আমার প্রিয় হলিউড নায়কেরা – (১ম কিস্তি)

একটা বিশাল লেখায় হাত দিয়েছি। একটু একটু করে লিখছি। বেশ অনেক দিন থেকেই ইচ্ছে ছিলো, আমার প্রিয় অভিনেতাদের নিয়ে সংক্ষিপ্ত বায়ো লিখবো, বিশেষ করে সেখানে এমন কিছু তথ্য থাকবে যে সব সাধারনত কেউ জানে না। 

গত পরশু লেখায় হাত দিয়েছি। যত বড় হবে ভেবেছিলাম, কিছু দূর এগোনোর পর দেখলাম অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কাট ছাটঁ করে বাদ দেবার পরও মূল লেখা তার চাইতেও বড় হয়ে যাচ্ছে। তাই ভাবলাম সব অভিনেতাকে একটা নির্দিষ্ট ছাচেঁ ফেলে দেই। যেমনঃ বয়স, উচ্চতা, পরিচিতি ইত্যাদি।  আমি ১ ডজন নায়কের একটা লিষ্টি বানিয়েছে, তাদের নিয়েই সংক্ষিপ্ত বায়োগ্রাফি লিখছি। উল্লেখ্য, আমার এই সিরিজ লেখাটি ধারাবাহিকভাবে ফেসবুকের কয়েকটি মুভি রিলেটেড গ্রুপে একযোগে প্রকাশিত হচ্ছে।

বয়সের ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে।

১) হ্যারিসন ফোর্ড। (৭২ বছর)
২) আর্নল্ড সোয়ার্জেনেগার। (৬৭ বছর)
৩) জ্যাকি চ্যান। (৬০ বছর)
৪) রবিন উইলিয়ামস। (গত বছর প্রয়াত)
৫) টম হ্যাংকস। (৫৯ বছর)
৬) মেল গিবসন। (৫৮ বছর।)
৭) জিম ক্যারি। (৫৩ বছর)
৮) নিকোলাস কেইজ। (৫১ বছর)
৯) এডওয়ার্ড নরটন। (৪৫ বছর)
১০) ক্রিশ্চিয়ান বেইল। (৪১ বছর)
১১) লিওনারদো ডি ক্যাপ্রিও। (৪০ বছর)
১২) বেনেডিক্ট কুমবারবেইচ। (৩৮ বছর)

আরেকজনকে সবার শেষ রেখেছি যদিও তার বয়স এখন ৬০।

১৩) মিঃ বিনখ্যাত রোয়ান এটকিনসন। বিট্রিশ অভিনেতা। আমার প্রিয় ’অভিনেতা’।

বয়সের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি বলে, শুরুতেই আছেন ফোর্ড সাহেব।

আমার এই সিরিজের বিশেষত্ব হলোঃ প্রতিটি পোষ্টেই এমন সব তথ্য থাকবে, যে সব অনেকেই আগে কখনো জানতেন না। বলা বাহুল্য, সকল নায়কের ক্ষেত্রেই সূত্র  হিসেবে আমি ব্যবহার করেছি উইকিপিডিয়া এবং আইএমডিবি কে।

১) হ্যারিসন ফোর্ড

HARRISON-FORD-NET-WORTH3

বয়সঃ ৭২।
উচ্চতাঃ ৬’১”।
পরিচয়ঃ বিশ্বখ্যাত আমেরিকান অভিনেতা ও চিত্র প্রযোজক।
প্রথম মুভিঃ American Graffiti (1973)
জনরাঃ একশন হিরো।
এ পর্যন্ত অভিনীত মুভির সংখ্যাঃ ৩০ টি।
অস্কার/অস্কারের নমিনেশন পেয়েছেনঃ নমিনেশন, একবার। ’উইটনেস’। ১৯৮৫ সালে।                     ধর্মঃ ইহুদি।

আমি ব্যক্তি হিসেবে একজন আইরিশ। কিন্তু অভিনেতা হিসেবে একজন ইহুদী।[I am Irish as a person, but I feel Jewish as an actor.]

প্রিয় সংলাপঃ আমি তারকা হতে চাই না। যে মুভিগুলো তারকা, আমি শুধু সেই মুভিগুলোতে থাকতে চাই। [I don’t want to be a movie star. I just want to be in movies that are stars.]

পরিচিতিঃ তারঁ অভিনীত মুভি সিকুয়াল ’ইন্ডিয়ানা জোনস’ আমার কিশোর বেলার অন্যতম সেরা এডভেঞ্চার ছিলো। মূলতঃ সেগুলো দেখেই তিনি আমার প্রিয় নায়কদের একজন হয়ে উঠেছিলেন, যদিও বিশ্বজুড়ে তিনি খ্যাতি পেয়েছিলেন ’ষ্টার ওয়ার্স’ মুভি সিকুয়েলের মাধ্যমে। মনে আছে ’এয়ার ফোর্স ওয়ান (১৯৯৭)’ – এর কথা? যেখানে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ভূমিকায় অভিনয় করে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার পারিশ্রমিক উপার্জন করেছিলেন এবং সেই সাথে জিতেছিলেন এমটিভি মুভি পুরস্কার।

অনেকেই হয়তো জানেন নাঃ আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তারঁ অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

তারঁ ব্যক্তিগত টুইটার একাউন্ট

২) আর্নল্ড সোয়ার্জনেগার

Arnold

বয়সঃ ৬৭।                                                                                                                  উচ্চতাঃ ৬’ ২”।

পরিচয়ঃ বিশ্বখ্যাত অষ্ট্রিয়ান-আমেরিকান অভিনেতা, মডেল, চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, সমাজ সংস্কারক, পেশাদার ব্যায়ামবীর (প্রাক্তন), ব্যবসায়ী, লেখক ও রাজনীতিবিদ।

প্রথম মুভিঃ ১৯৭০ সালে। ‘হারকিউলিস’।                                                                        জনরাঃ হেভি-এ্যাকশান হিরো।                                                                                          এ পর্যন্ত অভিনীত মুভির সংখ্যাঃ প্রায় অর্ধশতাধিক।

অস্কার/অস্কারের নমিনেশন পেয়েছেনঃ নোমিনেশনও পাননি। তবে একবার গোল্ডেন গ্লোব জিতেছিলেন।  সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকঃ ৩ কোটি ইউএস ডলার। টারমিনেটর থ্রি।
ধর্মঃ রোমান ক্যাথলিক।

উক্তি ও সংলাপঃ

i). আমার জীবনে যা কিছুই করেছি, সবকিছুই রয়ে গেছে। আমি শুধু যেখানে যোগ করেছি। কিন্তু কিছু বদলাইনি। কারন যখন তুমি জীবনে সফল হয়ে কিছু বদলাতে চাইবে, তার মানে তুমি একটা বুদ্ধু। (Everything I have ever done in my life has always stayed. I’ve just added to it . . . but I will not change. Because when you are successful and you change, you are an idiot.)

ii). আমি জানি যে, তুমি যদি এটোঁ বাসন কোসন বেসিনে ফেলে রাখো, তবে তা পরের দিন দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে যায়, পরিস্কার করাও কষ্ট হয়ে যায়। (know that if you leave dishes in the sink, they get stinky and hard to wash the next day.)

iii). আমি পুরো অষ্ট্রিয়ার মালিক হবার চাইতে বরং ক্যালিফরনিয়াল গর্ভনর হতে চাইবো। (I would rather be Governor of California than own Austria.)

iv). হংকং ঘরানার মারদাঙ্গা সিনেমা আমি ভালবাসি। (I love the Hong Kong style of action movies.)

v) আমি ফিরে আসবো। ( I will be back! )

vi) আলবিদা (Hasta La Vista, Baby)

 

পরিচিতিঃ পুরো নাম আর্নল্ড এলিওস সোয়ার্জনেগার। হলিউডের ইতিহাসে তিনিই খুব সম্ভবত একমাত্র তারকা যার ছয় ছয়টা ডাক নাম এবং ৯/১০ রকমের পেশার সাথে জড়িত ছিলেন। তার ডাক নামের লিষ্টঃ
Arnie
Austrian Oak
Conan the Republican
Styrian Oak
The Governator
The Running Man
Conan the Governor
The Machine (সূত্রঃ আইএমডিবি)

আমার জীবনে প্রথম যে মুভিটি দেখি, তার নাম টারমিনেটর টু। সেই থেকে তার অভিনয়ের প্রেমে। তাকে বলা হয় হলিউডের একশন আইকন। তার ক্যারিয়ারের সবচাইতে বিখ্যাত ডায়লোগ হচ্ছে – আই ইউল বি ব্যাক। মজার ব্যাপার হলো, অরিজিনাল স্ক্রিনপ্লে তে লেখা ছিলো – “I’ll come back.”

গিনেজ বুক অব ওয়াল্ড এই মানুষটিকে “মানব ইতিহাসের সবচাইতে নিখুতঁ গড়নের মানুষ” হিসেবে ঘোষনা দেয়। ইউরোপীয় বংশদ্ভুত আর্নের পুরো নাম উচ্চারন করা আমেরিকার লোকজনদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট সাধ্য ছিলো।

তিনি ১৯৮৩ সালে আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেন। এবং তার ঠিক এক বছর পরেই দ্য টারমিনেটর মুভিতে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করার প্রস্তাব পান। তিনি আমেরিকার সবচাইতে বড় ফিজিক্যাল ফিটনেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট এবং মজার ব্যাপার হলো, এই পদে তাকে আসীন করে ইউএস প্রেসিডেন্ট বুশ।

তিনি তার গৃহপরিচারীকাকে বৈবাহিক সম্পর্কবর্হিভূতভাবে গর্ভবতী করেন এবং একটি ছেলে সন্তানের বাবা হন। ২০১১ সালে এই কারনে তার সাথে তার স্ত্রীর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। সে ছেলের এখন বয়স ১৫ এবং দেখতে অবিকল সোয়ার্জনেগারের মতো। আর্ণ তার জীবনালেখ্য লিখেন, নামঃ “Total Recall: My Unbelievably True Life Story”

তিনি ইংরেজী ভাষা শেখেন লন্ডনের একটি স্কুলে। ছোটবেলায় তার নিজের দেশের আর্মি জেলে ছিলেন কয়েক মাস। মাত্র ১২ বছর বয়স থেকে শরীর গঠন শুরু করেন। একাধিকবার মিঃ ইউনিভার্স পদক লাভ করেন। মাত্র ২১ বছর বয়সে আমেরিকায় পা রাখেন, এমনকি তিনি সেখানে বেশ কিছুদিন অবৈধ অভিবাসী হিসেবেও দিনাতিপাত করেন।

তার প্রাক্তন স্ত্রী মারিয়া শ্রিভার হলেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির আপন ভাতিজি।

২০০৪ সালে তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে একজন মানুষকে সমুদ্রতীর থেকে নিশ্চিত মৃত্যেুর হাত থেকে বাচানঁ। তিনি হচ্ছেন আমেরিকার প্রথম বেসামরিক মানুষ যিনি একটি মিলিটারি ’হামভি’ (Humvee) গাড়ীর মালিক হতে পেরেছিলেন।

জেমস ক্যামেরনের ইচ্ছে ছিলো, টারমিনেটরের প্রধান চরিত্র কাইলি রিসে তাকে অভিনয় করাবেন। কিন্তু স্ক্রিপ্ট পড়ার পর আর্নল্ড মেশিন চরিত্রে অভিনয় করার গোঁ ধরেন। এবং ক্যামেরনকে বলেন, তার উপর বিশ্বাস রাখতে। ক্যামেরন বিশ্বাস রেখে তাকে তার ইচ্ছেমতো চরিত্রেই অভিনয় করতে দেন। বাকীটা ইতিহাস। 

তারঁ ব্যক্তিগত টুইটার একাউন্ট

                                                   ৩) জ্যাকি চ্যান

best-Jackie-Chan-movies

প্রকৃত নাম/ডাক নামঃ কং-স্যাং চ্যান / সিং লুন / পাও-পাও।

বয়সঃ ৬০ বছর

উচ্চতাঃ ৫’ ৮”

পরিচয়ঃ হংকংভিত্তিক নায়ক, মার্শাল শিল্পী, চলচিত্র পরিচালক ও প্রযোজক  এবং গায়ক।

প্রথম মুভিঃ ১৯৬০ সালে।

জনরাঃ মার্শাল ও কমেডি হিরো।

এ পর্যন্ত অভিনীত মুভির সংখ্যাঃ ১৫০+

অস্কার/অস্কারের নমিনেশন পেয়েছেনঃ নমিনেশন পেয়েছিলেন একবার।  এ পযন্ত জিতেছেন ২৯ টি পদক ও ৩৭ টি নমিনেশন।
সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকঃ ২ কোটি ইউএস ডলার। Around the World in 80 Days (২০০৪)

ধর্মঃ বৌদ্ধ। তবে নিজের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে আলোচনা করতে পছন্দ করেন না।

উক্তি ও সংলাপঃ

ক) জ্যাকির মতো হবার চেষ্টা করো না। জ্যাকি একজনই, তারচে বরং কম্পিউটার নিয়ে পড়ো। (Don’t try to be like Jackie. There is only one Jackie…. Study computers instead.)

খ) I’m crazy, but I’m not stupid. (হতে পারে আমি ক্ষেপাটে, কিন্তু আমি বোকা নই)

গ) আমি একশন তারকা হতে চাই না। তাদের জীবন ছোট হয়ে থাকে। আমি চাই আমার জীবন আরো বড় হোক।  (I don’t want to be an action star, action star’s life is so short. I want my life to get longer.)

ঘ) আমার কিছু ধরাবাঁধা নিয়ম আছে, যেগুলো আমি ম্যানেজারদের বলি। যেমনঃ মুভিতে কোন যৌনদৃশ্য বা কোন রগরগে দৃশ্য থাকতে পারবে না। যেসব শিশুরা আমাকে পছন্দ করে, তাদের তো দরকার নাই এইসব দেখার। এটা তাদেরকে অশ্লীল/অমার্জিত করে তুলবে। (I have a few rules that I tell my manager: No sex scenes. No make love. The kids who like me don’t need to see it. It would gross them out.)

ঙ) আমি কখনই পরবর্তী ব্রস লি হতে চাইনি। আমি শুধু চেয়েছি প্রথম জ্যাকি চ্যান হতে। (I never wanted to be the next Bruce Lee. I just wanted to be the first Jackie Chan.)

চ) সব বিজ্ঞাপনই বলে আমি নির্ভীক, কিন্তু এইসব স্রেফ  প্রচারনা। কেউ যদি মনে করে যে ঝুকিঁপূর্ণ দৃশ্যগুলো স্বশরীরে করতে আমি কোন ভয় পাই না, তাহলে সে আমার চাইতে বড় পাগল। (The ads all call me fearless, but that’s just publicity. Anyone who thinks I’m not scared out of my mind whenever I do one of my stunts is crazier than I am.)

ছ) আমি আর আগের মত যুবা নই। আমি সত্যি সত্যিই ক্লান্ত। এবং পৃথিবী এই মূহূর্তে খুবই সহিংসতাময়। আর এটা একটা শাখেরঁ করাত যে আমি একশন পছন্দ করি কিন্তু সহিংসতাকে পছন্দ করি না। (I’m not young anymore. I’m really, really tired. And the world is too violent right now. It’s a dilemma – I like action but I don’t like violence.)

 

পরিচিতিঃ

জ্যাকি চ্যান হচ্ছেন হলিউডের সদা হাসিখুশী, ছোটখাটো ও মিষ্টি চেহারার একজন মারাদাঙ্গা হিরো  যিনি কিনা M.B.E.(Member of the Order of the British Empire) সন্মাননা পেয়েছিলেন তার বিনোদনমূলক সেবার জন্য, ১৯৮৯ সালে। তার বাবা-মা অষ্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরাস্থ আমেরিকান দূতাবাসে কাজ করতেন। তিনি ব্রস লি এর ষ্টান্ট কো অরডিনেটর ছিলেন এবং ১৯৭৩ সালে ব্রুস লি আকস্মিকভাবে ও অনিচ্ছাকৃতভাবে জ্যাকির মুখের উপর এক ধরনের লাঠি দিয়ে হালকা আঘাত করেন। জ্যাকির ভাষায় -”সে আঘাতটি ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে বেদনাবহ আঘাত।  আমার সমস্ত ক্যারিয়ারে যতগুলো দুর্ঘটনা ও আঘাত পেয়ে আমি টিকে গিয়েছিলাম, লি এর হাতের আঘাতটি ছিলো তার ভেতর সবচাইতে তীব্র, সবচাইতে বেদনাবহ ও সবচাইতে ভয়ংকর। আমার মুখমন্ডল পাকাপাকিভাবে বদলে যেতে পারতো। স্রষ্টার অসীম কৃপায় সেদিন বেচেঁ গিয়েছিলাম।”

2569_jackie_chan
এটা অনেকেই জানেন যে, জ্যাকি চ্যান তার নিজের ষ্টান্ট দৃশ্যে নিজেই অভিনয় করেন।  জ্যাকি চ্যান হলিউডের একমাত্র নায়ক যিনি ষ্ট্যান্ট দৃশ্যে নিজেই অভিনয় করে থাকেন। তবে বার্ধক্যজনিত কারনে গত কয়েক বছর ধরে তাকে ষ্ট্যান্টম্যানদের সাহায্য নিতে হচ্ছে। নিজের ষ্ঠ্যান্ট নিজে করতে গিয়ে তিনি নাকের হাড় ভেংগেছেন ৩ বার, গোড়ালী ভেঙ্গেছেন একবার, কনুই ভেংগেছেন দুইবার, তার হাতের প্রায় প্রতিটি আঙ্গুলই ভাঙ্গা, তার দু চোয়াল ভাঙ্গা এবং তার মাথার খুলিতে একটি স্থায়ী গর্ত হয়ে আছে। এছাড়াও পাজরের হাড়, নিতম্ব ও পিঠে কতবার যে বড় ধরনের ব্যথা পেয়েছেন, তার তো কোন হিসাবই নাই।

তিনি জীবনে মাত্র একটি মুভিতে খলনায়কের অভিনয় করেছিলেন। Ru jing cha (1974) aka “Rumble in Hong Kong”।

তার জীবনের প্রায় সব কয়টা মুভিতেই মার্শাল আর্ট ছিলো, এবং তিনি সব সময়ই   বুড়ো আঙ্গুল উচিয়ে মানুষজনকে শুভেচ্ছা জানাতে পছন্দ করেন। বাচ্চারা তাকে বিশেষভাবে পছন্দ করে তার কমেডি ও মারপিটের স্টাইলের জন্য। মুভির মারপিটের সময় তিনি দৈনন্দিন জিনসপাতি, যেমন চেয়ার, টেবিল, মই, ইত্যাদি হাস্যকরভাবে ব্যবহার করেন।

তার ব্যাপারে যে তথ্যটি বেশীরভাগ লোকই জানে না সেটা হচ্ছে, তিনি একটা সময় পেশাদার গায়ক ছিলেন। নিয়মিত বিরতিতে তার গানের  এ্যালবাম বেরুতো। এবং র‌্যাম্বোখ্যাত ’সিলভ্যাষ্টার ষ্টেলন’ হচ্ছেন বাস্তবজীবনে  জ্যাকি চ্যানের সবচাইতে প্রিয় বন্ধু।

জ্যাকি চ্যানের  ব্যক্তিগত গুগল প্লাস পেইজ

২০১৪ সাল পর্যন্ত জ্যাকি তার সমস্ত ক্যারিয়ারে যতগুলো ষ্ট্যান্ট দৃশ্যে অভিনয় করেছে তা এই ২৬ মিনিটের ভিডিও ক্লিপে একত্র করা হয়েছেঃ

 ৩) রবিন উইলিয়ামস

robin-williamsO Captain! My Captain!

 

বয়সঃ ৬৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
উচ্চতাঃ ৫’ ৭”।
পরিচয়ঃ বিশ্বখ্যাত আমেরিকান অভিনেতা, চিত্র পরিচালক ও কমেডিয়ান।
প্রথম মুভিঃ ১৯৭৭ সালে। স্বল্প বাজেটের একটি কমেডি মুভি।
জনরাঃ ড্রামা ও কমেডি হিরো।
এ পর্যন্ত অভিনীত মুভির সংখ্যাঃ অর্ধশতাধিক।
অস্কার/অস্কারের নমিনেশন পেয়েছেনঃ অস্কার, ১ বার। ’গুড উইল হান্টিং।’

সর্বোচ্চ উর্পাজনঃ ২ কোটি ইউএস ডলার। বাইসেন্টিন্যাল ম্যান।

ধর্মঃ এপিসকোপাল চার্চ।

প্রিয় উক্তি ও সংলাপঃ

১. পৃথিবী যদি নারীরা চালাতো, তাহলে কোন যুদ্ধ লাগতো না, আমরা শুধু  দেখতে পেতাম ২৮ দিন পর পর প্রচন্ড মুলামুলি। (If women ran the world, we wouldn’t have wars, just intense negotiations every 28 days.) 
২. তোমাকে স্রেফ অল্প একটু স্ফুলিঙ্গের মতো খানিকটা পাগলাটে মনোভাব দেয়া হয়েছে। তুমি যদি সেটাই হারিয়ে বসো, তাহলে তোমার আর কিছুই রইলো না। (You’re only given a little spark of madness. If you lose that, you’re nothing.)
৩. এটার বাংলা করবো না। আক্কেলমন্দরা বুঝিয়া লউন। (Men can’t fake an orgasm, who wants to look that dumb?)
৪. ওহ, হ্যাঁ, তালাক, এর ইংরেজী যে শব্দটি লাতিন শব্দ থেকে এসেছে, এর মানে হলো একজন লোকের যৌনাঙ্গ তার মানিব্যাগের ভেতর দিয়ে টেনে ছিড়েঁ আনা। (Ah, yes, divorce, from the Latin word meaning to rip out a man’s genitals through his wallet.)
৫. সবসময়ই সব জাগায় কিছু না কিছু দারুন সব জিনিসপত্র থাকে। এমনকি মাঝে মাঝে ভুলগুলোও চমৎকার হয়। (There are always great stuff out there, even mistakes can be wonderful.)
 robin-williams-quote
 

পরিচিতিঃ পুরো নাম – রবিন ম্যাকলরেন উইলিয়ামস। ছোটবেলায় ছিলেন স্ট্যান্ডাপ কমেডিয়ান। তারঁ রসবোধ ছিলেো অতুলনীয়। তার সংলাপ আর উক্তিতেই তার প্রচুর প্রমান পাওয়া যায়। ছোটবেলা থেকেই স্কুলে তার কাজ কর্মে নিয়ে প্রচুর হাসাহাসি করা হতো। অপরের কন্ঠস্বর নকলে ছিলেন সিদ্ধহস্ত। ডিজনীর বিখ্যাত  এনিমেশন মুভি  আলাদীনে (১৯৯২) উনিই জ্বীনের কন্ঠস্বর প্রদান করেন।

তাকেঁ নিয়ে আসলে আমার আর বিস্তারিত কিছুই লেখা নাই। কারন তাকেঁ নিয়ে ইতোমধ্যেই আমি একটি প্রবন্ধ লিখেছিলাম, গতবছর তারঁ অন্তর্ধান সংবাদ পাওয়ামাত্র।  শুধু এটুকু বলি, ছোটবেলায় রবিন অভিনীত আমার দেখা  সবচাইতে প্রিয় মুভি

ছিলো ফ্লাভার। আর বড় বেলায় “গুড উইল হান্টিং”, যে মুভিতে অভিনয়ের জন্য রবিন অস্কার পান। এ বিষয়ে লিখেছিলাম আমার ফেসবুক ওয়ালে। সেখানে থেকে কপি করে দিলামঃ 

গত সপ্তাহে দেখলাম রবিন ইউলিয়ামস আর ম্যাট ড্যামনের বিখ্যাত মুভি The good Will Hunting (1998)। এই মুভিটি ছিলো ৯০ দশকের অন্যতম সেরা ড্রামা ঘরানার মুভি; জিতেছে দু দুটি অস্কার। আইএমডিবির সর্বকালের সেরা ২৫০ টি মুভির তালিকায় এর অবস্থান ১২৯। বলা বাহুল্য, এই মুভির অনবদ্য কাহিনীর একটা বড় অংশ লিখেছেন ম্যাট ড্যামন স্বয়ং।

মুভিতে রবিনের যে ডায়লোগগুলো আমার ভেতরের অসিস্ত্বকে প্রবলভাবে ঝাকুনিঁ দিয়েছে…যে ডায়লোগগুলো আমি পেছনে টেনে টেনে অনেক বার শুনেছি এবং যতবার শুনেছি ততবারই মনে হয়েছে এই প্রথম বার শুনছি! এত সুন্দর কথা, এত গুছানো বাস্তব সম্মত কথা শেষবার কবে শুনেছিলাম জানি না। যে কথাগুলো মুভির প্রচন্ড গোয়াড়ঁ ’উইল’-এর চরিত্রের জীবনের মোড় আমূল ঘুরিয়ে দেয়ঃ

if I asked you about art, you’d probably give me the skinny on every art book ever written. Michelangelo. You know a lot about him. Life’s work. Political aspirations. Him and the pope. Sexual orientation. The whole works, right? I bet you can’t tell me what it smells like in the Sistine Chapel. (*নোট দ্রষ্টব্য*) You never actually stood there and looked up at that beautiful ceiling. Seen that.

If I ask you about women, you’ll probably give me a syllabus of your personal favorites. You may have even been laid a few times. But you can’t tell me what it feels like to wake up next to a woman and feel truly happy.

I ask you about war, you’d probably, uh, throw Shakespeare at me, right? “Once more into the breach, dear friends.” But you’ve never been near one.

You’ve never held your best friend’s head in your lap…and watch him gasp his last breath looking to you for help.

I ask you about love, you’d probably quote me a sonnet. But you’ve never looked at a woman and been totally vulnerable. Known someone that could level you with her eyes. Feeling like God put an angel on Earth just for you. who could rescue you from the depths of hell. And you wouldn’t know what it’s like to be her angel…to have that love for her be there forever. Through anything. Through cancer. And you wouldn’t know about sleeping’ sitting’ up in a hospital room for two months holding her hand…because the doctors could see in your eyes…that the terms “visiting hours” don’t apply to you. (এই অংশটা যতবার শুনেছি, চোখ ভিজে গেছে…)

You don’t know about real loss. ’cause that only occurs when you love something more than you love yourself. I doubt you’ve ever dared to love anybody that much.

I look at you, I don’t see an intelligent, confident man. I see a cocky, scared shitless kid.

But you’re a genius, Will.
No one denies that. No one could possibly understand the depths of you.

*** (নোটঃ ‘সিষ্টেন চ্যাপেল’ হলো ইটালির ভ্যাটিক্যান সিটিতে অবস্থিত একটা চার্চের একটা বিশেষ অংশের নাম। যেখানে দাড়িঁয়ে বিখ্যাত চিত্রকর ’মিকেল এ্যানজেলো’ সেখানটার অসামান্য দৃষ্টিনন্দন সিলিং দেখেছিলেন। তারঁ সেই দেখার স্মৃতিকে ধরে রাখতে তিনি আকেঁন তারঁ জীবনের অন্যতম সেরা এবং বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘Sistine Chapel ceiling’। এখানে রবিন সেটার কথাই বলছে যে, সিষ্টেম চ্যাপেলের ঘ্রান কেমন তুমি তা আসলে জানো না।)

গত বছর তিনি আত্নহত্যা করে মারা যান। ধারনা করা হয়, দীর্ঘদিনের মাত্রাতিরিক্ত হতাশা ও বিষন্নতেই তাকে আত্নহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য