আমার পুস্তক-প্রীতির আখ্যান!

মেট্রিক পরীক্ষার পর তাবলীগে গিয়েছিলাম যশোরে। একদিন সেখানকার একজন মাওলানা বল্লেন, ’তুমি তোমার জীবনের সবচাইতে প্রিয় জিনিসটা আল্লাহর রাস্তায় কুরবানী না করলে প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না (বা এইরকম কিছু একটা বলেছিলেন)। প্রলয়, তোমার জীবনের কোন জিনিসটা তুমি আল্লাহর জন্য কুরবানী করতে চাও?’

আমি এক সেকেন্ডেও চিন্তা না করে তাকেঁ বলেছিলাম, ’আমার বুকসেলফ’!

মাওলানা সাহেব হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন 😀 কারন এই রকম উত্তর তিনি আশা করেননি। তার এই প্রশ্নের এইরকম উত্তরও খুব সম্ভবত কেউ এর আগে দেয়নি।

যখন ক্লাস টুতে পড়ি, তখন নাকি আমার একটা বই ইঁদুর কাটার পর আমি কাদঁতে কাদঁতে আম্মুকে বলেছিলাম, আম্মু তুমি ইদুঁরকে ধরে আমার হাতে দাও। আমি ওর পেট থেকে আমার বইগুলো বের করি।

আমার বুক সেলফ আমার সবচাইতে বড় সম্পদ। যে কোন মূল্যে আমি সেটা রক্ষা করি। আমার সন্তান হবার আগ পর্যন্ত বুক সেলফের চেয়ে আমার জীবনে আর মূল্যবান কিছু নাই।

আমার জীবনে আমার যারা ক্ষতি করেছে তাদেরকে আমি মনে রাখিনি। কিন্তু যারা যারা আমার বই ধার নিয়ে আর ফেরত দেয়নি, আমি তাদের নাম ধাম ঠিকানা সব মনে রেখেছি। 🙂

এই কারনে আমি সিন্ধান্ত নিয়েছিলাম জীবনে আর কাউকে বই ধার দিবো না। শুধুমাত্র তাকেই দিবো, যার কাছ থেকে আমি ধার আনবো।

কলেজে পড়ার সময় আমার এক পাড়াতো বন্ধু ”জুলভার্ণ সমগ্র” নিয়ে গেলো পড়তে। তারপর হঠাৎ শুনলাম ও বিদেশ চলে গেছে। এত কষ্ট পেলাম আর অবাক হলাম যে বলার মতো না। ওর বাসায় গিয়ে ওর বোনকে বল্লাম, আমার বইটা কই? বল্ল, দাদা ওটা কোথায় রেখে গেছে জানি না।

এরপর আমি আর ওর সাথে কোন সম্পর্ক রাখিনি। আমি দেশে এসে গত বারের বই মেলা থেকে আরেকটা জুলভার্ণ সমগ্র কিনেছি।

ইন্টার প্রথম বর্ষে পড়ার সময় আরেকটা বন্ধু আমার দুইটা টিনটিন (কলকাতা প্রিন্ট, সে সময় ওগুলো অনেক দুর্লভ আর দামী ছিলো) নিয়ে গেলো পড়তে। যেদিন ফেরত দেবার কথা, সেদিন সে জানালো গ্রামের বাড়ী চলে গেছে। সুনামগঞ্জ। আমি পরদিনই রওনা হলাম সুনামগঞ্জে। কারন কেন যেন মনে হচ্ছিলো ও কমিক দুটো মেরে দিবে। বই ফেরত নিতে এসেছি সেটা তো আর বলা যায় না, বল্লাম ’তোকে খুব দেখতে ইচ্ছে করতেছিলো’। পরদিন ঢাকা ফেরত আসলাম। আসার আগে কায়দা করে কমিকদুটো চেয়ে ব্যাগে করে নিয়ে আসলাম। 

বই নিয়ে কত কান্ড যে করেছি লাইফে, মনে পড়লে এখনো হাসি পায়! 😛কষ্টও কম করিনি, আমাকে অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়েছে বইয়ের কারনে; আমার লাইব্রেরির স্বার্থে।

আমি দেশের বাইরে যাবার আগে আম্মুকে বলে গিয়েছিলাম – “আম্মু, এই বইগুলো তোমার আরেকটা ছেলে। তুমি আমাকে যতটা স্নেহ করো, ঠিক ততটাই এগুলোকে করবে।” আম্মু আমার অনুরোধ রেখেছিলেন।

আমার সার্মথ্য থাকলে আমি আমার বুক সেলফটাকে নিয়ে যেতাম সাথে করে। আমার সিডনীর বাসায় আরেকটা ছোট্ট বুক সেলফ আছে অবশ্য। পারলে ওটাকেও এখানে নিয়ে আসতাম।

২০০৯ সালে সিডনীতে একজন লেবানিজ ভদ্রমহিলা আমাকে বেশ কিছু বই উপহার দিয়েছিলেন। আসলে উপহার তো নয়, উনার ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছিলো, আমাকে বইগুলো দিয়ে তিনি বেচেঁ গেছেন। কোন কারনে বইগুলো তার কাছে বোঝা মনে হচ্ছিলো। বিশাল বড় একটা কার্টুন ভর্তি বই। সব মিলিয়ে ৩৫-৪০ টা অনেক দামী আর মোটা বই! যেমন তার প্রচ্ছদ, তেমন তার বাইন্ডিং! জনরা (genre) ছিলো বিভিন্ন রকম। ফিলোসফি। আর্টস। সায়েন্স, এস্ট্রনমি। এমনকি কয়েকটা ইরোটিক প্রেমের উপন্যাসও আছে! 😛

আমার কাছে খুব দুর্লভ কিছু বই রয়েছে। এর ভেতর একটা হচ্ছে মীর মোশারফ হোসেনের বিষাদ সিন্ধুর একেবারে প্রথম দিককার অরিজিনাল প্রিন্ট। নানাজান যখন পৌঢ় ছিলেন তখন তাঁকে প্রায়ই পড়তে দেখতাম। ’বিষাদ সিন্ধু’ বইটা আম্মুর নানাজান পড়তেন। সেটা আম্মুর হাতে এসেছিলো আম্মুর আপন নানীর কাছ থেকে, মানে আমার বড় আম্মার কাছ থেকে। সেই হিসেবে ধারনা করছি ঐ বইটির বয়স কম করে হলেও ৬০-৭০ বছর হবে। 

পৃষ্ঠাসংখ্যা ৫৬৭। বানান রীতি আর বাক্য বিন্যাসে এখনকার সাথে অনেক অনেক পার্থক্য।

সেবা প্রকাশনীর একেবারে শুরুর দিককার কিছু বই আছে, আশির দশকের। তিন গোয়েন্দার প্রথম পর্বটা ছিলো, চুরি হয়ে গেছে। তিন গোয়েন্দার শুরুর দিককার কয়েকটা বই এখনো আছে। তবে মলাট টলাট খুলে বাধাঁই ছিড়ে খুবই করুণ দশা, নতুন করে আবার সেগুলো বাধাঁই করাতে হবে।

আমার বই পড়ার শুরুটা হয় ১৯৯১ সাল থেকে, কমিক দিয়ে। তখন আমি স্কুলেও ভর্তি হইনি। সে সময় আসাদ গেটের (এখনো আছে) নিউজ এজেন্সি থেকে আম্মু আমাকে ছোট্ট একটা চাচা চৌধুরীর কমিক কিনে দিয়েছিলেন ১০ টাকা দিয়ে। সেই থেকে শুরু, তারপরের দশটা বছর আমি পাগলের মত বই কিনেছি। আমার পকেটে শেষ আধুলিটা থাকা পর্যন্ত! বই দেখলে আমার মাথা ঠিক থাকতো না।

সে সময়ের সবচাইতে দামী কমিক টিনটিনও কিনতাম, ধানমন্ডির ’জ্ঞানকোষ’ থেকে। সেটা ৯০ দশকের কথা। কলকাতা থেকে সরাসরি আসতো আর উন্নত মানের প্রিন্ট ছিলো বলে দাম ছিলো একেকটার প্রায় ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা। ঐ আমলে এই টাকা বিপুল পরিমান ছিলো। টাকার যোগান আসতো তিনটি খাত থেকেঃ

১) আব্বুর মানিব্যাগ থেকে চুরি করে।
২) ঈদের সালামি থেকে।
৩) ক্লাস টেনে অঙ্ক স্যারের ব্যাচের বেতন থেকে মেরে। (বাসায় বলতাম স্যারের বেতন ৮০০ টাকা। কিন্তু আমি স্যারকে দিতাম ৫০০ টাকা। ৩০০ টাকা মেরে দিতাম। ১০ মাস পড়েছিলাম।)

পরিবারের বাইরে আমার জীবনে প্রথম কমিক উপহার পেয়েছিলাম আব্বুর ফুপাতো ভাইয়ের কাছ থেকে, ক্লাস ওয়ানে পড়ার সময়। তিনি ইংল্যান্ড থেকে আমার জন্য সুপারম্যানের কমিক নিয়ে এসেছিলেন। এত সুন্দর কমিক আমি এখন পর্যন্তও দেখি নাই! সেই কমিকের প্রিন্ট আর ইলাসট্রেশন ছিলো পৃথিবীর সেরা! তারপর উনিই সুকুমার রায়ের একটা শিশুতোষ বই এনে দিয়েছিলেন, নাম ছিলো “রামগড়ুড়ের ছানা”। আহারে সেই সব দিনগুলো!

আকাশচুম্বি মূল্যমানের কারণে দেশের বাইরে একাডেমিক বই ছাড়া অন্য কোন বই খুব একটা বই কেনা হয়নি আমার। তবে সিডনী শহর থেকে ২০০৭ সালে টিনটিনের ’Flight 714 to Sydney’ কিনেছিলাম কুড়ি ডলার দিয়ে। কিছুদিন পর ট্রেনে ভুলে ফেলে এসেছিলাম সেটা! 

বই পড়ার নেশা আর লেখালেখির অভ্যাস দুটোই পেয়েছি জেনেটিক্যালি। আব্বু-আম্মু একটা সময় নিয়মিত লিখতেন। আব্বু ঢাবি থেকে বাংলায় অনার্স মাষ্টার্স কমপ্লিট করেছিলেন। আম্মু সরকারী বাংলা কলেজ থেকে অনার্স মাষ্টার্স কমপ্লিট করেছিলেন পলিটিক্যাল সায়েন্সে। আমার আম্মু এবং আব্বু উভয়েরই লেখার হাত (এবং হাতের লেখা দুটোই) ছিলো অসাধারন! একাডেমিক বইয়ের ভেতর লুকিয়ে ’আউট বই’ পড়তে গিয়ে আম্মু আর স্কুলের স্যারের হাতে যে কতবার কত মার খেয়েছি, এর কোন ইয়ত্তা নাই। ক্লাস নাইনে পড়ার সময় এক স্যার বেতিয়ে রীতিমতো লাল বানিয়ে দিয়েছিলো পাছা, তবু বই পড়া থামেনি।

ছোটবেলার একটা ঘটনার কথা মনে পড়ে। জীবনে প্রথমবার ট্রেনে চড়ে ময়মনসিংহ গিয়েছিলাম, ক্লাস থ্রি তে পড়ার সময়। ট্রেনের ভেতর আম্মু বল্ল, ’প্রলয়, বাইরে তাকিয়ে দেখো কি সুন্দর দৃশ্য!’ আমি তখন বইয়ে মুখ গুজেঁ ছিলাম, যতদূর মনে পড়ে, সত্যজিৎ রায়ে। বাইরের দৃশ্য দেখার চাইতে বইয়ের পাতার দৃশ্য দেখা আমার কাছে তখন বেশী জরুরী ছিলো। কিন্তু আম্মু সেটা বুঝলেন না। আমাকে বললেন – “বইটা আমার হাতে দাও। নতুন কোথাও বেড়াতে গেলে আশ পাশটা ঘুরে ফিরে দেখতে হয়, বইয়ে মাথা গুজেঁ থাকতে হয় না। বাইরে তাকিয়ে প্রকৃতিতে উপভোগ করো! ” আমি মন খারাপ করে মাথা নেড়ে আম্মুর হাতে বইটা দিয়ে ট্রেনের জানলা দিয়ে তাকিয়ে ছিলাম।

আমার গ্রামের বাড়ীতেও যতবার যেতাম, কোন না বই প্রায় সব সময়ই মুখের সামনে ধরা থাকতো। গ্রামে আমার ছোট চাচার এক শোকেস ভর্তি বই আছে, সেখান থেকে বই নিয়ে পড়তাম। গ্রামের মানুষজন বলতো – ”এতদিন পর গ্রামে এসেছো, আশে পাশটা ঘুরে দেখো! তুমি কি ঢাকাতেও সারাদিন ধরে শুধু বই পড়? আর কিছু করো না?” আমার চাচী সেদিনও আমাকে দেখে অবাক হয়ে বল্লেন – “সেই ছোটবেলা থেকেই তোমাকে বইয়ে মুখ গুঁজে থাকতে দেখি, এই অভ্যেস এখনো যায়নি তোমার?” আমার ধারনা, গ্রামের মানুষজনদের যদি আপনি না কথা বলেন, তাদেরকে না সময় দিয়ে অন্য কোন কাজ করেন, তবে তারা খুবই মাইন্ড করে!

পৃথিবীতে কত চমৎকার সব বই আছে! অথচ সেগুলো পড়ার জন্য একটামাত্র জীবন, ভাবতেই আফসোস লাগে খুব। হুমায়ূন আহমেদ তারঁ এক আত্নজীবনীতে বলেছিলেন, ”একজন মানুষ যদি নাওয়া খাওয়া ঘুম সব বাদ দিয়ে বই পড়ে, তবু তার পক্ষে এক জীবনে ১০ হাজার বইয়ের বেশী পড়া সম্ভব নয়।” দশ হাজার বইও অনেক, কিন্তু সেটাও তো কারো পক্ষে সম্ভব না জীবনের মৌলিক চাহিদা মেটানো বাদ দিয়ে। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে বই পড়ার জন্য আলাদা কিছু আয়ু দিলে কি দারুন ব্যাপরই না হতো!

আমার ব্যাক্তিগত লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা ছিলো প্রায় হাজার খানেক। (ম্যাগ-ট্যাগ-কমিক-সেবা মিলিয়ে দেড় হাজার হবে প্রায়।) কিন্তু কয়েক দিন আগে লাইব্রেরি পরিস্কার করতে গিয়ে আবিস্কার করলাম, প্রায় শ খানেক বই মিসিং। আমি জীবনে কাউকে মন থেকে অভিশাপ দেইনি, কিন্তু যারা আমার বই চুরি করেছে, তাদেরকে দিয়েছি। 

এটা আমার বাংলাদেশের লাইব্রেরির একাংশ। এখানে শ পাচেঁক বই আছে। ১৯৯৫ সালে অর্ডার দিয়ে বানানো এটা ছয় তাক বিশিষ্ট একটা কাষ্টমাইজড বুক সেলফ। প্রতিটা তাকে দুই সারিতে দুই লেয়ারে বই সাজিয়ে রাখার ব্যবস্থা আছে। (মানে ছবিতে যে বইয়ের সারিগুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলোর প্রতিটির পেছনে আরো একটা সারি আছে যেটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে না।) নীচের অংশে রয়েছে নন-পেপারব্যাক বই।

একটা কনফেস করি, আমার সংগ্রহে থাকা বইয়ের শতকরা ৮৫ ভাগ পড়া হয়েছে। সময় পাই না বল্লে মিথ্যে বলা হবে, সত্যিটা হলো, বাকী ১৫% ফেসবুকের নেশার কারনে পড়া হয়নি/হয়না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই বছর ফেসবুকে যতটা সম্ভব কম সময় দিয়ে বই পড়ার পেছনে বেশী সময় দিবো।

আমার নিজের পছন্দের জনরা হলোঃ ইতিহাস, আন্তজার্তিক রাজনীতি, সায়েন্স ফিকশন আর কবিতা। প্রেমের গল্প-উপন্যাস একটা সময় অনেক পড়েছি, এখন আর পড়তে ভালো লাগে না সে সব। (এর মানে হচ্ছে, বুড়ো হয়ে যাচ্ছি।) 

পৃথিবীর বড় বড় ব্যক্তিত্বের মাঝে একটা জিনিস অবধারিতভাবে কমন থাকবে। সেটা হচ্ছে, বই পড়ার অভ্যেস। মার্ক জার্কারবার্গ এত অসম্ভব রকম ব্যস্ত মানুষ, পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্রপ্রধানের সাথেও তার প্রতি মাসেই একটা না একটা মিটিং থাকে। তারপরেও সে প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে একটা বই পড়ে শেষ করে। সেটা নিয়ে রিভিউ লিখে, আলাপ-আলোচনা করে। বিল গেটসের কাহিনীও প্রায় একই।

প্রয়াত স্টিভ জবসের ”রিডিং নাউ” বইয়ের লিস্টি নাকি ছিলো হতভম্ব হবার মতো। উনি একসাথে কয়েকটা বই পড়তেন। উনাকে যারা চেনেন, তারা জানেন যে উনি কি পরিমান ব্যস্ত সময় কাটাতেন ক্যান্সার হওয়ার আগ পর্যন্ত। সে সময়ই তিনি প্রতি রাতে বই পড়তেন, তার ব্যাগে বই থাকতো অলটাইম। আর ক্যান্সার চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তাঁর সময় কাটতো বই পড়েই। প্রসঙ্গত বলে রাখি, মাত্রাতিরিক্ত ক্রিয়েটিভ জিনিয়াস আর ব্রিলিয়ান্ট এই মানুষটি ছিলেন আমার জীবনের অন্যতম আইডল। তারঁ সবকিছুই আমার ভালো লাগতো।

তারা যদি এত ব্যস্ত থাকার পরেও বইয়ের জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে সময় বের করতে পারেন, তাহলে আমি কেন পারবো না? আমি কি তাদের চাইতেও ব্যস্ত? একদমই না।

লক্ষ্য করার মতো ব্যাপার হলো, যে তিনজনের কথা বল্লাম, এই পৃথিবীর প্রযুক্তির ইতিহাসে এই তিনজনের নাম বিশেষভাবে লেখা থাকবে। তিনজনই পৃথিবীর সেরা ধনীদের একজন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, তারা কিন্তু কেউই পিডিএফ বই পড়ে না। কাগজে প্রিন্ট করা পেপারব্যাক বই পড়ে। 

আমার একটা পুরনো শুচিবাই আছে। সেটা হলো, নতুন বই হাতের কাছে পাওয়ামাত্র সেটা খুলে ভেতরের গন্ধ নেওয়া। নতুন বইয়ের গন্ধ আমার কাছে পৃথিবীর সবচাইতে ঘ্রাণওয়ালা ফুলের গন্ধের চাইতে কোন অংশে কম মনে হয় না। আমি বইমেলায় গিয়ে নতুন বই হাতে নিয়ে শুকছিঁ আর আশে পাশের মানুষজন অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমার সাথে যারা বই মেলায় যান, তাদের কাছে এই দৃশ্য খুবই পরিচিত। কারন তারা অসংখ্যবার এই দৃশ্য দেখেছে।

নতুন বইয়ের এই যে গন্ধ, বই পড়তে পড়তে বুকের উপর খোলা বই রেখে ঘুমিয়ে পড়া, পাতার কোনাটা ভাজঁ করে রাখা, পরম মমতায় বইয়ের পাতা ওল্টানো, এইসব অপার্থিব আনন্দ কি ইবুকে পাওয়া যাবে? কস্মিনকালেও না। 

কিছুদিন আগে আমার সংগ্রহের বইগুলো সব ঝেড়ে পুছে সাফ সুতরো করেছি অনেক দিন পর। ইদুঁর বই কেটেছে অনেক, ইদুঁর থেকে বাচাঁর স্থায়ী সমাধান হিসেবে বিড়াল পুষার চিন্তা ভাবনা করছি। আর অস্থায়ী সমাধান হিসেবে আমার বুক সেলফের চিপায় চাপায় পুদিনা পাতা, তেজপাতা আর গোল মরিচের গুড়ো ছিটিয়ে দিয়েছি। ইদুঁর বাছাধন, কাট দেখি এবার কত কাটতে পারিস আমার বই! 

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *