরাই সোর্ডটা (বাস্তবে সত্যি সত্যি তার সংগ্রহে বিশাল এবং ক্ষুরধার একটা সামুরাই সোর্ড রয়েছে) নিয়ে রুম থেকে বেরুলো। আমাকে বল্ল -“আমার সাথে আসেন।” এদিকে মাসুম ভাইকে দেখলাম একটা কিরিচ হাতে নিয়ে তার রুম থেকে বেরুতে।

ছাদে গিয়ে দেখি নিজামীসহ কয়েকজন জামাতী ইসলামির লোকজন আর শিবিরের কয়েকটা পাতি ক্যাডার একজোট হয়ে দাড়িঁয়ে আছে। আমাদের দেখে নিজামী বাদে বাকীরা সব ভয়ে পালিয়ে গেল। নিজামী হয়তো ভেবেছিলো বৃদ্ধ বলে তাকে হয়তো আমরা দয়া করে ছেড়ে দিবো কিন্তু আমি, সাইফুল ভাই আর মাসুম ভাই তিনজনে মিলে নিজামীকে চেপে ধরে মাটিতে শুইয়ে দিলাম। আমি ভেবেছিলাম নিজামীকে বেধেঁ ইচ্ছামত মারধোর করবো। কিন্তু মাসুম ভাই হঠাৎ করেই ভয়ংকর একটা কাজ করে বসল। সে তার হাতের কিরিচটা নিজামীর গলায় বসিয়ে দিল। নিজামী চামড়া টান টান হয়ে হাস ফাস করে বলতে লাগল – “ছুড়িটা আস্তে চালান ভাই, আস্তে চালান”। আমি দেখলাম মাসুম ভাই নিজামীর অনুরোধ রাখল। কিরিচটা আস্তে করে চালিয়ে দিলো নিজামীর গলায়। ছাদ ভেসে গেল শুয়োরের রক্তে! কোরবানীর গরু ছাড়া জীবনে কখনো এত কাছ থেকে কাউকে জবাই করতে দেখিনি!

পুরো স্বপ্নটা আরো অনেক বড় ছিলো। কিন্তু এখন এইটুকুই মনে আছে।

উল্লেখ্য, স্বপ্নটা দিনের বেলায় দেখেছি। আজ শুক্রবার সকাল ৯-১১ টার ভেতর।

পাদটীকা: সাইফুল বা মাসুম ভাই এরা কেউই এইরকম আক্রমনাত্নক নন। বরং তারা অতীব নিরীহ গোছের মানুষ। সাইফুল হাসান ভাই একজন অতি উঁচু দরের মাওলানা। তিনি একই সাথে ফেকাহ পড়ছেন এবং এনএসডব্লিউ বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক সাইন্সে পি.এইচ.ডি করছেন। তারা বাবা এবং বড়বোন দুজনেই বুয়েট থেকে পাশ করা ইন্জিনিয়ার। সাইফুল ভাই ইংরেজী শাস্ত্রে মাত্রাতিরিক্ত রকমের ভাল। তিনি বাংলাদেশে একবার এবং অষ্ট্রেলিয়ার দুই বার আইএলটিএস দিয়েছিলেন এবং প্রতিবারই তারঁ স্কোর ছিলে ৯ এ ৯।

মাসুম ভাই পার্থের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার। গতবছর অষ্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়েছেন। দেশে থাকতে নামকরা ফুটবল প্লেয়ার ছিলেন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন। তার শারীরিক গঠন অস্বাভাবিকরকম সুঠাম!

এমন দুইজন নিরীহ লোক নিজামীর মত একজন পাপীকে জবাই করল আমার সাথে, কি স্বপ্ন দেখলাম এইটা আমি! Stare স্বপ্নের ব্যাখার জন্য সেই সাইফুল ভাইর কাছেই যেতে হবে তবে ভাবছি, যদি তাকে পুরো ঘটনাটা বলতেই হয়, তার নামটা উহ্য রেখে অন্য কারো নামে চালিয়ে দেবো। ব্যাখা শোনার পর বলবো যে, “সাইফুল ভাই, আসলে অমুক ভাই স্বপ্নে ছিলো না, বরং তার জাগায় আমি আপনাকে দেখেছি!” Laughing out loud

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *