আমার HER দেখার অভিজ্ঞতা ও একটি মধুময় কাকতালীয় ঘটনা!

MV5BMjA1Nzk0OTM2OF5BMl5BanBnXkFtZTgwNjU2NjEwMDE@._V1_SX640_SY720_-253x375মুটামুটি এইরকম একটা থিমে একটা সাই ফাই গল্প লিখেছিলাম আমি ২০০৭ সালে। অনেকেই বলেছেন, গল্পটার কিছু অংশ গতবছর মুক্তিপ্রাপ্ত HER মুভির প্লটের মতো। যে গল্পটা ৬ বছর আগে আমি লিখেছিলাম সেই গল্প নিয়ে যদি হলিউড মুভি বানায়, তবে সেটা আমার স্বভাবতইঃ রোমাঞ্চকর এবং আগ্রহদ্দীপক। মুভিটা দেখকে বসেছিলাম, আমার গল্পের সাথে এই মুভির গল্পের মিল কতটুকু, সেটা দেখতে।মুভিটা দেখতে শুরু করার আগে আমার গল্পের প্লটটি সংক্ষেপে বলি। একটা কম্পিউটারের সফটওয়্যার, যাকে একটা সুন্দরী মেয়ের আদলে গড়ে তোলা হয়। আদতে সে একটা হলোগ্রাফিকস সত্ত্বা। তাকে শুধুই দেখা যায়, কিন্তু ছোয়াঁ যায় না, অনুভব করা যায় না। মেয়েটার আবেগ অনুভূতি পুরোপুরি মানুষের মতো। তো মেয়েটা হঠাৎ একদিন তার ক্যাপ্টেনের প্রেমে পড়ে যায়। তাকে স্পর্শ করতে চায়। অথচ মেয়েটি জানে কাউকে স্পর্শ করার ক্ষমতা তাকে দেয়া হয়নি। কিন্তু মেয়েটি সেই ক্ষমতা একদিন অর্জন করে নেয়। নিজে নিজেই অর্জন করে। কারো সাহায্য ছাড়াই। আমার গল্পের মূল থিম ছিলো এইটুকুই।

[আমার সেই গল্পের পুরো পাওয়া যাবে ক্যামেলিয়ার চিঠিতে। ক্যামেলিয়ার চিঠি নামের একটা ত্রৈমাসিক পত্রিকাতে সম্প্রতি আমার সে গল্পটি ছাপা হয়েছে। আপনি যদি ঢাকায় থাকেন তবে শাহবাগের চারু কলার সামনে দেবদারু বইয়ের দোকান এবং কাঁটাবন কনকর্ড টাওয়ারে নান্দনিক প্রকাশনীতে পত্রিকাটি পাবেন। চট্টগ্রামে- বাতিঘর এবং সমগ্র বাংলাদেশ থেকে কারিগর.কম এ অর্ডার করে পত্রিকাটি সংগ্রহ করা যাবে। পৃষ্টা-১২৮, দাম মাত্র-৫০ টাকা। ক্যামেলিয়ার চিঠি ক্রয় করতে ক্লিক করুনঃ http://karigor.com/ অথবা, ০১৮৫০ ৪৪৪ ৩৪৪ নম্বরে ফোন করেও অর্ডার দিতে পারেন। চামে দিয়া নিজের লেখার বিজ্ঞাপন করে ফেল্লাম। হে হে!]

এবার HER দেখার অভিজ্ঞতা বলি। প্রথমেই বলবো, পুরা মুভিতে স্কারলেটের ফ্যাস ফ্যাস ভয়েস শুনে কত বার মেজাজ খারাপ হইসে ইয়ত্তা নাই। কতিপয় ছেলেরা তার ভয়েসে যৌনতা কি করে খুজেঁ পায় কে জানে? এই মুভির সাথে আমার সাইফাইয়ের প্লট ছাড়া আর কিছুতে তেমন মিল পেলাম না। এমনকি ফিনিশিংয়েও না। আমার গল্পের নায়িকা এই মুভির নায়িকা চরিত্রের মত এতটা সুলভ নয় যে বাজারে চাইলেই তাকে যে কেউ কিনতে পারবে এবং যে কেউই তার মালিক হতে পারবে। মুভিতে দেখা যায়, স্কারলেট সাইমালটেনিয়াসলি হাজার হাজার লাখ লাখ ছেলে মেয়ের সাথে প্রেম চালিয়ে যাচ্ছে। আমার গল্পের এই চরিত্রটি আদতে এমন নয়। সে যেমন খুবই এক্সক্লুসিভ তেমনি তার প্রেমও খুবই এক্সক্লুসিভ। এবং সে তার মালিক বা প্রেমিককে শুধুমাত্র ছুতেঁ চায়। ছোয়াঁর অনুভূতি পেতে চায়। এবং সেটা অন্য কারো মাধ্যমে নয়। মুভিতে যেমন দেখা যায়, একজন সারোগেট প্রেমিকার মাধ্যমে স্কারলেট যে অনুভূতি পেতে চায়, কিন্তু আমার গল্পের নায়িকা নিজেই তাকে ছোয়াঁর ব্যবস্থা করে, অন্য কারো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাহায্য ছাড়াই।

এইগুলো বিস্তর ফারাক। প্রথমে মন খারাপ করেছিলাম, কারন মুভির ঘটনা আমার গল্পের কাকতালীয় ভাবে মিলে গেলেও নিজের মনকে প্রবোধ দিতে পারতাম না। কিন্তু মুভি দেখার পর তৃপ্তির ঢেকুঁর তুলেছি।

কিছুদিন আগে ক্যামেলিয়ার চিঠি বন্ধ ঘোষনা করা হয়। সুতরাং আমার ঐ গল্পটি পড়া যাবে এই লিংক থেকে।

স্বপ্নদুয়ারে রেজিষ্ট্রেশন না করেও আপনার ফেসবুক আইডি দিয়েই মন্তব্য করা যাবে। নীচের টিক চিহ্নটি উঠিয়ে কমেন্ট করলে এই পোষ্ট বা আপনার মন্তব্যটি ফেসবুকের কোথাও প্রকাশিত হবে না।

টি মন্তব্য